ব্রেকিং নিউজ
প্রচ্ছদ / ধর্ম দেশনা / ত্রিপিটক বাংলা অনুবাদের কাজ কি শেষ হয়েছে???
img_20190213_205009

ত্রিপিটক বাংলা অনুবাদের কাজ কি শেষ হয়েছে???

ত্রিপিটক বাংলা অনুবাদের কাজ কি শেষ হয়েছে??? শেষ বলে এড়িয়ে যাবেন না বরং লেখাটা পড়ুন অনুগ্রহপুর্বক। বাবা-মা ধার্মিক ছিলেন তাই জন্ম থেকেই দেখেছি অনেক কিন্তু দেখা হয় নাই ত্রিপিটক – মনে পড়ে বেশ অনেক আগের কথা যখন বাবা-মার আদেশে আমার ছোট ভাই দেবাশীষ লন্ডন থেকে অনেক মুল্য দিয়ে এক সেট ত্রিপিটক এনে দান করেছিলেন বন ভান্তের নির্দেশে। তখন ও দেখার সুযোগ হয় নাই তারপর দীর্ঘ সময় কেটে গেছে এবং বিশেষ করে গত ৬ বছর ত্রিপিটক অনুবাদ ও এপস তৈরীর কাজে নিজে অনেক পরিশ্রম করেছি এবং সে সুবাদে অনেক রথী ও মহারথীদের সংস্পর্শে আসার সৌভাগ্য ও আমার হয়েছে। প্রথমে সে সকল অগনিত শ্রদ্ধেয়দের নতশিরে বন্দনা করছি।

কয়েকদিন আগে ছোট্ট করে “এক নজরে ত্রিপিটক পরিচিতি নামে একটি লেখা পোষ্ট করেছিলাম। যাতে কিছু বিষয়ের অবতারনা করতে সম্পুর্ণভাবে ভুলে গেছি -বাংলায় ত্রিপিটক অনুবাদের কাজ শেষ এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্নভাবে ছাপা ও বিলির কাজ ও শেষ কয়েক দফায়– এ রকমি শুনি। তা বলতে যা বুঝায় তা হচ্ছে ৬ষ্ট সংগায়ন মতে মূল ৫৯টি বই অনুবাদের কাজ বিভিন্ন দল শেষ করে তা ছাপিয়েছেন এবং বিলি ও করেছেন কিন্তু এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় তা কিন্তু অর্থকথা, টীকা, অনুটিকা ছাড়া। সংগে এ ও বলতে হয় সব বঙ্গানুবাদ ৬ষ্ট সংগায়ন মতে হয়েছে কী না সেটা ও দেখার বিষয়। ৫৯টি মূল বইয়ের সঙ্গে ৫১টি অর্থকথা, ২৬টি টীকা এবং অনুটিকা থাকবে। আমার জানা মতে আজ এ সময়কাল অবধি ঠিক করে বললে অর্থকথা, টিকা ও অনুটিকা অনুবাদের কাজ অর্ধেক ও সমাপ্ত হয়নি। এ জন্য যারা এ অনুবাদের কাজ করছেন তারা দায়ী নন কারন এ অনুবাদের কাজ সময়সাপেক্ষ, কষ্টসাপেক্ষ, জ্ঞানসাপেক্ষ এবং অর্থকরি। দায়ী তারা যারা বাংলায় পড়তে চান কিন্তু এ অনুবাদের কাজে সাহায্য করতে নারাজ অর্থ দিয়ে কিংবা শ্রম দিয়ে কিংবা জ্ঞান দিয়ে ইত্যাদি। আমার মতো যারা ইচ্ছা আর অনিচ্ছায় হোক এ অর্থকথা, টীকা এবং অনুটিকা ছাড়া বাংলায় সমগ্র ত্রিপিটক বলছি তারা আসলে সমাজকে বিভ্রান্ত করছি কিনা যদি দোষ নেন তবে তার জন্য আমি ক্ষমা ভিক্ষা করছি। এবার বলছি কেন-
অর্থকথা বা টীকা বা অনুটীকা ছাড়া ত্রিপিটক পড়া সাধারণের জন্য অসম্ভব সম। তাতে ভুল বোঝার অবকাশ থাকবে অনেক বেশী। বিষয়টি পরিস্কার করার জন্য – অর্থকথা বলতে কি বুঝায় বা কেন এর ব্যাখা নিম্নরূপঃ
বুদ্ধেরবাণী সমূহ সবার পক্ষে হৃদঙ্গম করা সহজ নয় ফলস্বরুপ বুদ্ধের জীবিতকালেই তাঁর ধর্মোপদেশের বিভিন্ন বিষয় অর্থসহকারে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হতো । বুঝার সুবিধার্থে বুদ্ধবাণীর দুর্বোধ্য দ্ব্যর্থক, উহ্য এবং জটিল বিষয়সমূহ পন্ডিত ভিক্ষুগণ অর্থসহকারে ব্যাখ্যা করতেন।

