ব্রেকিং নিউজ

🧘‍♂️সংক্ষেপে বিদর্শন ভাবনা পদ্ধতি প্রথম পর্বঃ 🧘‍♂️

বিদর্শন অর্থ উত্তম ও যথার্থরূপে ইন্দ্রিয়োপলব্ধিঃ বিদর্শন ভাবনা বলতে দেহ ও মনের যথার্থ উপলব্ধিকে বুঝায়। যখন অনিত্য ও দুঃখ সম্পর্কে যথার্থ ধারণা উপলব্ধি করবেন তখন তিনি অনাত্বা ভাবের মাধ্যমে অদম্য ও দুর্বোধ্য মন এবং শরীরের উদয়-বিলয় সম্পর্কে অধিকতর ধারণা অর্জন করবেন। অনিত্য দুঃখ ও অনাত্মা সম্পর্কে যথার্থ উপলব্ধি মার্গ লাভের পক্ষে একান্ত অপরিহার্য।
মনের চারি প্রকার একাগ্রতা: যিনি মনের চারি প্রকার একাগ্রতা নিয়ে নিজেকে উপলব্ধি করেন, তিনি অনিত্যতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করবেন। মনের একাগ্রতাকে বিদর্শন ভাবনায় স্মৃতিপ্রস্থান বা সতিপট্ঠান বলে।🌸মনের যে চারি প্রকার একাগ্রতার মাধ্যমে অনিত্য জ্ঞান লাভ হতে পারেঃ (১) শরীরের প্রতি গভীর মনোযোগ স্থাপন (২) চেতনার প্রতি গভীর মনোযোগ (৩) চিত্তের প্রতি গভীর মনোযোগ স্থাপন (৪) ধর্মসমূহের প্রতি মনোযোগ।
প্রয়োজনীয় পঞ্চ বিষয়ঃ মার্গস্থ ও ফলস্থ হবার উদ্দেশ্যে বিদর্শন ধ্যান অভ্যাস করতে চান তবে তাদের পাঁচটি প্রয়োজনীয় বিষয় – (১) একজন যোগ্য শিক্ষক (২) দৃঢ় বিশ্বাস (৩) সুশৃঙ্খলা (8) নির্মল সততা (৫) নিরলস শ্রম
💐আরক্ষা পাঠঃ আগে পোষ্ট দেয়া হয়েছে লিঙ্ক দেয়া হলো https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10156346483269302&set=a.10151410980809302&type=3&theater
🌷জিতেন্দ্রিয়তাঃ ভাবনাকেন্দ্রে ইন্দ্রিয়সমূহকে জয় করাই মূল। তাই যা খেতে দেয়া হয় তাই নিয়ে তৃপ্ত থাকুন। যেখানে অবস্থান করার জন্য বলা হয়েছে তাই নিয়ে সন্তষ্ট থাকুন। ভাবনার সাথে সম্পর্কহীন সবকিছু পরিত্যাগ করুন।
🥀বিদর্শন ভাবনার শুরুঃ নাভিদেশের উপর একাগ্রচিত্ত হওয়া। দেখবেন এর উত্থান ও পতন হচ্ছে। যদি এ উত্থান পতন লক্ষ্য করতে না পারেন তাহলে কয়েক মিনিটের জন্য হাতের তালু নাভিতে রাখুন। যখন তা লক্ষ্য করতে পারেন তখন হাতের তালু সরিয়ে নিন। যখন শ্বাস গ্রহণের সময় নাভিদেশ উথ্থিত হয় তখন মনে মনে বলুন “উঠছে” আর যখন পতন হচ্ছে তখন “পড়ছে’। যখন উত্থান-পতন হচ্ছে তখন এর প্রতি সচেতন হতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণ ও পরিত্যাগ করবেন। এ সময় অন্য কোন প্রচেষ্টা চালানো যাবে না। অন্যথায় শীঘ্রই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন।
🌻যখন শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ ও পরিত্যাগের দিকে মনোযোগী হন তখন চিত্ত সুদূর প্রসারী হতে পারে। যত শীঘ্র পারা যায় ভাবনা সম্পর্ক সচেতন হয়ে যথাযথ নামে তাদেরকে ডাকুন। যেমন-যদি কোন কিছুর পরিকল্পনা করেন তখন মনে মনে “পরিকল্পনা করছি, পরিকল্পনা করছি’ বলতে হবে। মন যখন বিপথগামী হয় তখন “বিপথে গমন করছে’। কারো সাথে দেখা হয় তাহলে “দেখা করছি’ “, কথা বললে “কথা বলছি” “কথা বলছি’। যখন যে ভাবটা আসে তখন সেভাবেই একে ডাকতে হবে যতক্ষণ না তা মন থেকে অদৃশ্য হয়। যখন এই ভাব দূর হবে তখন আবার সেই উঠছে’ ও ‘পড়ছে’ এর দিকে মনোযোগ দিতে হবে, এ রকম মনোযোগী হবার সময় যদি থুথু ফেলতে চান তাহলে বলুন “থুথু ফেলতে চাই’ থুথু ফেলবার সময় বলতে হবে ‘থুথু ফেলছি’। সেটার পর আবার “উঠছে’ ও “পড়ছে’ এর দিকে মনোযোগী হন। নত হতে চান তাহলে “নত হতে চাই” বলুন, নত