ব্রেকিং নিউজ

উপগুপ্ত ভান্তের ধর্ম প্রচার, আয়ু সংস্কার বৃদ্ধি ও নাগরাজের আমন্ত্রণ (ফাং) গ্রহণ

 

 ইলা মুৎসুদ্দী

upogupto1

পূজনীয় উপগুপ্ত ভিক্ষু অর্হত্বফল সাক্ষাৎ করে সে সঞ্জীবনী জ্ঞান-সুধা পাত্র হাতে নিয়ে ছুটে গেলেন মুমূক্ষূ মানুষের দ্বারপ্রান্তে। তাঁর ছিল মৈত্রী মন্ত্রের আকর্ষণীয় শক্তি। শ্রীমুখ হতে সর্বদা নিঃসৃত হতো ঝর্না ধারার মতো সত্য-সুন্দর নৈর্বাণিক-ধর্মের অনুপম অমৃতময় মধুর বাণী। আর সেই ধর্মামৃতের সম্মোহনী বাণীর দ্বারা ভক্তবৃন্দের মন হয়ে উঠত সঞ্জীবিত।

একদা পুরবাসীর জনগণ আয়োজন করলেন এক মহতী ধর্ম-সভা। সেই মহতী ধর্ম-সভায় ধর্মোপদেশ প্রদান করবেন সৌম্যোজ্জ্বল মহামান্য মার বিজয়ী অর্হৎ উপগুপ্ত থেরো । পাপমতি দেবপুত্রমারঁ একথা জানতে পেরে ভাবল “উপগুপ্ত ভন্তে, যদি এভাবে লোকদের উপদেশ দেয়, তাহলে আমাদের রাজ্য’তো ধ্বংস হয়ে যাবে! কাজেই তাঁদের এ ধর্ম-সভায় যে কোন প্রকারে অন্তরায় সৃষ্টি করতে হবে। শ্রোতাগণ যাতে সত্যধর্ম বুঝতে না পারে, সেভাবে তাদেরকে নানা প্রলোভনে প্রলোভিত করে মোহান্ধ করে রাখতে হবে।” মার এরূপ চিন্তা করে সভামধ্যে নানা প্রকার মণি, মুক্তা ও কাঞ্চনের বৃষ্টি বর্ষণ করতে লাগল; যাতে শ্রোতাগণের চিত্ত বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। সভাস্থলে নিজে সুন্দরী নর্তকী-দেহ ধারণ করে গন্ধর্ব ও অপ্সরাগণ সহ নৃত্য আরম্ভ করল। তাদের নৃত্য-বিলাস দর্শনে শ্রোতাগণের চিত্ত কামময় হয়ে পড়ল।

তখন অরহত উপগুপ্ত মহাথেরো চিন্তা করলেন “মার প্রতিকারের একটা ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে মার সদ্ধর্ম প্রচারে অন্তরায় সৃষ্টি জনিত অনেক পাপ সঞ্চয় করবে।” অতঃপর মারের প্রতি দয়াপরবশতঃ ঋদ্ধি দ্বারা মারকে বন্দী করে একটা পাহাড়ের গুহায় রেখে চলে আসলেন।

অরহত উপগুপ্ত মহাথেরো দেশনার মাধ্যমে ধর্মের জ্যোতিচ্ছটা বিচ্ছুরণ করে অবিচ্ছিন্ন পুরবাসীর অন্তরের ঘোর তমসাকে দুরীভূত করলেন। তারপর ধর্ম-সভা শেষে মারকে বন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত করে দিলেন। আর তখন মার খুবই আক্ষেপ করে বল্লেন “মনুষ্যের আয়ু হলো অতি সামান্য। ঋদ্ধিমান উপগুপ্ত কতোদিন পৃথিবীতে থাকবেন? আমার আয়ু হলো সুদীর্ঘ (অর্থাৎ কয়েক লক্ষ বৎসর)। আমি আমার প্রভাব প্রতিপত্তি আপাততঃ স্থগিত রাখলাম।”

অমিত-সাধনা শক্তির প্রভাবে প্রভামণ্ডিত অরহত উপগুপ্ত মহাথেরো মারের এ উক্তি শুনে বল্লেন “আমার চারি ঋদ্ধিপাদা ভাবিত ও বহুলীকৃত; বুদ্ধ-শাসনের আয়ুষ্কাল পৃথিবীতে যতোদিন থাকবে ততোদিন আমি বেঁচে থাকব” এই বলে জগতের কল্যাণার্থে, দেব-নরের হিত-সুখার্থে সঙ্গে সঙ্গেই চারি ঋদ্ধিপাদ ভাবনাবলে আয়ু সংস্কার বৃদ্ধি করলেন এবং এরই সাথে সাথে মহাপৃথিবী হলো কম্পিত।

