ব্রেকিং নিউজ

তিনি কে যিনি একটিমাত্র অংগুলি উত্তোলন করে দৃঢ়তার সহিত বলেছিলেন —-কুমার সিদ্ধার্থ নিশ্চিত বুদ্ধ হবেন। জানতে চাইলে পড়ুন (১ম পর্ব)

তিনি কে যিনি একটিমাত্র অংগুলি উত্তোলন করে দৃঢ়তার সহিত বলেছিলেন —-কুমার সিদ্ধার্থ নিশ্চিত বুদ্ধ হবেন। জানতে চাইলে পড়ুন (১ম পর্ব)

ইলা মুৎসুদ্দী

10

 

ভগবান বুদ্ধের শ্রাবকদের মধ্যে আয়ুষ্মান আনন্দ, আয়ুস্মান সারিপুত্র, আয়ুষ্মান মৌদ্গল্যায়ন যেরূপ জনসমাজে জনপ্রিয় এবং প্রসিদ্ধ ছিলেন এঁদের অপেক্ষা জ্ঞানী কৌন্ডিণ্য তেমন বেশি প্রসিদ্ধ ছিলেন না। তা সত্ত্বেও বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে তার অদ্বিতীয় স্থান উপেক্ষা করা বা ভুলানো সমম্ভব নয়। জ্ঞানী কৌন্ডিণ্য ভগবান বুদ্ধের প্রথম  ছিলেন। যিনি সর্বপ্রথম বুদ্ধের মধ্যমমার্গ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তিনিই স্বয়ং ভগবান বুদ্ধের দীক্ষিত প্রথম ভিক্ষু।

কৌন্ডিণ্য কপিলবস্তুর সমীপে দ্রোণবস্তু নামক ব্রাহ্মণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। তার পিতা মহাসার   ব্রাহ্মণ মহাধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন। নাম করণ সময়ে গোত্রের নামের সাথে কৌন্ডিণ্য রাখা হয়।

তৎকালীন শিক্ষা ব্যবস্থানুসারে তিনি ত্রিবেদ অধ্যায়ন করেছিলেন। এর সাথে সাথে সামুদ্রিক বিদ্যায়ও যথেষ্ট পারঙ্গম ছিলেন। বিশেষতঃ মুখ-সামুদ্রিক শাস্ত্রে পান্ডিত্য অর্জন করেন এবং সর্বত্র তাকে এবিষয়ে মান্য করাও হতো।

যখন কপিলবস্তু নগরের রাজা শুদ্ধোধন ও রাণী মহামায়াদেবী পুত্র লাভ করেন তখন রাজা নবজাত শিশুর ভবিষৎ জ্ঞাত হতে রাজ্যখ্যাত আটজন ব্রাহ্মণকে আহ্বান করেন। তাদের মধ্যে কৌন্ডিণ্য ছিল যুবক এবং সবচেয়ে কনিষ্ঠ। অপর সাতজন যথাক্রমে- রাম, চ্ছজ, লক্ষণ, মন্ত্রী, ভোজ এবং সুযাম। এই  সাত ব্রাহ্মণ পন্ডিত সিদ্ধার্থের দু’ধরনের ভবিষদ্বাণী করেছিলেন। তারা সকলে দু’টি অঙ্গুলীয় উত্তোলন করে বলেন- ‘যদি কুমার গৃহে অবস্থান করেন তাহলে চক্রবর্তী সম্রাট হয়ে সমগ্র শাসক হয়ে এই ভূলোক শাসন করবেন। অথবা যদি গৃহত্যাগ করে প্রব্রজিত হয় তাহলে ত্রিলোকপূজ্য মহাকারুণিক জগত শাস্তা হবেন।’

যুবক কৌন্ডিন্য শুধুমাত্র একটি অঙ্গুলী উত্তোলন করে দৃঢ়তায় কুমারের ভবিষদ্বাণী করেন-‘বালকের গৃহে অবস্থান করার কোন প্রকার চিহ্ন দৃষ্ট হচ্ছে না। তার অঙ্গলক্ষণে স্পষ্ট দৃষ্ট হচ্ছে ইনি নিশ্চিত বুদ্ধ হবেন। তাকে এই পদ থেকে কোন কিছুতেই রুদ্ধ করা সম্ভব নয়।’

বয়সে কনিষ্ঠ হলেও যুবক কৌন্ডিণ্যর কথা উপস্থিত সকলকে মানতে বাধ্য হলো কারণ সামুদ্রিকশাস্ত্র বিষয়ে তার দূরদর্শিতা এবং জ্ঞানই সর্বাদিক। একে উপেক্ষা করার কারোর অবকাশ নেই।

সিদ্ধার্থ কুমারের বুদ্ধ হওয়া নিয়ে কৌন্ডিণ্যের বিন্দুমাত্রও সংশয় ছিল না। তদ্ধেতু তাকেই উদ্দেশ্য করে পূর্ব থেকে সংসার ত্যাগ  করেছিলেন। ভাবীবুদ্ধের শরণ গ্রহণের জন্য পরিব্রাজক জীবন অবলম্বন করেন। অতঃপর নানা স্থান বিচরণ করতে করতে ক্রমে কপিলবস্তু হতে উরুবেলায় উপনীত হন। সেখানকার রমনীয় নৈসর্গিক লীলানিকেতন তাকে অতীব আকর্ষন করল। এরূপ মনোরম ও অনুকূল স্থান ইতিপূর্বে দৃষ্ট হয়নি। তদ্ধেতু পরিব্রাজক কৌন্ডিণ্য এই স্থানকে আশ্রয় করে সিদ্ধার্থের কুমারের অভিনিষ্ক্রমণ অপেক্ষায় প্রতীক্ষা করতে লাগলেন।