এক, সেই অর্থ ও ব্যাখ্যাসমূহ সংকলিত হয়ে অট্ঠকথার রুপ ধারণ। অট্ঠকথা বলতে অর্থকথা, ভাষ্য, অর্থবর্ণনা, অর্থবাদ, ব্যাখ্যা ইত্যাদি বুঝায়।

কিংবা পরে দুই, বলা যায় ত্রিপিটকের অনেক জটিল, দুর্বোধ্য, ও উহ্য পদ বা বিষয় রয়েছে যা সকল শ্রেণির পাঠকের নিকট সহজে বোধগম নয়। সে সব পদ বা বিষয়সমূহ সমার্থক বা প্রতিশব্দ, উদাহরণ উপমা, গল্প, ব্যাখ্যা ইত্যাদি সাহায্যে সরল-সহজভাবে অট্টকথায় উপস্থাপন করা।

তিন, যখন যে কোন কিছু এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করা হয় তখন অবশ্যি তা কিছুটা হলে ও অর্থ হারিয়ে ফেলাটা অস্বাভিক নয় সে ক্ষেত্রে ও পরিত্রান পেতে অর্থকথা, টীকা এবং অনুটিকার প্রয়োজন অনস্বীকার্য্য।

আর ও কিছু কথা বলা প্রয়োজন মনে করছি – যেমন ত্রিপিটকের মূল বইগুলো পড়ার সময় যেমন অর্থকথা, টিকা ও অনুটিকা বইগুলো সঙ্গে প্রয়োজন ঠিক তেমনি ত্রিপিটকের মূল বইগুলো পড়া শুরু করার আগে ত্রিপিটক রেফারেন্স গাইড বা প্রশ্নোউত্তরে ত্রিপিটকের মতো বইগুলো না পড়লে ও পাঠকের হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা কম নয়। সে ধরনের একটি উদ্দেশ্য নিয়েই কিছুদিন আগে পোষ্ট করেছিলাম “এক নজরে ত্রিপিটক পরিচিতি নামে একটি লেখা সংক্ষেপে” যার লিঙ্ক এখানে আবার দেয়া হলো https://www.facebook.com/barua910/posts/10156338622584302

এ লেখাটি ভবিষ্যতে আর ও বিশদ ও বিস্তারিত ও তথ্যসমৃদ্ধ করার ইচ্ছা আছে।

আর একটি কথা না বলে পারছি না তা হচ্ছে উক্তভাবে ত্রিপিটক অধ্যয়ন করলেই যে ত্রিপিটক বিশারদ হওয়া যাবে ঠিক তা নয় তবে অনেক সাধারন বিষয়ে মিথ্যা দৃষ্টি থেকে পরিত্রান পাওয়া যাবে। যেমন অল্প বয়সে শ্রমণ হওয়া যাবে না বলে উল্লেখ আছে কারন অল্প বয়সে শীল পালন করা সহায়ক হবে না আবার তেমনি ত্রিপিটকেই পাবেন তথাগত সোপক শ্রমণকে অল্প বয়সে শ্রামন্য ধর্মে দিক্ষা দিয়েছেন কারন উনার বয়স সময়ের মাপে অল্প হলে ও উনার মানসিক বয়স ছিল পরিনত। দুটিই সঠিক করেছেন। কিন্তু আমি আপনি যদি প্রথমটি পড়ে এবং ২য়টি না পড়ে প্রথমটিকে নিয়েই ঝগড়া-বিবাদ বাধিয়ে বসি তবে দোষটা কার? ঝগড়া-বিবাদ এ যা সৃষ্টি হবে তা সাধারনের ভাষায় সময় নষ্ট বরং সে সময়টা নষ্ট না করে কয়েকবার পুরো ত্রিপিটক পড়ার কথা ভাবুন।

এর সঙ্গে সুধী সমাজের কাছে, ধর্মগুরুদের প্রতি, বিজ্ঞজনদের প্রতি অনুরোধ থাকবে যদি আপনার চোখে আর ও কিছু পরে তবে তা এখানে যুক্ত করুন তাতে হউক সর্ব মংগল।

পরিশেষে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আর ও একটি কথা বলবো – বুদ্ধের ধর্মের চরম লক্ষ্য নির্বান – যা শুধু বই পড়ে ও সম্ভব নয়- আচরন,অনুধাবন, অনুশীলন ও ধারনের মাধ্যমেই রপ্ত করা সম্ভব। জগতের সকল প্রানী সুখী হউক

বাংলা ত্রিপিটক অনুবাদের কাজ শেষ হয়নি ২য় পর্বঃ– এ লজ্জা কার? গুরুদের? আমাদের? কোনটা আগে আর কোনটা পরে, এর প্রয়োজন – হায়রে, আমরা কবে কথায় বড় না হয়ে কাজে বড় হবো।
গত লেখায় উক্ত এখন ও অর্থকথা, টিকা, অনুটিকা বাংলা অনুবাদের কাজ অনেক বাকী এবং এগুলো ছাড়া ত্রিপিটক অপরিপূর্ণ। শুধু তাই নয়, যে ত্রিপিটকগুলো ছাপানো হয়েছে এ অবধি, যারা ছাপিয়েছেন তারাই জানেন কত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে তাদের – আমরা বাংগালী বৌদ্ধরা সর্বোপরি কতটা, কয়জন সম্পৃক্ত ছিলাম তার সাথে কিংবা এখন ও আছি??? অতএব গুনগত মানে তা কতটা যথাযত সে প্রশ্নের অবতারনা করার ও আমাদের সুযোগ নাই কারণ যেখানে আ্মাদের বেশীর ভাগ লোক সে কাজে শ্রম, অর্থ ও জ্ঞান কোনটাই তেমন দিয়ে সাহায্য করিনি। সাথে অনেকে বলবেন টাকার অভাব, সময়ের অভাব ইত্যদি ইত্যাদি। আমরা বাংলায় কিন্তু হাজারের ও বেশী বই ছাপাতে সমর্থ কিন্তু সমর্থ হইনি কিছু ত্রিপিটকের বই অনুবাদ ও ছাপাতে??? তাতে বলা যায় আমরা আসলে বুদ্ধ প্রেমী নই নিজ প্রেমী। প্রশ্ন এই ইত্যাদি ইত্যাদি কোথায় যায় যখন আপনারা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে আচার অনুষ্ঠান করে ব্যয় করেন??? নাকি উনারা ত্রিপিটকে যা লিখা আছে তার ও উপরের কথা বলেন কিংবা নির্দেশনা দিয়ে থাকেন আপনাদের??? যদি তাই হয় তবে প্রশ্ন আসাটা কী অস্বাভাবিক যে বুদ্ধ পূজা করে কি লাভ তাদের পূজা করলেই তো হয়??? আমি গুনীদের গুনকে অস্বীকার করছি না কিন্তু তাদের গুন নিশ্চই বুদ্ধ গুনের চেয়ে অধিক নয়??? তবে হা তারা আমার চেয়ে কর্ম মহিমায়, জ্ঞানে হয়তো অনেক বেশী তাই তাদের প্রণাম করে প্রশ্ন করতে চাই – আমরা না হয় মুর্খ আপনারা তো গুনীজন তবে আপনারা কেন নির্দেশ করছেন না এ বিষয়ে??? কেন??? উল্লেখ্য এ বিষয়ে সকল গুনীজনকে বলছি না কারন কিছু গুনী জনের নির্দেশনা, শ্রম এবং অর্থের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে কিছুটা হলে ও এগিয়ে যাওয়া।
