ব্রেকিং নিউজ

🧘‍♂️ত্রিপিটকের মধ্যম নিকায়ের বিশোধন সূত্রে কেহ অরহত হয়েছি বলে প্রকাশ করিলে যে তাকে পরীক্ষা করার বিধান আছে

🧘‍♂️ত্রিপিটকের মধ্যম নিকায়ের বিশোধন সূত্রে কেহ অরহত হয়েছি বলে প্রকাশ করিলে যে তাকে পরীক্ষা করার বিধান আছে যেভাবে উক্ত তার আগে  করুনা সম্পত্তিতে অনুপ্রানীত হয়ে বলতে হচ্ছে এরা বুদ্ধ ধর্মকে, শিক্ষাকে বুদ্দু ধর্ম বানিয়ে ছাড়বে। ভিক্ষু সংঘের প্রতিনিধি হয়ে, বুদ্ধের উপাসক হয়ে যেভাবে অশ্রাব্য ভাষায় একে অপরের সাথে বাক্যালাপ হচ্ছে তাতে কি প্রমানিত হয়? ধর্ম নয় বাকযুদ্ধ কথার মার প্যাচ, কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চালাকি করে নিজের পক্ষে বলতে পারলেই হলো তদুপরি যদি বার্মা থেকে (এখানে দোষ কিন্তু বার্মা, শ্রীলংকা কিংবা থাইল্যান্ডের নয় বরং উক্ত ব্যক্তির) একটু ঘুরে আসতে পারেন, ফেইসবুকে একটু কারিস্মা করে দুটো বানী দিতে পারেন (তবে অন্যে দিলে কিন্তু বলা হবে ফেইসবুকে ধর্মদান হয় না), নায়কি ঢংয়ে নিজের ছবি দিতে পারেন (পরে ছবি পোষ্ট করলে কিন্তু বিনয় ভংগ হবে কিন্তু তিনি করলে নয়) তাহলে তো কথাই নেই- জ্ঞানী বাঁ বিদর্শনাচার্যের লাইসেন্স পেয়ে যাবেন –মার্গ লাভ করার প্রয়োজন হবেনা, বিনয় নিজে করার প্রয়োজন নাই। এ প্রসঙ্গে স্টীভেন উইনবার্গ বলেছেন, “ভালো মানুষেরা করে ভালো কাজ, খারাপেরা করে খারাপ কাজ। কিন্তু ভালো মানুষকে দিয়ে খারাপ কাজ করিয়ে নিতে প্রয়োজন ধর্মের”।
একটু কষ্ট করে নীচে উক্ত সূত্রটির অংশ পড়ে দেখুন🌻
হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো ভিক্ষু (স্বীয়) প্রজ্ঞাকে (অর্হত্ত্ব) এইরূপে ব্যাখ্যা করেন-“আমার জন্মবীজক্ষীণ (বিনষ্ট) হইয়াছে, ব্রহ্মচর্যব্রত উদ্যাপিত হইয়াছে, করণীয় কার্য কৃত হইয়াছে, অতঃপর আর অত্র আসিতে হইবে না বলিয়া আমি জানি।” হে ভিক্ষুগণ, সেই ভিক্ষুর ভাষণ অভিনন্দনযোগ্যও নহে, তিরস্কৃতব্যও নহে, আনন্দ বা আক্রোশ প্রকাশ না করিয়া বরং প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাইতে পারে।”
🌺অতএব বুঝতে পারছেন পরীক্ষা করা বিনয়সম্মত। এরা আসলেই বুদ্ধকে বুদ্দু বানিয়ে ছাড়বে। এ অশুভ চক্রের হাত থেকে ভোলা ভালা মানূষ মুক্তি পাক- জগতের সকল প্রানী সুখী হউক।
🌼সূ্ত্রের বাকি অংশঃ বন্ধু, জ্ঞানী, দ্রষ্টা, অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ ভগবানের দ্বারা আখ্যাত এই চারিটি ব্যবহার। চারিটি কী কী? দৃষ্টিতে (প্রত্যক্ষে) দৃষ্টিবাদিতা, শ্রুতে শ্রুতবাদিতা, অনুমিতে অনুমিতবাদিতা, বিজ্ঞাতে বিজ্ঞাতবাদিতা। বন্ধু, এই চারিটি ব্যবহার (বাগ্বিধি) সেই জ্ঞাতা, দ্রষ্টা, অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ ভগবানের দ্বারা আখ্যাত হইয়াছে। কী জানিয়া, কী দেখিয়া এই চারি ব্যবহারে বীতরাগ হইয়া আসব হইতে চিত্ত বিমুক্ত হয়? হে ভিক্ষুগণ, যিনি ক্ষীণাসব, সম্পন্ন ব্রহ্মচর্যাব্রত, যিনি কৃতকার্য, অপনীতভার, পরমার্থপ্রাপ্ত, পরিক্ষীণ ভবসংযোজন ও সম্যক জ্ঞানের দ্বারা বিমুক্ত, তাঁহার পক্ষে ইহা ধর্মের অনুকূল বর্ণনার যোগ্য-বন্ধু, দৃষ্টে অনুপায়, অনপায়, অনিশ্রিত, অপ্রতিবদ্ধ, বিপ্রমুক্ত, বিসংযুক্ত ও বন্ধনমুক্ত চিত্তে আমি বিহার করি। শ্রুতে… অনুমিতে… বিজ্ঞাতে… বিহার করি।
🌸বন্ধুগণ, এইরূপে জানিয়া ও দেখিয়া এই চারি ব্যবহারে বীতরাগ হইয়া আসব হইতে চিত্ত বিমুক্ত হয়। হে ভিক্ষুগণ, সেই ভিক্ষুর ভাষণ সাধুবাদ দ্বারা অভিনন্দনযোগ্য অনুমোদনযোগ্য এবং সাধুবাদ দ্বারা অভিনন্দিত করিয়া ও অনুমোদন করিয়া পরবর্তী প্রশ্ন জিজ্ঞাসিতব্য : জ্ঞাতা… সম্যকসম্বুদ্ধ ভগবানের দ্বারা-এই পঞ্চ উপাদান-স্কন্ধ সম্যকভাবে বর্ণিত হইয়াছে। এই পঞ্চ উপাদান-স্কন্ধ; যথা : রূপ-উপাদান-স্কন্ধ, বেদনা-সংজ্ঞা-সংস্কার-বিজ্ঞান-উপাদান-স্কন্ধ এই… ভগবানের দ্বারা বর্ণিত হইয়াছে। কী জানিয়া, কী দেখিয়া এই পঞ্চ উপাদান-স্কন্ধে অনাসক্ত হইয়া আসব হইতে চিত্ত বিমুক্ত হয়? হে ভিক্ষুগণ, যিনি ক্ষীণাসব… তাহার বর্ণনা ধর্মের অনুকূল যখন তিনি বলেন, বন্ধুগণ, রূপ বলহীন, বিরাগ ও আশ্বাসরহিত জানিয়া যে-সকল রূপ-উপাদানসম্পন্ন (মিথ্যাদৃষ্টিপূর্ণ) চিত্তে অধিষ্ঠান, অভিনিবেশ, অনুশয়যুক্ত, তাহাদের ক্ষয়, বিরাগ, নিরোধ, ত্যাগ, বিসর্জনহেতু আমার চিত্ত বিমুক্ত বলিয়া জানি। বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার, বিজ্ঞান সম্পর্কেও এইরূপ। সেই ভিক্ষুর ভাষণকে… জিজ্ঞাসিতব্য, এই ছয় ধাতু… ভগবানের দ্বারা বর্ণিত হইয়াছে। ছয় ধাতু; যথা : পৃথিবীধাতু, আপধাতু, তেজধাতু, বায়ুধাতু, আকাশধাতু ও বিজ্ঞানধাতু। এই ছয় ধাতুতে কী জানিয়া, কী দেখিয়া বীতরাগ হইয়া আসব হইতে চিত্ত বিমুক্ত হয়? হে বন্ধুগণ, যিনি ক্ষীণাসব… বর্ণনা ধর্মানুকূল হয়।” আমি পৃথিবীধাতুকে অনাত্ম বলিয়া জানি। আত্মা পৃথিবীধাতু নিশ্রিত নহে, যে-সকল পৃথিবীনিশ্রিত উপাদানপূর্ণ চিত্তের অধিষ্ঠান… জানি। আপধাতু, তেজধাতু, বায়ুধাতু, আকাশধাতু, বিজ্ঞানধাতু সম্পর্কেও এইরূপ।