ব্রেকিং নিউজ

তিন পাতায় এক নজরে ত্রিপিটক পরিচিতি

তিন পাতায় এক নজরে ত্রিপিটক পরিচিতিঃ ত্রিপিটক ৩টি পিটকীয়(ঝুড়ি বা বাক্স) ভাগে বিভক্ত। যথা : ১.বিনয়পিটক, ২.সূত্রপিটক৩.অভিধর্মপিটক

সমগ্র ত্রিপিটকে ৮৪,০০০ ধর্মস্কন্ধ রয়েছে। বিনয়পিটকে রয়েছে ২১,০০০ ধর্মস্কন্ধ, সুত্তপিটকে রয়েছে ২১,০০০ ধর্মস্কন্ধ এবং বাকী ৪২০০০ ধর্মস্কন্ধ রয়েছে অভিধর্মপিটকে।

বিনয়পিটকেঃ পারাজিকা, পাচিত্তিয়, মহাবর্গ, চূলবর্গ ও পরিবার।

সুত্তপিটকেঃ দীর্ঘনিকায়,  মধ্যমনিকায়, সংযুক্তনিকায়, অঙ্গুত্তরনিকায় এবং খুদ্দকনিকায় এ রয়েছেঃ খুদ্দকপাঠ, ধর্মপদ, উদান, প্রেতকাহিনি, জাতক, থেরগাথা, মহানির্দেশ, থেরীগাথা,  চূলনির্দেশ, ইতিবুত্তক, অপদান, প্রতিসম্ভিদামার্গ, সুত্তনিপাত, বুদ্ধবংশ, নেত্তিপ্রকরণ, বিমানৰত্থু, চরিয়াপিটক, মিলিন্দ-প্রশ্ন, পিটকোপদেশ।

অভিধর্মপিটকেঃ ধর্মসঙ্গণী, বিভঙ্গ, ধাতুকথা, পুদ্গল-প্রজ্ঞপ্তি, কথাবত্থু, যমক, পট্ঠান।

বিনয়পিটকঃ

বিনয়পিটকে পারাজিকাঃ বিনয়পিটক বৌদ্ধ ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের তথা ব্রহ্মচর্য পালনকারীদের কামসুখ বর্জন ও আত্মপীড়ন পরিহারপূর্বক মধ্যম পন্থা অবলম্বনে পরম সুখ নির্বাণ লাভে সহায়ক, স্বয়ং বুদ্ধ কর্তৃক প্রবর্তিত নিয়ম-নীতির সমাহার। এতে ভিক্ষুদের ২২৭টি শীলের উল্লেখ আছে। তন্মধ্যে ৪টি পারাজিকা, ১৩টি সংঘাদিশেষ, ২টি অনিয়ত, ৩০টি নিস্সগিয়, ৯২টি পাচিত্তিয়, ৪টি পটিদেশনীয়, ৭৫টি সেখিয় ও ৭টি অধিকরণ সমথ শীলের বর্ণনা আছে।

বিনয়পিটকে ভিক্ষুনী-বিভঙ্গঃ ভিক্ষুণীদের জন্য ৮টি পারাজিকা, ১৭টি সংঘাদিশেষ, ৩০টি নিস্সগিয়, ১৬৬টি পাচিত্তিয়, ৮টি পটিদেশনীয়, ৭৫টি সেখিয় ও ৭টি অধিকরণ সমথ শীলের বর্ণনা আছে। ভিক্ষুণীদের জন্য সর্বমোট ৩১১টি শীল আছে।

বিনয়পিটকে পাচিত্তিয়ঃ ব্রহ্মচারীদের কৃত ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র পাপকর্মের প্রায়শ্চিত্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ৯টি বর্গে আলোচিত হয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিদেশনীয়, সেখিয় ও অধিকরণ সমথ শিক্ষাপদগুলোর ব্যাখ্যা বর্ণিত আছে।

বিনয়পিটকে মহাবর্গঃ এতে বিনয়ের বিভিন্ন ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র শিক্ষাপদগুলো ১০টি অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে

বিনয়পিটকে চূলবর্গঃ ১২টি অধ্যায়ে বিনয়ের ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র শীলগুলো আলোচিত হয়েছে।

বিনয়পিটকে পরিবারঃ এতে বিনয়ের বিভিন্ন দুর্বোধ্য, জটিল বিষয়গুলো ২১টি অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে।

সূত্রপিটকঃ ভগবান সম্যক সম্বুদ্ধের উপদেশগুলো অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে দেশিত হয়েছে। বিভিন্ন রসবোধ ও উপমার সহিত বুদ্ধের নিগূঢ় তত্ত্বগুলো বর্ণিত আছে।

সূত্রপিটকে দীর্ঘনিকায়ঃ সুত্রগুলো ৩টি বর্গে বিভক্ত যথাঃ ১) শীলস্কন্ধ বর্গ ২)মহাবর্গ ৩)পাটিক বর্গ । এখানে সর্বমোট ৩৪টি সূত্র আছে।

