ব্রেকিং নিউজ

🌻বুদ্ধের প্রকৃত মতবাদ পর্ব এক🌹

ধর্মীয় হানাহানির অসংখ্য দৃষ্টান্তে স্বভাবতই বলা যেতে পারে, ধর্ম মানুষে-মানুষে হিংসা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। কি কারনে – তা হল অযৌক্তিকতা, অবাস্তবতা এবং অন্ধবিশ্বাস – বৌদ্ধধর্মে সেগুলি অনুপস্থিত বলে, কালাম সুত্তে বুদ্ধ জনশ্রুতি, পরম্পরা, গুরুবাক্য, ধর্মগ্রন্থ ইত্যাদির উপরে মানবতাকে তথা যথার্থকে স্থান দিয়েছেন। মজ্ঝিম নিকায়ের মীমাংসক সুত্তে উক্ত, তাঁরা যেন স্বয়ং তথাগতকেও পরীক্ষা করেন। বুদ্ধ বলেই যে তাঁকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে হবে তা নয়। বলেছিলেন, “এহি পাসসিকো”- অর্থাৎ, এসো এবং পরীক্ষা করে দেখো। ছয় বিশোধন সুত্রে তো অরহতকে পরীক্ষা করিয়ে দেখিয়েছেন – কিন্তু এখন দেখছি কেহ কেহ নুতন গান গাইছেন যে ভিক্ষুদের সম্বন্ধে কিছু বলা যাবে না, ফেইসবুকে তো অবশ্যই না বরং আসেন ভেতরে ভেতরে ধামাচাপা দিয়ে রাখি না হলে মহা পাপ হয়ে যাবে – মানে কি আমরা নারী-পুরুষ উভয়কে বোরখা পড়াতে শুরু করেছি🙏 বৌদ্ধধর্ম চিন্তার স্বাধীনতা দেয়, বাস্তব অভিজ্ঞতাকে বাদ দিয়ে নিছক বিশ্বাসের কোনও স্থান নেই, লুকোচুরির কোন স্থান নেই, তথাকথিত মান-সম্মান, অহং এর কোন স্থান নেই, জাতিবাদের স্থান তো থাকার প্রশ্নই আসে না। বুদ্ধের প্রকৃত মতবাদের বিকৃতির সুচনা আজকে নয় তা হচ্ছে হাজার বছর ধরে। বছর সাতেক আগে ছোট্ট করে লিখেছিলাম, এরা বুদ্ধ শিক্ষার অনুসারি নয় বরং ফেরিওয়ালা – সেটাই কি প্রকৃত বুদ্ধ পুজা হবে না?🌸

☘️বৌদ্ধধর্মে চিন্তার স্বাধীনতা, অভিজ্ঞতার গুরুত্ব ও অন্ধবিশ্বাসের অনুপস্থিতি বিষয়ে উক্ত যে দাবি, তা আবার উক্ত ধরনের কার্যকলাপে অসংগত মনে হয়, একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, বুদ্ধের প্রকৃত মতবাদে সত্যিই কোনও রকম অন্ধবিশ্বাসের স্থান ছিল না তবে ধীরে ধীরে এসব ধারণা বৌদ্ধধর্মের মধ্যে প্রবেশ করেছে। 🌷মহাযানের উৎপত্তি হয়েছে বুদ্ধের মৃত্যুর প্রায় পাঁচশো বছর পরে, বজ্রযান এসেছে তারও পাঁচশো বা ছয়শো বছর পরে। থেরবাদ এর জন্ম হয়েছে বুদ্ধের মৃত্যুর অন্তত দুশো বছর পর। সুতরাং বৌদ্ধধর্মে অসঙ্গতির কারণ বুজতে হলে বুদ্ধের প্রকৃত মতবাদ সম্পর্কে জানতে হবে।