আমি কী হনুরে কিংবা আমরা কী কনফিউজড ডট কম? আমি বুদ্ধ পূজারী, বুদ্ধ প্রেমী – এ অনুসঙ্গে বাংগালী বৌদ্ধ যে গর্বিত তা হলপ করে বলা যায়। ত্রিপিটককে সামনে রেখে যেখানে বৌদ্ধ সমাজের পদযাত্রা হওয়া উচিত সেখানে বাংলায় পরিপূর্ণ ত্রিপিটক বিনা বংগালী বৌদ্ধরা কেন আমরা গর্বিত বোধ করি??? আপনি যদি না জানেন না বোঝেন না তবে আচরন,অনুশীল, পালন আর ধারনের প্রশ্নটা আসে কোথেকে সে প্রশ্ন রইলো আপনাদের কাছে??? নাকি আপনাদের জানতে না দিয়ে – আপনাদেরকে তাদের আশ্রিত করে রাখার ষড়যন্ত্র এটা? ভেবে দেখুন আমি না হয় গন্ড মূর্খ কিন্তু আপনারাতো নন তবে ভেবে দেখুন।
এবার আসা যাক বিশ্বপরিসরে? আমরা জানি বৌদ্ধ জনসংখ্যার সামান্য একটি অংশ হচ্ছে বাংলা ভাষাভাষী এবং অসংখ্য রয়েছে হিন্দি, ফ্রান্স, সর্বপ্রচলিত ইংরেজী ভাষাভাষী(শুধু এ ভাষাগুলো উল্লেখ করলাম যেহেতু এ ভাষাভাষিদের সাথে আমি কথা বলি) জনগন। আমরা কী জানি ইংরেজিতে এক সেট ত্রিপিটকের অর্থকরি মূল্য কত??? লক্ষাধীক টাকার উপরে তদুপরি তা আবার ইচ্ছা করলেই পাবেন না। হিন্দি সেটের ও একি অবস্থা আর ফ্রান্সে এ পর্যন্ত হয়েছে কী না তার সন্দ্বান পাই নি এখন ও। সেখানে কতটুকু সম্ভাবনা রয়েছে???
আমার সাথে ভারতের এক বিশাল নব বৌদ্ধদের সাথে কথা হয় প্রায়- শুনুন তারা কী বলছে তার সার সংক্ষেপ-“আমরা বৌদ্ধ্ব হয়েছি কিন্তু ত্রিপিটক চোখে ও দেখিনি অথচ অন্য কোন ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে মূল ধর্মশাস্ত্র সহ আর অনেক কিছু পেতাম।“ এর পরে কি লজ্জা হবে আমাদের??? না কি আমরা থাকবো কনফিউজড ডট কমে???
ভেবে দেখুন যে কোন দান বলেন আর পূজা বলেন তা কি বুদ্ধবানী –ত্রিপিটক এর প্রচার ও প্রসার ও গ্রহন ও ধারনের জন্য নয়??? যদি তাই হয় তবে কী আমাদের করনীয় কাজে এর অগ্রাধীকার সবার আগে হওয়া উচিত নয় কী??? এতে আমি তা বলছি না যে আমরা আচরন করবো বা না বরং বলতে চাইছি আমরা নিজেরা আরো শুদ্ধভাবে তাতে জানার সুযোগ পাবো এবং তা আচরন ও ধারন করতে পারবো এবং সেভাবে অন্যকে ও সুযোগ করে দিতে পারবো অনেক বেশী—– ভেবে দেখুন এবং এগিয়ে আসুন – আশা করছি এ কাজে প্রকৃত বুদ্ধ প্রেমীরা এগিয়ে আসবেন- জগতের সকল প্রানী সুখী হউক
উপস্থাপনায়ঃ স্নেহাশীষ প্রিয় বড়ুয়া

সম্মন্ধে SNEHASHIS Priya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

banor

মূর্খ ব্যক্তির ত্রিলক্ষন হচ্ছে

দুশ্চিন্তাকারী, দুর্ভাষনকারী ও দুষ্কর্মকারী, অঙ্গুত্তরনিকায়ের চিহ্ন সুত্রে উক্ত, আবার কে মূর্খ কে জ্ঞানী কে তথাগতকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *