ব্রেকিং নিউজ

পদুমুত্তর বুদ্ধের ভবিষ্যতবাণী শুনে সীবলী মহাস্থবির কি করেছিলেন?

পদুমুত্তর বুদ্ধের ভবিষ্যতবাণী শুনে সীবলী মহাস্থবির কি করেছিলেন?

ইলা মুৎসুদ্দী

shibali

সর্বজ্ঞ জ্ঞানে বিমণ্ডিত ভুবন-মোহন পদুমুত্তর বুদ্ধের মুখনিঃসৃত অপূর্ব ভবিষ্যৎ-বাণী শ্রবণে শ্রেষ্ঠীপুত্রের অন্তরে অফুরন্ত আনন্দ-হিলে¬াল প্রবাহিত হলো। ক্ষণে ক্ষণে জাগ্লো পুলক্-শিহরণ। হৃদয়-তন্ত্রীতে ঝংকৃত হলো সান্ত¡নাময়ী আশার বাণী। প্রীতিরুচ্ছ্বাসে বলে উঠ্লেন তিনিÑ “অদ্বিতীয়, অদ্বিতীয়-বাক্য বুদ্ধের। একান্ত-সত্য সুগত-ভাষিত অমোঘ-বাণী। আকাশে ক্ষিপ্ত ঢিলের যেমন ভূমিতে পতন অবশ্যম্ভাবী, সেরূপ বুদ্ধগণের বাক্যও সুনিশ্চিত শাশ্বত; আমি নিশ্বয়ই লাভী শ্রেষ্ঠত্ব পদ মর্যাদা লাভ করবো। রাত্রি প্রভাত হলে যেমন নিশ্চয় আলোক ভাস্বর দিনমণি উদিত হয়ে থাকে তদ্রƒপ ব্দ্ধুগণের বাক্যও ধ্র“ব শাশ্বত; নিশ্চয়ই একদিন নিরবশেষ পূর্ণতায় পূর্ণ হবে আমার শোভন-সমুজ্জ্বল মনোবাসনা।”

“আত্মোৎসর্গের মাধ্যমে সাধনার সফলতা অর্জন করতে হবে” ইহাই শ্রেষ্ঠীপুত্রের সম্যক্-সঙ্কল্প। প্রগাঢ় শ্রদ্ধাকে অভিমুখী রেখে পূর্ণোদ্যমে আপন জীবন-তরী তিনি চালিত করলেন। দান-শীলাদি বিবিধ পুণ্যকর্মে নিজকে উৎসর্গ করে দিয়ে সতত উপভোগ করতেন তিনি অনুপম প্রীতি। কুশল-মূলক শোভন কর্মই তাঁর জীবন-সর্বস্ব। পুণ্য-স্রোত প্রবাহিত করতেন তিনি তাঁর প্রত্যেক কাজে, কথায়, মননে ও চিন্তনে। এ ভাবে অবশিষ্ট জীবন পরমার্থ ধর্মে নিজেকে নিয়োজিত রাখলেন তিনি। শান্তিপদ মার্গানুসরণে জীবনকে করলেন সমুজ্জ্বল, অতি সমুজ্জ্বল। এমন সমুজ্জ্বল পুণ্যাবদান-মণ্ডিত পবিত্র-জীবন যে পুরুষের তিনিই জগৎ-বরণ্যে।

