ব্রেকিং নিউজ

প্রতিরূপ দেশে বাস করা, পূর্বজন্মের কৃতপুণ্যে প্রভাবান্বিত থাকা এবং নিজকে সম্যকভাবে ধর্মপথে পরিচালিত করা উত্তম মঙ্গল —- কেন?

প্রতিরূপ দেশে বাস করা, পূর্বজন্মের কৃতপুণ্যে প্রভাবান্বিত থাকা এবং নিজকে সম্যকভাবে ধর্মপথে পরিচালিত করা উত্তম মঙ্গল —- কেন? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তথাগত মহাকারুণিক ‘মহামঙ্গল সূত্র’ দেশনা করেন। তারি ধারাবাহিকতায়  পড়ুন

ইলা মুৎসুদ্দী

37

পতিরূপ দেসবাসো চ পুব্বে চ কতপুঞ্ঞতা

অত্তসম্মা পণিধি চ এতং মঙ্গল মুত্তমং।

প্রতিরূপ দেশে বাস করা, পূর্বজন্মের কৃতপুণ্যে প্রভাবান্বিত থাকা এবং নিজকে সম্যকভাবে ধর্মপথে পরিচালিত করা উত্তম মঙ্গল।

প্রতিরূপ দেশ বলতে যে স্থানে গুণী-জ্ঞানী ধার্মিক ব্যক্তি বাস করেন, যে দেশে সত্যধর্মের প্রচার প্রসার ও আলোচনা-গবেষণা আছে, যে দেশে নির্বিঘ্নে ধর্মাচরণ করা যায়, দানাদি পুণ্যক্রিয়া সম্পাদনে মনের কোন প্রকার দুর্বলতা নিয়ে করতে হয় না, নবাঙ্গ শাস্তা-শাসন যে দেশে বিদ্যমান এবং সেই নবাঙ্গ শাস্তা শাসনের অনুবর্তী হয়ে দুঃখ মুক্তির পথ সুগম করা যায় তাহাই প্রতিরূপ দেশ। যেমন শ্রীলংকা, বার্মা, শ্যাম প্রভৃতি প্রতিরূপ দেশ হিসাবে গণ্য। এসব দেশে ধর্মের আসন চির অম্লান। সাধারণতঃ প্রতিরূপ দেশের মানুষ ধর্মভীরু ভদ্র বিনয়ী ধর্মগৌরবী শীলবান ও সাধু চরিত্রের হয়ে থাকে।

জন্মান্তরীণ কৃতপুণ্য মানুষের অত্যাবশ্যক। কৃতপুণ্য ছাড়া মানুষ কোন দিকে জয়লাভ করতে পারে না। যাঁরা পূর্বজন্মে বুদ্ধাদি মহাপুরুষগণকে আশ্রয় করে পুণ্যকার্য সম্পাদন করেছেন, তাঁরা এই জন্মে দুঃখ মুক্তির চরম শিখরে পৌঁছেছেন। যেমন মহাকপ্পিন স্থবির, সীবলী স্থবির, ন্যগ্রোধ শ্রামণের, সুমন শ্রামণের প্রভৃতি বুদ্ধ-শ্রাবক তার উজ্জ্বল দৃষ্টাš—। যদি তাঁদের কৃতপুণ্য না থাকত, চিত্তের সম্যক প্রণিধান না থাকত তবে বুদ্ধ-সন্নিধানে প্রব্রজ্যা লাভ হতো না।

আমরা জন্মান্তরবাদী। এই সংসারে আমরা কতবার জন্ম নিয়েছি এবং আরও কত অসংখ্যবার জন্ম পরিগ্রহের হেতুবীজ অন্তজর্গতে নিহিত আছে তা’ আমাদের দুর্জ্ঞেয়। সুতরাং এই চলমান সংসারে সুখে জীবন-যাত্রা নির্বাহের জন্য দানাদি পুণ্যক্রিয়া সম্পাদন করা সকল মানবের একান্তই কর্তব্য। পূর্ব জন্মকৃত পুণ্য না থাকলে মানুষের সর্বদিকে অমঙ্গল হয়। আশালতা ছিন্ন হয়। পদে পদে দুঃখভোগ করতে হয়। মানসিক যাতনায় অতীষ্ঠ হতে হয়। অপ্রিয় সংযোগ ও প্রিয় বিয়োগ বেদনা অহরহ ভোগ করতে হয়। ধন-ধান্যে, বিত্ত-সম্পদে, পরিবার-পরিজনে সর্বদা অপূর্ণ থাকতে হয়। তদ্ধেতু এই দুর্লভ মানবজন্মের সার্থকতা সম্পাদনের জন্য নির্বাণগামী কুশল কর্মাদি সম্পাদন করে জীবনের পরিপূর্ণতা সাধন করা নিতান্ত সমীচীন।

নিজকে সম্যক পথে পরিচালনা করা মানে আপন জীবনকে শীলাদি গুণে মহিমান্বিত করা। মানুষের জীবনকে সুন্দর বা উন্নত করবার তিনটা উপায় আছে যেমন-শীল-সমাধি-প্রজ্ঞা বা দান-শীল-ভাবনার অনুশীলন। এই সংসারে কোন কোন সদাশয় ব্যক্তি নিজের দুঃশীলতা ত্যাগ করে শীলভূমিতে, অশ্রদ্ধা পরিত্যাগ করে শ্রদ্ধাভূমিতে, কার্পণ্য ত্যাগ করে দানভূমিতে, মোহ পরিত্যাগ করে প্রজ্ঞাভূমিতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে জীবন পরিচালনার জন্য বদ্ধপরিকর হয়। একে বলে আÍ সম্যক প্রণিধান। বুদ্ধের ভাষায়-

মুক্তি-পিপাসু জনগণের একান্তই কর্তব্য-কার্পণ্য ক্লেদ ত্যাগের জন্য শ্রদ্ধার সাথে দান দেওয়া, দুঃশীলতা ত্যাগের জন্য অতি যতেœর সাথে জীবনের বিনিময়ে শীল পালন করা এবং মোহ-মালিন্য ধ্বংসের জন্য ভাবনার অনুশীলন করা, এই ত্রিবিধ উপায়ে মানুষের মুক্তি নিশ্চিত সম্ভব। একথাও সত্য-কৃপণ মানুষের কাছে দানের কথা, দুঃশীলের কাছে শীলের কথা, দু®প্রাজ্ঞের কাছে প্রজ্ঞার কথা, অশ্রদ্ধাবানের কাছে শ্রদ্ধার কথা কটূক্তি সম কানে বাজে এবং সেই উন্নত প্রতিপদা-সমন্বিত বাণী তারা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে না। মুক্তির জন্য যাদের সম্যক প্রণিধান আছে, তারা নিশ্চয় ঐ উন্নত প্রতিপদাকে জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রতিপদা হিসাবে গ্রহণ করে। সুতরাং আপন জীবনের পরিশুদ্ধি আনয়নের জন্য নিজকে সম্যক পথে পরিচালিত করার নামই-আত্ম সম্যক প্রণিধান।

সূত্র ঃ বিশ্বমঙ্গল ও বিবিধ প্রসঙ্গ, শ্রী কোণ্ডাঞো ভিক্ষু।

 

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

খুব সংক্ষেপে মহাসতিপট্ঠান সহায়িকা

একূশটি উপায়ে অরহ্ত্ত্ব লাভের উপায় তথা কর্মস্থান সংযূক্ত গভীর অর্থসংযুক্ত মহাসতিপট্ঠান সূত্তI এখানে একুশটি উপায়ে …

Leave a Reply