ব্রেকিং নিউজ
প্রচ্ছদ / ধর্ম দেশনা / সাধুবাদ প্রসঙ্গে আলোচনা
fb_img_1552964217211

সাধুবাদ প্রসঙ্গে আলোচনা

“সাধুবাদ” অর্থ কি?সাধুবাদ কেন দেওয়া হয়??কখন কোন সময়ে সাধুবাদ দেওয়া প্রয়োজন??

এক কথায় আমরা ” পূন্য অনুমোদন করে সাধুবাদ” দিয়ে থাকি।।
মাঙ্গলিক কোন কাজ হলে তাতে আমরা সাধুবাদ দিয়ে থাকি। শ্রদ্ধেয় ভান্তেদের মুখ থেকে যখন সূত্রপাঠ ও বুদ্ধের মুখনিসৃত বানী শুনারর পর, তখন আমরা সাধুবাদ দিয়ে থাকি। সুত্রপাঠের শেষে ভান্তেরা কেন জোরে জোরে “সাধুবাদ” দিতে বলেন? এর অর্থ হল– ভাল জিনিসের প্রশংসা করলে তা আরও ভাল হয়, খারাপ জিনিসের প্রশংসা করলে তা আরও খারাপ হয়।

বর্তমানে দেখা যায় বিভিন্ন বিহারে উপসক -উপসিকারা শীলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে সাধুবাদ দিয়ে থাকে ?? আমরা তো শীলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে ভালো কোন কাজ করিনি। তাহলে কেন আগে সাধুবাদ দেব??

আগে নিজের মনকে স্থির করে তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধকে বন্দনা করে জল ঢ়েলে পূন্য অনুমোদন করে আমরা সাধুবাদ দেব।। ভান্তের মুখ থেকে বুদ্ধের মূখনিসৃত বাণী শোনার পর আমরা সাধুবাদ দেব।। যখন আমরা জোরে জোরে সাধুবাদ দিয়ে থাকি তখন স্বর্গের দেবরাজ ইন্দ্র তথা চারিদিকপাল দেবতারা খুশি হন।। কারণ আমরা যে পূণ্য সঞ্চয় করেছি তা পরলোকগত জ্ঞাতি,সমস্ত প্রাণী ও দেবতাদের উদেশ্যে দান করা হয়। তাই তো দেবতারা সব সময় সমস্ত বিপদ আপদ হতে আমাদের রক্ষা করে থাকে।।

বর্তমানে আরো কিছু বিষয় লক্ষ্য করছি কোন মানুষ যদি মৃত্যু বরণ করে, অসুস্থ হলে বা এ্যাক্সিডেন্ট করলে আমরা শুনে বা দেখে বলি সাধু সাধু সাধু?? তাহলে কি আমরা ওটাকে ও মাঙ্গলিক কাজ বা ভালো কাজজ বলে ধরে নেব?? কোথায় আমরা তার জন্য পূণ্যরাশি দান করবো তা না সবাই বলে সাধু সাধু সাধু!!কোন মানুষ যদি অসুস্থ হয়,এ্যাক্সিডেন্ট করলে বা মারা গেলে তার জন্য আমরা সঞ্চিত পূণ্যরাশি দান করবো।।

আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে মাঙ্গলিক কোন কাজ সম্পন্ন হলে বা ভালো কোন কাজ হলে বা করলে তাতে আমরা সাধুবাদ প্রদান করবো। যেমন -সংঘদান, অষ্ঠপরিস্কারদান, কঠিন চীবরদান, রক্তদান, কারও উপকার করলে, অসহায় মানুষকে সাহায্য করলে,সেচ্ছায় শরীরের কোন অঙ্গ দান করলে ইত্যাদি কোন মাঙ্গলিক কাজ হলে তাতে আমরা সাধুবাদ প্রদান করবো।

আবার কেউ কেউ বলে থাকেন আমরা যখন বন্দনা বা প্রার্থনার জন্য প্রস্তুত হই তখন নিজের মনকে স্থির করার জন্য সাধুবাদ প্রদান করি। তবে আমি একমত হতে পারি না। কারণ আমি নিজেকে যদি নিজের মনকে প্রস্তুত করতে না বা স্থির করতে না পারি তাহলে কি সাধুবাদের মাধ্যমে স্থির হবে??

তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধ বলেছেন —
নিজেকে নিয়ন্ত্রণ কর । তারপর অন্যকে অনুশাসন কর । নিজে নিয়ন্ত্রিত হলে অন্যকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে । নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাই কঠিন ।
———ধম্মপদ।।

তাই আজ থেকে আমরা প্রথমে তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধকে বন্দনা করে তারপর সাধুবাদ দেব।। মাঙ্গলিক কোন কাজ সম্পাদন হলে তাতে সাধুবাদ দেব।। ভগবান তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধ বলেছেন ভালো কাজের প্রশংসা করুন। প্রকৃত মানুষের অন্যতম একটা দায়িত্ব হল ভাল জিনিসকে ভাল আর খারাপ জিনিসকে খারাপ বলা।।

সবকিছুর মূলে রয়েছে ধর্মীয় শিক্ষার অভাবে।। আমরা সঠিক ভাবে ধর্মীয় শিক্ষা না পাওয়ার কারণে কোথায় কি বলবো তা জানি না।চলুন সবাই ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হই। অন্যকে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য উৎসাহ প্রদান করি।।

বি:দ্র:- আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান যতটুকু পেরেছি তা উপস্থাপন করলাম। যদি কোন ভূলক্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।। আর যদি কার ও সাধুবাদ নিয়ে ভালো কোন ব্যাখা থাকে তাহলে আমাকে ইনবক্স করুন।পরবর্তীতে পোস্ট আকারে প্রচার করা হবে।।

সম্মন্ধে Debapriya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

banor

মূর্খ ব্যক্তির ত্রিলক্ষন হচ্ছে

দুশ্চিন্তাকারী, দুর্ভাষনকারী ও দুষ্কর্মকারী, অঙ্গুত্তরনিকায়ের চিহ্ন সুত্রে উক্ত, আবার কে মূর্খ কে জ্ঞানী কে তথাগতকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *