ব্রেকিং নিউজ

☸️সংক্ষেপে পঞ্চনিমিত্ত ডঃ রাষ্ট্রপাল মহাথেরো✍️✍️✍️ 

জ্ঞানীশ্বর মহাস্থবির বলেছিলেন- ১) যারা নরকে যাবে তারা দৈত্য দর্শন করবে। ২) যারা প্রেতলোকে যাবে তারা চারিদিকে অন্ধকার দেখবে। ৩) যারা ইতর প্রাণী হিসাবে জন্ম লাভ করবে তারা প্রাণী ও বন দেখবে। ৪) যারা মানুষ হিসেবে জন্মলাভ করবে তারা মৃত আত্মীয় স্বজন দেখবে। ৫) যারা স্বর্গে যাবে তারা স্বর্গীয় রথ দেখবে। এগুলিই হচ্ছে পঞ্চ নিমিত্ত যেগুলি মৃত্যুর পূর্বে দেখে থাকে।
🕵️‍♀️🕵️‍♀️🕵️‍♀️আংশিক বিশ্বাস ছিল। সম্পূর্ণ বিশ্বাসের জন্য ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা পেতে চাইলাম। আকাংক্ষিত অভিজ্ঞতা লাভ করতে বেশী সময় লাগলনা। আমি তখন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলাধীন তেকোটা গ্রামের এক বিহারে অবস্থান করছিলাম। একদিন পাশের গ্রাম থেকে এক ভদ্রলোক এসে আমাকে বলল যে পীড়িত মৃত্যু পথযাত্রী শ্রী অবিনাশ চন্দ্র চৌধুরী এর বাড়ী যেতে। যিনি ছিলেন ৫৬ বছর বয়সের এক অতি ধর্মনিষ্ঠ ব্যক্তি যিনি বুদ্ধের প্রতি ভক্তির জন্য খ্যাত ছিলেন। উনার বাড়ী গেলাম।
☸️☸️☸️তখন রাত সাড়ে আটটা। যথাসময়ে সূত্র আবৃত্তি শুরু করলাম। দুটা সূত্র আবৃত্তি করার পর, ক্ষীণস্বরে মাঝে মাঝে বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘ, অনিত্য, দুঃখ, অনাত্মা ও মেত্তা করুণা, মুদিতা, উপেক্ষা বলতে শুনলাম। পরে লক্ষ্য করলাম যে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। গাথায় বর্ণিত পঞ্চ নিমিত্তি দর্শনের সত্যতা যাচাই এর জন্য তার ভাবভঙ্গী লক্ষ্য করতে তার বিছানার পাশে মেঝে আসন দিতে বললাম। তদনুযায়ী ব্যবস্থা করা হল। তিনি কেমন বোধ করছেন জানতে চাইলাম। উত্তর দিলেন যে তার যাবার সময় হয়েছে।
👋👋👋আমি তাকে পঞ্চশীল গ্রহণ ও সূত্র আবৃত্তি শুনতে চান কিনা জানতে চাইলাম। তার হা বোধক উত্তরে, পঞ্চশীল দানের পর কয়েকটি সূত্র আবৃত্তি করলে তিনি তা শ্রদ্ধার সাথে সেগুলি শুনলেন। অল্পক্ষণ পরে জানতে চাইলাম যে তার কাছে কোন নিমিত্ত উপস্থিত হচ্ছে কিনা। তিনি বললেন যে তিনি কোন নিমিত্ত দেখতে পাচ্ছেন না।
✏️✏️✏️প্রায় ১১-৩০মিঃ তিনি বিড় বিড় করে কিছু বললেন। তার পাশে যারা ছিলাম তারা বুঝতে পেরেছিলাম যে বোধিবৃক্ষের তলে গৌতম বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভ করেছিলেন, তার সম্পর্কে তিনি কিছু বলছেন। এটা তাঁর বুদ্ধগয়া দর্শনের পূর্ব স্মৃতির ফলও হতে পারে। অতপর আর কিছু দেখতে পাচ্ছে কিনা জিজ্ঞাসা করায় তিনি বললেন যে তার মৃত মাতাপিতা বোধিবৃক্ষের তলায় বজ্রাসনে ফুল দিচ্ছেন। তিনি দু’বার পুনরাবৃত্তি করলেন। তখন আমি তাকে তার মাতাপিতা পঞ্চশীল গ্রহণ করতে ইচ্ছুক কিনা জানতে চাইলে, তিনি বললেন যে তারা ইতিমধ্যে হাতজোড় করে পঞ্চশীল নেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।
