ব্রেকিং নিউজ

🥀🥀🥀যারা মৈত্রী, মুদিতা, করুণা আর উপেক্ষার ইজারা নিতে চান যা তত সোজা নয় – পড়ে দেখুন বোঝা যায় কিনা – যে ঘরে আপনার বাস আপনার আবাস আসলে সেখানে নয় বরং সুখী বা অসুখী মনে। মৈত্রী, মুদিতা, করুণা এবং উপেক্ষা-ভাবনা কিভাবে করবেন সংক্ষেপে🙏🙏🙏

🧘‍♂️🧘‍♂️🧘‍♂️মৈত্রী-ভাবনাঃ এ ভাবনাকে ক্রমানুসারে ছয়টি স্তরে সাজানো হয়েছে যথাঃ ১) আপনি নিজে, ২) যাকে পছন্দ করেন এবং সম্মান করেন, ৩) যার প্রতি আপনি নিস্পৃহ ৪) কোনো শত্রু, ৫) ভেদাভেদের সীমা ভেঙে ফেলা, ৬) বাইশটি শ্রেণি। প্রথমদিকে এটি বিপরীত লিঙ্গের কারো প্রতি করা উচিত নয় এবং মৃত ব্যক্তির প্রতি করা উচিত নয়।
❤️❤️❤️১) আপনি নিজেঃ নিজ মনকে কোমল ও দয়ালু করার জন্য প্রথমে নিজের প্রতি মৈত্রীচিন্তা করতে হবে ক্রমনুসারে তৃতীয় ধ্যান পর্যন্ত : 🌻🌻🌻ক) আমি যেন বিপদ থেকে মুক্ত থাকি (অহং অবেরো হোমি), 🌹🌹🌹খ) আমি যেন মানসিক কষ্ট থেকে মুক্ত থাকি (অব্যাপজ্জো হোমি), 🌺🌺🌺গ) আমি যেন দৈহিক কষ্ট থেকে মুক্ত থাকি (অনীঘো হোমি), 💐💐💐ঘ) আমি যেন সুস্থ ও সুখী হই (সুখী অত্তানং পরিহরামি)।
নিজ প্রতি মন কোমল, দয়ালু, সমব্যথী হলে অন্যদের প্রতি সহমর্মিতা , মৈত্রীচিন্তা গড়ে তোলাটা কঠিন ব্যাপার হবে না। তাই নিজের প্রতি মৈত্রীভাবটা আগে প্রবল ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলাটা গুরুত্বপূর্ণ। যখন নিজ প্রতি যথেষ্ট মৈত্রীভাব গড়ে উঠবে, তখন অন্যদের প্রতি মৈত্রীচিন্তা করা শুরু করতে পারেন।
✍️✍️✍️২) যাকে পছন্দ করেন এবং সম্মান করেনঃ মনটাকে নিজের লিঙ্গের কোনো ব্যক্তির প্রতি ধাবিত করুন যাকে আপনি পছন্দ ও সম্মান করেন। নিম্নোক্ত কথাগুলোর মাধ্যমে মৈত্রীচিন্তা গড়ে তুলুন :
এই ভালো ব্যক্তিটি বিপদ থেকে মুক্ত থাকুক (অয়ং সপ্পুরিসো অবেরো হোতু)।
এই ভালো ব্যক্তিটি মানসিক কষ্ট থেকে মুক্ত থাকুক (অয়ং সপ্পুরিসো অব্যাপজ্জো হোতু)।
এই ভালো ব্যক্তিটি দৈহিক কষ্ট থেকে মুক্ত থাকুক (অয়ং সপ্পুরিসো অনীঘো হোতু)।
এই ভালো ব্যক্তিটি সুস্থ ও সুখী থাকুক (অয়ং সপ্পুরিসো সুখী অত্তানং পরিহরন্তু)।
যখন আপনার পছন্দের এবং সম্মানিত ব্যক্তিকে নিয়ে সফল হবেন, তখন আপনার লিঙ্গের আরেকজন ব্যক্তিকে নিন যাকেও আপনি পছন্দ করেন এবং সম্মান করেন। এভাবে এই শ্রেণির দশজন ব্যক্তিকে বেছে নিন, আর মৈত্রীভাব গড়ে তুলুন তাদের প্রত্যেকের প্রতি একজন একজন করে, একইভাবে তৃতীয় ধ্যান পর্যন্ত।
🌸🌸🌸৩) যার প্রতি আপনি নিস্পৃহঃ এরপর আপনার সমজাতীয় লিঙ্গের দশজন ব্যক্তিকে নিন, যাদের প্রতি আপনি নিস্পৃহ, আর তাদের প্রতি একইভাবে তৃতীয় ধ্যান পর্যন্ত মৈত্রীভাব গড়ে তুলুন।
🌼🌼🌼৪) কোনো শত্রুঃ যখন আপনি মৈত্রী-ভাবনায় সুদক্ষ হয়ে উঠেছেন, তখন আপনি সমজাতীয় লিঙ্গের দশজন ব্যক্তির প্রতি মৈত্রীভাব ছড়িয়ে দিতে পারেন যাদের আপনি ঘৃণা করেন, তৃতীয় ধ্যান পর্যন্ত ।