জগৎজ্যোতিঃ পুণ্যপুরুষ গৌতম বুদ্ধের শ্রাবক-সংঘের যিনি অন্যতম শ্রাবক, যিনি উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কসম দীপ্তমান গৌরবময় খ্যাতি-প্রভাব-প্রতিপত্তি লাভী-শ্রেষ্ঠত্ব পদ মর্যাদা লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন, তিনিই আজ বৈচিত্র্যময় নিয়তির আহ্বানে দেখা দিলেন মহাঢ্য শ্রেষ্ঠীর একমাত্র পুত্র-রতœরূপে। শ্রেষ্ঠীপুত্রের পরম সৌভাগ্য যে, তাঁর কর্ম-জীবনের প্রথম উপদেষ্টা রূপে লাভ করেছিলেন পদুমুত্তর-সম্বুদ্ধকে। পুণ্য-পুুরুষ পদুমুত্তর বুদ্ধের সাক্ষাৎ পেয়ে শ্রেষ্ঠীপুত্রের জীবন হয়েছিল সার্থক। বুদ্ধগণ সুখের উৎস, শান্তির প্রস্রবণ। বুদ্ধের শান্তিময়ী-বাণী সন্তাপ নাশক। তথাগতের হিতোপদেশে শ্রেষ্ঠীপুত্র নিজকে নিয়োজিত করেছিলেন কুশল ধর্মে। তখন তাঁর অন্তর হয়েছিল পবিত্র ও ধর্ম পরায়ণ। দান-শীলাদি বিবিধ পুণ্যব্রতে জীবনকে করেছিলেন পূত-পুণ্যময়। এ জন্মে তিনি অপ্রমান পুণ্যরাশি সঞ্চয় করেছিলেন। মহাপুরুষের মহীয়ান্ মহিমাই শ্রেষ্ঠীপুত্রকে পরমার্থ পথে অগ্রগতিতে অগ্রসর করিয়ে দিলো। আহা, কী পরম সৌভাগ্যবান্ শ্রেষ্ঠীপুত্র!

অনিত্যময় সংসারে চিরন্তনের অভাব। মরণশীল জগতে অমর কেউ নেই। একদিন মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন সকলকে হাসায়ে মাতৃগর্ভে থেকে ভূমিষ্ঠ হয় মানবশিশু, আর একদিন, সকলকে কাঁদায়ে হইধাম থেকে চিরবিধায় গ্রহণ করে; কেউ লঙ্ঘন করতে পারে না জাগতিক এই অলঙ্ঘনীয় বিধান। পশু-পক্ষীই হোক বা মানবই হোক অথবা দেব-ব্রহ্মাই হোক প্রাণী মাত্রেই এই অজেয় শক্তির অধীন। তথা পরম সৌভাগ্যবান শ্রেষ্ঠীপুত্রও হয়েছেন এই অনতিক্রম্য নিয়মের বশবর্তী। ক্রমশঃ উপনীত হলেন তিনি জীবনের অন্তিম সীমায়। তাঁর সুদীর্ঘ লক্ষ বৎসর পরমায়ুর অবসান ঘটলো একদিন। পুণ্য-সংস্কার বিমণ্ডিত হয়ে আত্মীয়-স্বজন সকলকে শোক-সাগরে ভাসায়ে, পুরোগ্রামবাসীকে কাঁদায়ে সজ্ঞানে স্বকীয় ভাস্বর পুণ্যাবদান স্মৃতিপথে জাগ্রত রেখে অনুপম ও অফুরন্ত আনন্দ নিয়ে সংবরণ করলেন তিনি মানব-লীলা। পুণ্য-সুষমা মণ্ডিত শ্রেষ্ঠীপুত্রের মানব-জীবনের অবসানে ‘তাবতিংস’ দেবপুরে অভাবনীয় দিব্যদেহে মহাযশস্বী দেবপুত্ররূপে প্রাদুর্ভূত হলেন। তাঁর দীপ্তোজ্জ্বল নয়নাভিরাম দেহ-জ্যোতিঃতে অন্যান্য দেবগণের দেহ-প্রভা বিমর্ষ হয়ে গেল।

সূত্র-শ্রীমৎ মেত্তাবংশ ভিক্ষু রচিত লাভী শ্রেষ্ঠ অর্হৎ সীবলী

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

খুব সংক্ষেপে মহাসতিপট্ঠান সহায়িকা

একূশটি উপায়ে অরহ্ত্ত্ব লাভের উপায় তথা কর্মস্থান সংযূক্ত গভীর অর্থসংযুক্ত মহাসতিপট্ঠান সূত্তI এখানে একুশটি উপায়ে …

Leave a Reply