হবার সময় বলুন “নত হচ্ছি’। মাথা তুলবার সময় বলুন “তুলছি’ “তুলছি’। আর মাথা আস্তে (২) তুলুন। তারপর আবার সেই “উঠছে’ আর ‘পড়ছে’ এর দিকে মনোযোগী হোন। অনেকক্ষণ বসে থাকার ফলে শরীরের কোন স্থানে যদি আপনার ‘ব্যথা’ অনুভূত হয় তাহলে আস্তে আস্তে “ব্যথা করছে’ “ব্যথা করছে’ বলুন সে ব্যথাযুক্ত স্থান লক্ষ্য করে। এতে কিছুক্ষণ পরে ব্যথা দূর হবে। যদি স্থান পরিবর্তন করতে চান তাহলে “স্থান পরিবর্তন করতে চাই’; শরীরের যেকোন অংশ যখন পরিচালনা করতে চান যেমন যদি পা উঠাতে চান “পা উঠাতে চাই’। যখন পা উঠাচ্ছেন তখন “পা তুলছি’ “পা তুলছি’ বলে আস্তে আস্তে পা তুলুন। পা প্রসারিত করতে চাইলে “পা প্রসারিত করতে চাই” যখন প্রসারিত করছেন “প্রসারিত করছি। অন্য দিকে ফেরালে “পা ফেরাচ্ছি’। ফেলতে চান তাহলে “পা ফেলতে চাই’ বলুন। আর আস্তে আস্তে পা ফেলে বলুন “পা ফেলছি” “পা ফেলছি”। পা ফেলবার সময় যদি কোন কিছুর সাথে স্পর্শ হয় তখন “স্পর্শ করছে’ বলুন। এরপর আবার সেই উঠছে’ ও ‘পড়ছে’ এর দিকে মনোযোগী হোন। কোন কোন লোক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন। যখন তাদের সমাধি বেগবান হয় তাদের অসহ্য যন্ত্রণা উপস্থিত হয়, যেমন ধারালো ছুরি বিদ্ধ হওয়ার পর শরীর ফেটে যন্ত্রণা উপস্থিত হয়। সমস্ত শরীরে এক উত্তেজনা দেখা দেয়। ছোটপোকা দেহের উপর ইতস্তত চলাফেরায় যে চুলকানি উপস্থিত হয় অনুরুপ অবস্থা হয়; সমস্ত শরীরে শীতলতা অনুভূত হয় ইত্যাদি। যা হোক সচেতনতার প্রতি প্রচেষ্টা নিবৃত্ত করার সাথে সাথে এ যন্ত্রণা ও অনুভূতি নিরুদ্ধ হয়। সমাধি বেগবান হবার সাথে সাথে সেগুলি আবার উপস্থিত হন।
🌼যদি সে রকম অভিজ্ঞতা হয় প্রথমে এ যন্ত্রণার উপর মনোযোগী হোন। যদি তাতেও এগুলি দূরীভূত না হয় তার প্রতি আর বিশেষ কোন মনেযোগ দেবেন না। তখন উৎসাহের সাথে “উঠছে’ আর “পড়ছে’ এর দিকে মনোযোগী হোন। চিন্তিত হবেন না। ভীত হবেন না। এগুলি অসাধারণ কোন যন্ত্রণা নয়, এগুলি সাধারণ যন্ত্রণা। ইতিপূর্বে অনেকের এরূপ অবস্থা হয়েছিল। একাগ্রতার অভাবের দরুণ তারা সে সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না। অন্যান্য কতগুলি বিষয়ে তখন তারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে এ যন্ত্রণাগুলি তলিয়ে গিয়েছিল। যখন একাগ্রতার দ্বারা ওই বিষয়গুলি আবার তাড়িত হয় যন্ত্রণা আবার স্পষ্ট হয়ে উঠে। সুতরাং এ রকম অভিজ্ঞতা যখন আপনি অতিক্রম করেন ভয়ে আপনার যোগ অভ্যাস বন্ধ করবেন না। এ যন্ত্রণাগুলি আপনাকে বিপদগ্রস্থ করতে পারবে না। যদি দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ভাবনায় রত থাকেন, সেগুলি নিশ্চয়ই অদৃশ্য হবে। “উঠা’ এবং ‘পড়া’ এর প্রতি একাগ্রতা স্থাপন করে কোন কোন ব্যক্তিকে অন্যমনস্কভাবে দুলতে দেখা যায়। যদি ঠিক সেরকম অবস্থা হয় এর প্রতি একাগ্রতা স্থাপন করে বলুন “দুলছি’ “দুলছি’। একাগ্রতা সত্তেও দোলা যদি তীব্রতর হয় তাহলে এর প্রতি একাগ্রতা এনে দেয়ালে ঠেস বা বিছানায় শুয়ে পড়ুন। শীঘ্রই এই দোলা অদৃশ্য হবে। কখনো কখনো একাগ্রতা অবস্থার সময় পা থেকে মাথা পর্যস্ত এক অপূর্ব উত্তেজনা অনুভব করতে পারেন এবং ছোটখাট ক্ষতিবিহীন গোলমালের শব্দে সহজে ভয় পেয়ে যেতে পারেন। যখন একাগ্রতা উত্তম হয় সচরাচর এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। একাগ্রতার সময় যদি জলের পিপাসা হয় বলুন “জল খেতে ইচ্ছা করে, আসন থেকে উঠতে চাইলে বলুন “উঠতে চাই”। যখন উঠেন তখন দেহের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গের প্রতি সচেতন হোন। এভাবে একাগ্রতা স্থাপন করে উঠার সময় বলুন ‘উঠছি’ “উঠছি’ যখন দাড়ান তখন “দাড়াচ্ছি’ “দাড়াচ্ছি’। কোন কিছুর দিকে তাকালে “তাকাচ্ছি’, কোন দিকে যেতে চাইলে “যেতে চাই” যখন যান তখন “যাচ্ছি’ “যাচ্ছি বলুন প্রতি পদক্ষেপে।