ব্রেকিং নিউজ

🧘‍♂️অনাত্ন” বুঝতে গিয়ে…বৌদ্ধ হবার দিক-নির্দেশনাঃ☸

✏️সাধারনের পক্ষে অনাত্ন বোঝা কেন অসম্ভব, এমনকি ধ্যানীদের ক্ষেত্রে ও প্রথম দিকে কেন অসম্ভব? যেমন ধরুন শ্বাসপ্রশ্বাসের ধ্যানে নানা ধরনের সংজ্ঞার উৎপত্তি হয় প্রথম দিকে। তাই অনেক ধ্যানীকে ও বলতে শুনেছি, তারা নিজেকে দেহের বাইরে দেখতে পান। এটা ঘটে তার নিজস্ব সংজ্ঞার কারনে, সংস্কারের কারনে, যা তার মনের সৃষ্টি মাত্র, আত্মার কারণে নয়। এটাই স্বাভাবিক তাই আচার্য্য পরামর্শ দেন এটাকে পাত্তা না দিয়ে নিজের শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রতি মনোযোগী হওয়ার জন্য। কারণ একমাত্র যখন ভেতরের ও বাইরের পরমার্থ নামরূপকে যথাযথভাবে চিনবেন, তখন আত্মার সমস্যার সমাধান করতে পারবেন, তখন কোথাও আত্মাকে খুঁজে পাবেন না। তাই বলা হয়ঃ
💗“নানাধাতুযো বিনিভুাজিত্বা ঘনবিনিভোগে কতে অনত্তলকখনং যাথাবসরসতো উপটঠাতি’ : যখন আমরা এই ঘন বাধনকে ভেঙে ফেলি, অনাত্বসংজ্ঞার উদয় হয়। দেহ ও মনের (নাম-রুপ) নিবিড় বাধনের কারণেই আত্মা ধারণার জন্ম হয়।
🌻আরেকটা উদাহরণ হচ্ছে, যখন মন এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায়, আপনি হয়তো মনে করতে পারেন, এই ভ্রমণরত মনটাই হচ্ছে আত্মা। আরেকটা উদাহরণ হচ্ছে “বিসংখারগতং চিত্তং ৷ এখানে বিসংখার মানে হচ্ছে “সংস্কারবিহীন’, অর্থাৎ নির্বাণ🌷। সংস্কারগুলো হচ্ছে নামরূপ ও তাদের কারণগুলো। নির্বাণের কোনো সংস্কার নেই।
🥀দেহের নিবিড়তাকে ভাঙতে গেলে প্রথমে আপনাকে রূপকলাপকে (ক্ষুদ্র কণা) চিনতে হবে। এর পরে চিনতে হবে বিভিন্ন ধরনের পরমার্থ রূপকে, যেগুলো প্রত্যেকটি রূপকলাপে কমপক্ষে আটটি করে থাকে। এটা করা ব্যতীত আত্মার ধারণা বিলুপ্ত হয় কি? হয় না, হবে না।
🌺এমনকি যারা এখনো মার্গজ্ঞান, ফলজ্ঞান, ও বিদর্শন জ্ঞান লাভ করেন নি, অথবা যারা এখনো মনের নিবিড়তাকে ভেঙে ফেলেননি, তারা চিত্তকেই তাদের আত্মা বলে মনে করতে পারেন। কিন্তু মনের নিবিড়তাকে ভেঙে ভেঙে দেখলে তারা দেখবেন যে চিত্ত ও তার চৈতসিকগুলো দ্রুতগতিতে উৎপন্ন ও বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অনিত্যের ধারণার সাথে আসবে অনাত্বের ধারণা। 🌹মেঘিয়সুত্রে বুদ্ধ বলেছেন : “অনিচ্চসঞ্জঞিনো মেঘিয় অনতসঞঞগা সষ্ঠাতি’। যাদের অনিত্য দেখার মতো অন্তর্দৃষ্টি খুব তীক্ষ, তাদের কাছে অনাত্ম দেখার মতো অন্তর্দৃষ্টি পরিষ্কারভাবে উৎপন্ন হয়।
🌼বুঝে দেখুন যতক্ষন পর্যন্ত কেউ নিদেন পক্ষে কোন ধ্যানের জ্ঞানে প্রবেশ করেন নি তার পক্ষে – এ বিষয়ে প্রশ্ন কর্তা কিংবা উত্তর দাতার ভুমিকায় অবতীর্ন হওয়া হবে কতটা বোকামি? 🌸আর একটা উদাহরনঃ যেমন যদি বলি বিদর্শন জ্ঞান হচ্ছে যোলটি : ১. নামরূপ পরিচ্ছেদ জ্ঞান, ২. প্রত্যয়-পরিগ্রহ জ্ঞান, ৩. সংমর্শন জ্ঞান, ৪. উদয়-বিলয় জ্ঞান, ৫. ভঙ্গ-জ্ঞান, ৬. ভয়- জ্ঞান, ৭. আদীনব জ্ঞান, ৮. নির্বেদ জ্ঞান, ৯. মুক্তিকাম্যতা জ্ঞান, ১০. প্রতিসংখ্যা জ্ঞান, ১১. সংস্কারোপেক্ষা জ্ঞান, ১২. অনুলোম জ্ঞান, ১৩. গোত্রভু জ্ঞান, ১৪. মার্গজ্ঞান, ১৫. ফলজ্ঞান, এবং ১৬. প্রত্যবেক্ষণ-জ্ঞান।
💐এখন আপনি ষোলটি বিদর্শন জ্ঞানের নাম জানেন, বা মনে করেন অন্য কোথাও এ সম্পর্কে আরো বিস্তৃত পড়েছেন, ভালো কথা; কিন্তু আপনি কি সেগুলো সম্পর্কে নিজে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন? না। এজন্যই বলা হয় শুধু তাত্তিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়। এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাত্তিক জ্ঞান ক্ষতির ও কারন হয় যার কারনে বলা হয় পঞ্চন্দ্রিয়ে এবং সপ্তবোধ্যংগে সমতা আনার জন্য, 🍁পরবর্তীতে এ বিষয়ে আলোচনার ইচ্ছা আছে। এগুলোর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লাভ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই প্রবল প্রচেষ্টা নিয়ে ধ্যানসাধনা চালিয়ে যেতে হবে। 🍀বিদর্শন পদ্ধতি বিশয়ে পুর্বে বেশ কিছু লেখা রয়েছে বললে লিঙ্ক দেয়া হবে।
🙏🙏🙏শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিয়ে ধর্ম দান করুন। একটা ভালো মানুষ হউন- মনুষত্ব বিকাশের ধর্ম – জগতের সকল প্রানী সুখী হউক🙏🙏🙏

সম্মন্ধে SNEHASHIS Priya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

মেডিটেশান এবং আপনার ব্রেইন

Leave a Reply