ব্রেকিং নিউজ

বিশ্বাস শ্রন্ধা

বিশ্বাস আর শ্রদ্ধা করুন
কটুক্তি নয়…………..
……….সাগর বড়ুয়া টিপলু……….
————————————-
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এক তৃতীয়াংশ মানুষের এখনো ঘুম ভাঙ্গা কিংবা রাতে নিদ্রা যাওয়ার সময় একটি ডাক “আহহহহহহ বুদ্ধ বুড়াগোসাঁই” বলে।কিন্তু দুঃখের বিষয় সত্য যে এই সত্য বুদ্ধ বুড়াগোসাঁইকে নিয়ে নানা জন নানাভাবে কটুক্তি করছে।দুঃখ আর ভারাক্রান্ত হয়ে আমি তার তীব্র নিন্দা আর ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
আর উনাদের উদ্দেশ্যে করে বলছি শ্রদ্ধা আর বিশ্বাস রাখুন কটুক্তি নয়।ফল কিন্তু পাপ নয় মহাপাপের সম্মুখিন হবেন।কিছু বিবরন দিলাম সত্য বুদ্ধ বুড়া গোসাইর…………..
প্রাচ্যের রাণী খ্যাত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম পীঠভূমি এই চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের আদি ও প্রাচীনতম ধর্ম হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্ম। বৌদ্ধ ধর্মীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্ররূপে স্মরণাতীত কালের ইতিহাসে ভাস্বর এই চট্টগ্রাম। বিভিন্ন বৌদ্ধ পুরাকীর্তি স্তম্ভের অবস্থান থেকে এটা প্রতীয়মান হয়। তেমনি এক প্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থান হচ্ছে ‘বুড়া গোসাঁই মন্দির’। পটিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কি. মি. দক্ষিণে ঠেগরপুনি গ্রামে এর অবস্থান। পটিয়া সদর থেকে রিক্সাযোগে সরাসরি অথবা টেম্পোযোগে ভাটিখাইন নেমে পায়ে হেঁটে যাওয়া যায়। ঠেগরপুনি প্রবেশ করে সুদৃশ্য বিশাল মন্দির চোখে পড়লেই মন শুভ্র উপলব্ধিতে সঞ্জীবিত হয়ে উঠে। ছায়াঘেরা নয়নাভিরাম পরিবেশে অনন্য এক পবিত্র অনুভূতি নিজের মধ্যে পরিদৃষ্ট হয়। মন্দিরের মূল গেইট সোজা পুকুরের ঘাট আর ছাদ বিশিষ্ট প্লাটফরম। মন্দিরের গেইট থেকে সিঁড়ি বেয়ে একটু উপরে উঠলেই চোখে পড়বে প্রাচীন ঐতিহ্যমণ্ডিত ‘বুড়া গোঁসাই’ খ্যাত বুদ্ধমূর্তিটি। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় এই স্থানটি তৎকালীন আরাকান রাজ্যের অংশ ছিল। আনুমানিক ৩৫০-৪০০ বছর পূর্বে ছান্ধমা রাজার আমলে এ স্থানে একটি সুবিস্তীর্ণ দীঘি ছিল। যা ‘ছান্ধমা দীঘি’ নামে পরিচিত ছিল। কালক্রমে উক্ত রাজবংশ এ স্থান হতে বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে তা পরিত্যক্ত খোয়াইল্লা (প্রচলিত শব্দ) বনে পরিণত হয়। এক সময় বাকখালী নিবাসী শ্রীধন বড়–য়ার স্ত্রী নীলাকুমারী উক্ত স্থান থেকে খোয়াইল্লা উঠাতে কোদাল দিয়ে মাটি খনন করতে থাকে। এক জায়গায় প্রচন্ড আঘাত করার সাথে সাথে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। উল্লেখ্য কোদালের আঘাতে মূর্তির মাথার ডান পার্শ্বে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। কিছুই অনুমান করতে না পেরে উক্ত মহিলা নীলাকুমারী আতঙ্কিত হয়ে চলে যান। এক সময় তাঁর উপর স্বপ্নাদেশ হয় যে, “আমি এ জায়গায় অধিষ্ঠিত আছি, তোমরা আমাকে উঠাও”। নীলাকুমারী নিজে তা করার জন্য সাহস করেননি। অগত্য তিনি পার্শ্ববর্তী করল গ্রামের বাসিন্দা ভগ্নিপুত্র ভদন্ত হারাধন মহাস্থবিরকে এ ব্যাপারে অবহিত করেন। তারই আনুকূল্যে মাটি খননপূর্বক সেই মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা পায় এবং একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়। তখন থেকে মূর্তিটি ‘বুড়া গোঁসাই’ নামে পরিচিত হতে থাকে। পরবর্তী সময়ে সেই সিদ্ধস্থানে প্রতি মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে সপ্তাহব্যাপী মেলার প্রচলন হয় এবং