🌺🌺🌺৫) ভেদাভেদের সীমা ভেঙে ফেলাঃ যখন দেখবেন উক্ত চারি শ্রেণির লোকদের প্রতি আপনার মৈত্রীভাব সমান হয়ে গেছে, এখন আপনি তাদের একই শ্রেণিতে ফেলতে পারেন। তখন আপনার কাছে থাকবে কেবল চার শ্রেণির লোক : ১. আপনি নিজে, ২. যাদের পছন্দ করেন, ৩. যাদের প্রতি নিস্পৃহ, ৪. যাদের ঘৃণা করেন।
এই চার শ্রেণির লোকদের প্রতি আপনার মৈত্রীভাবের চর্চা করে যেতে হবে, যতক্ষণ না সমতা না আসে এবং কোনো বিভেদ বা বৈষম্যহীন হয়। এক এক করে প্রত্যেককে নিয়ে মৈত্রী-ভাবনা করুন তৃতীয় ধ্যান পর্যন্ত। এভাবে প্রত্যেকবারে আপনার এই তিন শ্রেণির লোকদের বদলে নেওয়া উচিত : যাদের পছন্দ করেন, যাদের প্রতি নিস্পৃহ, যাদের ঘৃণা করেন। চর্চা করুন যাতে করে আপনার মন বাধাহীনভাবে মৈত্রীতে প্লাবিত হয়, বিশেষ কোনো পার্থক্য ছাড়াই। যখন আপনি বাছবিচার না করেই যে কারো প্রতি মৈত্রী-ধ্যান উৎপন্ন করতে পারবেন, তখনই আপনি সেই ভেদাভেদের ‘সীমা ভাঙতে’ সক্ষম হবেন।
🕵️‍♀️🕵️‍♀️🕵️‍♀️৬) বাইশটি শ্রেণিঃ পটিসম্ভিদামার্গে এ ভাবনাকে আর ও বাইশটি শ্রেণিতে বর্ধিত করা হয়েছে।: ৫টি অনির্দিষ্ট শ্রেণি, ৭টি নির্দিষ্ট শ্রেণি, এবং ১০টি দিকনির্দেশক শ্রেণি।
🌺🌺🌺৫টি অনির্দিষ্ট শ্রেণি হচ্ছে : ১. সকল জীব ২. সকল প্রাণী ৩. সকল সৃষ্টি ৪. সকল লোকজন ৫. সকল ব্যক্তি
🌼🌼🌼৭টি নির্দিষ্ট শ্রেণি হচ্ছে : ১. সকল নারী ২. সকল পুরুষ ৩. সকল আর্য ৪. সকল অনার্য ৫. সকল দেবতা ৬. সকল মানুষ ৭. সকল ইতর প্রাণী
🌻🌻🌻দশটি দিকনির্দেশক শ্রেণি হচ্ছে : ১. পূর্ব দিকে ২. পশ্চিম দিকে ৩. উত্তর দিকে ৪. দক্ষিণ দিকে ৫. দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ৬. উত্তর-পশ্চিম দিকে ৭. উত্তর-পূর্ব দিকে ৮. দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ৯. নিচে ১০. উপরে
🌸🌸🌸অনির্দিষ্ট এবং নির্দিষ্ট শ্রেণিঃ প্রত্যেক শ্রেণিতে মৈত্রীভাব ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নিম্নোক্ত চারভাবে ১. তারা বিপদ থেকে মুক্ত থাকুক, ২. তারা মানসিক কষ্ট থেকে মুক্ত থাকুক, ৩. তারা দৈহিক কষ্ট থেকে মুক্ত থাকুক, ৪. তারা সুস্থ ও সুখী হোক।

আপনাকে অবশ্যই তৃতীয় ধ্যান পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে, পরবর্তী স্তরে যাওয়ার আগে। সুদক্ষ হলে এবার আপনার নির্দিষ্ট এলাকার গন্ডি আরও প্রসারিত করা উচিত যাতে ক্রমান্বয়ে অন্তর্ভুক্ত হয় আপনার পুরো বিহার, পুরো গ্রাম, পুরো শহর, পুরো প্রদেশ, পুরো দেশ, পুরো বিশ্ব, পুরো সৌরজগৎ, পুরো ছায়াপথ, এবং পুরো অসীম মহাবিশ্ব। প্রত্যেকটি সম্প্রসারিত এলাকায় আপনার মৈত্রী-ভাবনার চর্চা করা উচিত তৃতীয় ধ্যান পর্যন্ত।

🧘‍♂️🧘‍♂️🧘‍♂️করুণা ভাবনা: যেভাবে মৈত্রী ভাবনা করার ব্যাখা দেয়া হয়েছে সেভাবে মৈত্রী-ভাবনা করতে পারলে এরপরে অপ্রমেয় করুণার ভাবনা করা খুব একটা কঠিন হবে না। করুণা-ভাবনা করার জন্য প্রথমে সমজাতীয় লিঙ্গের জীবিত কোন ব্যক্তিকে বেছে নিন যিনি খুব দুখঃকষ্টে দিনাতিপাত করছেন এবং উনাকে করুণা দিন। তারপর সাদা কৃৎস্ন ভাবনা জানা থাকলে চতুর্থ ধ্যানের নিমিত্তে তাকে দেখার চেষ্টা করুন এবং তারপর তার প্রতি মৈত্রী ভাবনা করুন। তারপর মৈত্রী ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে দুর্দশাগ্রস্ত সেই ব্যক্তির প্রতি করুণা গড়ে তুলুন এই চিন্তা করে, “সেই ব্যক্তিটি দুখঃকষ্ট থেকে মুক্তি পাক’ (অয়ং সপ্পুরিসো দুকখা মুচ্চতু)। এভাবে পুন পুন করুন, যতক্ষণ না প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ধ্যান লাভ করেন। এরপর আপনার করুণার চর্চা করা উচিত হবে মৈত্রী-ভাবনায় যেমনটি করেছেন ঠিক সেভাবে, অর্থাৎ আপনার পছন্দের ব্যক্তির প্রতি, যার প্রতি আপনি নিস্পৃহ, আর যাকে আপনি ঘৃণা করেন; প্রত্যেককে একেবারে তৃতীয় ধ্যান পর্যন্ত, যতক্ষণ না ভেদাভেদের সীমাটা ভেঙে ফেলতে পারেন।
যারা আপাতদৃষ্টিতে কোনো কষ্টে নেই বলে মনে হয়, তাদের প্রতি করুণাভাব গড়ে তোলার জন্য আপনার চিন্তা করা উচিত, জন্মচক্রে যারা ঘুরপাক খাচ্ছেন তারা সকলেই যে সকল অকুশল কর্ম করেছে, সেগুলোর ফল তাদের ভোগ করতে হবে, তাদের চারি অপায়ের দ্বার নির্বান লাভ না করা পর্যন্ত উন্মুক্ত। অধিকন্ত, প্রত্যেকটি জীব করুণার পাত্র, যেহেতু তারা বৃদ্ধ হওয়া, অসুস্থতা এবং মৃত্যুর কষ্ট থেকে মুক্ত নয়। এভাবে চিন্তা করে মৈত্রী-ভাবনার মতো এখানেও আপনাকে করুণা বিস্তার করতে হবে নিজের প্রতি, যাকে আপনি সম্মান করেন অথবা প্রিয়, যার প্রতি আপনি নিস্পৃহ, এবং যাকে আপনি ঘৃণা করেন, সবাইকে একে একে তৃতীয় ধ্যান পর্যন্ত, যতক্ষণ না আপনার ও অন্যদের মাঝে সীমাটা ভেঙে ফেলতে পারেন।
এরপর আপনার করুণা-ভাবনা করা উচিত মৈত্রী-ভাবনায় দেখানো নিয়মে, একশ বত্রিশটি উপায়ে, যেগুলো হচ্ছে : পাঁচটি অনির্দিষ্ট শ্রেণি, সাতটি নির্দিষ্ট শ্রেণি, এবং একশত বিশটি দিকনির্দেশক শ্রেণি (৫+৭+১২০ = ১৩২)।

