ব্রেকিং নিউজ

একতাই সুখ, লিখেছেন-মিষ্টি বড়ুয়া

canstockphoto4779764

বিশ্বের ইতিহাসে বৌদ্ধ ধর্মে সর্বপ্রথম এমন এক মুক্তির বাণী প্রচার হয়েছে, যেই মুক্তির প্রত্যেক মানুষ ইহলোক জীবদ্দশাতেই অর্জন করতে সক্ষম। এর জন্য ঈশ্বর কিংবা ক্ষুদ্র-বৃহৎ কোন দেবতার সহায়তা বিন্দু মাত্র প্রয়োজন নেই। তথাগত বুদ্ধ বলেছেন:- একতাবদ্ধ থাকা এবং একতাতেই আনন্দিত। যারা একতাবদ্ধ হয়ে বাস করেন তাঁদের উন্নতি ব্যতিত অবনতি হয় না। একতার মহোপকারিতা জেনেও সমদৃষ্টির অভাবে ঐক্যবদ্ধ ভাবে বাস করতে পারিনা। সমদৃষ্টি অর্থ সমান নয়- সম্যক ভাবে দেখা, অর্থাৎ যে যেমন তাকে তেমন ভাবে দেখা বা জানা। সমদৃষ্টি থাকলে মানুষ একসাথে পরিবার ও সমাজে একতাবদ্ধ হয়ে উন্নত সুখময় জীবন যাপন করা যায়। আমাদের শিক্ষনীয় যে, বন্যার সময় পিপীলিকারা জটলা বেঁধে ঢেউয়ের আঘাতে ভাসতে ভাসতে তটে গিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নেয়, এবং বেঁচে যায়। মানুষের ক্ষেত্রে এ রকম হওয়া প্রয়োজন। মৌমাছিরা একতাবদ্ধ ভাবে নিজের আশ্রয়ের মৌচাক তৈরি করে। নিজের নিজের দায়িত্ব সুশৃঙ্খল ভাবে পালন করে। এ রকম উদাহরণ অনেক। তাই তথাগত বুদ্ধ একতার উপর বেশী জোড় দিয়েছেন। সমবেত ভাবে যে কোন সৎকার্য সম্পাদন করলে এতে সুখ শান্তি লাভ হয়। সমাজ শব্দের অর্থ সম্মিলিত ভাবে উন্নতি মূলক কাজ করা। সম্মিলিত ভাবে কাজ করলে যে কোন মহৎ কাজ অতি সহজে আনন্দের সঙ্গে করা যায়, একতাবদ্ধতা সর্বপ্রাণীর পক্ষেই মহামঙ্গল দায়ক, আর মানুষের কথাই বা কি? মানুষ সামাজিক জীব বলে সমাজবদ্ধভাবে বাস করে, তাই সমাজের মঙ্গলে মানুষের মঙ্গল। এ জন্য জ্ঞানী ও বিচারশীল ব্যক্তিরা নিজের মঙ্গলের জন্য সমাজের মঙ্গল কার্যে নিয়োজিত থাকেন। তথাগত বুদ্ধ এমন মানব সমাজের কথা ভেবেছিলেন যে সমাজে কোন উচ্চ-নীচ বা জাতিবেদ থাকবে না। বর্ণভেদ-শ্রেণীভেদ থাকবে না। সব মানুষের সমান অধিকার। মানুষ একে অপরের পরিপূরক, অপরের সুখে সুখী, দুঃখে দুঃখী, অর্থাৎ সমব্যাথী। বিশ্বের সকল প্রাণী আমার পরমআত্মীয়-আপনজন, উচ্চ নীচ জাতি ভেদ-বর্ণভেদ প্রথা কোন করুণাময় ঈশ্বরের সৃষ্টি নয়। তাই তিনি সদ্ধর্ম প্রচার কালে ত্রিশরণের প্রবর্তন করেন। তিনি চেয়েছিলেন- মানুষ জ্ঞানের উপাসনা বা সাধনা করে সবাই জ্ঞানী হউক; তারপর জ্ঞানী বা প্রজ্ঞাবান হলে সবাই নীতিবান হতে বাধ্য, নীতিবান হলে কোন বিষয়ে নীতিভ্রষ্ট হবে না। এরপর একতাবদ্ধ ভাবে বসবাসের মহাউপকার উপলদ্ধি করতে সক্ষম হবে। এ চিন্তাধারা তিনি প্রথমে তাঁর শিষ্যদের মধ্যে প্রতিপালিত করেন। পরে বুদ্ধের প্রবর্তিত ধর্মানুরাগীদের মধ্যে এ মহান চিন্তাধারা প্রবর্তিত হয়ে একতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে মহাশান্তি-সুখের মধ্যে জীবন-যাপন করেছেন। তন্মধ্যে বৈশালীর বজ্জিদের উদাহরণ বিশেষ উল্লেখযোগ্য, পরবর্তী কালে সম্রাট ধর্মাঅশোক শাসনকালও স্মরণযোগ্য। বর্তমান বিশ্বের দিকে দিকে যে অশান্তির দাবানল জ্বলছে; তার মূলে রয়েছে ঐক্যতা বা একতার অভাব ও ধর্মান্ধতা। কাকে পেছনে ফেলে কে এগিয়ে যাবে সর্বদিগ দিয়ে প্রবল প্রতিদ্বন্দীতা বেড়ে চলেছে। জাতিসংঘ থাকলেও সমব্যাথিতার