ব্রেকিং নিউজ

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় সারা বিশ্বে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত।

site_1502_0013-360-360-19700101010000

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় সারা বিশ্বে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন।
================================

বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে বৌদ্ধ প্রতীম দেশে পালিত হলো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা।

সকল মানব সুখী হোক, সকল অনাচার বন্ধ হোক। ফানুসের আলোয় দূর হোক সাম্প্রদায়িক অন্ধকার’- বৌদ্ধদের এমন স্লোগানে শনিবার সারা দেশের বৌদ্ধ বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ নিয়ে বৌদ্ধদের ঘরে ঘরে চলছে বিহারে আনন্দের জোয়ার সূষ্টি হয়।গত ১৪তারিখ শুক্রুবার ছুটির দিন হওয়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী ধর্মীয় সংগঠন গুলো এক দিন আগেই প্রবারণা পূর্ণিমা পারল করে। বিদেশের আইনের প্রতি শ্রন্ধা শীল রেখে, অনেক প্রবাসী সংগঠন তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্বদেশে ফানুস উড়ান।

বর্ষাবাস শেষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা পালিত হয়। প্রবারণা পূর্ণিমার পর দিন থেকে দেশের বিহারে বিহারে শুরু হবে পবিত্র কঠিন চীবর দানোৎসব।

দিবসটি উপলক্ষে প্রভাতফেরি, ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষুসংঘের পিন্ডদান, শীল গ্রহণ ও প্রদীপ পূজার আয়োজন করা হয়। দিনের শেষে সন্ধ্যায় তীথির মূল আকর্ষণ পবিত্র ফানুস উড়ানো উৎসব। বাষারী পূর্ণিমা থেকে তিন মাস বর্ষাব্রত পালন করে আশিবনী পূর্ণিমায় পরিসমাপ্তি ঘটে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এ পূর্ণিমা তিথিতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নিজ কৃত অপরাধ বা পাপ স্বীকার করে পরিশুদ্ধ হয়। ফলে এটি প্রবারণা পূর্ণিমা নামে খ্যাত। এ তিথিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা আকাশে ফানুস বাতি উড়িয়ে পূজা করে। প্রচলিত আছে গৌতম বুদ্ধের চুল আকাশে ভাসমান। এ চুলের কাছাকাছি পৌঁছতেই ফানুস বাতি উড়িয়ে পূজো করা হয়।

এ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে নানা পূজা অর্চনার আয়োজন করা হয়েছে। সকালে বুদ্ধ পুজা, পঞ্চশীল গ্রহণ, সংঘ দান, অষ্ট পরিষ্কার দান, হাজার বাতি দান ও ধর্ম দেশনা দেয়া হয়। বিকালে বিহারগুলোতে বিশেষ প্রার্থনা, নদীতে নৌকা ভাসানো, হাজার বাতি প্রজ্জ্বলন ও ফানুস বাতি উড়িয়ে প্রদীপ পুজা করা হয়।

তবে একই ধর্মাবলম্বী হলেও অনেকটা আলাদাভাবে মারমা জনগোষ্ঠীর লোকেরা শনিবার ওয়াগ্যো প্যোয় উৎসব পালন করে। তারা ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরে সামাজিক উৎসব পালন করে।

বিশেষত হাজার ফুল দিয়ে বুদ্ধপূজা ও সাধ্যমত ভান্তেকে ছোয়াইং (খাদ্য) প্রদান করা মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য। দিনটি উপলক্ষে মারমা তরুণ-তরুণীরা উৎসবে অংশ নেয়। সন্ধ্যায় নৌকা ভাসানো হয় চেঙ্গী নদীতে।

শুভ প্রবারনা পূর্ণিমার দিন শনিবার সকালে সিলেট বৌদ্ধ বিহারে শুরু হয় বুদ্ধপূজা। এর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, অষ্টশীল গ্রহণ, পঞ্চশীল গ্রহন, স্বধর্মালোচনা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। সন্ধ্যায় ফানুস উত্তোলনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

কুমিল্লায় যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় বৌদ্ধদের প্রবারণা পূর্ণিমা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে কুমিল্লা অঞ্চলের প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধপূজা, পিস্তদান, পকশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, পিণ্ডদান, সমবেত প্রার্থনা, প্রদীপ পূজার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন আয়োজিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান, এম পি।
জেলার কোটবাড়ীস্থ নবমালবন বৌদ্ধ বিহার, ঠাকুরপাড়াস্থ কনকস্তপ বৌদ্ধ বিহার, আলীশ্বর শান্তি নিকেতন বৌদ্ধ বিহার, বরইগাঁও কনকচৈত্য বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন বিহারে বিপুলসংখ্যক বৌদ্ধ নর-নারী উপাসক উপাসনিকদের উপস্থিতিতে পূজা অর্চনা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে প্রবারনা পূনির্মা উৎসব পালন করা হয়।
এদিকে আত্মশুদ্ধি ও সুন্দরকে বরণের জন্য চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকানন, পটিয়ার কর্তালা বেলখাইন বৌদ্ধবিহারসহ সব বিহারে চলে ভিক্ষুসংঘের পিণ্ডদান, শীল গ্রহণ এবং প্রার্থনা। নানা বয়সের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ এতে অংশ নেন। দেশ, জাতি ও বিশ্বের মঙ্গল কামনায় করা হয় বিশেষ প্রার্থনা।

সম্মন্ধে SNEHASHIS Priya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

পূজনিয় শরনংকর বনাম ডঃ হাছান মাহমুদ বা এরশাদ শিরোনামটা শতভাগ সঠিক নয়

(লেখাটি যে কোন কেউ ছাপাতে পারেন আমার অনুমতির প্রয়োজন নাই) পূজনিয় শরনংকর বনাম ডঃ হাছান …

Leave a Reply