🙏🙏🙏পঞ্চশীল প্রদান করে আবার তাকে জিজ্ঞাসা করলাম কোন সূত্র শুনতে ইচ্ছুক কিনা। হা বোধক উত্তর পেলে করণীয় মৈত্রী সূত্র আবৃত্তি করলাম। পঞ্চনিমিত্ত দর্শনের উপর গাথার কথার সাথে ঘটনার মিলে যাওয়া এবং ঘটনার পরিবর্তনে রোমাঞ্চকর বোধ করলাম। উপস্থিত অন্যান্য লোকদেরও একই অবস্থা বলে মনে হল।
পরিস্কার হল যে সে তার পিতামাতাসহ বোধিবৃক্ষ দর্শন ও সূত্র আবৃত্তি হেতু মানবজন্মের উচ্চস্থানে অর্থাৎ মানবকুলে আবার জন্ম নিতে যাচ্ছেন। অনুভব করেছিলাম যে তার মত একজন শ্রদ্ধাশীল ভক্ত উচ্চকূলে পরবর্তী জন্ম লাভ করার যোগ্য ব্যক্তি এবং তিনি আর কিছু দেখছেন কিনা তাকে জিজ্ঞাসা করে চললাম।
🖌🖌🖌কতক্ষণ পরে তার মধ্যে একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। মনে হল তিনি সংসারের প্রতি মনোযোগী হয়েছেন। তিনি আত্মীয়স্বজনদের তার ঝণ পরিশোধ করতে বলেছেন যাদের কাছে তিনি খণী রয়েছেন। সেই মুহুর্তে উপাসক আর কিছু দেখছেন কিনা তার কাছে কাছে জনতে চাইলাম। তিনি ক্ষীণ স্বরে বলে উঠলেন যে তিনি লম্বা চুল দেখতে পাচ্ছেন। তখন রাত ১টা ৪মিঃ। তিনি কোন চোখ দেখতে পাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে, বললেন যে না তা দেখতে পাচ্ছেন না। কারণ পা থেকে মাথা পর্যন্ত কাল চুলে ঢাকা। এই অপচ্ছায়া দ্বারা কি ভাব প্রকাশ হয়েছিল বুঝতে পারিনি। তবে অনুমান করছিলাম যে যদি সেই মুহুর্তে তার মৃত্যু হত তাহলে তিনি নীচকুলে জন্ম লাভ করবেন। সেই অবস্থায় অপচ্ছায়া তাড়িয়ে দেয়ার জন্য সূত্র আবৃত্তি শুরু করলাম এবং এর ইপ্সিত ফল পাওয়া গিয়েছিল। অপচ্ছায়া আর আছে কিনা কাছে জানতে চাইলে তিনি বলে উঠলেন সেটা অদৃশ্য হয়ে গেছে। সংসারের প্রতি তার আসক্তি রয়ে গেছে মনে হল যেহেতু ভারতে কলকাতায় অবস্থানকারী তাঁর একমাত্র পুত্রের জন্য তার বিছানা থেকে নুতন তৈরী তোশক সরিয়ে নিতে বলছিলেন। তিনি চাননি তার মৃতদেহের সাথে তোষক পোড়ানো হোক যা চট্টগ্রামে প্রায় বৌদ্ধদের নিয়ম রয়েছে। এরপর তিনি অত্যন্ত ক্লান্তি অনুভব করলেন।
❤️❤️❤️জানতে চাইলাম আর কোন কিছু দেখতে পাচ্ছেন কিনা। বললেন যে তিনি দুটি কবুতর দেখতে পাচ্ছেন। বুঝতে পারলাম যে পাখী জগত দেখার মানে হচ্ছে মৃত্যুর পর তিনি তীর্যককুলে জন্ম নেবেন। তখন রাত ২টা। চাইনি যে তার তীর্যককুলে জন্মহোক এবং আবার সূত্র আবৃত্তি শুরু করলাম। যখন দুটি সুত্র আবৃত্তি শেষ হল তখন তার কাছে জানতে চাইলাম আর কোন নিমিত্ত দেখা যাচ্ছে কিনা। তিনি বললেন যে আর কোন নিমিত্ত দেখা যাচ্ছে না।
🧘‍♂️🧘‍♂️🧘‍♂️সংক্ষিপ্ত ধর্মদেশনার পর আবার জিজ্ঞাসা করলাম। তাকে বার বার জিজ্ঞাসা করার পর প্রকাশ করলেন যে তিনি এক স্বর্গীয় রথ তার দিকে আসতে দেখছেন। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করলাম রথ আপনার থেকে কত দুরে? হাতে তিনি উত্তর করলেন যে তার বিছানার পাশে। রথের উপর আর কাউকে দেখা যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে, বললেন যে রথের মধ্যে স্বর্গীয় দেবদেবীগণ রয়েছেন। এরপর তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে বললাম দেবদেবীগণ পঞ্চশীল গ্রহণ করতে চান কিনা। তাদের সম্মতি আছে জেনে পঞ্চশীল প্রদান করলাম। অতপর আবার জিজ্ঞাসা করলাম দেবদেবীগণ আমাকে সূত্র আবৃত্তি করার অনুমতি দিচ্ছেন কিনা এবং মঙ্গলসুত্র আবৃত্তি শুনতে চান কিনা। তার মাধ্যমে দেবতারা সম্মতি দিলে মঙ্গলসুত্র আবৃত্তি করলাম।
🌻🌻🌻এবার রতন সুত্র আবৃত্তি করবো কিনা জানতে চাইলে তিনি হাত নেড়ে ইংগিত করল যে দেবতারা আর সূত্র আবৃত্তি শুনতে ইচ্ছুক নন এবং তারা চান আমি যেন আমার বিহারে ফিরে যাই।
বুঝতে পারলাম যে দেবতারা তাকে স্বর্গে নিয়ে যেতে অধৈর্য হয়ে উঠেছেন। কিন্তু আমি মধ্যস্থতা করে তার জীবন এই পৃথিবীতে প্রলম্বিত করতে চাইলাম। তাকে দেবতাদের বলতে বললাম যে তারা যেন চলে যায় কারণ তার মৃত্যুর সময় এখনো হয়নি। তার এখন মাত্র ৫৬ বছর বয়স, দেবতারা তাকে ভুল করে নিতে এসেছেন। তাকে আরো বললাম যে আমি নিজে এবং অন্যান্য লোকেরা তাকে পৃণ্যদান করে তার জীবন রক্ষার জন্য প্রার্থনা করছেন।
🌼🌼🌼এরপর প্রায় ১০মিনিট কাল দ্রিধাগ্রস্থ ভাবছিল এবং পরে ইঙ্গিত দিয়ে বলল যে দেবগণ চিন্তামগ্ন আছেন কিন্তু শেষে আবার ইঙ্গিত করলেন যে তারা আমার প্রস্তাবে রাজী নন এবং জানালেন যে দেবতারা ইচ্ছা করেন আমি যেন বিহারে ফিরে যাই।
🌺🌺🌺তার আত্মীয় স্বজনেরা তখন হতাশ হলেন এবং অন্যান্য প্রেতগন তাকে নিম্নস্থানে (নরকে) নিয়ে যাবার জন্য উপস্থিত হতে পারে ধারনা করে তার শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ পর্যন্ত আমাকে থাকতে বললেন। তাদের মধ্যে একজন আমাকে অন্য একটি কামড়ায় গিয়ে বসাবার ইঙ্গিত করলেন।
🌹🌹🌹আমি পাশের ঘরে গিয়ে দেবগণের সাথে সাথে তার চলে যাওয়ার অবস্থা দেখতে চাইলাম। কতক্ষণ পরে তিনি বলে উঠলেন- ‘ভান্তে অন্য ঘরে বসে আছেন, দেবগণ তাকে সে ঘর ছেড়ে দিয়ে বিহারে চলে যেতে বলছেন।’