💐ধর্ম সম্পর্কে ভলতেয়ারের উক্তি, “যে আপনাকে উদ্ভট কিছু বিশ্বাস করানোর ক্ষমতা রাখে, সে আপনাকে দিয়ে যেকোনো অন্যায়ও করিয়ে নিতে পারে।” হিংসায় প্ররোচনা দেওয়ার ব্যাপারটা ধর্মের রোগ নয়, রোগের উপসর্গ মাত্র। আসল রোগ হল ধর্মের মধ্যে অন্তর্নিহিত অযৌক্তিকতা উপরন্তু মানুষের ভেতরে একটা অনুসন্ধিৎসু মন আছে, যে সব ব্যাপারে প্রশ্ন করতে চায়, সবকিছু নিজের বুদ্ধি দিয়ে বুঝতে চায়। ধর্ম তার অযৌক্তিকতা দিয়ে মানুষের সেই যুক্তিবাদী মনটাকে মেরে ফেলে। আর সেই হত্যা কিন্তু মানুষের শারীরিক হত্যার চেয়ে কম দুর্ভাগ্যজনক নয়। এমতাবস্থায় যুক্তিসঙ্গত জীবনদর্শন বুদ্ধের প্রকৃত মতবাদ আমাদের অস্তিত্বের স্বার্থেই একান্তভাবে প্রয়োজন।

✍️পালি ত্রিপিটক কিংবা থেরবাদীদের ত্রিপিটকই একমাত্র ত্রিপিটক নয় এবং বুদ্ধ নাকি শুধু পালি ভাষায় ধর্মোপদেশ দিতেন – এই ধারণাগুলি বহুল প্রচলিত হলেও প্রকৃতপক্ষে ভ্রান্ত।
🖋বুদ্ধের মৃত্যুর প্রায় ১৪০ বছর পরে সঙ্ঘ প্রথম দুভাগে বিভক্ত হয়ঃ স্থবিরবাদ ও মহাসঙ্ঘিক।
🌺পরবর্তীকালে মহাসঙ্ঘিক বিভক্ত হয় একব্যবহারিক, গোকুলিক, লোকোত্তরবাদী, বহুশ্রুতীয়, প্রজ্ঞপ্তিবাদী, চৈতিক, অপরশৈল ও উত্তরশৈল।
🥀অপরদিকে স্থবিরবাদ থেকে পুদ্গলবাদ বা বাতসিপুত্রীয় নামে একটি আলাদা শাখা জন্ম নেয় যা আবার চারটি ছোট ছোট শাখার সৃষ্টি করেঃ ধর্মোত্তরীয়, ভদ্রযানীয়, সম্মতীয় ও ষণ্ণাগরিক।
🌼বুদ্ধের মৃত্যুর প্রায় ২৪০ বছর পরে সম্রাট অশোকের আমলে স্থবিরবাদ আবার দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়ঃ বিভাজ্যবাদ ও সর্বাস্তিবাদ। বিভাজ্যবাদ থেকে সৃষ্টি হয় মহীশাসক, ধর্মগুপ্তক ও কাশ্যপীয়। আর সর্বাস্তিবাদ থেকে সৃষ্টি হয় সৌত্রান্তিক, সংক্রান্তিক ও মূলসর্বাস্তিবাদ।
☘️ত্রিপিটক প্রথমে মৌখিকভাবে সংকলিত হয় এবং বুদ্ধের মৃত্যুর প্রায় সাড়ে চারশো বছর পরে সর্বপ্রথম শ্রীলঙ্কায় রাজা বট্টগামণি অভয়ের রাজত্বকালে (২৯-১৭ খ্রিষ্টপূর্ব) ত্রিপিটক লিপিবদ্ধ হয়। ধরে নেয়া হয় অশোক পুত্র মহেন্দ্র বিভাজ্যবাদ শাখাটি শ্রীলংকায় প্রচার করেন যা পরবর্তীকালে থেরবাদ (সংস্কৃত শব্দ স্থবিরের পালি রূপ হল থের) নাম ধারণ করেন। শ্রীলংকা থেকেই থেরবাদ মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে প্রচারিত হয়েছে। 🖋পালি ত্রিপিটকের মতো হীনযান এর অন্য শাখাগুলির প্রত্যেকের নিজস্ব ত্রিপিটক ছিল। সেই ত্রিপিটকগুলিও প্রথমে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় মৌখিকভাবে সংকলিত হয়েছিল এবং লিখিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক বু-স্টনের মতে “আঠারোটি শাখার” ত্রিপিটক খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে অথবা তার কিছু আগে লিখিত হয়েছিল দুর্ভাগ্যক্রমে সেইসব হীনযান ত্রিপিটক পাওয়া না গেলে ও সেইসব ত্রিপিটকের কিছু অংশের চীনা ভাষায় অনুবাদ এখনো আছে।

