ব্রেকিং নিউজ

মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ এবং প্রসঙ্গঃ বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত এর প্রতিষ্ঠা সাল ১৯৯৬। ~~~ লেখক : অশোক বড়ুয়া

1

মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ এবং প্রসঙ্গঃ বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত এর প্রতিষ্ঠা সাল ১৯৯৬।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
লেখক : অশোক বড়ুয়া

আমরা সবাই স্বপ্ন বুনি, স্বপ্নের মাঝে আমাদের প্রবাস জীবন। একদা এইরুপ এক স্বপ্ন দেখেন প্রবাসী বৌদ্ধরা সামাজিক মর্যাদা রক্ষা ও প্রবাসে স্বদ্ধর্মের পতাকা উড্ডীয়নের। স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে ১৯৯৬ সালের ১৯ এপ্রিল প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাবু অরুন বিকাশ চৌধুরী, (বর্তমান বোধিজ্ঞান ভিক্ষু ঢাকায় আশুলিয়া বৌদ্ধ বিহারের অবস্থানরত) ও প্রতিষ্ঠাতা সাঃ সম্পাদক বাবু তাপস কান্তি বড়ুয়া (বর্তমানে কুয়েত অবস্থানরত বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত এর উপদেষ্টা) সদ্ধর্মের উন্নয়নে মানবতার মহান ব্রতে নবীন প্রবীনের অকৃএিম আন্তরিকতায় গঠন করেন “কুয়েত প্রাবাসী বৌদ্ধ কল্যাণ সমিতি যা সময়ের বিবর্তনে ২০০৬ সালে বাংলাদেশী বৌদ্ধ কল্যাণ সমিতি, কুয়েত পরবর্তীতে ২০১০ সালে সভাপতি ও সাঃ সম্পাদকের অনুমতিক্রমে সকল সদস্যের সম্মতিতে নামকরন করা হয় “বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত”।

যুগে যুগে সময়ের দাবিতে পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছু। ঢাকা আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরেরও নাম পরির্বতন করা হয়েছে, বার্মার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মায়ানমার কম বেশী সকলের তা জানা, কিন্তু বিমান বন্দর টি স্থাপিত বা প্রতিষ্ঠা সালটি অপরিবর্তিত রয়ে গেছে যে রুপ রয়ে গেছে বার্মা আর মায়ানমারের স্বাধীনতা দিবসটি।

ইদানিং সূদুর লেবানন হতে বড়ুয়া সবুজ (অতীতে কুয়েত ছিল) সোশ্যাল মিডিয়াতে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং দানের বিষয়ে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। কেনো বা কার স্বার্থে আমাদের জানা নেই? হয়তো আত্মীয়তার খাতিরে? কারন ১৯৯৬ সালে উনি কুয়েতের কোন সমিতিতে ভর্তি হয়নি। লেবানন হতে কুয়েতের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

