ব্রেকিং নিউজ

অনোমদর্শী নামক বুদ্ধ সোন স্থবিরকে কি ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন?

ইলা মুৎসুদ্দী

100v

জগতে অনোমদর্শী নামক বুদ্ধ উৎপত্তিকালে সোন স্থবির  একজন কুলপুত্র হইয়া জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বুদ্ধকে নিত্য সেবা, পূজাকারী উপাসক রূপে প্রসিদ্ধ ছিলেন।

তথাগত বুদ্ধ নির্দিষ্ট চংক্রমণ স্থান না থাকায় মুক্ত অঙ্গনে চংক্রমণ করিতেন। একদিন মুক্ত অঙ্গনে বুদ্ধ চংক্রমন করিবার সময় সেই কুলপুত্র তাহা দেখিয়া রাজাসহ অন্যান্য লোকসহ একসঙ্গে “আমরা ইহার উপর পূন্য সঞ্চয় করিব” পরামর্শ করিয়া প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ পূর্বক বুদ্ধের চংক্রমণ স্থানে একশত হস্ত দীর্ঘ একটি রত্নখচিত উৎসর্গ করিবার সময় অষ্টপরিস্কার সহ বুদ্ধ প্রমুখ ভিক্ষুসংঘকে খাদ্য ভোজ্য দ্বারা শ্রদ্ধার সহিত আপ্যায়ন করিলেন। তথাগত বুদ্ধ ভোজনের পর দান ও পুণ্যানুমোদন করিয়া ধর্ম দেশনা আরম্ভ করিলেন।

চংক্রমণ স্থান সহ অষ্টপরিস্কার দানের ফল পরিস্কারভাবে ব্যাখ্যা করিবার জন্য বুদ্ধ প্রথমে এই গাথা বলিলেন “যো সো হট্ঠেন চিত্তের দীঘ সালং অদামি ম ……………..” তাহার পর বলিলেন, “হে দায়কগণ, যেই ব্যক্তি আমার চারি ঈর্ষাপথের সাম্যতা সাধনে এই রকম গমনাগমন উপযোগী চংক্রমণ নির্মাণ করিয়া দান করে, ত্রিশরণ গ্রহণসহ শীলাদি পালন করে, সেই দায়ক বর্তমান জন্মেও যাহা আকাংখা করে তাহা পরিপূর্ণ হয়। রোগ, ভয় ও অন্তরায় মুক্ত হইয়া সুখ বৃদ্ধি হয় ও দীর্ঘায়ু স¤পন্ন হয়, মৃত্যুর পর দেবলোকে বৈজয়স্য রথের সাহায্যে দেবরাজ শক্রের বিপুল স¤পত্তি পরিভোগ করে। দেবলোকে সপ্তরতেœ বিমন্ডিত মনোরম দেববিমান প্রাপ্ত হইয়া বৈজয়ন্ত প্রাসাদে দেবধীতা ও দেবপুত্র পরিবেষ্টিত হইয়া বিপুল দিব্য আনন্দে দেবরাজের স¤পত্তি অসংখ্য কল্প পরিভোগ করিতে সক্ষম হয়। দেবলোক হইতে চ্যুত হইয়া মানবলোকে জন্মগ্রহণ করিলেও চক্রবর্তী রাজা হইয়া এই বসুন্ধরা শাসন করিতে সক্ষম হয়।

অতঃপর তথাগত বুদ্ধ সেই পূণ্যবান কুলপুত্রকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন, “হে দায়ক, বুদ্ধের চংক্রমণ স্থান নির্মাণ করিয়া দান, শীল পালন ইত্যাদি পূণ্য কাজে যে অগ্রণী ভূমিকা নিয়া মহাপূণ্যের অধিকারী হইয়াছ এই পূণ্যের ফলে তুমি দেবলোকে উৎপন্ন হইবে- পঞ্চবিংশতি কল্প ব্যাপী দেবধীতা ও দেবপুত্র পরিবেষ্টিত দেবরাজ শক্র হইয়া দিব্যসুখ পরিভোগ করিবে। দেবলোকে সুখ ভোগের পর মানবকুলে জন্মগ্রহণ করিয়া যশোধর নামক চতুর্দ্বীশ্বর চক্রবর্তী রাজা রূপে সপ্ত সপ্ততিবার উৎপন্ন হইবে। তারপর একছত্র অধিপতি, প্রাদেশিক রাজা, শ্রেষ্ঠী ও ধনী হইয়া বহুবার জন্মগ্রহণ করিবে। আমার পরবর্তী কালে উৎপন্ন বুদ্ধগণের নিকট বিশেষভাবে কুশল সংস্কার বৃদ্ধি করিয়া মানব, দেবতা ও ব্রহ্ম এই ত্রিবিধ ভূমিতে মহত্তয়ভাবে ভোগ সমৃদ্ধি পরিভোগ করিয়া ভদ্রকল্পে আগ্নিক নামক রাজা হইবে। সেই বংশের মধ্যে ক্রম পর্য্যায়ে গৌতম নামক সম্যক সম্বুদ্ধ উৎপন্ন হইবে এবং – হে দায়ক, তুমি সেই সময়ে ভিক্ষুত্ব গ্রহণ করিয়া শ্রাবক পারমী জ্ঞানে পূর্ণতা প্রাপ্ত হইবে …… ।” এই বলিয়া শাস্তা অনোমদর্শী বুদ্ধ ভবিষ্যৎ বাণী ব্যক্ত করিলেন।

সেই কুল পুত্র বুদ্ধের ভবিষ্যৎ বাণী শ্রবণ করিয়া অত্যন্ত আনন্দিত হইল এবং আরও অধিকতর শ্রদ্ধা উৎপন্ন করিয়া দানময়, শীলময় ও ভাবনাময় জীবন যাপন করিয়া অপরিমেয় পূণ্য সঞ্চয় করিল। যথা আয়ুষ্কাল অবস্থান করিয়া দেহবসানে কর্মানুযায়ী পুনর্জন্ম গ্রহণ করিল। এইভাবে জন্ম জন্মান্তর পরিগ্রহ করিয়া মানবীয়, দেবকীয় বিপুল সুখ সমৃদ্ধি জন্মে জন্মে পরিভোগ করিতে করিতে পদুমুত্তর বুদ্ধের সময় হংসবতী রাজ্যে মহা সমৃদ্ধিশালী শ্রেষ্ঠী শ্রীবর্ধন নামে জন্ম গ্রহণ করিলেন। তিনি যথাযোগ্য বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে বুদ্ধের ধর্ম শ্রবণ করিয়া ধর্মের প্রতি প্রগাঢ় শ্রদ্ধা উৎপন্ন হইলে বুদ্ধকে চর্তুপ্রত্যয় দান দিয়া সেবা করিতে লাগিলেন।

সূত্র – বুদ্ধের সমকালীন ভিক্ষুসংঘ, মুদিতারত্ন ভিক্ষু

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

খুব সংক্ষেপে মহাসতিপট্ঠান সহায়িকা

একূশটি উপায়ে অরহ্ত্ত্ব লাভের উপায় তথা কর্মস্থান সংযূক্ত গভীর অর্থসংযুক্ত মহাসতিপট্ঠান সূত্তI এখানে একুশটি উপায়ে …

Leave a Reply