… পরবর্তী প্রশ্ন জিজ্ঞাসিতব্য : এই আধ্যাত্মিক ও বাহ্যিক আয়তন… ভগবানের দ্বারা সম্যকভাবে বর্ণিত হইয়াছে। ছয় আয়তন; যথা : চক্ষু এবং রূপ, শ্রোত্র এবং শব্দ, ঘ্রাণ (নাসিকা) এবং গন্ধ, জিহ্বা এবং রসাস্বাদ, কায় এবং স্পর্শ, মন এবং ধর্ম। এই ছয় আয়তনে কি জানিয়া… ধর্মানুকূল হয়, যখন তিনি বলেন, হে বন্ধুগণ, চক্ষুতে, রূপে, চক্ষুবিজ্ঞানে, চক্ষুবিজ্ঞান-বিজ্ঞাতব্য ধর্মে যে-সকল ছন্দ, রাগ (অনুরাগ), নন্দী, তৃষ্ণা উপাদান পূর্ণ চিত্তের অধিষ্ঠান… জানি। শ্রোত্রায়তন শব্দ, ঘ্রাণায়তন গন্ধ, জিহ্বায়তন রস, কায়াতন স্পর্শ এবং মনায়তন ধর্ম সম্পর্কেও এইরূপ।… পরবর্তী প্রশ্ন জিজ্ঞাসিতব্য এই বিজ্ঞানযুক্ত কায়ে বাহ্যিক সর্বনিমিত্তে কী জানিয়া, কী দেখিয়া আয়ুষ্মানের অহংকার, মমকার ও মানানুশয় যথার্থরূপে দূরীভূত হয়?
💐হে ভিক্ষুগণ, যিনি ক্ষীণাসব… তাঁহার ধর্মানুকূল হয় যখন তিনি বলেন বন্ধুগণ, আমি যখন পূর্বে গৃহী ছিলাম তখন অবিদ্বান ছিলাম, সেই সময়ে তথাগত কিংবা তথাগতের শিষ্য ধর্মদেশনা করিলেন। সেই ধর্ম শুনিয়া তথাগতের প্রতি শ্রদ্ধা অর্জন করি। আমি ওই শ্রদ্ধা সম্পদেসমন্বিত হইয়া এইরূপে প্রত্যবেক্ষণ করি : “গৃহবাস বাধাপূর্ণ, (রাগ) রজাকীর্ণ পথ, প্রব্রজ্যা উন্মুক্ত আকাশতুল্য, গৃহে বাস করিয়া একান্ত পরিপূর্ণ, একান্ত পরিশুদ্ধ, ‘শঙ্খলিখিত’ ব্রহ্মচর্য পালন সুকর নহে, অতএব আমার পক্ষে কেশশ্মশ্রু অপসারিত করিয়া, কাষায় বস্ত্রে (দেহ) আচ্ছাদিতরূপে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করা কর্তব্য। আমি পরবর্তীকালে অল্প অথবা মহা-ভোগৈশ্বর্য, অল্প অথবা মহা-জ্ঞাতি-পরিজন পরিত্যাগ করিয়া, কেশশ্মশ্রু অপসারিত করিয়া, কাষায় বস্ত্রে (দেহ) আচ্ছাদিত করিয়া আগার হইতে অনাগারিকরূপে প্রব্রজিত হই।
🌷আমি এইরূপে প্রব্রজিত হইয়া ভিক্ষুগণের উপযোগী শিক্ষাবৃত্তি-সমাপন্ন হইয়া, প্রাণিহত্যা পরিত্যাগ করিয়া, প্রাণিহত্যা হইতে প্রতিবিরত হই, দণ্ডবিরহিত ও শস্ত্রবিরহিত হইয়া (প্রাণিহত্যা বিষয়ে) লজ্জিত, (জীবের প্রতি) দয়াশীল এবং সর্বপ্রাণীর হিতানুকম্পী হইয়া বিচরণ করি। অদত্ত আদান (চৌর্য) পরিত্যাগ করিয়া, আমি অদত্ত-আদান হইতে প্রতিবিরত হই এবং দত্তগ্রাহী ও