পা উঠান ও ফেলার প্রতিটি পদক্ষেপে আপনাকে সচেতন হতে হবে। ধীরে হাটার সময় পা তুললে “তুলছি’ আর ফেলার সময় বলুন “ফেলছি’। যখন “তোলা” ও “ফেলা” এ দুটি স্তর আয়ত্ব করতে পারেন এ রকম আরো দুটি স্তর অনুসন্ধান করুন। পা উঠা ও ফেলা মাত্রই “তুলছি’ ও “ফেলছি বলুন। “তোলা’ ও “ফেলা’ ও “হাটা এ তিন স্তরের দিকে লক্ষ্য রাখুন। যখন জগ অথবা অন্য কিছু দেখেন “দেখছি’ “দেখছি’। যদি জগের নিকটে দাড়ান তাহলে বলুন “দাড়াচ্ছি’। যখন আপনি জগ ও গ্লাসের দিকে হাত বাড়াতে চান তখন “হাত বাড়াতে চাই”। যখন আস্তে আস্তে হাত বাড়ান তখন “বাড়াচ্ছি’ ‘বাড়াচ্ছি’ আপনি জগ স্পর্শ করলে স্পর্শ করছি। যখন জল ঢালতে চান তখন “জল ঢালতে চাই’ আর জল ঢালার সময় “ঢালছি’ “ঢালছি’। যদি হাত দেহ স্পর্শ করে তাহলে “স্পর্শ করছি”। যদি ফিরতে চান “ফিরতে চাই”। যদি ধীরে ধীরে ফিরেন “ফিরছি’ “ফিরছি’। যখন দাড়াতে চান তখন “দাড়াতে চাই’। যখন দাড়াচ্ছেন তখন “দাড়াচ্ছি’ ‘দাড়াচ্ছি’, সেখানে কিছুক্ষণ দাড়ানোর পর “উঠা” ও “পড়া’ এর দিকে একাগ্রতা স্থাপন করুন৷ যখন বসতে চান তখন “বসতে চাই”। যেখানে আসতে যাচ্ছেন সেখান থেকে হেটে যাবার সময় পদক্ষেপের দিকে যথাযথভাবে একাগ্রতা স্থাপন করুন। সেখানে “পৌছেছি’ আস্তে আস্তে ফিরার সময় “ফিরছি’ “ফিরছি। বসতে চাইলে ‘বসছি’ “বসছি’। বসার প্রত্যেকটি চালনার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বসবার পর হস্ত পদের যেভাবে চালনা হয় সেদিকে একাগ্রতা স্থাপন করুন, তারপর আবার সেই শ্বাস প্রশ্বাসের “উঠা নামা’ এর দিকে মনোযোগী হোন। যদি ঘুমাতে চান, “ঘুমাতে চাই” যখন, বিছানাতে শুয়ে আছে তখন দেহের প্রতিটি অংশের চালনার দিকে একাগ্র চিত্ত হয়ে বলুন “শুচ্ছি’ “শুচ্ছি’ যখন মাথা বা দেহ বালিশ স্পর্শ করে তখন, “স্পর্শ করছে’। বিছানাতে শোয়ার পর হস্তপদের কিছু চালনা অনুভব করতে পারেন। প্রত্যেকটি চালনার প্রতি মনোযোগী হয়ে তাদের যথাযথ নামে উচ্চারণ করে বলুন। তারপর আবার শ্বাস প্রশ্বাসের “উঠা নামা” এর প্রতি একাগ্রতা স্থাপন করুন। যখন বিছানায় শুয়ে আছেন তখন দেহের প্রতিটি চালনা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। সকল প্রকার চিত্তের উত্থান ও চেতনাসম্পন্ন সকল প্রকার দৈহিক ও মানসিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় উত্থিত সকল প্রকার চিত্ত এবং সকল প্রকার ধর্মসমূহের প্রতি একাগ্রতা স্থাপন করতে হবে।
🌺যদি ঘুম আসে এবং চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে তখন “চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে”। সমাধি যখন বলবৎ হয় আপনার ঘুম ঘুম ভাব বিদূরীত হবে ফলে আবার জাগ্রত হতে পারেন। জাগরিত হবার উপর একাতা স্থাপন করে বলুন ‘জাগরিত হচ্ছি’। তারপর আবার শ্বাস-প্রশ্বাসের উঠানামা এর প্রতি মনোযোগী হোন। যতই নিদ্রাচ্ছন্ন হউন না কেন একাগ্রতা স্থাপন বন্ধ করলে চলবে না। শেষ পর্যস্ত ঘুমিয়ে না পড়া পর্যস্ত সে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। যখন ঘুমিয়ে পড়েন তখন একাগ্রতা স্থাপন আর সম্ভব নয়।
