ব্রেকিং নিউজ

নির্বাণকামীর সার্বজনীন প্রকাশনার পদযাত্রায়

নির্বাণকামীর সার্বজনীন প্রকাশনার পদযাত্রায় সঙ্গে রয়েছেন আশীর্বাদক ভিক্ষুমন্ডলী, সকল জ্ঞানী গুণীজন, লেখক, কবি সকল সত্বের পারস্পরিক সগযোগিতা ও অক্লান্ত শ্রম। চিন্তাময় জ্ঞান থেকে প্রজ্ঞার উৎপত্তি যথাঃ ১) ধর্ম শ্রবণের দ্বারা উৎপন্ন জ্ঞান – শ্রুতময় জ্ঞান। ২) অধ্যয়ন ও চিন্তা ফলে উৎপন্ন জ্ঞান – চিন্তাময় জ্ঞান। ৩) দেখিলে দেখিতেছি, শুনিলে শুনিতেছি বলিয়া স্মৃতি প্রস্থান ভাবনাক্রমে উৎপন্ন জ্ঞান – ভাবনাময় জ্ঞান। সর্বোৎকৃষ্ট সত্য এবং বিদর্শন লব্ধ জ্ঞান। অধ্যয়ন, পত্রিকা ইত্যাদি অনুষংগগুলি ব্যতীত জ্ঞান উৎপন্নে সহায়ক । বিমুক্তি অধ্যয়নের মাধ্যমে কারো মধ্যেও যদি বিন্দুমাত্র ধর্মজ্ঞান উৎপন্ন হয়, সার্থক হবে আমাদের প্রকাশনা ।

 

ধর্মহীন জীবন সূর্যহীন পৃথিবীর ন্যায় তমসাচ্ছন্ন। বর্তমান যুগে ভোগের উন্মাদনায় ধর্মময় জীবন-যাপন অতীব কঠিন। নিজেকে সম্যক পথে পরিচালনা করে সুখময় জীবন গড়তে ধর্মাচরণ, ধর্মশ্রবণ ও ধর্মীয় বই অধ্যয়ন একান্তই অপরিহার্য।  বাল্যকালেই ধর্মময় জীবনের ভিত স্থাপন করতে হয়। সেজন্য প্রত্যেক মাতা-পিতার দায়িত্ব ছেলে-মেয়েদেরকে ষ্কুল শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মশিক্ষা প্রদান করা। এতে করে পিতা-মাতা, ছেলে-মেয়ে, পরিবার-পরিজন, সমাজ, দেশ তথা জাতি সকলেই শান্তির অভয়াশ্রমে অবস্থান করতে সক্ষম হবে। ধর্মসলিলে অবগাহন করে সকলের তাপিতপ্রাণ শীতল হউক এই প্রত্যাশা করছি।

 

আমিত্ব নামক মিথ্যা ধারণার বশেই আমরা প্রবল স্বার্থান্বেষী হয়ে লোভ-দ্বেষ-মোহের আবরণে সংযুক্ত হয়ে অবিরাম হানাহানি, মারামারি, হিংসা-বিদ্বেষ-ঈর্ষা, দ্বন্দ্ব-সন্দেহ-যুদ্ধ, দ্বেষ চিত্তের কারণে পাপাচার, চুরি, শঠতা, কপটতাদি, লোভ চিত্তের কারণে বিবিধ পাপাচার প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি। লোভ-দ্বেষ-মোহহীন অনাসক্ত চিত্তের বিশুদ্ধ বাতাসে এ সকল পাপ-অধর্ম চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে বাধ্য। এমন অন্যায়, অনাচার, মিথ্যাচারের বিষাক্ত বাতাবরণ মুক্ত সুবিশুদ্ধ মানসিক পরিবেশেই জন্ম নেয় নিব্বাণং পরমং সুখং  নামক পরম সুখ, পরম শান্তির অফুরন্ত বিশাল ব্রক্ষ্মান্ড।

 

বস্তুত বৌদ্ধ ধর্ম কর্মবাদী ধর্ম। তথাগত মহাকারুণিক আমাদের পথ প্রদর্শক। বুদ্ধ কখনো বলেনি আমি তোমাদের দুঃখ মুক্ত করব। তিনি বলেছেন- কর্মই আমাদের প্রধান নিয়ন্ত্রক। মানুষ তার কর্ম অনুসারে ফল ভোগ করবে। ভালো কাজের ভালো ফল এবং খারাপ কাজের খারাপ ফল। তাই আসুন আমরা সকলেই সকল অকুশল কর্ম পরিহার করে কুশল কর্মে মনোনিবেশ করি যাতে সারাবিশ্বের সকল প্রাণীর মঙ্গল হয় এবং সকলেই যেন প্রতিনিয়ত সুখ শান্তিতে বসবাস করতে পারে। সকলকে জানাই শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার মৈত্রীময় শুভেচ্ছা।

পরিশেষে কবির কয়েকটি চরণ দিয়ে ইতি টানছি এবং সকলের সুস্থ, নীরোগ দীর্ঘায়ু জীবন কামনা করছি।

তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল কালের জ্ঞান

সকল শাস্ত্র খুঁজে পাবে সখা, খুলে দেখ নিজ প্রাণ!

তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম, সকল যুগাবতার,

তোমার হৃদয় বিশ্ব-দেউল সকলের দেবতার।

 

সব্বে সত্তা সুখীতা ভবন্তু

জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।

সম্মন্ধে vuato2

এটা ও দেখতে পারেন

বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে অসহায় ব্যক্তি

বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে অসহায় ব্যক্তি এবং যিনি মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে ঘুরেন প্রতি মুহুর্তে তার …

Leave a Reply