ব্রেকিং নিউজ

ধর্মানুসারী কারা? বাইরের শুদ্ধি প্রয়োজন নাকি অন্তরের শুদ্ধি?

ধর্মানুসারী কারা? বাইরের শুদ্ধি প্রয়োজন নাকি অন্তরের শুদ্ধি?

ইলা মুৎসুদ্দী

b15

এক সময় ভগবান কোশল রাজ্যে সুন্দরিকা নদীর তীরে বাস করছিলেন। তখন ব্রাহ্মণ সুন্দরিক ভারদ্বাজ নদী তীরে অগ্নিহোম সম্পাদনে রত হলেন। হোম সমাপ্ত করে ‘কে এ হব্যাবশেষ ভোগ করবে’ বলে তিনি আসন থেকে উঠে চারদিকে তাকালেন। তখন তিনি এক বৃক্ষ মূলে আপাদমস্তকাবৃত উপবিষ্ট ভগবানকে দেখতে পেলেন। তাঁকে দেখে তিনি বামহস্তে হব্যাবশেষ এবং দক্ষিণ হস্তে কমন্ডুল নিয়ে ভগবানের নিকট উপস্থিত হলেন। ভগবান ব্রাহ্মণ সুন্দরিক ভারদ্বাজের পদশব্দ শুনে মস্তক অনাবৃত করলেন। তাতে সুন্দরিক ভারদ্বাজ এ যে মুন্ডিত মস্তক এ যে মুন্ডিত মস্তক বলে ফিরতে উদ্যত হলেন। তখন

তাঁর মনে হল কোন কোন মুন্ডিত মস্তক ব্রাহ্মণও তো আছেন। বেশ, আমি তাঁর কাছে গিয়ে জাতির কথা জিজ্ঞেস করি।”

অতঃপর তিনি ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন “আপনার জাতি কি?

ভগবান- জাতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না, শীলাদি আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো। কাষ্ঠ থেকে একান্তই অগ্নি উৎপন্ন হয়।

নীচ কুলে জাত ব্যক্তিও ধৃতিমান (পাপের প্রতি ঘৃণায়) পাপনিবারী জ্ঞানসম্পন্ন মুনি হন।

(যিনি) সত্যের দ্বারা দান্ত দমসমন্বিত বেদান্ত বা পরাজ্ঞানের শেষ সীমায় উপনীত (অর্হত্ত্ব প্রাপ্তিতে) ব্রহ্মচর্যবাসের পরম ব্রতসম্পন্ন, তাঁকেই যজ্ঞসম্পাদনকারীর আহ্বান করা বিধেয়। সে যজ্ঞসম্পাদনকারী যথাকালে দক্ষিণার্হের প্রতি নৈবদ্য অর্পণ করে। ব্রাহ্মণ- যেহেতু আমি পরাজ্ঞানের পারপ্রাপ্ত তাদৃশ (মহামুনিকে) দেখছি আমার যজ্ঞ একান্ত সুযজিত মুহূর্ত।

আপনার মত (মহাপুরুষের) অদর্শনে অন্য (অভাজন) ব্যক্তি এ হব্যাবশেষ ভোগ করত।

ভবৎ গৌতম, ভোগ করুন এ পায়স। আপনিই প্রকৃত ব্রাহ্মণ।

ভগবান- হে ব্রাহ্মণ, গাথা গেয়ে লব্ধ …. ধর্মই তাঁদের জীবিকাবৃত্তি কৈবল্য প্রাপ্ত ক্ষীণাস্রব …. ক্ষেত্র হয়।

ব্রাহ্মণ- ভবৎ গৌতম, আমি কাকে এ হব্যাবশেষ দিই?