যা হোক ঘুম থেকে জেগে উঠা মাত্র সচেতন হতে হবে এবং বলুন ‘জেগে উঠছি’। অবশ্য জেগে উঠা মাত্র প্রথমে সচেতন হওয়া কষ্টকর হবে বৈকি। যদি এ সম্পর্কে সচেতন হতে না পারেন তবে শীঘ্রই অন্য কিছু সম্পর্কে সচেতন হবার চেষ্টা করুন। যদি চিন্তা করেন তবে সে সম্পর্কে সচেতন হয়ে “চিন্তা করছি’ “চিন্তা করছি’। এরপর আবার শ্বাস প্রশ্বাস “উঠা নামা” এর প্রতি একাগ্রতা স্থাপন করুন, যদি কোন শব্দ শুনেন তাহলে “শুনছি’। তারপর সেই “উঠানামা’ এর প্রতি একাগ্রতা স্থাপন করুন, “ফিরা’ “ঝুকে পড়া’ প্রসারণ’ ইত্যাদি সকল প্রকার চালনার প্রতি সচেতন হয়ে তাদের প্রত্যেককে যথাযথ নামে ডাকতে হবে। যদি সময়ের কথা চিন্তা করেন তাহলে, চিন্তা করছি। যদি বিছানা থেকে উঠতে চান তাহলে, “উঠতে চাই’ কিন্তু উঠার সময় হাত, পা, মাথা ও দেহের চালনার উপরও একাগ্রতা স্থাপন করুন যখন ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠেন তখন বলুন “উঠছি’ “উঠছি’, বসা মাত্রই বলুন “বসছি’, এরপর শ্বাস-প্রশ্বাস “উঠা-নামা’র প্রতি একাগ্রতা স্থাপন করুন। যখন হাত ধোন স্নান করেন বা মলমুত্র ত্যাগ করেন তখন যা দেখেন, যা শোনেন, যা চিন্তা করেন, যা স্পর্শ করেন সব কিছুর প্রতি একাগ্রত স্থাপন করতে হবে। যখন হাত ধোন তখন উক্ত চালনার প্রতি সচেতন হউন। যদি জল শীতল হয় তাহলে শীতলতার প্রতি সচেতন হউন। হাত ধোয়ার পর যখন পোশাক পরিপাটি করেন তখন আপনার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চালনার প্রতি সচেতন হোন। খাওয়ার সময় যা দেখছেন তা বলতে হবে “দেখছি’। যখন খাবার মুখের মধ্যে চূর্ণ করেন, দাত দিয়ে কাটেন বা পেষণ করেন তখন সেই সেই নামেই বলতে হবে। খাবার স্পর্শ করার সময়, “স্পর্শ করছি’। যখন আস্তে আস্তে খাবার মুখের দিকে আনেন তখন “আনছি আনছি’। যদি মাথা নোয়ান তাহলে “মাথা নত করছি। খাবার মুখ স্পর্শ করলে “স্পর্শ করছে’। মুখ খুলবার সময় “খুলছি’। খাবার মুখে দেয়ার সময় “মুখে দিচ্ছি’ মুখ বন্ধ করার সময় “বন্ধ করছি”, হাত নামিয়ে রাখার সময় উঠাবার সময় “হাত উঠাচ্ছি’। খাবার চর্বণ করার সময় “চর্বণ করছি’। যদি খাবারের স্বাদ. অনুভব করেন তাহলে “স্বাদ অনুভব করছি”। খাবার যখন উদরস্থ করেন তখন সেই নামে বলুন। খাবার যদি গলা স্পর্শ করে তাহলে বলুন, স্পর্শ করছে, এভাবে খাবার গ্রহণ করার সময় যা কিছু করেন সে সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
🌷প্রথমে প্রত্যেক কিছুর সম্পর্কে সচেতন হতে পারা যায় না, যদি যথাযথভাবে একাগ্রতা স্থাপন করতে না পারেন তবে নিরাশ হবেন না। সমাধি আয়ত্ব করার পর এখানে উল্লেখিত বিষয় থেকেও বেশি কিছুতে একাগ্রতা স্থাপন সহজ হবে। যেকোন কিছু সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন তাকে যথাযথ নামে মনে মনে বলুন। ইহা শব্দ করে বলার প্রয়োজন নাই | এখানে উল্লেখিত শব্দগুলিকে যথাযথভাবে গ্রহণ করার আবশ্যকতা নাই, যার যার সুবিধামত বেছে নিতে পারেন।
🌹উন্নত পর্যায়ের একাগ্রতা স্থাপনঃ কয়েকদিন পর দেখবেন যে শ্বাস-প্রশ্বাসের উঠা নামার প্রতি একাগ্রতা স্থাপন অতি সহজ হয়ে উঠেছে, অনুভব করতে পারেন যে দুটি বিষয়সহ অন্য আর একটি বিষয়ের প্রতি একাগ্রতা স্থাপন করতে পারেন। যে স্তরেই সমাধির ভিত্তি কিছুটা গড়ে তুলেছেন, স্বাভাবিকভাবে আপনি তা অনুভব করবেন। শ্বাস-প্রশ্বাসের উঠা-নামা ছাড়াও বসার ভঙ্গীর দিকে একাগ্রতা স্থাপন করতে পারেন। তার “উঠা, নামা, বসা” এ তিন বিষয়ের উপর একাগ্রতা স্থাপন করে “উঠছে, নামছে, বসছি’ বলতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাসের “উঠানামার প্রতি একাগ্রতা স্থাপন উঠছে, নামছে, বলার সময় সে সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। আবার “বসছি’ বলার সময়ও সে সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। যখন বিছানাতে শুতে যাচ্ছেন তখন একাগ্রতা স্থাপন করে “বসছি’ থেকে শোয়ার দিকে পরিবর্তন করতে হবে, এ অবস্থায় “উঠছে, নামছে, শুয়েছি’ বলতে হবে। উঠানামার দিকে যেভাবে সচেতন হয়েছেন শোয়ার প্রতিও সে রকম সচেতন হতে হবে।
সমাধি যখন প্রবলতর হয় তখন একাগ্রতা স্থাপন করার পক্ষে আরেকটি বিষয় সংযোজিত হচ্ছে বলে অনুভব করতে পারেন। তখন শ্বাস-প্রশ্বাসের উঠা-নামা ও শোয়া ছাড়াও যা বিছানা স্পর্শ করে এমন অংশের প্রতিও একাগ্রতা স্থাপন করতে হবে। এ ব্যাপারে বলতে হবে “উঠছে, নামছে, শুয়েছি ও স্পর্শ করছি’ এ চার বিষয়ের প্রতি সচেতন থাকতে হবে। বসার সময় বলতে পারেন “উঠছি, বসছি, নামছে, বসছি’ এবং শোয়ার সময় বলুন “উঠছে, শুয়েছি’ ‘নামছি, শুয়েছি’।
উপরোলিখিত চারটির যেকোন একটির প্রতি একাগ্রতা স্থাপন করার সময় যদি চেয়ার, বিছানা, টেবিল প্রভৃতি সাধারণ বিষয়াদি ঘরের মধ্যে দেখেন তা হলে সেগুলির প্রাতি সচেতন হবার প্রয়োজন নাই। চারিটির যেকোন একটির প্রতি একাতা স্থাপনের কাজ চালিয়ে যান, এসময় মন বিপথে যেতে পারে না। যদি কোন বিষয়ের প্রতি ইচ্ছাকৃতভাবে তাকান সেগুলি সাধারণ বিষয় হলেও এদের প্রতি সচেতন হতে হবে। এগুলো দেখে বলুন “দেখছি’। যদি কোন শব্দ শুনতে পান এর জন্যও সে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে – শুনেছি’ “শুনেছি’ । সাধারণ কোন শব্দের প্রতি মনোযোগ দেয়ার প্রয়োজন নেই। তারপর পূর্বের চারি বিষয়ের যে কোন একটির প্রতি একাগ্রতা স্থাপন করুন।
যদি দেখা বা শুনা সম্পর্কে সচেতন না হন অথবা কোন শব্দ শুনে তা ভাবনা না করেন তাহলে মন অন্য কোন চিন্তায় বিপথে যেতে পারে। তা থেকে লোভ, ক্রোধ ও কাম প্রভৃতির উৎপত্তি হতে পারে। এ সতর্কতার কারণে যদি লোভ, চিন্তা, ক্রোধ ভাব ও কুপ্রবৃত্তির উৎপাদন হয় তাহলে পূর্বস্মৃতিতে ফিরে আসার জন্য যত শীঘ্র পারেন তাদের যথাযথ নামে স্মরণ করুন। যদি এ সমস্ত কুচিন্তা সম্পর্কে সচেতন হতে না পারেন তবে পূর্ব স্মৃতিতে একাগ্রতা স্থাপন করা আপনার পক্ষে কষ্টকর হবে।
কখনো কখনো এরকম ঘটতে পারে; কোন জিনিস কুড়িয়ে নিতে ইচ্ছা করার আগে হঠাৎ কুড়িয়ে নিতে পারেন, আপনি শুতে যাওয়ার ইচ্ছা করার আগে হঠাৎ শুয়ে যেতে পারেন। যখন এরকম হয় তখন আপনি কুড়িয়ে নেওয়া বা শুতে যাওয়ার পরে যেগুলি সম্পর্কে ইচ্ছা পোষণ করতে ভুলে গিয়েছিলেন সেগুলি সম্পর্কে আপনি শীঘ্রই সচেতন হয়ে ‘ভুলেছি, ভুলেছি’ বলুন। তারপর আবার চারিটির ভাবনায় ফিরে আসুন।
