ব্রেকিং নিউজ

🙏চিন্তেতি বিজানাতি- স্পর্শ আর সংস্পর্শ বুঝতে গিয়ে বৌদ্ধ হবার দিক নির্দেশনা 🌸

চক্ষু-স্পর্শের কারনে চক্ষু-বেদনা (অনুভূতি) উৎপন্ন হয়। আসলে স্পর্শ অবস্থাভেদে হয় সংস্পর্শ আর তাতে সম্পুর্ন ভাবনা পাল্টে যায়

✍️বলা হয়, চোখ যখন কোন কিছু দেখে, তা স্পর্শ করে কিন্তু তাই কি? আসলে চোখ যা করে তা হচ্ছে একটা ক্যামেরার কাজ – মানে – চোখ ক্যামেরার মত ছবি তোলে এবং সেটা পাঠিয়ে দেয় ব্রেইনকে এবং ব্রেইন সেটাকে প্রক্রিয়াজাত করে তার প্রতিচ্ছবি পাঠায় মনকে। এতক্ষনে চিত্রটি স্পর্শে আসলো, মনোস্পর্শ। যখন মন স্পর্শে আসে তখন চিত্ত উৎপন্ন হয়, যা আসলে চিত্তবিথী যেখানে আসলে একটি চিত্ত নয় মনে আছে কি লিখেছিলাম নিম্নরূপ যা অন্ততঃ কয়েকবার পড়ুন এবং বোঝার চেষ্টা করুনঃ

🕵️‍♂️চিত্তের গতি অতি সুক্ষ ও জটিল এবং অসীম । সময়ের মাপে (মিনিট, সেকেন্ডের মাত্রায়) নির্ণয় করা যায় না। প্রতি মুহুর্তে কোটি কোটি উদয় হচ্ছে আবার তার নিরোধ হচ্ছে । চিত্ত উৎপত্তি ও চিত্ত নিরোধের সময় ১৭ ক্ষন । এই সময়ের মধ্যে চিত্তের আলম্বন , বেদনা , হেতু , কৃত্য, দ্বার ও বাস্তু প্রভৃতি বিষয়ের স্ব স্ব অবস্থানের সহিত চিত্তের সম্পর্ক আছে । চিত্ত পরিভ্রমনের পথকে চিত্তবিথী বলা হয় । চিত্ত বিথীর উৎপত্তিক্ষন, স্থিতিক্ষন, ভঙ্গক্ষন আছে । প্রতিসন্দ্বি ও প্রবর্তনকালে চিত্তবিথীতে চিত্ত বীথিযুক্ত বা বীথিমুক্ত থাকতে পারে । চিত্তকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য রয়েছে সম্যক দৃষ্টি।

💐চিত্ত যা বিষয়কে জানে, চৈতসিক হচ্ছে মনোবৃত্তি বা চিত্তোপকরণ, যা এক সংগে উদয় ও বিলয় হয়। আয়তন হচ্ছে চিত্ত ও চৈতসিকের উৎপত্তি স্থান বা নিবাস। চিত্তোৎপত্তিতে আলম্বন মানে যাকে অবলম্বন করে চিত্ত উৎপত্তি তাহা যেমন অপরিহার্য তেমনি বাস্ত বা আশ্রয় ব্যতীত চিত্তোৎপত্তি সম্ভব নয়। বাস্তু বলতে আশ্রয় স্থান বা বাসস্থান যেমন চক্ষু, শ্রোত্র, ঘ্রাণ, জিহবা কায় ও হৃদয়কে বলা হয় চিত্ত চৈতসিকের বাস্তু, যাকে আশ্রয় করে চৈতসিকের ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। চিত্ত যা নয়টি ধাপে অপবিত্র হয়ে হয় বিজ্ঞানস্কন্ধ এবং ৮ধাপে হয় বিজ্ঞান। বিজ্ঞানের কারন অনুশয়, আসব ও গতি ইত্যাদি। এমনকি একটি বিশুদ্ধ চিত্তের নিদেনপক্ষে ৭টি চৈতসিক থাকে যথাঃ স্পর্শ, সংজ্ঞা, বেদনা, চেতনা, একাগ্রতা,জীবিতিন্দ্রিয়তা ও মনস্কার (স্মৃতি) যা সাধারনের পক্ষে হৃদয়ঙ্গম করা অসম্ভব। উপরন্তু গতির উপর নির্ভর করে (গতি সংক্ষেপে চরিত্র যেমন কৃপনতার গতি হচ্ছে কৃপন, দানের গতি হচ্ছে দাতা – দুর্গতি ও সুগতি (পঞ্চনিমিত্ত এর উপরে একটা লেখা আছে যাতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছি) অন্যান্য চৈতসিক যুক্ত হয়।

🥀যেমন ধরুন কোন কিছু দেখে কারো ভালো লাগতে পারে আবার খারাপ ও লাগতে পারে আবার ভাল বা খারাপ কোনটাই না। আসলে এই যে মানসিক স্পর্শ যা ঘটে মুহুর্তে্র মধ্যে যা গতির উপর ভিত্তি করে তার উপর আমাদের তেমন নিয়ন্ত্রন নেই। কিন্তু এর থেকে যে প্রতিক্রিয়া, যার উপর ভিত্তি করে ঘটে আমাদের কায়িক ও বাচনিক কর্ম তা আমরা নিয়ন্ত্রন করতে পারি যা আসলে সতিপটঠান ভাবনার কায়ানুদর্শনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

🌺এখন যদি সেই একি দেখাটা একজন অরহত দেখেন তার মধ্যে যেহেতু কোন গতি নেই অতএব তাতে কোন আসক্তির জন্ম নেবে না – একজন অরহত যেটা যেমন সেটাকে সেভাবেই দেখেন প্রজ্ঞাসম্প্রযুক্ত জ্ঞানে এবং তাতে আসক্ত হন না।

🌸তাহলে দেখা যাচ্ছে সাধারনের ক্ষেত্রে মনোস্পর্শে থাকে “সং” বা সংসারের আসক্তি কিন্তু যা অরহতের ক্ষেত্রে নয় অতএব অরহতের ক্ষেত্রে তা হওয়া উচিত স্পর্শ এবং সাধারনের ক্ষেত্রে তা হওয়া উচিৎ সংস্পর্শ। সংস্পর্শ গতি, সংজ্ঞা, বিপাক ও আসক্তির উপর নির্ভরশীল। নির্ভরশীল বিষয়ের সাথে আমাদের সম্পর্কের উপর। তাই পঞ্চস্কন্ধকে অরহতের জন্য, পঞ্চস্কন্ধ বলে আর সাধারনের জন্য পঞ্চ উপাদান স্কন্ধ বলে। উপাদান মানে আসক্তির কারন। আনাপান এবং সতিপটঠান ভাবনার প্রাথমিক উদ্দেশ্য আসলে দুর্গতি মুক্ত হয়ে সুগতির চর্চা। উল্লেখ্য দুর্গতি বা সুগতিতে কিন্তু জন্ম-মৃত্যু চক্র রোধ হবে না।

🌻দেখা যাক সম্পর্ক কিভাবে সংস্পর্শে প্রভাব বিস্তার করেঃ যেমন শত্রুর কথা ভাবলে আমাদের হিংসা বা রাগানুভূতি হতে পারে কিন্তু তার ছেলে যখন তার সম্পর্কে ভাবে, তার কিন্তু হতে পারে আনন্দানুভূতি। অতএব দেখা যাচ্ছে সম্পর্ক ভেদে বিভন্ন ধরনের সংস্পর্শ সৃষ্টি হচ্ছে।

🌹এবার ধরা যাক ট্রেনে করে কোথাও যাবার সময় কোটি কোটি জিনিস দেখছি জানালা দিয়ে তা শুধু দেখা মাত্র কোন বিষয়ে তেমন কিন্তু দৃষ্টি নেই অতএব এগুলো হতে পারে স্পর্শ কিন্তু ঐ কোটি কোটির মধ্যে একটা সুন্দর বাড়ি দেখা গেলো – সুন্দর- যা মনোযোগ আকর্ষন করলো – এখন নিশ্চই সেটিতে দৃষ্টি দেবেন হয়তো চিন্তা করবেন যদি ঐরকম একটা বাড়িতে থাকতে পারতাম- অর্থাৎ আসক্তি যুক্ত হলো তবে এটা সংস্পর্শ।

