ব্রেকিং নিউজ

আমরা না জেনেই আর্য্য নিন্দা করি। তার পরিণাম কী হয় বুদ্ধ ভাষিত কোকালিক সূত্রের মাধ্যমে জানুন

আমরা না জেনেই আর্য্য নিন্দা করি। তার পরিণাম কী হয় বুদ্ধ ভাষিত কোকালিক সূত্রের মাধ্যমে জানুন

ইলা মুৎসুদ্দী

bm

ভিক্ষু কোকালিক ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন পূর্বক একান্তে বসে বললেন ভদন্ত, শারীপুত্র ও মৌদ্গল্যায়ন পাপেচ্ছ ও পাপেচ্ছার বশগত।” এ উক্তি শুনে ভগবান ভিক্ষু কোকালিককে বললেন হে কোকালিক, এরকম বলো না, শারীপুত্র মৌদ্গল্যায়নের প্রতি চিত্ত প্রসন্ন করো, তাঁরা উভয়ে প্রিয়শীলী। দ্বিতীয়বার কোকালিক ভগবানকে বললেন যদিও ভগবান (তাঁদের প্রতি) শ্রদ্ধান্বিত, প্রত্যয়ী বা বিশ্বাসী, তবুও শারীপুত্র ও মৌদ্গল্যায়ন পাপেচ্ছ এবং পাপেচ্ছার বশগত।” দ্বিতীয়বার ভগবান কোকালিককে বললেন হে কোকালিক, এমন বলো না শারীপুত্র-মৌদ্গল্যায়নের প্রতি চিত্ত প্রসন্ন করো, তাঁরা উভয়ে প্রিয়শীলী। তৃতীয়বার কোকালিক …. তাঁরা উভয়ে প্রিয়শীলী। অতঃপর ভিক্ষু কোকালিক আসন থেকে উঠে ভগবানকে অভিবাদন পূর্বক প্রদক্ষিণ করে প্রস্থান করলেন। প্রস্থানের অল্পক্ষণ পরে ভিক্ষু কোকালিকের সর্বশরীর সর্ষপসম ব্রণে ছেয়ে গেল। সেগুলো সর্ষপ থেকে মুগের মত বড় হল, মুগ থেকে ছোলার মত, ছোলা থেকে কুল আঁটির মত, কুল আঁটি থেকে কুলের মত, কুল থেকে আমলকীর মত, আমলকী থেকে কচি বেলের মত এবং কচি বেল থেকে বেলের সমান বড় হয়ে ফেটে গেল। সে গুলো থেকে পূঁজ রক্ত ঝরতে লাগল। অতঃপর কোকালিক তাতেই মারা গেলেন এবং শারীপুত্র ও মৌদ্গল্যায়নের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে পদ্ম নিরয়ে উৎপন্ন হলেন।

ব্রহ্মা সহম্পতি রাত্রির শেষ প্রহরে কমনীয় বর্ণে সমস্ত জেতবন উদ্ভাসিত করে ভগবানের নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে অভিবাদন পূর্বক একান্তে দাঁড়িয়ে বললেন ভদন্ত, ভিক্ষু কোকালিক মারা গিয়েছেন এবং শারীপুত্র ও মৌদ্গল্যায়নের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে পদ্ম নিরয়ে উৎপন্ন হয়েছেন।” একথা বলে ব্রহ্মা সহম্পতি ভগবানকে অভিবাদন পূর্বক তথায় অন্তর্ধান করলেন।

সে রাত্রির অবসানে ভগবান ভিক্ষুদের ডেকে এ বিষয় আদ্যোপান্ত তাঁদের বললেন। এ উক্তি শুনে জনৈক ভিক্ষু ভগবানকে বললেন “ভদন্ত, পদ্ম নিরয়ে আয়ুষ্কাল কত দীর্ঘ?” ভগবান- হে ভিক্ষু, পদ্ম নিরয়ে আয়ষ্কাল খুব দীর্ঘ, তবে তা এত বৎসর, এত শত বৎসর, এত সহস্র বৎসর, এত লক্ষ বৎসর বলে গণনা করা সহজ নয়।

ভিক্ষু- ভদন্ত, উপমায় বলা যায় কি? ভগবান- হাঁ, উপমা দেওয়া যায়। ধরো, কোশলের বিশ খারি মাপের প্রকান্ড তিলাধার। সে তিলাধার থেকে যদি লোক শত বৎসর সহস্র বৎসর অন্তর একটি একটি করে তিল তুলে নেয়, তাহলে এতে শীঘ্রতর কোশলদেশীয় বিশ খারি তিলাধার খালি হয়ে যাবে, কিন্তু এক অর্বুদ নিরয়ের আয়ু ফুরোবে না। হে ভিক্ষুগণ (আয়ুষ্কালের দিক দিয়ে) এরকম বিশ অর্বুদ নিরয় যেন এক নিরর্বুদ নিরয়, এরকম বিশ নিরর্বুদ নিরয় যেন এক অবব নিরয়, বিশ অবব নিরয় যেন এক অটট নিরয়, বিশ অটট নিরয় যেন এক অহহ নিরয়, বিশ অহহ নিরয় যেন এক কুমুদ নিরয়, বিশ কুমুদ নিরয় এক সৌগন্ধিক নিরয়, বিশ সৌগন্ধিক নিরয় যেন এক উৎপল নিরয়, বিশ উৎপল নিরয় যেন এক পুন্ডরীক নিরয় এবং পুন্ডরীক নিরয় যেন এক পদ্ম নিরয়। শারীপুত্র মৌদ্গল্যায়নের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে ভিক্ষু কোকালিক পদ্ম নিরয়ে উৎপন্ন। একথা বলে সুগত আবার (গাথায়) বললেন- দুর্ভাষিতভাষী মূর্খজন যা দিয়ে নিজেকে ছেদন করে, সে (রূঢ় বাক্যের) কুঠার তার জন্মকালেই মুখে উৎপন্ন হয়। যে নিন্দনীয় ব্যক্তিকে প্রশংসা করে এবং প্রশংসার্হ ব্যক্তির নিন্দা করে, সে মুখ দিয়ে অপরাধ সঞ্চয় করে। সে অপরাধের জন্য সে সুখ পায় না।

যে সুগতদের প্রতি চিত্ত দুষিত করে, তার অপরাধই গুরুতর অপরাধ। আর্যনিন্দুক বা নিষ্কলুষ মুনিদের নিন্দাকারী ব্যক্তি বাক্যমনে হীনতায় প্রনিহিত করে যে নরকপ্রাপ্ত হয়, (তথাকার আয়ুষ্কাল) ছত্রিশ লক্ষ নিরর্বুদ পাঁচ অর্বুদ (বৎসর)।

সূত্র ঃ সংযুক্ত নিকায় ১ম ও ২য় খন্ড, অনুবাদক-শীলানন্দ ব্রক্ষ্মচারী

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

খুব সংক্ষেপে মহাসতিপট্ঠান সহায়িকা

একূশটি উপায়ে অরহ্ত্ত্ব লাভের উপায় তথা কর্মস্থান সংযূক্ত গভীর অর্থসংযুক্ত মহাসতিপট্ঠান সূত্তI এখানে একুশটি উপায়ে …

Leave a Reply