সমাধি লাভ করার পূর্বে চারি স্মৃতি প্রস্থান অনুসারে প্রথমে এ ধরনের একাগ্রতা স্থাপনে নিরানন্দ বোধ করতে পারেন। এ সম্পর্কে সচেতন হয়ে বলতে হবে “নিরানন্দ বোধ করছি’। কখনো কখনো এ ধরনের একাগ্রতা স্থাপন সকল প্রকার মানসিক কলুষতা বিলোপ সাধনের দিকে নিয়ে যেতে পারে কিনা সংশয় জাগতে পারে। এ ধরনের সন্দেহ পোষণ সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং বলুন “সন্দেহ করছি, সন্দেহ করছি’। কখনো কখনো আশা করতে পারেন যে শীঘ্রই সমাধি.উন্নত হবে। সম্পূর্ণভাবে এ সম্পর্কে সচেতন হয়ে বলুন “আশা করছি’। সকালে যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন বিকেলে তা স্মরণ করতে পারেন, এ সম্পর্কে সচেতন হোন এবং বলুন “স্মরণ করছি’ “স্মরণ করছি’। যদি পূর্ব অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণে আপনি সচেষ্ট হোন তাহলে সে সম্পর্কে সচেতন হোন এবং বলুন “বিশ্লেষণ করছি’ “বিশ্লেষণ করছি’। এভাবে আপনার মানসিক অবস্থা যেভাবে থাকে সেভাবেই আপনাকে সচেতন হতে হবে। সকল মানসিক অবস্থা উপস্থিত হলে সেগুলির প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার পর পূর্বের চারিটি ভাবনায় ফিরে যান। কখনো অসতর্কতায় সময় কাটাবেন না। প্রারম্ভে সময় সময় তন্দ্রাভাব অনুভব করতে পারেন। প্রায় সময় জাগ্রত রাখার জন্য প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। যা হোক যখন সমাধি প্রবলতর হয় তখন তন্দ্রাভাব আর থাকবে না প্রসন্নতার সাথে সজাগ থাকবেন।
ভাবনা শিক্ষার এ গতিপথে চার প্রকারের স্মৃতি প্রস্থান বর্ণিত হয়েছে যথাঃ
(১) অনবরত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সকল দৈহিক অঙ্গ-প্রতঙ্গের চালনা সম্পর্কে সম্যকভাবে সচেতন হওয়াই কায়ার স্মৃতি প্রস্থান।
(২) অনবরত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সকল প্রকার ব্যথা, বেদনা স্পর্শ সম্পর্কে সম্যকভাবে সচেতন হওয়াই বেদনার স্মৃতি প্রস্থান।
(৩) অনবরত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সকল প্রকার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে সম্যকভাবে সচেতন হওয়াই চিত্তের স্মৃতি প্রস্থান।
(৪) অনবরত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সকল ধর্ম সমূহের (চিন্তার বিষয়) অবস্থা সম্পর্কে সম্যকভাবে সচেতন হওয়াই ধর্মের স্মৃতি প্রস্থান।
সার কথা
(১) ছোট বা বড় সকল মৌখিক ও দৈহিক চালনার প্রতি সচেতন হওয়া।
(২) সুখ, দুঃখ বা উপেক্ষামূলক সকল প্রকার চেতনা সম্পর্কে সচেতন হওয়া।
(৩) ভাল, মন্দ সকল প্রকার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হওয়া।
(8) সকল প্রকার চিন্তার বিষয় সমূহের (ধর্ম) প্রতি সচেতন হওয়া।
(৫) যখন সচেতন হওয়ার আর কোন কিছু না থাকে তাহলে পূর্বের চারি বিষয়ের স্মৃতিতে ফিরে যান অর্থাৎ উঠছে, বসছি, নামছে ও বসছি (যদি শুয়ে থাকেন বসার পরিবর্তে শুয়েছি বলুন)।
বিশেষ নির্দেশঃ যখন রূপ, রস, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ ও চিন্তা আপনার চোখ, জিহ্বা, কান, নাক, দেহ বা মনের সংস্পর্শে আসে তৎক্ষণাৎ সেগুলি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। যা হোক রূপ, রস, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ ও চিন্তাসমূহের ক্রিয়ার প্রতি কখনো একাগ্রতা স্থাপন করবেন না। আপনাকে এ বিষয়সমূহের ক্রিয়ার প্রতি একাগ্রতা স্থাপন করতে হবে। এদের যে কোন একটি বিষয় আপনার সংস্পর্শে আসামাত্রই সে বিষয়ের প্রত্যক্ষ দর্শন থেকে আপনার মনোযোগ ফেরাতে হবে। বাহ্যিক বিষয়গুলি যতদূর সম্ভব পারা যায় আপনার অবিরাম সচেতন ভাবের ফলে আপনার চেতনা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। যদি কোন কিছু আপনার দৃষ্টিগোচর হয় বলতে হবে “দেখছি, দেখছি’। দেখছি, দেখছি বলার সময় বিষয়ের রূপের প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে এর ক্রিয়ার উপর একাগ্রতা স্থাপন করুন। অন্যান্য বিষয়ের প্রতিও তদনুরূপ করতে হবে। এ সময় বাহ্যিক কোন বিষয়ের দ্বারা চিত্তকে বিক্ষিপ্ত হতে দেবেন না।
যদি বিশ্বাস, অধ্যবসায় ও আগ্রহের নির্দেশাবলী অনুসরণ করেন শেষ পর্যন্ত মার্গস্থ ও ফলস্থ না হওয়া পর্যস্ত ধাপে ধাপে বিদর্শনের দিকে এগিয়ে যাবেন। ভাবনার ফলে বিদর্শন পরিজ্ঞান সমূহ লাভ করবেন এবং এগুলো তাকে মার্গ ও ফলের দিকে নিয়ে যাবে। নিম্নলিখিত অনুচ্ছেদগুলিতে দ্বাদশ প্রকার বিদর্শন পরিজ্ঞান সম্পর্কে স্বল্পভাবে বর্ণিত হয়েছে। আশা করা যায় এতে পরিজ্ঞান সমূহের উত্তম ধারণা লাভ করতে সক্ষম হবেন। বিদর্শন ভাবনার অর্থ হলো এ সব পরিজ্ঞানসমূহ লাভ করতে সামর্থ্যবান করে তোলা।
পূর্বে সাবধান হওয়া উচিত যে অভিজ্ঞতাসমূহ নিম্নে বর্ণিত চারি বিদর্শনের মধ্যে আবশ্যকীয়ভাবে হবে তা নয়। কিছু কিছু সাদৃশ্যপূর্ণ আর কিছু কিছু ভিন্ন ধরনের হতে পারে। ক্ষুদ্র পরিসরে প্রত্যেকটি অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই নিম্নলিখিত বিদর্শনসমূহে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন না হলে নিরাশ হওয়া উচিত নয়। ভাবনায় যে অভিজ্ঞতাই লাভ করুন না কেন তা তার বুদ্ধের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য আছে কিনা দেখবেন।
প্রথম বিদর্শন (নামরূপ পরিচ্ছেদ জ্ঞান)ঃ যদি বিদর্শন ভাবনা অভ্যাস করেন পূর্ববর্তী অধ্যায় এ বর্ণিত নির্দেশানুসারে যথাসময়ে সমাধি লাভ করবেন। যদি সমাধি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়, তবে উঠা-নামা, বসা, হাত নামান, প্রসারণ, পা তোলা, পা ফেলা ও নিচু করা প্রভৃতি প্রত্যেকটি বিষয় সম্পর্কে সে সময় মনকে সেদিকে সচেতন রাখবেন যে উঠা একটি অস্তিত্ব আর সচেতন ভাব আর একটি অস্তিত্। এইভাবে তিনি মন ও দেহের পৃথক পৃথক অস্তিত্বের কথা বুঝতে পারবেন। সচেতন ভাবের মধ্যে এটা শীঘ্রই পরিষ্কার হয়ে উঠবে যে মন উঠা-নামা, বসা, দাড়ান, নোয়ান, প্রসারণ প্রভৃতি বিষয়গুলির প্রতি ছুটে যাচ্ছে। যখন সচেতন ভাবের মধ্যে এ সত্য পরিষ্কার হয় তখন মনের প্রকৃত স্বরূপ লাভ করেন বলে বলা হয় অর্থাৎ মন সর্বদা বিষয়ের দিকে ছুটে যায়, ঘুরে বেড়ায়।
কেবলমাত্র দু’টি সত্তা আছে-উঠা ও সচেতন ভাব; নামা ও সচেতন ভাব; বসা ও সচেতন ভাব; নোয়ান ও সচেতন ভাব প্রভৃতি ৷ এ দুই বিষয় ছাড়া আত্মা, আমি বা নিজ বলে কেউ নেই। তিনি উঠা, বসা, নামা, প্রসারণ প্রভৃতি বিষয়ের প্রতি সচেতন ভাব অবলম্বন করার সময় এ ধরনের ধারণা অর্জন করেন।
দ্বিতীয় বিদর্শন(প্রত্যয় পরিগ্রহ জ্ঞান)ঃ যখন সমাধি বলবৎ হয় তখন দেহের যেকোন অংশ নড়াচড়া করার ইচ্ছা করা মাত্রই সচেতন হবেন। বিদর্শনের প্রথম দিকে এ রকম ইচ্ছা হওয়া মাত্রই তিনি পূর্ণভাবে সচেতন হন না। এমনকি যদিও তিনি “ইচ্ছা করছি’ বলছেন তিনি সাধারণত সে ইচ্ছা দূর হলেই তখন তা বলেন ইচ্ছার ফলে দেহের সে অংশের চালনার কাজ ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। যা হোক সমাধি যখন বলবৎ হয় তখন তার হাত ফেলার ইচ্ছা করা মাত্রই সেদিকে তিনি সচেতন হয়ে বলতে পারেন “হাত নামানোর ইচ্ছা করছি। দেহের অন্যান্য অংশ চালনা করার ইচ্ছা করা মাত্রই অনুরূপভ। ইচ্ছা করার পরেই দেহের যে কোন অংশের পরিচালনার দিকে সচেতনভাব রাখতে হবে।