দত্ত-প্রত্যাকাঙ্ক্ষী হইয়া সদ্ভাবে (চুরি না করিয়া) ও শুচিচিত্তে বিচরণ করি। অব্রহ্মচর্য পরিত্যাগ করিয়া ব্রহ্মচারী (পাপ হইতে) দূরে অবস্থানকারী হই এবং গ্রাম্য বা লোকাচরিত মৈথুন হইতে বিরত হই। মৃষাবাদ (সত্যের অপলাপ) পরিত্যাগ করিয়া মৃষাবাদ হইতে বিরত হই এবং সত্যবাদী, সত্যসন্ধ, (সত্যে) স্থিত, প্রত্যয়িক (বিশ্বাসভাজন) ও জনগণের নিকট অবিংসবাদী (অবঞ্চক) হই। পিশুনবাক্য পরিত্যাগ করিয়া আমি পিশুন বাক্য হইতে বিরত হই, এইস্থান হইতে শুনিয়া অন্যত্র ইহাদের মধ্যে ভেদ ঘটাইবার জন্যই বা কিছু বলি নাই। এইভাবে আমি বিচ্ছিন্নের মধ্যে মিলনকর্তা, সংহিতের (মিলিতের) মধ্যে উৎসাহদাতা, ঐক্যাগ্রহী, ঐক্যরত, ঐক্যনন্দি হইয়া ঐক্যকর বাক্য বলিয়াছি। পুরুষবাক্য পরিত্যাগ করিয়া আমি পুরুষবাক্য হইতে বিরত হই। যে বাক্য নির্দোষ, কর্ণসুখকর প্রীতিকর, হৃদয়গ্রাহী, পুরুজনোচিত (ভদ্র), বহুজনকান্ত, বহুজন মনোজ্ঞ সেইরূপ বাক্যই আমি বলিয়াছি। সম্প্রলাপ (বৃথা বা অযথাবাক্য) পরিত্যাগ করিয়া সম্প্রলাপ হইতে আমি বিরত হই, আমি কালবাদী (যিনি কালোপযোগী কথা বলেন), ভূতবাদী (সত্যবাদী), অর্থবাদী, (মঙ্গলদায়ক কথা যিনি বলেন), ধর্মবাদী, বিনয়বাদী (সংযম সম্পর্কে যিনি বলেন) এবং আমি যথাকালে যুক্তিপূর্ণ, সমাপ্তিযোগ্য, অর্থযুক্ত ও নিধানযোগ্য বলিয়াছি। আমি বীজগ্রাম ও ভূতগ্রাম (গুল্ম ও বৃক্ষ) কর্তন হইতে বিরত হই। একাহারী হইয়া রাত্রি ভোজন ও বিকালভোজন হইতে বিরত হই। নৃত্য, গীত ও বাদিত্রাদি কৌতূহলোদ্দীপক দর্শন হইতে বিরত হই, মালাগন্ধ, বিলেপন প্রভৃতি ধারণ-ম-ন বিভূষণ উপকরণ হইতে বিরত হই। উচ্চশয্যা, মহাশয্যা ব্যবহার হইতে বিরত হই, জাতরূপ (স্বর্ণ) ও রজত প্রতিগ্রহণ হইতে বিরত হই। অপক্ব মাংস, স্ত্রী, কুমারী, দাস, দাসী, অজ, মেষ, কুক্কুট, শূকর, হস্তী, গো, অশ্ব, বড়বা (ঘ্যোঁক), ক্ষেত্র ও বাস্তু প্রতিগ্রহণ হইতে বিরত হই। নীচ দৌত্যকার্য হইতে বিরত হই। ক্রয়-বিক্রয় কার্য হইতে বিরত হই। তুলাকূট, কাংস্যকূট ও মানকূট (ওজন দ্বারা প্রবঞ্চনা) হইতে, বঞ্চনা, মায়া ও জাদু দ্বারা প্রতারণা কার্য হইতে বিরত হই। ছেদন, বধ, বন্ধন, লুন্ঠন দ্বারা আতঙ্ক উপাদন, বিলোপ-সাধন প্রভৃতি সাহসিক কার্য হইতে প্রতিবিরত হই। মাত্র দেহচ্ছাদনের উপযোগী চীবর, ক্ষুন্নিবৃত্তির উপযোগী পিণ্ডপাত (ভিক্ষান্ন) লইয়া আমি সন্তুষ্ট এবং আমি যেখানে যাই (ত্রিচীবর, ভিক্ষাপাত্র ইত্যাদি