🌷🌷🌷যাই হোক আমি অবস্থান করলাম এবং পরে তাকে বিড় বিড় করে উত্তেজনার সাথে বলতে শুনলাম-“’আমাকে বেঁধোনা এবং টেনে নিওনা।’ এটা তিনি কয়েকবার বললেন। নিজেকে আর সামলাতে না পেরে তাড়াতাড়ি তার বিছানার পাশে আসলাম। কি হয়েছে জানতে চাইলাম। উত্তরে বললেন কয়েকজন কিম্ভুতকিমাকার অপদেবতা তাকে তাদের সাথে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বুঝতে পারলাম যে তিনি যদি তখন মরতেন তবে তিনি নরকে যেতেন।
💐💐💐আবার সূত্র আবৃত্তি শুরু করলাম এবং কিছুক্ষণ পর তাকে জিজ্ঞাসা করলাম আর কোন অপদেবতা সেখানে তখনো আছে কিনা। তিনি বললেন যে না, তারা চলে গেছে। সেই দীর্ঘ রজনী প্রায় শেষ হয়ে ভোরের পূর্বাভাষ পাওয়া গেল। দেবগণ তখনও তাদের রথ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। আমি আমার এবং অন্যদের পূন্যদানের মাধ্যমে তার জীবন দান করতে দেবগণকে আর একবার অনুরোধ করলাম। উপস্থিত সকলে আমার পরামর্শ অনুমোদন করলেন এবং তার মাধ্যমে জানতে পারলাম দেবতারা দয়া পরবশ হয়ে সে স্থান ত্যাগ করলেন।
আমি আবার জানতে চাইলাম সেখানে আর কোন নিমিত্ত দেখা যাচ্ছে কিনা। উত্তর হল যে তার পিতামাতা তখন বোধিবৃক্ষ মূলে অবস্থান করছেন যার অর্থ এই হতে পারে যে সংসারের প্রতি তার এত প্রবল আকর্ষণ ছিল যে আবার এই পৃথিবীতে জন্মলাভ করবেন। প্রস্তাব করলাম যে আমাদের সকল সঞ্চিত পৃণ্যরাশি দানের বিনিময়ে দেবগণের মত তাদের চলে যাওয়া উচিত। বিরক্তি প্রকাশ করলাম এবং তার মাধ্যমে পিতামাতাকে জানিয়ে দিলাম যেখানে দেবগণ তার অনুরোধ রক্ষা করছেন সেখানে তারা আমার অনুরোধ রক্ষা না করা অসঙ্গত। বারবার প্রতিবাদ জানানোর ফলে আকাঙ্খিত ফল পাওয়া গেল। অবশেষে তার মাধ্যমে জানতে পারলাম যে তারা চলে গেছে।
তখন যে সকল নিমিত্ত তার কাছে উপস্থিত হয়েছিল সবগুলি চলে গিয়ে দৃশ্যত তার মধ্যে একটা পরিবর্তন আসল। তিনি একটি দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সজীব হওয়ার একটি ইঙ্গিত দেখালেন। তার আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে কয়েকজন তার এ পরিবর্তন লক্ষ্য করে বাতি হাতে যখন তার কাছে এগিয়ে এল তখন তিনি বলে উঠলেন আপনারা চিন্তা করবেন না। আমি আর মরছি না। তিনি আবার জীবন্ত হয়ে উঠছেন দেখে উপস্থিত সকলের মধ্যে স্বস্থি ফিরে আসল। এই অভূতপূর্ব দৃশ্যে সকলে অভিভূত হয়েছিলাম যা দর্শন যন্ত্রের মাধ্যমে দেখার মত সুন্দর ভাবে সংঘটিত হয়েছিল। তখন ছিল ভোর ৫টা। আমি তখন সে স্থান ত্যাগ করে বিহারে আসলাম এবং স্নান ও প্রাতরাশ সেরে ঘুমোবার জন্য গেলাম।