বিদর্শনের প্রথম দিকে তিনি ইচ্ছা শক্তির উদয় হওয়ার কথা ভুলে যান এবং দেহের যেকোন অংশের চালনার কাজ আরম্ভ হয়ে গেলে বলেন ইচ্ছা করছি তখন মনে করেন যে শরীর মন থেকে দ্রুতগামী। যখন সমাধি বলবৎ হয় তখন অনুভব করেন তার ইচ্ছা থেকে সচেতনভাব অগ্রগামী এবং জলে লাফ দেওয়া মাত্রই বক যেমন খাবারকে কুড়িয়ে নেয় ঠিক তেমনি ইচ্ছাকেও তিনি তদ্রুপ করেন। সে স্তরে উত্তমরূপে তিনি দেখা আরম্ভ করেন যে মন শরীর থেকে দ্রুতগামী। প্রত্যেক ইচ্ছা ও সচেতনতা অবলম্বন করা থেকে তিনি বুঝতে পারেন যে ইচ্ছাই হেতু আর দেহের চালনা ফল।
যখন তিনি উঠা, বসা, পড়া ও স্পর্শ করা এই চারি প্রকার উপাদানের উপর মনোনিবেশ করেন তখন তিনি উত্তমরূপে বুঝতে পারেন যে তার সচেতনভাব উঠা থেকে বসা, বসা থেকে নামা, নামা থেকে স্পর্শ করার দিকে ক্রমান্বয়ে ধাবিত হচ্ছে। হঠাৎ যদি তিনি দেওয়ালে কোন ছবি দেখতে পান তখন তার সচেতনভাব উক্ত চারি উপাদান থেকে ছবির দিকে প্রতিফলিত হয়। মৌখিক সুদৃঢ়ভাবের সচেতনতা আনয়নের জন্য যখন তিনি দেখছি দেখছি বলেন তখন তিনি কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনতে পান। সে সময় ছবি থেকে তার সতর্কভাব শব্দের প্রতি ধাবিত হয়। যখন তিনি শুনছি বলতে থাকেন তখন বাম উরুতে তার চুলকানোর ইচ্ছা হলে তার সচেতনভাব সেদিকে চলে গিয়ে তিনি বলেন “ইচ্ছা করছি’ “ইচ্ছা করছি’। এতে হাতের চালনা, প্রসারণ করেন। এমন সময় মাংসের থালা তার প্রিয় বস্তু সম্মুখে আনা হলে বলেন, “আনা হয়েছে’ “আনা হয়েছে’। হঠাৎ জিহবা থেকে লালা নিঃসরণ সম্পর্কে সচেতন হন, তাই তিনি বলেন নির্গত হচ্ছে’ “নির্গত হচ্ছে’ ইতিমধ্যে তার সেই মাংসের চিন্তা মনে আবার উদয় হল, সুতরাং তিনি বলেন “আবার উদয় হল, “আবার উদয় হল’ কয়েক মিনিট পরে তিনি বিরক্তি বোধ করবেন কারণ তার প্রিয় মাংসের ব্যঞ্জনের কথা মন থেকে দূরীভূত হচ্ছে না। সুতরাং তিনি বলতে থাকবেন “বিরক্ত হচ্ছি” “বিরক্ত হচ্ছি’, “দূরীভূত হচ্ছে না” “দূরীভূত হচ্ছে না’।
এরূপ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝতে পারেন যে,- (ক) বস্তুর কারণেই সচেতন ভাব বিদ্যমান থাকে। (খ) বস্তু হচ্ছে কারণ, সচেতন ভাব হচ্ছে কার্য (ফল)। (গ) বস্তু না থাকলে কোন সচেতন ভাবই থাকবে না। (ঘ) কারণ না থাকলে কার্যও থাকবে না।
এ উপলব্ধি থেকে তিনি একটি স্পষ্ট ধারণা লাভ করেন যে, কর্মই অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পুনর্জন্মের অসীম বন্ধনের কারণ এবং জীবনের ভালমন্দ সব কিছুই প্রত্যেক পুনর্জন্মকে অনুসরণ করে।
বার বার এইভাবে মনে স্মরণ করতে হবে না। একবার অথবা দুবার স্মরণ করার পর যতক্ষণ পর্যস্ত এইভাব মন থেকে অদৃশ্য হচ্ছে না ততক্ষণ পর্যন্ত “পুন: স্মরণ করছি”, “স্মরণ করছি’ এ কথা বলতে হবে। তারপর আবার পূর্বের সেই চার বিষয়ের স্মৃতিতে মনোনিবেশ করবেন।

সম্মন্ধে SNEHASHIS Priya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

মেডিটেশান এবং আপনার ব্রেইন

Leave a Reply