ব্রেকিং নিউজ

বৌদ্ধ ধর্ম সৃষ্টিকর্তার ব্যখ্যা কেমন – রক্তিম বড়ুয়া

প্রথমে বুঝতে হবে ঈশ্বর কি। কারন অন্য ধর্ম গুলোতে ঈশ্বরকে ব্যাক্তি (Person) হিসেবে নেওয়া হয় আর ঈশ্বর এর অর্থ ওদের কাছে ; Generator (সৃষ্টিকারী), Operator (পরিচালনাকারী) and Destructor (ধ্বংসকারী) সংক্ষেপে GOD। যা একটা being বা person। কিন্তু বৌদ্ধ ধর্মে Generator operator and Destructor হচ্ছে পাঁচটা Universal Rules বা Cosmic order যার দ্বারা এই universe পরিচালিত হয় আর এ ক্ষেত্রে এটি কোন ব্যাক্তি বা সত্ত্বা নয়। আর বুদ্ধ Hindu and other religion এর God এর explanation দীর্ঘ নিকায় এর কেবট্ট সূত্রতে বর্ণনা করেছেন। যেটি পড়লে জানা যায়- হিন্দুদের ঈশ্বরের (God) অস্থিত্ব বৌদ্ধ ধর্মে রয়েছে। ঐ সূত্রতে বুদ্ধ বলেছেন-Hindu and other Religion এ যাকে ঈশ্বর হিসেবে মান্য করা হয় তিনি স্বর্গ সমূহের উপরের একটি স্পেসে অবস্থান করেন। তাদের God হল বুদ্ধের ভাষায়- “মহাব্রম্মা”। যদিও ওনি খুব Supernormal power এর অধিকারি কিন্তু ওনি Generator, operator and destructor না….। অর্থাৎ জগতের সৃষ্টি, পরিচালন এবং ধ্বংস এই ত্রিকাজ তিনি করতে পারেন না। কিন্তু হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্মালম্বীরা ভাবেন তিনিই এই কাজ ত্রয় করেন। তাই বৌদ্ধ ধর্মে, মহাব্রহ্মা (যাকে অন্য ধর্মসমূহে ঈশ্বর হিসেবে গন্য করা হয়) GOD নন। যেহেতু তিনি ঐ ত্রিকাজ করতে পারেন না। বৌদ্ধ ধর্ম বলছে সৃষ্টি, পরিচালন এবং ধ্বংস এই ত্রিকাজ কোন ব্যাক্তি করেন না। এগুলো স্বয়ংক্রিয় একটি ‘নির্ভরশীলতা বা আপেক্ষিক’ একটি পদ্ধতির মা্ধ্যমে হয়ে থাকে। এই স্বয়ংক্রিয় পদ্বতিকে আমরা ‘বিশ্বজনীন নীতি’ বা ‘Cosmological Laws’ বলতে পারি। কারো যদি সৃষ্টিকর্তা, ধ্বংসকর্তা, পরিচালনকর্তা রূপে কাউকে বসানো একান্ত প্রয়োজন হয় ধর্মে তাহলে এই নীতিগুলো বসান। বুদ্ধের এই নীতি সমূহ এত সুগভীর যে কোন ব্যাক্তি ঈশ্বর (যেমন: মহাব্রহ্মা) যদি সতি্যই থাকেন দেখা যাবে তিনি নিজেও এই নীতি সমূহে আটকা যদিও তিনি হয়তো অনেক উর্দ্ধতন সত্ত্বা। এবার আসা যাক, সেই স্বয়ংক্রিয় নীতি সমূহ কি? কি? যেগুলোর দ্বারা আমাদের সৃষ্টি হয়, পরিচালন হয়, ধ্বংস হয়? এগুলো হচ্ছে-

ক. ঋতু নিয়ম (Rules of Physics or matter)

খ. চিত্ত নিয়ম (Rules of Mind or citta)

গ. বীজ নিয়ম (Rules of Germinal order)