সকাল প্রায় ১০-৩০মিঃ আমার কামড়ার বাইরে এসে দেখলাম যে লোক আমাকে আবার ও নিয়ে যেতে এসেছে কারণ অবিনাশ চন্দ্র চৌধুরী কয়েক ঘন্টা ভাল থাকার পর আবার মৃত্যুভাব পোষন করছেন। অতি দ্রুত পদক্ষেপে তার বাড়ি পৌছালাম। তার বিছানার পাশে আসন নিয়ে তিনি কেমন অনুভব করছেন জানতে চাইলাম। ক্ষীণ স্বরে উত্তর দিলেন যে তিনি আর বাচবেন না। তাকে উৎসাহ দিয়ে জীবনে তিনি যে সব কুশল কর্ম করছেন তা স্মরণ করতে বললাম এবং মাঝে মাঝে আর কোন নিমিত্ত দেখতে পাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলাম। প্রত্যেকবার তিনি না বোধক উত্তর দিলেন।
✍️✍️✍️তখন ছিল ১১-২০মিঃ তার এক আত্মীয় আমার মধ্যাহ্ন ভোজনের সময় পেরিয়ে যাবে দেখে আমাকে আহার করার জন্য অনুরোধ করলেন। আমি দৃঢ়ভাবে বললাম যে আমি মধ্যাহ্ন ভোজন গ্রহণ করার জন্য তার পাশ ত্যাগ করবনা। আর কোন নিমিত্ত দেখতে পাচ্ছে কিনা আমি আবার তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। এবার তিনি বললেন যে দেবগণ আবার রথ নিয়ে এসেছেন। আমার মধ্যাহ্ন ভোজন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে আমি যখন তার বিছানার পাশে অবস্থান করার জন্য জেদ ধরলাম তখন দেবগণ আমাকে নিয়ে জল্পনা কল্পনা করছেন বলে মনে হল। পরে যখন শ্রদ্ধেয় জ্ঞানীশ্বর মহাথের ও শ্রদ্ধেয় শীলালংকার মহাথেরর কাছে ব্যাখ্যা চাইলাম তারা উভয়ে বললেন যে আমার মধ্যাহ্ন ভোজন গ্রহণের জন্য এ স্থান ত্যাগ করা অবধি দেবগণ অপেক্ষা করছিল যে আমার অনুপস্থিতিতে তারা তাকে স্বর্গে নিয়ে যাবে।
✏️✏️✏️তিনি বললেন যে দেবগণ আমাকে বিহারে ফিরে যাবার জন্য অনুরোধ করছেন। ভাবলাম কেন এটা হচ্ছে। পরে বুঝতে পারলাম যে আমার সম্মুখ থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের দিধাগ্রস্থ ভাবের কারণ হচ্ছে দেবগণ আমার থেকে পঞ্চশীল গ্রহণ করেছেন ও সুত্র আবৃত্তি- পরে ইহা আমি শ্রদ্ধেয় জ্ঞানীশ্বর মহাস্থবিরের কাছ থেকে জেনে নিশ্চিত হয়েছিলাম।
🌷🌷🌷তার মৃত্যু অনিবার্য অনুভব করে তাকে দেবতাদের জানাতে বললাম যে দেবগণ আমার উপস্থিতিতে নিয়ে যেতে পারে, আমার এতে কোন আপত্তি থাকবে না এবং সানন্দে আমাদেরকে ত্যাগ করার জন্য আপনাকে অনুমতি দিলাম | এটা করেছিলাম কারণ কুশল কর্মের জন্য তিনি স্বর্গে যাচ্ছেন যেটা আমি ইচ্ছা করেছিলাম। এরপর তার স্ত্রীর বড় ভাই এবং কন্যাকে তাকে সানন্দে চিরবিদায় দেয়ার জন্য বলেছিলাম এবং তারা তা করেছিল। পরবর্তী জগতের জন্য চিরবিদায় নেয়ার এই সময়। তিনি একথা বলে আমাদের সকলের কাছে শেষ বিদায় নিয়ে বললেন, ‘আমি এখন যাচ্ছি’। তার মুখের মধ্যে স্বর্গীয় দীপ্তি ও ওজ্জ্বল্য দেখা গেল। তার এই হল শেষ উচ্চারণ।