🧘‍♂️🧘‍♂️🧘‍♂️মুদিতা-ভাবনাঃ অপ্রমেয় মুদিতা বা খুশির ভাবনায় প্রথমে সমজাতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া উচিত যে সুখী, যাকে দেখলেই আপনি সুখী হন এবং যাকে খুব পছন্দ করেন ও বন্ধুভাবাপন্ন ৷
তারপর সাদা কৃৎস্ন ভাবনা জানা থাকলে চতুর্থ ধ্যানের নিমিত্তে তাকে দেখার চেষ্টা করুন এবং তারপর তার প্রতি মৈত্রী ভাবনা করুন। তারপর মৈত্রী ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে তার প্রতি করুণা ধ্যানে প্রবেশ করুন। তারপর করুণা ধ্যান থেকে বেরিয়ে এসে সেই সুখী ব্যক্তিটির প্রতি খুশির ভাবনা করুন এই চিন্তা করে : “এই ভালো লোকটি তার সমৃদ্ধি থেকে বিচ্ছিন্ন না হোক”, অয়ং সপ্পুরিসোয়থালদ্ধ সম্পত্তিতো মা বিগচ্ছতু।) একেবারে তৃতীয় ধ্যান পর্যন্ত।
ক্রমান্বয়ে খুশির ভাব গড়ে তুলুন যাকে সম্মান করেন বা যে আপনার প্রিয়, যার প্রতি নিস্পৃহ এবং যাকে ঘৃণা করেন তাদের নিয়ে। এরপর ক্রমান্বয়ে নিজের প্রতি খুশির ভাব বিস্তার করুন, যাকে সম্মান করেন বা প্রিয় ব্যক্তি, যার প্রতি আপনি নিস্পৃহ এমন ব্যক্তি এবং ঘৃণা করেন – এমন ব্যক্তির প্রতি খুশির ভাব বিস্তার করুন তৃতীয় ধ্যান পর্যন্ত, যতক্ষণ না ভেদাভেদের সীমা ভাঙতে পারেন। অবশেষে এই অসীম মহাবিশ্বের সকল জীবের প্রতি খুশির ভাব বিস্তার করুন একশত বত্রিশটি উপায়ে যা আগে বর্নীত।

🧘‍♂️🧘‍♂️🧘‍♂️উপেক্ষা-ভাবনাঃ উপেক্ষা-ভাবনা করতে গিয়ে একি ভাবে সাদা কৃৎস্ন ভাবনার চতুর্থ ধ্যানে প্রবেশ করে নিমিত্তে তাকে দেখার চেষ্টা করুন এবং তারপর সমলিঙ্গের কোনো ব্যক্তি, যার প্রতি আপনি নিস্পৃহ তার প্রতি মৈত্রী ভাবনা করুন। তারপর মৈত্রী ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে তার প্রতি করুণা ধ্যানে প্রবেশ করুন। তারপর করুণা ধ্যান থেকে বেরিয়ে এসে মুদিতা ভাবনা করুন তৃতীয় ধ্যান পর্যন্ত। এরপর তৃতীয় ধ্যান থেকে বেরিয়ে এসে ব্রক্ষ্মবিহার ভাবনার বিশয়বস্তুতে কিছু পার্থক্য বিবেচনা করা উচিত, যেমনঃ স্নেহ এবং ভালোবাসা, পছন্দ এবং অপছন্দ, উল্লাস এবং আনন্দ। চিন্তা করুন উপেক্ষার চতুর্থ ধ্যান প্রশান্তি।এরপর যে ব্যক্তির প্রতি আপনি নিস্পৃহ তার প্রতি উপেক্ষা-ভাব গড়ে তোলা উচিত এই চিন্তা করে : “এই ভালো লোকটি তার নিজ কর্মের উত্তরাধিকারী।’ (অয়ং সপ্পুরিসো কম্মস্সকো)।

তারপর ক্রমান্বয়ে উপেক্ষা বোধ গড়ে তুলুন আপনার সম্মানিত অথবা প্রিয় ব্যক্তিকে নিয়ে, যার প্রতি আপনি
নিস্পৃহ, আর যাকে আপনি ঘৃণা করেন। এরপর ক্রমান্বয়ে নিজেকে নিয়ে উপেক্ষা-ভাবনা করুন, তারপর কোনো ব্যক্তি যাকে সম্মান করেন অথবা যে আপনার পছন্দের, যার প্রতি নিস্পৃহ এবং যাকে ঘৃণা করেন তৃতীয় ধ্যান পর্যন্ত, যতক্ষণ না ভেদাভেদের সীমাটা ভেঙে ফেলতে পারেন। অবশেষে এই অসীম মহাবিশ্বের সকল জীবগণের প্রতি উপেক্ষা ভাব গড়ে তুলুন একশ বত্রিশটি উপায়ে যা পুর্বে বর্নিত।

🥀🥀🥀জগতের সকল প্রানী সুখী হউক অসভ্য না হউক।

🙏🙏🙏পোষ্টটি শেয়ার করে ধর্মদানে সম্পৃক্ত হউন🙏🙏🙏

সম্মন্ধে SNEHASHIS Priya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

মেডিটেশান এবং আপনার ব্রেইন

Leave a Reply