🌼বিনয় পিটকঃ থেরবাদ ছাড়াও পাঁচটি হীনযান বৌদ্ধধর্মের সম্পূর্ণ বিনয় পিটক চীনা অনুবাদের মাধ্যমে সংগ্রহে আছে – (১) সর্বাস্তিবাদ, (২) ধর্মগুপ্তক, (৩) মহীশাসক, (৪) মহাসঙ্ঘিক এবং (৫) মূলসর্বাস্তিবাদ। এর মধ্যে মূলসর্বাস্তিবাদী বিনয় পিটকের তিব্বতি অনুবাদও সংগ্রহে আছে।
🥀সূত্র পিটকঃ থেরবাদে সুত্ত পিটকের অংশগুলিকে নিকায় বলা হয়। হীনযান বৌদ্ধধর্মের অন্যান্য শাখায় এই অংশগুলি আগম নামে পরিচিত। থেরবাদীদের দীঘ নিকায়, মজ্ঝিম নিকায়, সংযুত্ত নিকায়, অঙ্গুত্তর নিকায় ও খুদ্দক নিকায় অন্যদের কাছে যথাক্রমে দীর্ঘ আগম, মধ্যম আগম, সংযুক্ত আগম, একোত্তর আগম ও ক্ষুদ্রক আগম নামে পরিচিত। প্রথম চারটি আগমের প্রত্যেকটির চীনা অনুবাদ আছে, কিন্তু সেগুলি একই শাখার নয়। পণ্ডিতদের মতে, চীনা অনুবাদের দীর্ঘ আগম ধর্মগুপ্তক শাখার গ্রন্থ, এবং চীনা অনুবাদের মধ্যম ও সংযুক্ত আগম সর্বাস্তিবাদ শাখার গ্রন্থ। চীনা অনুবাদের একোত্তর আগম কোন শাখার গ্রন্থ, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। থেরবাদ ছাড়া অন্য কোনও শাখার ক্ষুদ্রক আগম পাওয়া যায়নি।
🌺উক্ত চারটি চীনা ভাষায় অনূদিত আগম ছাড়া সর্বাস্তিবাদী দীর্ঘ আগমের একটি প্রাচীন সংস্কৃত পাণ্ডুলিপি সম্প্রতি আফগানিস্তানে আবিষ্কৃত হয়েছে। ফলে হীনযানী বৌদ্ধধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা সর্বাস্তিবাদের তিনটি আগম পাওয়া যায়– দীর্ঘ (মূল সংস্কৃত), মধ্যম (চীনা অনুবাদ) ও সংযুক্ত (চীনা অনুবাদ)।
🌼অভিধর্ম পিটকঃ থেরবাদ ছাড়া একটিমাত্র শাখার সম্পূর্ণ অভিধর্ম পিটক চীনা অনুবাদের মাধ্যমে পাওয়া যায়। সেটি হল সর্বাস্তিবাদ।
🙏অতএব দেখা গেলো পালি ত্রিপিটক আসলে অনেকগুলি ত্রিপিটকের মধ্যে একটি এবং থেরবাদও হীনযান বৌদ্ধধর্মের অনেকগুলি শাখার মধ্যে একটি উপরন্তু স্থবিরবাদ এর অনেক গুলোর মধ্যে একটি। 