অভাবে বিশ্বে শান্তি স্থাপিত হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন তথাগত বুদ্ধের অহিংসা, সাম্য-মৈত্রী ও করুণার অমিয় বাণী। সমাজের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আমরা সমাজ শব্দের অর্থ বুঝিনা-ঐক্যতা সম্বন্ধে কি বুঝবো? আমরা সমাজ বলতে একটা সমিতি বুঝি, সমিতি বা সংগঠন করে কিছু দিন জন হিতকর কার্যাদি করি কিন্তু লক্ষ্য থাকে সমিতিকে কব্জা করা। সংবিধান থাকলেও তার নিয়মকানুন খাতায় লিপিবদ্ধ থাকে মাত্র। বৌদ্ধ শব্দের অর্থ জ্ঞানের উপাসক। জ্ঞানের চর্চা, অনুশীলন বা যারা জ্ঞানের সাধনা করেন তাঁরাই বৌদ্ধ। জন্মের দ্বারা বৌদ্ধ হওয়া যায় না। তথাগত বুদ্ধের উপদেশ:- জন্মের দ্বারা নয়, কর্মের দ্বারাই চন্ডাল বা ব্রাহ্মণ হয়। তেমনি বৌদ্ধ কুলে জন্মের দ্বারা নয়, কর্মের দ্বারাই প্রকৃত বৌদ্ধ হতে হয়। বোধ জ্ঞানে জাগরণে ও বিকাশনে বোধ হতে বোধি, বোধ ও বৌদ্ধ শব্দের উৎপত্তি। সাধারণত, বোধি শব্দটা পরম জ্ঞানার্থে ব্যবহৃত হয়। বোধিপ্রাপ্ত ব্যক্তিই এবং বোধির সাধনায় নিয়োজিত ব্যক্তিই বৌদ্ধ। বোধি শাস্ত্রানুসারে কোনও সম্যক সম্বুদ্ধ হতে বুদ্ধ হবার বর-প্রাপ্ত ব্যাক্তিকে বলা হয় বোধিসত্ত্ব। বোধি লাভের সাধনায় নিরত ব্যক্তি যে কোন সম্প্রদায়ভুক্ত বা দেশের হউক না কেন- তিনিই বুদ্ধ। বোধি বা জ্ঞানের সাধনা সহজ নয়। জ্ঞান সাধনা করতে গিয়ে সবাই জ্ঞানী হতে পারে না, বেশীর ভাগই মুর্খ বা অহংকারী হয়ে যায়। কারণ, আমরা জ্ঞান সাধনা ছেড়ে দিয়েছি জ্ঞানও আমাদের ছেড়ে চলে গেছে, এখন আমরা সার্টিফিকেট বা ডিগ্রীর সাধনা করি। সাধনা যেখানে ডিগ্রী সিদ্ধি চাকরিও সেখানে। একাগ্রতার সাথে জ্ঞান সাধনায় নিয়োজিত না হলে জ্ঞান লাভ হয় না, সামান্য জ্ঞান অনিষ্ঠেরই কারণ হয়ে থাকে। পোপের উক্তি:- অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী। বিদ্যারুপ স্বর্গীয় সুধা গভীর ভাবে পান কর। নতুবা স্বাদ নিওনা। জ্ঞানী হতে হলে তাকে যথাশক্তিতে পরহিত করতে হয়। তা ব্যতীত জ্ঞানী হবার পক্ষে অন্তরায় সৃষ্টি হয়। এ জগতে যারা মহৎ জ্ঞানী ও শ্রেষ্টত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত প্রত্যেককে পরহিত ব্রত পালন করতে হয়েছে। বৌদ্ধরা জ্ঞানের উপাসক বলে মনে করেন, কিন্তু কতটুকু জ্ঞান চর্চাও ধ্যান চর্চা করেন! মনে প্রশ্ন জাগে। বোধিসত্ত্বের উক্তিতে দেখা যায়:- লোকের হিতের জন্যই এ রক্ত মাংসের দেহ ধারণ করেছি, আজই যদি পরহিতে উৎসর্গিত হয়, এর চেয়ে বেশী সুখ আমার আর কি হতে পারে? তথাগত বুদ্ধ শিষ্যদের উপদেশ দিয়েছেন:- বহুজনের হিতসুখের জন্য, তাদের প্রতি অনুকম্পা করে আদি-মধ্য-অন্তিম কল্যাণ ধর্ম প্রচার করো। পরিশেষে বলবো যে- একতাবদ্ধ যেখানে আছে, সংঘ যেখানে আছে; সেখানে সুখ, সেখানেই শান্তি। তথাগত বুদ্ধ বলেছেন:- সংঘ সুখদায়ক ও শান্তির পরিবাহক।

সম্মন্ধে Mudita Bhikkhu

এটা ও দেখতে পারেন

এক অসহায় বোনের বিয়েতে ত্রিরত্ন সংঘের শুভেচ্ছা সূচক সামান্য উপহার প্রদান….. ত্রিরত্ন বার্তা প্রতিনিধি।।

ছোট বেলায় বাবাকে হারিয়ে মেয়েটি পরিবার অসহায়ত্ব দিন যাপন করছিল। তার মা সামান্য অর্থ উপার্যন …

Leave a Reply