ভগবান- হে ব্রাহ্মণ, তথাগত ও তথাগত শিষ্য ব্যতীত দেব-মার-ব্রহ্ম জগতে শ্রমণ ব্রাহ্মণ সহ দেবমনুষ্য জনতার মধ্যে এমন কাকেও দেখছিনা, এ হব্যাবশেষ ভোগ করে সম্যক্ভাবে পরিপাক করতে পারে। তবে এ হব্যাবশেষ তৃণহীন স্থানে ফেলে দাও অথবা প্রাণিহীন জলে ডুবিয়ে দাও।

অতঃপর সুন্দরিক ভারদ্বাজ সে হব্যাবশেষ প্রাণিহীন জলে ডুবিয়ে দিলেন। তা জলে নিক্ষিপ্ত হওয়া মাত্রই চিট্ চিট্ শব্দ করতে লাগলো জল বুদ্বুদ্ তুলতে লাগলো। সারাদিনের সšপ্তÍ লাঙ্গল ফলক যেমন জলে নিক্ষিপ্ত হলে চিট্চিট্ শব্দ করে এবং জল বুদ্বুদ্ তোলে, তেমনি সে হব্যাবশেষ জলে নিক্ষিপ্ত হয়ে চিট্ চিট্ করতে লাগলো, বুদ্ বুদ্ তুলতে লাগলো। তাতে ব্রাহ্মণ সংবিগড়ব ও রোমাঞ্চিত হয়ে ভগবানের নিকটে গিয়ে একান্তে দাঁড়ালেন। ভগবান তাঁকে গাথায় বলেন-

হে ব্রাহ্মণ, কাঠ জ্বেলে শুদ্ধি লাভ হয় মনে করো না। এ বাহ্যিক।

যে বাইরের শুদ্ধি চায়, তার তাতে শুদ্ধি হয় নিপুণ (ঋষিগণ) বলেন না।

হে ব্রাহ্মণ, আমি কাঠ জ্বালানো ত্যাগ করে অন্তরেই জ্ঞানাগ্নি জ্বালাচ্ছি।

আমি নিত্যাগ্নি নিত্যসমাহিতা হয়ে অর্হত্ত্বের ব্রহ্মচর্য পালন করছি।

হে ব্রাহ্মণ, (জাতি গোত্র ইত্যাদির জন্য) তোমার মান বা অহঙ্কার পাষাণ ভাব (যা ঊর্দ্ধগতি রোধ করে নিম্নদিকে টানে)

ক্রোধ ধূম (যা দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে রাখে), মিথ্যা বাক্য ভস্ম (যা জ্ঞানকে প্রকাশ হতে দেয় না)। (তবে ধর্মযজ্ঞ সম্পাদনের

জন্য) জিহ্বা হোমদর্বী, হৃদয় জ্যোতি স্থান বা হোমকুন্ড এবং সুদান্ততাই ব্যক্তির জ্যোতি। শীল তার তীর্থ বা ঘাট, যেখানে পরাজ্ঞানের পারপ্রাপ্ত ঋষিগণ স্নাত হয়ে অসিক্ত গাত্রে নির্বাণের পারে উত্তীর্ণ হন।

হে ব্রাহ্মণ, সত্য (অর্থাৎ বাক্ বা সম্যক্ বাক্য) ধর্ম, (অর্থাৎ সম্যক্ দৃষ্টি, সম্যক্ সংকল্প, সম্যক্ ব্যায়াম, সম্যক্ স্মৃতি ও

সম্যক্ সমাধি), সংযম (অর্থাৎ সম্যক্ কর্ম ও জীবিকা)- এ অষ্টাঙ্গিক মার্গই ব্রহ্মচর্য। (এবম্বিধ ব্রহ্মচর্য অবলম্বনে) মধ্য

নিশ্রিত (অর্থাৎ শাশ্বত ও উচ্ছেদবাদের মধ্যবর্তী) ব্রহ্মপ্রাপ্তি হয়। (সে ব্রহ্মত্ব প্রাপ্ত) ঋষিগণের প্রতি তুমি প্রণাম নিবেদন কর। সে ব্যক্তিকেই আমি ধর্মানুসারী বলে বর্ণনা করি।

সূত্র-সংযুক্ত নিকায় ১ম ও ২য় খন্ড, অনুবাদক-শীলানন্দ ব্রক্ষ্মচারী

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

খুব সংক্ষেপে মহাসতিপট্ঠান সহায়িকা

একূশটি উপায়ে অরহ্ত্ত্ব লাভের উপায় তথা কর্মস্থান সংযূক্ত গভীর অর্থসংযুক্ত মহাসতিপট্ঠান সূত্তI এখানে একুশটি উপায়ে …

Leave a Reply