সূত্রপিটকে মধ্যমনিকায়ঃ সূত্রগুলো ৩ ভাগে বিভক্ত যথাঃ ১. মূল পঞ্চাশ সূত্র ১-৫০, ২. মধ্যম পঞ্চাশ সূত্র ৫১-১০০, ৩. উপরি পঞ্চাশ সূত্র ১০১-১৫২ এবং  সর্বমোট ১৫২টি সূত্র আছে।

সূত্রপিটকে সংযুক্তনিকায়ঃ ৫টি বর্গে বিভক্ত যথাঃ ১)সগাথা ২)নিদান ৩)স্কন্ধ ৪)সলায়তন ও মহাবর্গ। উক্ত বর্গে আবার ৫৬টি সংযুক্ত আছে। সগাথা বর্গে ১১টি, নিদান বর্গে ১০টি, খন্ধ বর্গে ১৩টি, সলায়তন বর্গে ১০টি ও মহাবর্গ এ ১২টি সংযুক্ত আছে। সর্বমোট ২২৭টি উপবর্গে বিভক্ত হয়ে সর্বমোট ২৮৫৪টি সুত্র আছে।

সূত্রপিটকে অঙ্গুত্তরনিকায়ঃ সর্বমোট ১১টি নিপাতে বিভক্ত। প্রত্যেকটা নিপাত আবার কতকগুলো বর্গে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন সূত্র আছে। এতে সর্বমোট ৭২৩১টি সূত্র আছে।

সূত্রপিটকে খুদ্দকনিকায়ে মোট ১৯টি বই যেমনটি পুর্বে উক্ত।

১) খুদ্দকনিকায়ে খুদ্দকপাঠঃ ১. শরণত্রয় বা ত্রিশরণ, ২. দশবিধ শিক্ষাপদ, ৩. বত্রিশ প্রকার অশুচির আকার, ৪. কুমার-প্রশ্ন, ৫. মঙ্গল সূত্র, ৬. রতন সূত্র, ৭. তিরোকুড্ড সূত্র, ৮. নিধিকুম্ভ সূত্র ও ৯.মৈত্রী সূত্র।

২) খুদ্দকনিকায়ে ধম্মপদঃ ২৬টি বর্গে বিভক্ত। প্রত্যেকটি বর্গে আবার কতকগুলো গাথা রয়েছে। সর্বমোট ৪২৩টি গাথা রয়েছে।

৩) খুদ্দকনিকায়ে উদানঃ ৮টি বর্গে বিভক্ত হয়ে সর্বমোট ৮০টি সূত্র আছে। প্রত্যেকটি বর্গে ১০টি করে সূত্র আছে।

৪) খুদ্দকনিকায়ে ইতিবুত্তকঃ ৪টি নিপাতে বিভক্ত। প্রত্যেকটি নিপাত আবার কতকগুলি বর্গে বিভক্ত। যথাঃ ১) প্রথম নিপাতে ৩টি বর্গ, ২)২য় নিপাতে ২টি বর্গ ৩) তৃতীয় নিপাতে ৫টি বুরগ ও চতুর্থ নিপাত। এখানে সর্বমোট ১১২টি সুত্র আছে।

৫) খুদ্দকনিকায়ে সুত্রনিপাতঃ এখানে সর্বমোট ৭১টি সুত্র রয়েছে। এ ছাড়া পারায়ন (প্রধান) উৎপত্তি গাথা ও পারায়ন গীতি গাথা নামে ২টি গাথা রয়েছে।

৬) খুদ্দকনিকায়ে বিমানবত্থুঃ ৭টি বর্গে বিভক্ত। এটি আবার পুং-স্ত্রীভেদে দুভাগে বিভক্ত। প্রথম বর্গ থেকে চর্তুথ বর্গ পর্যন্ত স্ত্রী বিমান কাহিনি এবং পঞ্চম থেকে সপ্তম পর্যন্ত পুরুষ বিমান কাহিনি। এতে সর্বমোট ৮৪টি বিমান কাহিনি বর্ণিত আছে।

৭) খুদ্দকনিকায়ে প্রেতকাহিনিঃ ৪টি বর্গে বিভক্ত। সর্বমোট ৫১টি প্রেতকাহিনির উল্লেখ আছে।

৮) খুদ্দকনিকায়ে থেরগাথাঃ ২১টি নিপাতে বিভক্ত। প্রথম নিপাতে ১২টি বর্গ ও দ্বিতীয় নিপাতে ৫টি বর্গ আছে। সর্বমোট ২৬৪ জন স্থবিরের জীবনকাহিনি ১২৮৮টি গাথায় বর্ণনা আছে।

৯) খুদ্দকনিকায়ে থেরীগাথাঃ ১৬টি নিপাত রয়েছে। এতে সর্বমোট ৭৩জন থেরীর জীবনকাহিনি ৫২৪টি গাথায় বর্ণিত আছে।