🌹পালি ত্রিপিটক সম্পর্কে দ্বিতীয় যে ভুল ধারণাটি প্রচলিত, বুদ্ধ নিজে নাকি পালি ভাষায় ধর্মপ্রচার করতেন। সম্রাট অশোক পুত্র কুমার মহেন্দ্র যার জন্মস্থান বিদিশা থেকে ৫জন ভিক্ষুসহ থেরবাদ বৌদ্ধধর্মকে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যান এবং ঐতিহাসিক প্রমান সাপেক্ষে যেহেতু জানা যায় বিদিশা অঞ্চলের ভাষা ছিল সেই সময় পালি একদিকে পালি যদি উজ্জয়িনী-বিদিশা অঞ্চলের ভাষা হয়, অন্যদিকে বুদ্ধ কখনও ওই অঞ্চলে যান নি এবং বুদ্ধ সারাজীবন কোশল ও মগধের মধ্যেই ধর্মপ্রচার করেছিলেন। 🌻এটাই স্বাভাবিক যে, সেইসময় কোশল ও মগধে প্রচলিত অর্ধমাগধী অপভ্রংশেই তিনি কথা বলবেন। হয়তো অর্ধমাগধীর কোশলীয় উপভাষা বুদ্ধের মাতৃভাষা ছিল। প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধ নিজে তাঁর শিষ্যদের প্রত্যেককে নিজের নিজের ভাষায় তাঁর ধর্মোপদেশ মনে রাখতে নির্দেশ দিতেন, কোন বিশেষ ভাষায় নয়। পরবর্তীকালে বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও ভারতবর্ষের নতুন নতুন অঞ্চলে ধর্মপ্রচার করবার সময় সেই অঞ্চলের স্থানীয় ভাষাই ব্যবহার করতেন। 🙏প্রকৃতপক্ষে ভাষা নয়, ভাষার অন্তর্নিহিত অর্থকেই বৌদ্ধধর্মে গুরুত্ব দেওয়া হয়
🥀প্রচলিত মতে বুদ্ধের মৃত্যুর ঠিক পরেই রাজগিরে ভিক্ষুদের একটি সভায় সম্পূর্ণ ত্রিপিটক সংকলিত হয়ে গিয়েছিল। পালি ত্রিপিটকে যেখানে এই সভার বর্ণনা আছে, সেখানে উক্ত সভা শেষ হওয়ার ঠিক পরে পুরাণ নামে একজন বর্ষীয়ান ভিক্ষু রাজগিরে এসে উপস্থিত হন। রাজগিরে যখন সভা চলছিল, সেই সময় তিনি তাঁর পাঁচশো জন শিষ্যকে নিয়ে দক্ষিণাগিরিতে পরিভ্রমণ করছিলেন। যাইহোক, তিনি রাজগিরে উপস্থিত হলে সভায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রবীণ ভিক্ষুরা তাঁকে সভার কথা জানান এবং তাঁকে সভায় সংকলিত বিষয়গুলি কণ্ঠস্থ করে নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু পুরাণ বিনয়ের সঙ্গে জানান যে, সভার ব্যাপারে তাঁর আপত্তি না থাকলেও তিনি সভায় সংকলিত বিষয়গুলি জানতে চান না। তার পরিবর্তে তিনি বুদ্ধের নিজের মুখে যে উপদেশগুলি শুনেছেন, সেগুলিই মনে রাখবেন।