মহাপুরুষ মার বিজয়ী অরহত উপগুপ্ত মহাথেরোর আয়ু সংস্কারের বিষয় মহাসমুদ্রে নাগভুবনের নাগরাজ দিব্যজ্ঞানে অবগত হয়ে অতিশয় আনন্দিত হলেন, এবং চিন্তা করলেন “মনুষ্যগণের আয়ু অতীবক্ষীণ; নাগদের আয়ু অতীব দীর্ঘ; অতএব উপগুপ্ত থেরো মহোদয়কে আমন্ত্রণ করে আমাদের নাগরাজ্যে নিয়ে আসব।” অতঃপর নাগভবন থেকে ঋদ্ধিমান দিব্যকান্তিধর নাগাধিপতি পলকের মধ্যে মানববেশ ধারণ পূর্বক মনুষ্যলোকে সমাগত হলেন, এবং অরহত উপগুপ্ত মহাথেরো-কে শ্রদ্ধা অবনত শিরে বন্দনা পূর্বক জীবনের অন্তিম কাল পর্যন্ত মহাসমুদ্রের নাগভুবনে অবস্থান করার জন্য আমন্ত্রণ করলেন।

শান্ত, দীপ্তোজ্জ্বল অরহত উপগুপ্ত মহাথেরো নাগরাজের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে, যথা সময়ে ঋদ্ধি-প্রভাবে উপনীত হলেন মহাসমুদ্রের নাগভুবনে। মহামান্য মার বিজয়ী অরহত উপগুপ্ত মহাথেরো আগমনের বার্তা পেয়ে গৌরবে উৎফুল্ল ও উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলো নাগাধিরাজের শ্রদ্ধা প্রবণ অন্তর। তিনি মহাপারিষদ সমভিব্যাহারে দিব্য শ্বেতচ্ছত্র ধারণ পূর্বক বিচিত্র ধ্বজা-পতাকা, মঙ্গলঘট, মঙ্গলবাদ্য, পুষ্পমাল্য ও পুষ্প-স্তবক হস্তে সগৌরবে মহামানবকে অভ্যর্থনা করে নিলেন অতিশয় আনন্দিত মনে।

সুষমা-মণ্ডিত দিব্য পুষ্প-বিতান, দিব্য পুষ্প-সম্ভার ও দিব্য পুষ্প-লতিকায় দিব্যাসনসম বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যে সুসজ্জিত পুষ্পাসনে সমাসীন হলেন প্রশান্ত জ্যোতির্ময় মার বিজয়ী অরহত উপগুপ্ত মহাথেরো। পুণ্য-লক্ষণ পরিশোভিত জ্যোতির্ময় অরহত উপগুপ্ত মহাথেরো-কে দেখে আনন্দে আত্মহারা হলো নাগসংঘ। অদ্যাবধি যথাযথ গৌরবে পূজিত হতে লাগলো পূজার্হ মার বিজয়ী অর্হৎ উপগুপ্ত মহাথেরো মহোদয়।

অপর সকলকে জয় করা অপেক্ষা আত্মজয়ই শ্রেষ্ঠ; নিত্যসংযমী, আত্মজয়ী ও তথাবিধ পুরুষের জয়কে দেবতা, ব্রহ্মা, মার ও গন্ধর্ব কেহই অপজয় করতে পারে না।

অন্যজনে জয় করা নহে নহে এতই দুষ্কর,

আত্মরণে আপনারে জয় করা শ্রেয় বহুতর।

আত্মজয়ী সে বিজয়ী শ্রেষ্ঠতম হ’ন সর্বলোকে,

দেব-ব্রহ্মা-গন্ধর্বেরা হীন প্রভ তাঁর আলোকে।

 

সূত্র-শ্রীমৎ মেত্তাবংশ ভিক্ষু রচিত মার বিজয়ী অরহত উপগুপ্ত

 

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

খুব সংক্ষেপে মহাসতিপট্ঠান সহায়িকা

একূশটি উপায়ে অরহ্ত্ত্ব লাভের উপায় তথা কর্মস্থান সংযূক্ত গভীর অর্থসংযুক্ত মহাসতিপট্ঠান সূত্তI এখানে একুশটি উপায়ে …

Leave a Reply