🧘‍♂️🧘‍♂️🧘‍♂️অতঃপর তাকে চিৎ হয়ে শুইয়ে দেয়া হলো এবং তার মুখে কয়েক ফোটা মিষ্টি পানি দেয়া হল এবং এরকম করার সময় আমার ডানহাত তার বুকে রাখলাম। আমি ইহা উষ্ণ অনুভব করলাম। অনুমান করতে পারলাম যে তার এখনো জ্ঞান আছে এবং বিড়বিড় করে নিজে নিজে ধর্মীয় বাণী উচ্চারণ করছিলেন যেগুলি তিনি সারাজীবন বলে এসেছিলেন এর পরে তিনি তার ডান হাত তুললেন এবং এভাবে নাড়লেন মনে হল তিনি কিছু খুজছিলেন। একজন ইঙ্গিত দিল যে তিনি আমার পা স্পর্শ করার চেষ্টা করে থাকবেন যা পূর্ব রাত্রেও মাঝে মাঝে তিনি করেছিলেন। তখন আমি আমার ডান পা প্রসারিত করে তাকে স্পর্শ করালাম। তার মুখাবয়ব লক্ষ্য করে মনে হল এতে তিনি পরিতৃপ্ত হলেন। পরে তিনি সেই হাত কপালে ঠেকালেন এবং অতঃপর পাশে রেখে দিলেন। অনুভব করলাম যে তার বুকের উষ্ণভাব কমে আসছে। এক বা দুই মিনিটের মধ্যে হঠাৎ তার দেহে একটি ঝাকুনি দিয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এবং স্থির হয়ে গেলেন।
🌷🌷🌷পঞ্চনিমিত্ত দর্শন সম্পর্কে গাথার সত্যক্রিয়ার প্রতি পূর্বে আমার যে সন্দেহ ছিল এ ঘটনা তার পরিসমাপ্তি ঘটাল। এ সম্পর্কে শ্রদ্ধেয় জ্ঞানীশ্বর মহাস্থবির আমাকে বলেছিলেন এবং বইতেও আমি ও পড়েছি। পরে এ সংঘটিত ঘটনার প্রতিটি স্তরের প্রতি আমার বিশ্বেষণাত্বক মন নিবদ্ধ হল। আমি দেখলাম যে চিত্তের অবস্থা অনুযায়ী ব্যক্তির সম্মুখে নিমিত্তগুলি উপস্থিত হচ্ছে। বোধিবৃক্ষ ও পিতামাতা দর্শন তার কর্মনিমিত্তের ফল। ব্যক্তির জীবনে তার কৃতকর্মের গতি অনুযায়ী চিত্তের মধ্যে বিরাজমান প্রাধান্যকারী কর্ম নিমিত্তই উপাদান বিশেষ। কিন্তু যখন তিনি আবার মাঝে মাঝে চুল বিশিষ্ট ব্যক্তি, কবুতর ও ভয়ার্ত অপচ্ছায়া (ভূত) দেখেছিলেন। তা সংসারের প্রতি তার ক্ষণিক আসক্তি বা জীবিত থাকাকালীন তার অকুশল কর্মেরই ইঙ্গিত বহন করে।
🌺🌺🌺সুত্র আবৃত্তির ফলে কুচিন্তা এবং প্রেতদের উপস্থিতি দূরীভূত হয়েছিল এবং পঞ্চশীল গ্রহণ ও সূত্র শ্রবনের ফলে চিত্ত বিশুদ্ধি ও দেবগণের উপস্থিতি সম্ভব হয়েছিল। ব্যক্তির এ জগৎ ত্যাগ করে স্বর্গে গমনের পথ নির্মল ও চিত্তের অন্য রকম অবস্থার চেয়ে চিত্তের শেষ অবস্থার অধিকতর শক্তিশালী হওয়ারও কারণ ছিল তার পিতামাতার দর্শন ও উল্লেখিত বিষয় সমূহ।
🕵️‍♀️🕵️‍♀️🕵️‍♀️উপসংহারে বলা যায় এ ঘটনার মাধ্যমে যা জ্ঞাত হলো যে জীবনের শেষ মুহুর্ত নির্ধারণ করবে যে ব্যক্তি উচ্চ স্থানে বা নিম্নস্থানে জন্ম নিবে কিনা। মুমূর্ষু ব্যক্তির আত্মীয় স্বজনদের উচিত, সংসারের প্রতি আসক্তির কথা বলে, ক্রন্দন বা শোক প্রকাশ করে চিত্তে মেঘাবরণ সৃষ্টি না করে সূত্র ও গাথা আবৃত্তি করে চিত্তে শান্ত ভাব আনয়ন করে জীবনে কৃত কুশল কর্মগুলি তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া।