ঘ. কর্ম নিয়ম (Rules of Karma ) এবং

ঙ. ধর্ম নিয়ম ( Rules of Dharma)।

এই পঞ্চনিয়ম একটি অপরটির উপর নির্ভর করে এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড নিয়তঃ তৈরি করছে, পরিচালন করছে, ধ্বংস করছে। যদিও বৌদ্ধ ধর্মে ঈশ্বর বলতে কিছুই নাই তথাপি যদি সৃষ্টিকারী, ধ্বংসকারী এবং পরিচালনকারী কোন কিছুকে আমরা ধরে নেই তবে বৌদ্ধ ধর্মে এই পঞ্চনিয়মই হচ্ছে তা। Personal God (God as Being) বুদ্ধ এই জন্য স্বীকার করেন নাই কারন ওনি যদি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বা universe কে create করেন তার একটা উদ্দেশ্য থাকবে। উদ্দেশ্য থাকলে তার একটা তৃষ্ণা থাকবে। তৃষ্ণা থাকলে ওনি নিজেও মুক্ত নন..। আর যেখানে বুদ্ধ মুক্ত পুরুষ সেখানে Creator যদি মুক্ত না হন তবে তা যে সম্পূর্ণ ভুল একটা concept তার প্রমান দেয়।

এখন আরেকটি প্রশ্ন উঠতে পারে তা হলো কে এই বিশ্বজনীন নীতিকে পরিচালন করে? বা কিভাবে এই নীতি সমূহ পরিচালিত হয়? এই প্রশ্নসমূহের উত্তর বৌদ্ধ ধর্মে দিচ্ছে দুটি আলাদা তত্ত্ব দিয়ে। যথা:

১. প্রতীত্য সমুৎপাদ বা নির্ভরশীলতা তত্ত্ব (Depended origination)এবং

২. পট্ঠান (Conditional Relations)।

এগুলো ব্যতীত বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি, পরিচালন এবং ধ্বংস হয় না। এখানে একটা আরেকটার সাথে যুক্ত। অনেক বুদ্ধধর্মলম্বীরা মনে করেন সব কর্মের কারণে হয়। সব কর্মফল। এটা সঠিক নয়। সব কর্মের কারণ না। বাকি নিয়মসমূহ ছাড়া কর্মফল একা কিছু করতে পাবে না। যেমন রুপ আমাদের body and এই earth, galaxy (যার origin physical element থেকে) এইগুলো যদি উৎপন্ন নাই হয় আমরা কর্মফল ভোগ করবো কিভাবে? “শূণ্য কল্প” ‘ যার অর্থ স্বরূপ বৌদ্ধ ধর্মে বলা হয়েছে- ‘gap between the begin and end of the universe’ এই সময়ে কি কর্মফল ভোগ করবে? তার উত্তর হলো না…। কারণ লোক বা জগৎ (রূপ) ছাড়া কর্মফল ভোগ করা যাবে না। আবার রূপ থাকলেও যদি চিত্ত না থাকে তবে এই ক্ষেত্রেও কর্মফল কাজ দিবে না। চিত্ত ছাড়া সত্ত্বগণ রোবট তুল্য। কারণ যদি চিত্ত না থাকে অনুভব করবে কে? কর্মফল যে পাচ্ছে তা বুঝবে কে? কেউ যদি তবুও প্রশ্ন করেন তাহলে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কিভাবে সৃষ্টি, চালন এবং ধ্বংস হয় যদি ব্যাক্তিরূপ কোন ঈশ্বর না থাকেন। তাহলে শেষবারের উত্তর হচ্ছে- প্রধান পাঁচটি, সহকারী ২টি এবং অন্যান্য কিছু নির্ভরশীল তত্ত্বের মাধ্যমেই ঐ কাজ ত্রয় বৌদ্ধ ধর্মে GOD এর কাজ করে থাকে তাদের নিজস্ব স্বভাবের মধ্য দিয়ে। আশাকরি আপনারা বুঝেছেন।

সম্মন্ধে SNEHASHIS Priya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

খুব সংক্ষেপে মহাসতিপট্ঠান সহায়িকা

একূশটি উপায়ে অরহ্ত্ত্ব লাভের উপায় তথা কর্মস্থান সংযূক্ত গভীর অর্থসংযুক্ত মহাসতিপট্ঠান সূত্তI এখানে একুশটি উপায়ে …

Leave a Reply