🌺সেইসময় পুরাণের মতো আরও অনেক প্রবীণ ভিক্ষু যেমন রাজগিরের বাইরে ছিলেন তেমনি অনেকে রাজগিরের সভায় সংকলিত “ত্রিপিটককে” গ্রহণ করেন নি। তাঁরা নিজেরা বুদ্ধের কাছে যেসব উপদেশ শুনেছিলেন, সেগুলিই নিজেদের শিষ্যদের শিখিয়ে যান। যা পরবর্তীকালে ত্রিপিটকের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি ঝুঁকি ছিল এই যে, এমন কিছু সুত্তও ত্রিপিটকে ঢুকে পড়তে পারে যেগুলি আদৌ বুদ্ধ বলেন নি। অথচ ওই সুত্তগুলিকে একেবারে বাদ দিয়ে দিলে হয়তো বুদ্ধের অনেক প্রকৃত উপদেশও বাদ পড়ে যাবে। এই অবস্থায় ভিক্ষুদের সামনে একটিই যুক্তিসঙ্গত পথ ছিল – রাজগিরের সভায় যে সুত্তগুলি সংকলিত হয়েছিল, তাদের বক্তব্যের সঙ্গে যে সুত্তগুলি মিলবে, কেবল সেগুলিকেই ত্রিপিটকে স্থান দেওয়া। দীঘ নিকায়ের মহাপরিনিব্বান সুত্তে, কোনও ভিক্ষু নতুন কোনও সুত্তকে বুদ্ধের উপদিষ্ট বলে দাবি করলে কী করা উচিত সেই বিষয়ে বুদ্ধ আনন্দকে উপদেশ দিচ্ছেন। 🌹বুদ্ধের পরামর্শ, এরকম ক্ষেত্রে নতুন সুত্তটিকে বুদ্ধের ধর্ম ও বিনয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। যদি ধর্ম ও বিনয়ের সঙ্গে মেলে, তাহলে সুত্তটি সত্যিই বুদ্ধের উপদিষ্ট। অন্যথায় সেটি বুদ্ধের উপদিষ্ট নয়।

