ব্রেকিং নিউজ

বুদ্ধের কপিলাবস্তু আগমন পরবর্তী জ্ঞাতিগণের অভিমান চূর্ণ করার প্রয়াসে কি করেছিলেন?

ইলা মুৎসুদ্দী

12376303_1757358581159796_7137622472842341291_n

তথাগত বুদ্ধ সশিষ্য প্রত্যহ এক যোজন পথ অতিক্রম করিয়া দুই মাসের শেষে কপিলাবস্তু নগরে উপনীত হইলেন। তখন আত্মীয়গণ ও শাক্যবংশীয় রাজাগণ পরামর্শ করিয়া বিশ সহস্র ভিক্ষুসহ বুদ্ধের বসবাসের উপযোগী করিয়া শাক্যবংশীয় নিগ্রোধ শাক্যের রাজকীয় উদ্যানের মধ্যবর্তীস্থলে রমনীয় স্থানে উপযুক্ত বিহার প্রতিষ্ঠা করিয়া বুদ্ধকে দান করিলেন। বুদ্ধ তাঁহার বিশ সহস্র ভিক্ষুসংঘ সহ সেই নিগ্রোধ আরামে অবস্থান করিতে লাগিলেন।

শাক্যবংশীয় কুলপুত্রগণ অভিমানে স্ফীত হইয়া বুদ্ধকে বন্দনা করা হইতে বিরত থাকিলেন, এমনকি তাঁহার নিকট আসিয়া বাক্যালাপ ও কেহ করিলেন না। তখন অনেকেই বলিতে লাগিলেন “সিদ্ধার্থ কুমার আমার ভ্রাতাষ্পুত্র, আমার কনিষ্ঠ ভ্রাতা, আমার হইতে বয়সে কনিষ্ঠ কাজেই আমাদের বন্দনা করা উচিত হইবে না। বয়োজ্যৈষ্ঠগণ ইহা ভাবিয়া স্বল্প বয়সী বা বুদ্ধের কনিষ্ঠগণকে বুদ্ধের নিকট যাইতে দিলেন এবং বয়োজ্যৈষ্ঠগণ সকলের পশ্চাতে গিয়া বুদ্ধকে বন্দনা না করিয়া বুদ্ধের সামনে বসিয়া রহিলেন।

তথাগত বুদ্ধ জ্ঞাতিগণের এই অভিমান দর্শন করিলে তাঁহাদের চূর্ণ করিবার মানসে উপবেশনরত অবস্থায় চতুর্থ ধ্যানে প্রবেশ করিয়া আকাশে উড্ডীন হওতঃ শূন্যে চংক্রমণ করিতে আরম্ভ করিলেন। এমতাবস্থায় শরীরের উপরি অংশ হইতে অগ্নি শিখা এবং শরীরের নিম্নাংশ হইতে জলধারা প্রবাহিত করাইতে লাগিলেন। বামপদ পল্লব হইতে অগ্নিশিখা, দক্ষিণ পদপল্লব হইতে জলধারা, দক্ষিণ চক্ষু হইতে অগ্নিশিখা ও বাম চক্ষু হইতে জল ধারা প্রবাহিত হইতে লাগিল। মুখ গহ্বর ও উভয় নাসারন্ধ্র হইতে অগ্নিশিখা ও জল -নির্গত হইয়া প্রবাহিত হইতে লাগিল। বুদ্ধের শরীর হইতে নীল, পীত,লোহিত , মঞ্জিত ও প্রভাস্বর এই ষড়বিধ রশ্মি অত্যুজ্জ্বল ভাবে বিচছুরিত হইতে লাগিল। এইভাবে তথাগত বুদ্ধ শূন্যে যেখানে চংক্রমণ করিতে লাগিলেন সেই চংক্রমণ স্থান সপ্তরতেœ প্রতিমন্ডিত হইল। শাক্যগণের মস্তকোপরি শূন্যে চংক্রমণ করিতে করিতে যেন সকলের উপর ধুলি বর্ষণের ন্যায় অনুমিত হইল। তথাগত বুদ্ধের এই অত্যন্ত আশ্চর্যজনক যমক প্রতিহার্য ঋদ্ধি দর্শন করিয়া পিতা রাজা শুদ্ধোধন বুদ্ধের পদতলে মস্তক স্থাপন করিয়া বরিলেন- “প্রভো, জন্মের  পর মহর্ষি কালদেবল আপনার পদযুগল তাঁহার মস্তক স্থাপন করিতে দেখিয়া পিতা তোমাকে প্রথম বন্দনা করিয়াছে, তোমার শৈশবে হলকর্ষণ উৎসবে বৃহৎ জম্বুবৃক্ষের স্থির ছায়াতলে তোমাকে ধ্যানাবস্থায় অবস্থান করিতে দর্শন করিয়া পিতা তোমাকে দ্বিতীয়বার বন্দনা করিয়াছে, এখন তোমার অত্যাশ্চর্য্যভাবে আকাশ গঙ্গা একাকার করিয়া যমক প্রতিহার্য ঋদ্ধি প্রয়োগ দর্শন করিয়া তোমার জন্মদাতা পিতা তৃতীয়বার তোমাকে বন্দনা করিতেছি।” বলিয়া রাজা শুদ্ধোধন বুদ্ধকে বারবার বন্দনা করিলেন।