অষ্ট বস্তু) মাত্র সঙ্গে লইয়া যাই। যেমন পক্ষীশকুন যেখানে যেখানে উড়িয়া যায়, মাত্র পক্ষ সম্বল করিয়া উড়িয়া যায়, সেইভাবে আমি দেহাচ্ছাদনের উপযোগী চীবর এবং ক্ষুন্নিবৃত্তির উপযোগী ভিক্ষান্ন লইয়া আমি সন্তুষ্ট… সঙ্গে লইয়া যাহা এইরূপে আমি আর্যজনোচিত শীলসমষ্টিতে সমন্বিত হইয়া অধ্যাত্মে অনবদ্য সুখ অনুভব করি।
🌹আমি চক্ষু দ্বারা রূপ (দৃশ্য বস্তু) দর্শন করিয়া নিমিত্তগ্রাহী অনুব্যঞ্জনগ্রাহী (কামব্যঞ্জক আচারগ্রাহী) হই নাই। যে কারণে চক্ষু ইন্দ্রিয় সম্পর্কে অসংযত হইয়া বিচরণ করিলে অভিধ্যা (লোভ) ও দৌর্মনস্যাদি পাপ অকুশলধর্ম অনুস্রাবিত হয়, আমি উহার সংযমের জন্য তৎপর হই। চক্ষু-ইন্দ্রিয় রক্ষা করি, চক্ষু-ইন্দ্রিয় বিষয়ে সংযমপ্রাপ্ত হই। শ্রোত্র এবং শব্দ, ঘ্রাণ এবং গন্ধ, জিহ্বা এবং রস, কায় এবং স্পর্শ, মন এবং ধর্ম সম্পর্কেও এইরূপ। আমি এইরূপে আর্যইন্দ্রিয় সংবর দ্বারা সমন্বিত হইয়া আধ্যাত্মে অক্লেশপ্রাপ্ত (ক্লেশ বিরহিত) সুখ অনুভব করি। আমি অভিগমনে, প্রত্যাগমনে, আলোকনে, বিলোকনে, সঙ্কোচনে, প্রসারণে, সংঘাটি পাত্র-চীবর-ধারণে, ভোজনে, পানে, খাদনে, আস্বাদনে, মল-মূত্র ত্যাগকালে, গমনে, স্থিতিতে, উপবেশনে, সুপ্তিতে, জাগরণে, ভাষণে তূষ্ণীভাবে সম্প্রজ্ঞানকারী হই।
আমি এইরূপ আর্যশীলস্কন্ধ দ্বারা, এইরূপ আর্যইন্দ্রিয় সংযম দ্বারা এবং এইরূপ আর্যস্মৃতি-সম্প্রজ্ঞান দ্বারা সমন্বিত হইয়া অরণ্য, বৃক্ষমূল, পর্বত, কন্দর, গিরিগুহা, শ্মাশান, বনপ্রস্থ (জঙ্গল), উন্মুক্ত আকাশতল, পলালপুঞ্জ (আবর্জনাস্তূপ) প্রভৃতি বিবিক্ত (নির্জন) শয়ন-আসন ভজনা (থাকার অভ্যাস) করি। আমি ভিক্ষান্ন (পিণ্ডপাত) সংগ্রাহান্তে ভোজন শেষ করিয়া পর্যাঙ্কাবদ্ধ হইয়া (পদ্মাসন করিয়া), দেহকে ঋজুভাবে রাখিয়া লক্ষ্যাভিমুখে (পরিমুখে) স্মৃতিকে উপস্থাপিত করিয়া উপবেশন করি। আমি জগতে অভিধ্যা (লোভ, কামচ্ছন্দ) পরিত্যাগ করিয়া অভিধ্যা বিগত চিত্তে বিচরণ করি, অভিধ্যা হইতে চিত্ত পরিশুদ্ধ করি, ব্যাপাদ-দ্বেষ (হিংসা-বিদ্বেষ) পরিত্যাগ করিয়া অব্যাপন্নচিত্তে সর্বজীবের প্রতি হিতানুকম্পী হইয়া বিচরণ করি, ব্যাপাদ দ্বেষ হইতে চিত্ত পরিশুদ্ধ করি। স্ত্যানমিদ্ধ (তন্দ্রালস্য) পরিত্যাগ করিয়া আমি স্ত্যানমিদ্ধ-বিগত, আলোক-সংজ্ঞায় উদ্বুদ্ধ এবং স্মৃতি-সম্প্রজ্ঞান-সমন্বিত হইয়া বিচরণ করি, স্ত্যান-মিদ্ধ হইতে চিত্ত পরিশুদ্ধ করি। ঔদ্ধত্য-কৌকৃত্য (উদ্ধত ও চঞ্চলভাব) পরিত্যাগ করিয়া আমি অনুদ্ধত ও আধ্যাত্মে উপশান্তচিত্ত হইয়া বিচরণ করি, ঔদ্ধত্য-কৌকৃত্য হইতে চিত্ত পরিশুদ্ধ করি। বিচিকিৎসা (সংশয়) পরিত্যাগ করিয়া আমি বিচিকিৎসা উত্তীর্ণ এবং কুশলধর্ম বিষয়ে অকথংকথী (অসন্দিগ্ধ) হইয়া বিচরণ করি, বিচিকিৎসা হইতে চিত্ত পরিশুদ্ধ করি।
