ব্রেকিং নিউজ

উপগুপ্তের প্রব্রজ্যা ও অর্হত্ত্বফল লাভ এর ঘটনা কিরকম ছিলো?

 

ইলা মুৎসুদ্দী

upogupto3

শ্রীমান উপগুপ্ত জীবনের প্রথম লগ্ন হতেই শীলবারি ধারায় ধৌত করেছেন নিজ চিত্ত জগতকে। যা’ পরবর্তী কালে পরিণতি লাভ করলো বৈরাগ্য ধর্মে।

তিনি ভাবলেন “তৃষ্ণাই’তো দুঃখের জননী। একমাত্র বিরাগই দুঃখ নিবৃত্তির উপায়। এরই আশ্রয় নিতে হবে আমাকে। শুধু অপরকে উপদেশ দিয়ে কী হবে? আত্মজয়ে হতে হবে প্রমুক্ত; সঞ্জীবিত করে তুলতে হবে নিজকে। তিনি বুঝলেন, জ্ঞানলব্ধ বস্তুকে জীবনে রূপায়িত করা তত সহজ নয়। তার জন্য চাই নিরবচ্ছিন্ন সাধনা। এ জ্ঞান লাভ করতে হলে চাই বৈরাগ্য। তাই মহাধনবান বণিকপুত্র শ্রীমান উপগুপ্ত শাক্যরাজপুত্র কুমার সিদ্ধার্থের মতো অনাসক্ত হয়ে তীব্র-বৈরাগ্যের আশ্রয় নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করলেন।

ইত্যবসরে প্রসন্নধী শানবাসী ভিক্ষু শ্রীমান উপগুপ্তকে প্রব্রজ্যা দেওয়ার উপযুক্ত সময় বিবেচনা করে তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বল্লেন “হে উপগুপ্ত! তোমার প্রব্রজ্যা নেওয়ার উপযুক্ত সময় এসেছে; তুমি তৈরী হও।” শ্রীমান উপগুপ্ত একথা শুনে মনে হলো তাঁর কর্ণে যেন সুধা বর্ষণ করলো। শ্রীমান উপগুপ্তের চোখে-মুখে একটা দীপ্তোজ্জ্বল হাসির রেখা ভেসে উঠেছে। এই হাসি জীবনের পূর্ণতার হাসি। যে পূর্ণতায় এনে দেয় মানব-মনে এক অনাবিল প্রীতি ও শান্তি। যে পূর্ণতা লাভের জন্য রাজকুমার সিদ্ধার্থ রাজ্যপাট, জ্ঞাতি-সলোহিত স্ত্রী-পুত্র, মাতা-পিতা, ধন-জন ত্যাগ করে অনাড়ম্বর নিরিবিলি সুখদ উন্মুক্ত জীবন গ্রহণ করেছেন এবং যেই পূর্ণতায় মানব-ইতিহাস আজো ক্ষীণ হয়নি, সেই অনবদ্য অনিন্দ্য পূর্ণতার হাসিই আজ শ্রীমান উপগুপ্তের মুখে।

মহাতেজস্বী শ্রীমান উপগুপ্তের সুষমা-মণ্ডিত দেহ গৈরিক বসনের স্বর্গীয় আভায় হয়ে উঠ্লো সুষমা-মণ্ডিত। নব দীক্ষিত বিদ্যুৎপুঞ্জ সম বর্ষীয়ান শ্রীমান উপগুপ্তকে দর্শন করে বিস্মিত ও চমৎকৃত হলো দর্শক বৃন্দ। সুসংযত, ত্যাগ-তিতিক্ষায় তেজোদ্দীপ্ত সাম্য-মূর্তি যে জন দর্শন করল; সে জনই শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করলো তাঁর চরণতলে।

সর্বশক্তিমান তথাগতের সত্যধর্মের অজেয় মহাশক্তির প্রভাবে সম্যক্ উপলব্ধি করলেন জগতের প্রকৃত স্বরূপ অনিত্য, দুঃখ ও অনাত্মের নিগূঢ় আধ্যাত্মিক তত্ত্ব। উৎপন্ন হলো তীব্র বিরাগ। সম্প্রাপ্ত হলো যখন ত্যাগের চরমসীমা, ঠিক সেই শুভক্ষণেই তাঁর চিত্ত হলো তৃষ্ণামুক্ত। উপভোগ করলেন পরমামৃতের অনুপম আস্বাদ। তৃপ্ত হলো তাঁর তৃষিত অন্তর; অনুভব করলেন অনির্বচনীয় শান্তি। নিরবশেষ অন্তরাকাশ হতে ধ্বংস প্রাপ্ত হলো অবিদ্যা। চিরতরে নিরুদ্ধ হলো জন্ম-মৃত্যুর প্রবাহ। মার বিজয়ী মহাঋদ্ধি সম্পন্ন ষড়াভিজ্ঞায়ঁ হলেন বিমণ্ডিত। অন্তরে উপলব্ধি হলো মহাপূর্ণতা। অত্যন্তিক দুঃখের করলেন নিবৃত্তি, সাক্ষাৎ করলেন চির-শান্তিময় নির্বাণ।

ত্যাগের চরম সীমা বড়োই মধুর। ক্ষয়-বিরাগের পূর্ণপরিণতি পরমামৃতের উৎস। আজ শ্রদ্ধেয় উপগুপ্ত থেরো মহোদয় সম্যক্ উপলব্ধি করলেন সত্য-ধর্মের সেই পরমামৃতের অনুপম আস্বাদ। অন্তরাকাশ হতে চিরতরে অবিদ্যা-অন্ধকার  অন্তর্হিত হয়ে সূর্যালোকের মত প্রদীপ্ত জ্ঞান আভায় ধর্মালোকে উদ্ভাসিত হলো অন্তর লোক। তখন কী যে অতুলনীয় সুখ, কী যে শান্তি, কী যে আনন্দ উৎপন্ন হয়েছে অর্হৎ উপগুপ্ত থেরো মহোদয়ের অন্তরে, তা’ অনির্বচনীয়! তা’ উপলব্ধি করতে পারেন একমাত্র সমপর্যায়ের বিমুক্ত সাধকগণ। এবম্বিধ সুখ-শান্তি একমাত্র নির্বাণ ব্যতীত আর অন্য কোথাও মিলে না।

সূত্র-শ্রীমৎ মেত্তাবংশ ভিক্ষু রচিত মার বিজয়ী অরহত উপগুপ্ত

 

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

খুব সংক্ষেপে মহাসতিপট্ঠান সহায়িকা

একূশটি উপায়ে অরহ্ত্ত্ব লাভের উপায় তথা কর্মস্থান সংযূক্ত গভীর অর্থসংযুক্ত মহাসতিপট্ঠান সূত্তI এখানে একুশটি উপায়ে …

Leave a Reply