যেই দিন সিদ্ধার্থ গৌতম সর্ব-বিষয়ভোগ ত্যাগ করে মহাভিনিষ্ক্রমণ করেন সেই দিনই কৌন্ডিণ্যের ভবিষদ্বাণী অর্ধেক পূর্ণতা পায়। কুমারের গৃহত্যাগ বার্তা শুনে কৌন্ডিণ্য সেই সাত ব্রাহ্মণের পুত্রদের নিকট গমণ করেন। এর অনেক দিন পূর্বে সেই পন্ডিত ব্রাহ্মণগণ সবাই কালগত হন। অতঃপর কৌন্ডিণ্য তাদের পুত্রদের নিবেদন করেন- ‘সিদ্ধার্থ কুমার প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেছেন। তিনি নিঃসন্দেহে জগতপূজ্য ত্রিলোকশাস্তা বুদ্ধ হবেন। যদি আজ তোমাদের পিতাগণ জীবিত থাকতেন তাহলে নিশ্চয় তার উদ্দেশ্যে গৃহত্যাগ করে প্রব্রজিত হতেন। যদি তোমরা ইচ্ছুক হও তাহলে সত্ত্বর এসো! মহাপুরুষের সাথে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করি।

এদের মধ্যে সকলে কৌন্ডিণ্যের কথায় সম্মতি প্রকাশ করেননি। তিনজনই এতে দ্বিমত পোষণ করেন। এবং অবশিষ্ট চারজনই প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন। কৌন্ডিণ্য ছিলেন এদের পথ সহায়ক। এই পাঁচজনই পরবর্তীতে ‘পঞ্চবর্গীয়’ বলে জনসমাজে পরিচিতি লাভ করেন।

যত্রতত্র ভ্রমণ করতে করতে বোধিসত্ত্বও উরুবেলার রমনীয় ভূমি খন্ডে তপস্যা সাধনার উপযুক্ত স্থান মনে করে তথায় ধ্যান সাধনা করতে লাগলেন। কৌন্ডিণ্য সহ পঞ্চ পরিব্রাজকও তাকে খুঁজতে খুঁজতে সেখানে উপনীত হন। ‘ইনি বুদ্ধ হবেন, ইনি বুদ্ধ হবেন’ এরূপ ভাবতে ভাবতে ছয় বছর কাল এই পঞ্চবর্গীয় পরিব্রাজকগণ বোধিসত্ত্বের সেবা-শুশ্রুষা করতে লাগলেন। সাধনা করতে করতে সিদ্ধার্থ গৌতম ক্রমশঃ আহারের মাত্রা কমিয়ে পরিবর্তীতে একেবারে আহারও ছেড়ে দেন। অনাহারের দরুণ ক্রমশঃ দূর্বল হয়ে পরেন। পূর্বের সেই কনকবর্ণ দেহ কালো ও কৃশে পরিণত হলো। বত্রিশ মহা পুরুষ লক্ষণও শরীর থেকে অর্ন্তহিত হলো। এরপর শ্বাসরুদ্ধ ধ্যান অভ্যাস করতে গেলে আরো একেবারে পীড়িত হয়ে পরেন। উঠতে গেলে দেহ মাটিতে ঢলে পড়তে লাগল। মাঝে মাঝে সংজ্ঞাহীনও হয়ে পরেন। অতঃপর চিন্তা করতে লাগলেন- ‘এই দুষ্কর তপস্যা সম্বোধি লাভ উপযুক্ত মার্গ নয়। ইহা নিশ্চিয় ভ্রান্ত।’ অতঃপর ফলমূলাদি সংগ্রহ করে ধীরে ধীরে আহার গ্রহণ করতে লাগলেন। কিছু দিন পর তার দেহের বর্ণ পূর্বের ন্যায় শ্রীসৌন্দর্য পুনঃ ফিরে পেল।

যেই উদ্দেশ্যে পঞ্চবর্গীয় পরিব্রাজকগণ তার সেবা-সৎকারাদি সম্পাদন করেছিল, এখন তারা আর তার প্রতি ভরসা রাখতে পারলনা। তারা ভাবতে লাগল তাদের সমস্ত কৃত্য শ্রম ব্যর্থ হয়েছে। ছয় বছর পর্যন্ত যে দুষ্কর তপস্যা করেও ইনি বুদ্ধ হতে পারেননি, আর এখন তা কি করে সম্ভব? এখন সেই ভোগ-বিলাসে রমিত হয়েছে। তপস্যা মার্গ হতে ভ্রষ্ট হয়েছে। এরূপ বলে সকলে সিদ্ধার্থ গৌতমকে ত্যাগ করে স্বীয় স্বীয় দ্রব্যাদি গ্রহণ পূর্বক ঋষিপতন  চলে যান।

সূত্র – বুদ্ধের সমকালীন ভিক্ষুসংঘ, মুদিতারত্ন ভিক্ষু

 

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

তিন পাতায় এক নজরে ত্রিপিটক পরিচিতি

তিন পাতায় এক নজরে ত্রিপিটক পরিচিতিঃ ত্রিপিটক ৩টি পিটকীয়(ঝুড়ি বা বাক্স) ভাগে বিভক্ত। যথা : …

Leave a Reply