ব্রেকিং নিউজ

বাসবদত্তার সম্যক্জ্ঞান উদয় কিভাবে হলো? (পর্ব ৩)

ba12

ইলা মুৎসুদ্দী

শ্রীমান উপগুপ্তের অমৃতময় উপদেশ-বাণীর প্রত্যেক বাক্যই বাসবদত্তার কর্ণে প্রবেশ করলো। কায়গতানুস্মৃতির সমস্ত বিষয়ই সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবির ন্যায় ওর জ্ঞান-দর্পণে প্রতিভাত হলো। ঘৃণিত, নশ্বর ও দুঃখময় দেহের প্রতি উৎপন্ন হলো তীব্র বিরাগ। শান্তি লাভের জন্য শ্রদ্ধান্বিত হয়ে প্রথমে তিনবার “নমো তস্স ভগবতো অরহতো সম্মা সম্বুদ্ধস্স” বলে শরণাগত হলো বাসবদত্তা। বহুশ্রুত জ্ঞানের অধিকারী শ্রীমান উপগুপ্ত পুনরায় সত্য-ধর্মের নিগূঢ় তত্ত্ব উদ্ঘাটন কল্পে প্রাঞ্জল সাবলীল বাক্য-বিন্যাসে সারগর্ভ উপদেশ প্রদান করলেন। চির-সত্যের আলোক সম্পাতে বাসবদত্তার হৃদয় হলো উদ্ভাসিত। উপলব্ধি করলেন সত্যদর্শন। সাক্ষাৎ করলেন নির্বাণের প্রথম স্তর স্রোতাপত্তিফলঁ। চিরতরে রূদ্ধ হলো অপায় দ্বার।

নৈর্বাণিক চির-সত্যের রশ্মি সম্পাতে তাঁর মর্মস্থল হলো আলোকোজ্জ্বল। জগতে এমন শান্তি, এমন প্রীতি সুখ যে বিদ্যমান আছে, এটা ছিল তাঁর ধারণার অতীত। বাসবদত্তা গণিকা আজ যে-স্রোতে পড়েছেন, এ স্রোতস্বিনীর স্রোতে কখনও ভাটা পড়েনা; এ স্রোত উজান গাঙের মতোই তাঁকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে অজর-অমর অমৃত-নির্ঝর পরম শান্তি-সুখময় নির্বাণে।

মথুরা রাজ্যের রাজা বাসবদত্তা গণিকার মার্গফল লাভের কথা শুনে সবিস্ময়ে চিন্তা করলেন “কি আশ্চর্য, যে গণিকা এতোই আসক্তি পরায়ণা দুর্দমনীয়া কামরাগানুরক্তা, সে গণিকার মার্গফল লাভ আশ্চর্য বটে! শ্রীমান উপগুপ্তের কী অসাধারণ গুণমহিমা, পরম-মণির সংস্পর্শে এলে লোহাও যে সোনা হয়ে যায়!” অতিশয় আনন্দিত হলো মথুরাবাসী। সকলেই অত্যধিক সন্তুষ্ট হলো শ্রীমান উপগুপ্তের প্রতি। তাঁর গৌরবে গৌরবান্বিত হলো মথুরাবাসী।

বাসবদত্তা গণিকা স্রোতাপত্তিফল প্রাপ্ত হয়ে ধর্মমার্গে প্রবৃত্ত হওয়ায় সত্যদর্শন পূর্বক শান্তিপদ মার্গানুস্মরণে জ্ঞান-প্রদীপ উদ্দীপ্ত হয়ে তাঁর জীবন হলো সমুজ্জ্বল! বিদায় নিলেন শ্রীমান উপগুপ্তের নিকট তার গণিকা জীবন অবসানের শেষ দিনটিতে। স্রোতাপন্নের অন্তরে যে, কী প্রীতি ও আনন্দের সঞ্চার হয় তা’ অনির্বচনীয়। সেই অনুপম ও অফুরন্ত অনাবিল আনন্দ নিয়ে প্রসন্নোজ্জ্বল চক্ষু হলো মুদ্রিত। বক্ষঃপঞ্জর থেকে নির্গত হলো তাঁর শেষ নিঃশ্বাস। রয়ে গেল যেন তাঁর মুখে শান্ত-মধুর হাসির অনির্বাণ জ্যোতিঃ।

পুণ্য-সংস্কার বিমণ্ডিত হয়ে গণিকা-জীবনের অবসানে বিভূতি পুণ্য-সুষমা মণ্ডিত অভাবনীয় জ্যোতির্ময় আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে তিনি আবির্ভূত হলেন দেবপুরের প্রভাময় দেবনিকায়ে। তাঁর দীপ্তোজ্জ্বল নয়নাভিরাম দেহ-জ্যোতিঃতে দেবগণের দেহ-প্রভা বিমর্ষ হয়ে গেল।

চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো তাঁর মৃত্যুর সংবাদ। দেখতে এলো মথুরাবাসী তথা বহু জনগণ। শ্রীমান উপগুপ্তের নির্দেশ মতো যথা সময়ে যথাযথ মর্যাদায় নিষ্পন্ন করা হলো বাসবদত্তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।

সূত্র-শ্রীমৎ মেত্তাবংশ ভিক্ষু রচিত মার বিজয়ী অরহত উপগুপ্ত

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

খুব সংক্ষেপে মহাসতিপট্ঠান সহায়িকা

একূশটি উপায়ে অরহ্ত্ত্ব লাভের উপায় তথা কর্মস্থান সংযূক্ত গভীর অর্থসংযুক্ত মহাসতিপট্ঠান সূত্তI এখানে একুশটি উপায়ে …

Leave a Reply