এইভাবে বুদ্ধকে রাজা শুদ্ধোধন বন্দনা করিতে দর্শন করিয়া সমাগত শাক্যরাজন্য বৃন্দ ও জ্ঞাতিবর্গ বয়োকনিষ্ঠ বয়োজ্যৈষ্ঠ নির্বিশেষে বুদ্ধকে সকলে শ্রদ্ধার সহিত অবনত মস্তকে বন্দনা করিলেন। বুদ্ধ শূন্যে স্থির হইয়া উপবেশন করিলে সমগ্র আকাশ ব্যাপী রক্তবর্ণের পিঙ্গলের ন্যায় পুস্কর* বৃষ্টি বর্ষণ হইতে লাগিল। পুস্কর বৃষ্টি বর্ষণের সময় যাহারা পুস্কর বৃষ্টিতে সিক্ত হইতে ইচছা করিলেন তাহারা সিক্ত হইলেন, আর যাহারা সিক্ত হইতে ইচছা করিল না তাহারা সিক্ত হইলেন না। এরূপ অবস্থা দর্শন করিলে সমবেত জনসংঘ খুবই আশ্চর্য্যান্বিত হইলেন। এই বিষয় অবতারণা করিয়া বুদ্ধ মহা জ্ঞাতি সম্মেলনে বলিলেন “এখন যে এইভাবে পুস্কর বৃষ্টি বর্ষণ হইতেছে তাহা নহে, পূর্বেও এখন হইতে আটান্ন কোটি ষষ্ঠি অযুত বৎসর পূর্বে বোধিসত্ত্বের বিশ্বন্তর জন্মে এই একই রকম সময়ে পুস্কর বৃষ্টি বর্ষিত হইয়াছিল।” তথাগতের মুখে এই কথা শ্রবণ করিলে শ্রবণাকাংখী জনসংঘ বিশ্বন্তর জন্মের কাহিনী দেশনার জন্য প্রার্থনা করিলেন। তখন বুদ্ধ সহস্রাধিক গাথা সমন্বিত বিশ্বন্তর জাতক বর্ণনা করিলেন।

ধর্মদেশনা শ্রবণের পর সমাগত জ্ঞাতিগণ অবনত মস্তকে বুদ্ধকে বন্দনা করিয়া পৃথক পৃথকভাবে প্রস্থান করিলেন। একজনও ভোজনের জন্য বুদ্ধকে নিমন্ত্রণ করিলেন না। পিতা শুদ্ধোধনও “আমার পুত্র আমার গৃহে আগমন করিয়াছেন, আমার গৃহেই ভোজন করিবেন” ইহা চিন্তা করিয়া ভোজনের নিমন্ত্রণ না করিয়া প্রস্থান করিলেন।

সূত্র – বুদ্ধের সমকালীন ভিক্ষুসংঘ, মুদিতারত্ন ভিক্ষু

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

খুব সংক্ষেপে মহাসতিপট্ঠান সহায়িকা

একূশটি উপায়ে অরহ্ত্ত্ব লাভের উপায় তথা কর্মস্থান সংযূক্ত গভীর অর্থসংযুক্ত মহাসতিপট্ঠান সূত্তI এখানে একুশটি উপায়ে …

Leave a Reply