আমি চিত্তের উপক্লেশ ও প্রজ্ঞার দৌর্বল্যের কারণ এই পঞ্চনীবরণ পরিত্যাগ করিয়া যাবতীয় কাম ও অকুশলধর্ম হইতে বিবিক্ত (বিচ্যুত) হইয়া সবিতর্ক, সবিচার বিবেকজ প্রীতিসুখমণ্ডিত প্রথম ধ্যানস্তরে উপনীত হইয়া বিহার করি, বিতর্ক-বিচার উপশমে অধ্যাত্ম-সম্প্রসাদী, চিত্তের একীভাব আনয়নকারী, বিতর্কাতীত, বিচারাতীত, সমাধিজ প্রীতিসুখমণ্ডিত দ্বিতীয় ধ্যানস্তরে উপনীত হইয়া বিহার করি,… চতুর্থ ধ্যানস্তরে প্রবেশ করিয়া বিহার করি।
আমি এইরূপে সমাহিত চিত্তের পরিশুদ্ধ, পর্যবদাত (পরিষ্কৃত) অনঞ্জন, উপক্লেশ-বিগত, মৃদুভূত, কর্মনীয়, স্থিত ও অনেজ (স্থির) অবস্থায় আসবক্ষয়-জ্ঞানাভিমুখে চিত্তকে নমিত করি। আমি যথার্থরূপে বিশদভাবে জানিতে পারি : ‘ইহা দুঃখ,’ ‘ইহা দুঃখ সমুদয়’, ‘ইহা দুঃখ-নিরোধ’, ‘ইহা দুঃখ-নিরোধ-গামী প্রতিপদ।’ ইহা আসব সমুদয়, ইহা আসব-নিরোধ, ইহা আসব-নিরোধগামী প্রতিপদ। এইরূপে জানিবার এবং দেখিবার ফলে কামাসব হইতে আমার চিত্ত বিমুক্ত হয়, ভবাসব হইতে আমার চিত্ত বিমুক্ত হয়, অবিদ্যাসব হইতে আমার চিত্ত বিমুক্ত হয় এবং বিমুক্ত চিত্তে ‘বিমুক্ত হইয়াছি’ এই জ্ঞান উদিত হয়-জন্মবীজ ক্ষীণ হইয়াছে… আসিতে হইবে না।
বন্ধুগণ, এইরূপে জানিবার ও দেখিবার ফলে এই বিজ্ঞানযুক্ত কায়ে… দূরীভূত হইয়াছে। হে ভিক্ষুগণ, সেই ভিক্ষুর ভাষণ সাধুবাদ দ্বারা অভিনন্দনযোগ্য, অনুমোদনযোগ্য এবং সাধুবাদ দ্বারা অভিনন্দিত ও অনুমোদন করিয়া তাঁহাকে এইরূপ বলা উচিত : বন্ধু, ইহা আমাদের লাভ, ইহা আমাদের সুলব্ধ যে আমরা আদর্শ ব্রহ্মচারী দেখিতে পাইয়াছি।
ভগবান এইরূপ বলিলেন। ভিক্ষুগণ সন্তুষ্ট মনে ভগবানের ভাষণ শ্রবণ করিয়া আনন্দ প্রকাশ করিলেন।
ছয় বিশোধন সূত্র সমাপ্ত।
🙏🙏🙏শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিয়ে ধর্ম দান করুন। একটা ভালো মানুষ হউন- মনুষত্ব বিকাশের ধর্ম – জগতের সকল প্রানী সুখী হউক🙏🙏🙏

সম্মন্ধে SNEHASHIS Priya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

মেডিটেশান এবং আপনার ব্রেইন

Leave a Reply