🥀দুর্ভাগ্যের বিষয়, প্রথমের দিকে এই মেলানোর প্রক্রিয়া সহজ হলেও পরবর্তীতে এটি ক্রমশ জটিল হতে থাকে এবং কোনও নতুন সুত্ত বুদ্ধের ধর্ম ও বিনয়ের সঙ্গে আদৌ মেলে কিনা, তা বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হতে থাকে। এর ফলে ভিক্ষুসঙ্ঘ অনেক শাখায় বিভক্ত হতে থাকে এবং অনেক নতুন নতুন তত্ত্ব ত্রিপিটকে ঢুকতে থাকে যেগুলি আদৌ বুদ্ধের বক্তব্য নয়। 🌺বুদ্ধের মৃত্যুর একশো বছর পরে বৈশালির কিছু ভিক্ষুকে বিনয় বহির্ভূত আচরণ করার জন্য সঙ্ঘ থেকে বহিষ্কার করা হয়। শ্রীলংকায় রচিত ইতিহাস দীপবংশ অনুযায়ী, এরপর এই বহিষ্কৃত ভিক্ষুরা মহাসঙ্গীতি নামে একটি সভার আহ্বান করেন। ওই সভায় তাঁরা প্রচলিত ত্রিপিটককে অস্বীকার করে নিজেদের মতো করে ত্রিপিটক সংকলন করেন। তাঁরা বুদ্ধের মতবাদ ও অন্য ধর্মের মতবাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না। বুদ্ধের কোন বক্তব্যকে আক্ষরিক অর্থে নিতে হবে আর কোন বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রয়োজন, তাও তাঁরা গুলিয়ে ফেলেন। তাঁরা কিছু কিছু সুত্তকে বাদ দিয়ে তার জায়গায় নিজেদের রচিত ভ্রান্ত সুত্তকে ঢুকিয়ে দেন।
🌹এছাড়া সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে পাটলিপুত্রের সভায় মহাদেব নামে একজন ভিক্ষু কিছু কিছু মহাযানী সূত্রকে ত্রিপিটকে ঢোকানোর চেষ্টা করেন। বিভাষা গ্রন্থে বলা হয়েছে, “বুদ্ধের নির্বাণের পরে সূত্র পিটকে ভ্রান্ত সূত্র, বিনয় পিটকে ভ্রান্ত বিনয় এবং অভিধর্ম পিটকে ভ্রান্ত অভিধর্ম ঢোকানো হয়েছে।” এই প্রসঙ্গে অভিধর্মকোষের রচয়িতা দুঃখ করে বলেছেন, “এতে আমরা কী করতে পারি? প্রভু নির্বাণ লাভ করেছেন, সদ্ধর্মের আর কোনও নেতা নেই। সংঘের অনেক শাখা তৈরি হয়ে গেছে এবং তারা নিজেদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী অর্থ ও শব্দের পরিবর্তন করেছে।”
 সুসিম সুত্রে উক্ত যে ব্যক্তি অপরাধকে অপরাধরূপে দেখে ধর্মানুসারে প্রতিকার করে এবং ভবিষ্যতে সংযত হয়, এটা আর্য-বিনয়ে উন্নতি।’☘️
🙏সে ভাবেই আহবান করেছি ট্রাডিশনাল বৌদ্ধ না হয়ে বুদ্ধ হবার প্রচেষ্টায় বৌদ্ধ হউন। পোষ্টটি শেয়ার করে ধর্মদান করুন। জগতে্র সকল প্রানী সুখী হউক – মনুষত্ব বিকাশের ধর্ম- বুদ্ধের শিক্ষা চীরজীবি হউক। 🙏
চলবে – অনুরোধে পরবর্তী পর্ব।
🙏অন্য লেখাগুলো পড়তে চাইলে নিচের লিঙ্ক থেকে পড়তে পারেন🙏
http://news.nirbankami.com/…/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e…/
☸️বাংলায় সম্পুর্ন ত্রিপিটক বলে মহাপাপ করতে চাই না  কারন অর্থকথা ছাড়া ত্রিপিটক সম্পুর্ন হয় না (কিছু অর্থকথা) এখনো বাংলায় অনুদিত হয়নি। তবে অর্থকথা ছাড়া ত্রিপিটকের বেশীর ভাগ বই সহ মোট ৬৫টি পড়ুন বিনা পয়সায়, আপনার মোবাইল, টেলিভিশন, ট্যাব্লেট, আইপ্যাড থেকে যখন খুশী তখন। প্রায় পাঁচ বছর আগে করা, এন্ড্রয়েড ফোনে গুগল প্লে ষ্টোরে ক্লিক করে সার্চ বক্সে লিখুন Snehashis Priya Barua আর আপেল ফোন Iphone হলে IBooks বা Books এ ক্লিক করে সার্চ বক্সে লিখুন Snehashis Priya Barua এবং এন্টার চাপলে দেখাবে সব বইগুলি। তৎপর যেটি খুশী সেটি ইনষ্টল করে নেন তারপর পড়তে শুরু করুন আর যদি চান মোবাইল কিন্তু আপনাকে তা পড়ে শোনাতে পারবে।
Android Phone থেকে গুগোল প্লেষ্টোরে নিম্নোক্ত লিঙ্কে ক্লিক করে ও যেতে পারেনঃ
https://play.google.com/store/search
আর আপেলের জন্য (যেমন Iphone) নিম্নোক্ত আপাততঃ
১) বিনয়পিটকে চুল্লবর্গ https://books.apple.com/us/book/id1175364753
২) দীর্ঘ নিকায় ১ম ভাগ https://books.apple.com/us/book/id1177815709
৩) দীর্ঘ নিকায় ২য় ভাগ https://books.apple.com/us/book/id1177829910
৪) দীর্ঘ নিকায় ৩য় ভাগ https://books.apple.com/us/book/id1177831114
৫) বিনয়পিটকে মহাবর্গ https://books.apple.com/us/book/id1173750171
৬) বিনয়পিটকে পরিবার পাঠ https://books.apple.com/us/book/id1175122398
৭) অপদান ১ম খন্ড https://books.apple.com/us/book/id1177809651
৮) হৃদয়ের দরজা খুলে দিন https://books.apple.com/us/book/id1175849345
৯) দৃষ্টিজাল https://books.apple.com/us/book/id1175941489

সম্মন্ধে SNEHASHIS Priya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

মেডিটেশান এবং আপনার ব্রেইন

Leave a Reply