🌼এবার আসি গতির দৃষ্টিকোন থেকেঃ মোরগযুদ্ধ কেহ হয়তো দেখে আনন্দ পান আবার অন্য কেহ বিতৃষ্ণা প্রকাশ করেন। এখানে প্রথমটি হচ্ছে দুর্গতি বা দুশ্চরিত্রের কারনে আনন্দ উপভোগ করছেন আর বিতৃষ্ণা হচ্ছে সুগতির কারনে তবে এ দুটির কারনে কিন্তু জন্ম-মৃত্যু চক্র বন্ধ হবে না – এটা অনেকের বুঝতে হয়তো কষ্ট হবে।
এখন দেখা যাক সংজ্ঞা বা মূল্যবোধের দৃষ্টিকোন থেকেঃ মনে করুন কারো পিতা কাউকে একটা পাথর দিয়ে বললো তা খুব মুল্যবান – এখন সে যতবার পাথরটি দেখে সে যেমন আনন্দিত হয় তেমন আবার শংকিত ও হয় যদি পাথরটি হারিয়ে যায়, কেউ চুরি করে মানে টেনশান। তার প্রতি তার অসম্ভব আসক্তি অতএব সেটাকে সে খুব যত্ন করে এবং লোহার সিন্দুকে রাখে কিন্তু বেশ কিছু দিন পর একদিন যখন সে দোকানে গিয়ে জানলো সেটার আসলে কোন মূল্য নাই – তা শুনে প্রথমে তা তার বিশ্বাস হবে না এবং সব যাচাই বাছাইয়ের পর যখন সে সত্যি দেখবে আসলে সেটা মূল্যহীন তখন দেখা যাবে সেটা সে আর সিন্দুকে রাখছে না কিংবা দেখে আনন্দবোধ করছে না কিংবা টেনশান ফিল করছে না। অতএব দেখা যাচ্ছে সংজ্ঞা বা মূল্যবোধের কারনে একি বস্তু কখনও স্পর্শ আবার কখনো সংস্পর্শ।

☘️এখন দেখা যাক স্পর্শ থেকে সংস্পর্শে কিভাবে পরিণত হয়ঃ ধরা যাক কোন ব্যাক্তি তার ছেলেকে এক বছর বয়সে রেখে বিদেশে পাড়ি জমালো এবং ১৮ বছর বয়সে ফিরে আসলো এবং এসে শুনলো সে পাড়ায় আড্ডা মারছে অতএব সেদিকে রওনা দিলো পথিমধ্যে সে এক তরুনের সাথে ধাক্কা খেলো এবং বললো সরি। সরি বলে চলে যেতে এক ব্যক্তি বললো সেটাই তোমার ছেলে।

🧘‍♀️উক্তে দেখা যাচ্ছে যখন সে জানেনি সেটাই তার ছেলে তখন তার কাছে সেটা ছিল একটা যুবক মাত্র মানে স্পর্শ কিন্তু যখন জানলো সেটা তার ছেলে তাতে যে স্পর্শ তা তখন আর স্পর্শ নয় হয়ে যাবে সংস্পর্শ।
এখন দেখা যাক কি করে সংস্পর্শের কারনে বেদনাঃ যখন যুবকটির সাথে ধাক্কা লাগে ধরে নেয়া যাক তার সুখ ও অনুভুত হয়নি আবার দুঃখ ও না তাহলে সেটা হবে উপেক্ষা বেদনা আবার যখন সে জানতে পারলো যে সে তার ছেলে তখন তা হবে সুখ বেদনা এখন ধরা যাক তার পর মুহুর্তে হঠাত একটা ট্রাক এসে যুবকটিকে ধাক্কা দিলো এখন সেই যুবকের প্রতি সংস্পর্শের কারন যা হবে তা হচ্ছে দুঃখ বেদনা। এখানে উক্ত করা উচিত বিপাকের কারনে ও বেদনা হতে পারে। 🌷পোষ্টটি শেয়ার করে ধর্মদান করুন। জগতে্র সকল প্রানী সুখী হউক – মনুষত্ব বিকাশের ধর্ম- বুদ্ধের শিক্ষা চীরজীবি হউক। 🙏

সম্মন্ধে SNEHASHIS Priya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য মাইণ্ডফুলনেস মেডিটেশান

Leave a Reply