২০০৯ সালে কার্যকরী কমিটির মেয়াদ শেষে ০৮ জানুয়ারী ২০১০ ইংরেজী তারিখে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন কার্যকরি কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। কিন্তু কিছু সদস্যের মতভেদের কারনে উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচন না করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট সিলেকশন কমিটি ঘোষনা করে। উপদেষ্টা মন্ডলীর সিলেকশনকৃত সাত জনের সিলেকশন কমিটিতে ২ জনের পদবী পছন্দ না হওয়ায় কিছু স্বার্থবাদী হীনমনের অনুসারী পদ লোভী সদস্য তা প্রত্যাখান করে। তারপরও সংগঠনের স্বার্থে প্রতিষ্ঠাতা সাঃ সম্পাদক বাবু তাপস কান্তি বড়ুয়া, উপদেষ্টা বাবু সন্তোষ বড়ুয়া নিস্বার্থ ভাবে উদার মনোভাবের কারণে আবারও ২২শে জানুয়ারী ২০১০ নির্বাচনের দিন ধার্য্য হয় এবং যথাসময়ে নির্বাচন সুসম্পন্ন হয়। এতে ৭০ জন নিয়মিত সদস্য হতে ৫৫ জন সদস্য নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে। বাকি থাকে ১৫ জন নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করে সংগঠনের নিয়ম বিধি না মেনে অযুক্তিকভাবে সমিতির কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে। উদার মনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাবু অরুণ বিকাশ চৌধুরীর (বর্তমানে বোধিজ্ঞান ভিক্ষু) অনুরোধে ৫৫ জন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচিত কমিটি গঠনতন্ত্রের ধারা অনুযায়ী তিনটি মাসিক সাধারন সভায় সকল সদস্য বৃন্দের মতামত, আলোচনা, পর্যলোচনা করে সমিতির নাম আংশিক পরির্বতন করে (শুধু কল্যাণ শব্দটি বাদ দিয়ে) বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত নামকরণ করা হয়। সুধীজন, এবার আপনারাই বলুন ৯৬ সালের দাবীদার কারা করতে পারে? ৫৫ জন না ১৫ জন? একাংশ বড় নাকি অধিকাংশ বড়? প্রবাসের মাটিতে কাঁদা ছোড়াছুড়ি বা মহান ব্রতের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সাল কারা লিখছে তা নিয়ে বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত এর কোন মাথা ব্যথা নাই। যত বেশী সমিতি/সংগঠন তত সদ্ধর্মের উন্নতি হবে এই মনো ভাবে বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত বিশ্বাসী। আজ আমরা সোস্যাল মিডিয়াতে অনেক ধর্মীয় পেইজ দেখতে পাই এবং এই পেইজের কল্যাণে দ্রুত সংবাদ পেয়ে থাকি। হউক না আরো কয়েকটি সংগঠন সবাইকে আমরা স্বাগতম জানাবো। সবাই যার যার মতো উন্নয়ন করে, মানুষের কল্যাণ করবে, নামের না হয়ে কাজে দ্বারা, কর্মের দ্বারা উত্তর উত্তর শ্রীবৃদ্ধি পাবে।

সবার জ্ঞাতর্থে জানাতে চাই বাংলাদেশী বৌদ্ধ কল্যাণ সমিতি কুয়েত, মিথ্যাচারে কেন লিপ্ত হচ্ছে এবং কেন বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েতকে হেয় করার চেষ্টা করছে? ২০০৫ সালের ২৩ শে মে কুয়েত প্রবাসী বৌদ্ধ কল্যাণ সমিতির নামে তৎকালীন সাঃ সম্পাদক বাবু রতন বড়ুয়া (পিতা স্বর্গীয় প্রিয়েন্দ্র বড়ুয়া, গ্রাম বাথুয়া, উপজেলা : পটিয়া) বর্তমানে বাইরান প্রবাসী ওনার সহ-ধর্মিনী শ্রীমতি সুপ্রীতি বড়ুয়াকে নমিনী করে পাঁচ বছর মেয়াদী ২ লক্ষ টাকার বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংক হতে Wage Earner Development Bond ক্রয় করে রাখা হয়। (Bond No. AAA 184256, 184257, 184258, 184259)। এ ব্যাপারে রতন বড়ুয়া ১২ জন সদস্যের সম্মুখে অঙ্গীকার নামা প্রদান করেন এবং উপস্থিত সকল সদস্য (১২ জন) বৃন্দ স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষরিত সদস্যদের মধ্যে বর্তমানে ০৯ জনই বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি কুয়েতের সদস্য। এ টাকা রতন বড়ুয়া আত্মীয়তার খাতিরে উনার নিকটতম আত্মীয়কে (যিনি বাংলাদেশী বৌদ্ধ কল্যাণ সমিতির সাথে সম্পৃক্ত) দিবে বলে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ যা অযৌক্তিক ও বেমানন। এই ব্যপারে বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্বে রতন বড়ুয়া’র সাথে যোগাযোগ করে। রতন বড়ুয়ার হঠকারীতার বিরুদ্ধে যখন বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত সোচ্চার হতে চললো তখনই বাংলাদেশী বৌদ্ধ কল্যাণ সমিতির সদস্য তাদের আত্মীয় স্বজন দিয়ে বিভিন্ন বৌদ্ধ ধর্মীয় পেইজে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছ। আমরা বৌদ্ধ পেইজ গুলোর এডমিনের সাথে যোগাযোগ করলে এ সত্য বেরিয়ে আসে। এছাড়াও বর্তমানে কয়েকজন শিক্ষিত যুবক ওদের কর্মকান্ডে মিথ্যার সমাহার এবং নাম সর্বস্ব সংগঠন দেখে তা থেকে সদস্য পদ বাতিল করে স্বজ্ঞানে বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি কুয়েতের সদস্য পদ গ্রহন করছে যা বাংলাদেশী বৌদ্ধ কল্যাণ সমিতি মেনে নিতে পারছেনা। হিংসাত্মক মনোভাবে হয়ে উঠে নানান জায়গা থেকে রটাচ্ছে কুৎসা । এটা কি গচ্ছিত অর্থ আত্মসাৎ করার পথ সুগম করা নয়? তা আপনারাই বলুন সুধীবৃন্দ।

বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত ইতিমধ্যে বিভিন্ন খাতে অনুদান দিয়ে আসছে। ২০১২ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর রামুর ক্ষয়ক্ষতিতে ৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা, ২০০৭ সালে ঘৃর্ণিঝড় সিডরে পটিয়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের মহাপরিচালক ডঃ সংঘপ্রিয় মহাথেরোর মাধ্যমে উত্তর বঙ্গে ৭০ হাজার টাকা, ২০১৫ সালে বাঙ্গাল হালীয়া নন্দবংশ বিহারে বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র নির্মাণে ১৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং চীবর দানে ১ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা, ২৭ তম সংঘনায়ক ডঃ এস ধর্মপাল মহাথেরোর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ১ লক্ষ টাকা, ক্যানসার আক্রান্ত ধর্মানন্দ শ্রমণের চিকিৎসার জন্য ৭০ হাজার টাকা ও সম্প্রতি উপ-সংঘনায়ক ভদন্ত শ্রদ্ধানন্দ মহাথেরো’র জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ৬০ হাজার টাকা প্রদানসহ নানামুখী উন্নয়নে ও মানব সেবায় ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ লক্ষ্য টাকা অনুদান প্রদান করছে বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত। দান দিয়ে অহমিকা বা বার বার বললে তার ফল শুভ হয় না জেনেও যুক্তির খাতিরে সত্য মিথ্যা যাচাই করার জন্য বলতে বাধ্য হলাম। যার জন্য ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি সুধীমহলের কাছে। ১৯৯৬ বা নয় ছয়ে কি আসে যায়। আর (৯) নয় ছয়(৬) দাবী কারা করতে পারে তার দায়িত্ব সচেতন সুধী সমাজের কাছে দিলাম। এতো কিছুর পরও ১৯৯৬ সাল অন্য সবাই ব্যবহার করুক তা নিয়ে বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত এর কোন মাথা ব্যথা নাই। আগেই বলেছি সংগঠন যত বেশী হবে তত বেশী উন্নয়ন হবে সমাজের, সদ্ধমের, যদি সৎ মনোভাব থাকে। আর যদি ফেইজ বুকে মিথ্যা খবর পরিবেশনের জন্য, নাম দেখানোর ইচ্ছায় সংগঠন করে থাকে তাহলে বুদ্ধের নিকট করজোড়ে প্রার্থনা করবো আমরা, যেন মানুষে কল্যাণে তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হউক।

আমরা যদি কারো উপকার করতে নাও পারি তবু দুর্নাম করিনা এবং করতে কখনো পারবোও না। তাছাড়া ইহা অনৈতিকও বটে। যারা আত্মীয়তার খাতিরে মিথ্যার আশ্রয়ে সত্য কে মিথ্যা বলে তাদের চেষ্টা কখনও সফল হবে না। কারন দলিল হচ্ছে সত্যতা। মিথ্যার আশ্রয়ে নিজেদের শিক্ষা ও জ্ঞানকে প্রশ্ন বিদ্ধ গড়ে তুলবেন না। আমরা বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত এর সকল সদস্য বৃন্দ দেশে বিদেশে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। সত্যের জয় হউক, দিকে দিকে প্রসারিত হোক বৌদ্ধ ধর্ম।

” জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক ”

লেখক পরিচিতি :
———————
সভাপতি,
বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি, কুয়েত।
সদস্য নং – ১১ (১৯/৪/১৯৯৬)।
প্রথম কার্যকরী কমিটির “কোষাধ্যক্ষ ”
কুয়েত আগমন : ২৬ মার্চ ১৯৯২।

সম্মন্ধে vuato2

এটা ও দেখতে পারেন

পূজনিয় শরনংকর বনাম ডঃ হাছান মাহমুদ বা এরশাদ শিরোনামটা শতভাগ সঠিক নয়

(লেখাটি যে কোন কেউ ছাপাতে পারেন আমার অনুমতির প্রয়োজন নাই) পূজনিয় শরনংকর বনাম ডঃ হাছান …

Leave a Reply