তা এখনো বিদ্যমান। বৌদ্ধ পুরাকীর্তির নিদর্শন এ ‘বুড়া গোঁসাই’ মূর্তিটিকে প্রতি মাঘী পূর্ণিমার পূর্বের দিন ডাবের পানি, দুধ, জল দিয়ে স্নান করানো হয়। প্রায় ৮০/৯০ বছর পূর্বের এ মন্দিরের সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরের দিকে। স্থানীয় গ্রামবাসী তথা ধর্মপ্রাণ দানশীল বৌদ্ধ সাধারণের অর্থানুকূল্যে পুরনো মন্দিরের ভাঙ্গার কাজ চলে প্রায় এক বছর ধরে। অতঃপর আরও এক বছর পুনঃনির্মাণ কাজ চলার পর ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে এ মন্দিরটি যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় ও উৎসবের মধ্য দিয়ে উৎসর্গীত হয়। এই ‘বুড়া গোঁসাই’ নিয়ে নানাজনের নানা অভিমত। কেউ কেউ বলেন এটি কোন অর্হৎ ভিক্ষুর অধিষ্ঠান। আবার অনেকের মতে তৎকালীন ছান্ধমা রাজার আমলে হারিয়ে যাওয়া কোন বুদ্ধমূর্তির অংশবিশেষ। প্রবাদ আছে “বুড়া গোঁসাই”র নিকট কেউ একান্ত মনে প্রার্থনা করলে তার মনোবাসনা পূর্ণ হয়। উল্লেখ্য, বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে বিশেষ করে নব দম্পতিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পরবর্তী সময়ে এই মন্দিরকে ঘিরে ‘ঠেগরপুনি ধর্ম্মচরণ বিহার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই বিহারের অধ্যক্ষ হিসেবে আছেন ভদন্ত সংঘবোধি ভিক্ষু। মাঘী পূর্ণিমার মেলা ছাড়াও সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোন না কোন স্থান থেকে পুণ্যার্থীরা ছুটে আসেন এ পবিত্র স্থানে।
তথাগত সম্যাক সম্বুদ্ধের মহাপরিনির্বান ঘোষনার স্মৃতি বিজরিত শুভ মাঘী পুর্নিমা কে উপলক্ষ করে এই তীর্থ ভুমি ঠেগরপুনিতে শত বৎসর ধরে উৎযাপিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যমন্ডিত বুড়াগোসাঁইর মেলা।বলা হয়ে থাকে আদিকাল থেকে মাঘী পুর্নিমা তিথিকে উপলক্ষ করে হাজার হাজার বৌদ্ধ নর নারীরা তাদের মনোবাসনা পুরন তথা বিরল এই পুণ্যকর্ম সম্পাদানের অভিপ্রায়ে এই সুপ্রাচিন তীর্থপল্লিতে আসেন জীবন্ত বুদ্ধ বুড়াগোসাঁকে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে পুজা ও বাতি অর্পন করেন। কালের সাক্ষী এই মেলার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ঠ হলো সপ্তাহব্যাপি লোকজ ও গ্রামীন মেলা,পল্লী গ্রামের হারিয়ে যাওয়া কুটির শিল্প,মৃৎ শিল্প,বাশঁ ও বেতের শিল্প,তাতঁ শিল্প, কারুশিল্প পাটজাত ও পাট শিল্পের প্রসার তথা বিক্রয় বিপনের অন্যতম প্রাচিন ও প্রসিদ্ধ স্তান হচ্ছে এই ঠেগরপুনি মেলা।শুটকি মাছের জন্য প্রসিদ্ধ এই মেলায় রাত ভর চলে যাত্রাগান। এই মেলা সম্বন্ধে কবি লিখেন_______ “মাঘী পুর্নিমা দিনেতে ঠেগরপুনির বৌদ্ধ মেলা সেথায় সকল নর-নারী মিলি হাসে গায় করে খেলা!” (মেলা পার্বন/অম্বিকাচরণ চৌধুরী,চট্রল) মাঘী পুর্নিমায় এই মেলা ছাড়া সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোন স্তান থেকে।
ঠেগরপুনি গ্রামের সকলের আবেগ আর গর্বের স্তান হচ্ছে ঐতিহ্যমন্ডিত এই বুড়াগোসাইর মেলা।অনেকের শৈশব আর কৈশরের কালের সাক্ষি এই প্রাচিনতম মেলা।সগৌরবে বলতে পারি এই মেলা আমাদের অস্তিত্বের সাথে আজ ও মিশে একাকার হয়ে আছে।শুধু আমাদের নয়,পাশ্ববর্তীর গ্রামের মানুষের কালের সাক্ষী হয়ে আছে এই মেলা।প্রতিবছর মেলা এসে মেলা যাবে,রেষ টা থাকবে চিরন্তন।জন রবে,জনপদে_______

সম্মন্ধে SNEHASHIS Priya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

স্বপ্নের রাজপুরী লাদাখ

লাদাখ মানেই, চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক রঙিন পাহাড়ি উপত্যকার ছবি। ঘন নীল আকাশের নিচে …

Leave a Reply