তদুপরি আমর জ্ঞাত হলো এই যে একজন লোক যতই ধার্মিক ও নিবেদিত হোক না কেন তাঁর কৃত কোন কুশল কর্মই অন্তিম মুক্তির কারণ হতে পারে না যা তাকে নির্বাণ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে বা তাকে পরবর্তী জন্ম উচ্চতম ব্রক্মলোকের বিভিন্ন স্তরে নিয়ে যেতে পারে। বিদর্শন ভাবনার মাধ্যমেই একমাত্র জাগতিক বন্ধন (দশ সংযোজন) থেকে মুক্ত হয়ে শ্রোতপত্তি,সকৃদাগামী, অনাগামী অহ্য অর্থাৎ প্রভৃতি উন্নত স্তর লাভ করে।🙏🙏🙏
একজন লোক প্রথম স্তরের বিশুদ্ধি শ্বোতাপন্ন লাভ করে দশ সংযোজনের (বন্ধন) প্রথম তিনটি বন্ধন যথা সংকায় দৃষ্টি, (আত্ম মোহ) বিচিকিৎসা (সন্দেহ) এবং শীলব্রত পরমর্শকে (ধর্মীয় ভন্ডামী) জয় করে। যে লোক উন্নত ও বিশুদ্ধ স্তর লাভ করেছে সে কখনো নরকে জন্ম গ্রহণ করবেন না। তার কাছে নরক, প্রেত ও পশু এই যোনীর কোন নিমিত্ত মৃত্যুর সময় উপস্থিত হবে না। তিনি কেবলমাত্র মনুষ্যলোক ও দেবলোক দর্শন করবেন। যে লোক ধ্যানের মাধ্যমে চতুর্থ ও পঞ্চম বন্ধনকে (কামরাগ ও প্রতিঘ) জয় করে সকৃদাগামী স্তরে পৌছেন তিনি একবার মাত্র জন্ম গ্রহণ করবেন এবং তার কাছে প্রথম তিনটি নিমিত্ত উপস্থিত হবে না কেবল মাত্র দু’টির একটি মৃত্যুর পূর্বে উপস্থিত হবে। যে লোক ধ্যানের মাধ্যমে অনাগামী স্তরে পৌছেন কামরাগ ও প্রতিঘ (খারাপ ইচ্ছা) এই দ্বিবন্ধনকে সম্পূর্ণরূপে নির্মল করে অনাগামী স্তরে পৌছেন এই পৃথিবীতে তিনি আর জন্ম গ্রহণ করবেন না এবং তিনি ব্রহ্মলোকে জন্ম গ্রহণ করবেন। তিনি নিমিত্ত হিসাবে একমাত্র দেবগণকেই দেখবেন। আরো ধ্যানের মাধ্যমে বাকী পঞ্চ বন্ধন যথা রূপরাগ (বস্তুগত লোভ), অরূপ রাগ (অবস্তুগত লোভ), মান (অহংকার), উদ্ধচ্চ (অস্থিরতা) এবং অবিদ্যাকে (অজ্ঞতা) নির্মল করে অরহত স্তর লাভ করবেন এবং যেহেতু এই পৃথিবীতে চির মুক্তির পথ নির্বাণ লাভ করেছেন সেহেতু তার আর পুনজন্ম হবে না এবং মৃত্যুর সময় তিনি আর কোন নিমিত্ত দেখতে পাবেন না। নির্বাণ জীবনের অন্তিম গন্তব্যস্থল যা বুদ্ধ কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়েছে এবং ধ্যান অভ্যাসের দ্বারা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এই আবিষ্কার তিনি করেছিলেন। একমাত্র ধ্যান অনুশীলনের মাধ্যমে গন্তব্যস্থুল নির্বাণ লাভ করা যেতে পারে। নিমিত্তগুলি মানব জীবনে গোলক ধাধার মত কখনো অন্ধকার, কখনো আলোর মধ্যে আলো প্রজ্জলিত করার জন্য খুঁটির উদ্দেশ্য সাধন করতে পারে কিন্তু জীবনে অন্তিম গন্তব্যস্থল ও আলো শেষ পর্যন্ত নিহিত থাকে নির্বাণ লাভে যেখানে একজন লোক বিদর্শন ভাবনার মাধ্যমে স্তরগুলো অতিক্রম করতে পারে।🙏🙏🙏

সম্মন্ধে SNEHASHIS Priya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

মেডিটেশান এবং আপনার ব্রেইন

Leave a Reply