১০) খুদ্দকনিকায়ে অপদানঃ খুদ্দকনিকায়ে থেরো-অপদানে ৫৬ বর্গে ৫৫০ জন অরহত থেরোদের মহত্ত্বতা নিয়ে বিধৃত হয়েছে এবং থেরী-অপদানঃ চারটি বর্গে সর্বমোট ৪০জন ভিক্ষুণীর জীবনগাথার উল্লেখ আছে।

১১) খুদ্দকনিকায়ে বুদ্ধবংশঃ গৌতম বুদ্ধের পূর্ববর্তী ২৪জন সম্যক সম্বুদ্ধ্বের জীবনগাথার উল্লেখ পাওয়া যায়।

১২) খুদ্দকনিকায়ে চরিয়াপিটকঃ বিভিন্ন জাতক কাহিনির মাধ্যমে বৌদ্ধ পারমীর বর্ণনা বর্ণিত আছে। যেমনঃ দান-পারমিতা, শীল-পারমিতা, নৈষ্ক্রম্য পারমিতা,অধিষ্ঠান পারমিতা, সত্য পারমিতা, মৈত্রী পারমিতা, ঊপেক্ষা পারমিতা।

১৩) খুদ্দকনিকায়ে জাতকঃ ২২টি নিপাতে বিভক্ত। ভগবান গৌতম সম্যকসম্বুদ্ধ সত্যধর্ম প্রচারাভিযানে প্রয়োজনানুসারে তার বোধিসত্ত্ব অবস্থার ৫৪৭টি কাহিনি দেশনা করেছিলেন।

১৪) খুদ্দকনিকায়ে মহানির্দেশঃ মূলত সূত্রনিপাত গ্রন্থের অষ্টক বর্গের বিশদ বর্ণনা। ১.কাম সূত্র বর্ণনা, ২.গুহা-অষ্টক সূত্র বর্ণনা, ৩.দুষ্ট-অষ্টক সূত্র বর্ণনা, ৪.শুদ্ধ-অষ্টক সূত্র বর্ণনা, ৫.পরমাষ্টক সূত্র বর্ণনা, ৬.জরা সূত্র বর্ণনা, ৭.তিষ্য মৈত্রেয় সূত্র বর্ণনা, ৮.পসূর সূত্র বর্ণনা, ৯. মাগন্ডিয়া সূত্র বর্ণনা, ১০পুরাভেদ বর্ণনা, ১১.কলহ-বিবাদ সূত্র বর্ণনা, ১২.চূলবিযূহ সূত্র বর্ণনা, ১৩.মহাবিযূহ সূত্র বর্ণনা, ১৪. তুবট্টক সূত্র বর্ণনা, ১৫. আত্মদন্ড সূত্র বর্ণনা ও ১৬.সারিপুত্র সূত্র বর্ণনা।

১৫) খুদ্দকনিকায়ে চূলনির্দেশঃ মূলত সূত্রনিপাত গ্রন্থের পারায়ণ বর্গ ও খড়গবিষাণ সূত্রের বিশদ বর্ণনা।

১৬) খুদ্দকনিকায়ে প্রতিসম্ভিদামার্গঃ অভিধর্মপিটকের গ্রন্থাদি পর্যায়ের বলা চলে। এতে ৩টি বর্গ বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন  লোকোত্তর বিষয়াদি আলোচিত হয়েছে।

১৭) খুদ্দকনিকায়ে নেত্তিপ্রকরণঃ ভিক্ষু ঞাণমলির ভাষায় বলতে হয় খুদ্দকনিকায়ে নেত্তিপ্রকরণ হলো যারা বুদ্ধের ধর্মের সাথে বিশেষ পরিচিত এবং বুদ্ধের সত্যধর্মকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে আগ্রহী তাদের জন্য এটি একটি বিশেষ পদ্ধতির বর্ণনা।

১৮) খুদ্দকনিকায়ে মিলিন্দ-প্রশ্ন বৌদ্ধদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থবর্তমান বুদ্ধ কুলপুত্রদের ত্রিপিটক তথা বুদ্ধজ্ঞানের চর্চার অভাবে বুদ্ধের লোকোত্তর উপদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন বিচিকিচ্ছামূলক (সংশয়) প্রশ্ন মনের অন্তরালে উঁকি দেয় যার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ উক্ত গ্রন্থে নাগসেন ভান্তে ও রাজা মিলিন্দের কথোপকথনে অত্যন্ত চমৎকারভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

১৯) খুদ্দকনিকায়ে পিটকোপদেশ গ্রন্থে জগত অধিপতি বুদ্ধের প্রচারিত ধর্মের ভিত্তিস্বরূপ চারি আর্যসত্য, সাঁইত্রিশ প্রকার বোধিপক্ষীয় ধর্ম, অধিষ্ঠান, সূত্রের উদ্ভব, সূত্রের শ্রেণিবিভাগ প্রভৃতি সম্পর্কে ৮টি অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে।

১. আর্যসত্য প্রকাশ বিষয়ক প্রথম ভূমি, ২. শাসনপ্রস্থান বিষয়ক দ্বিতীয় ভূমি, ৩. সূত্রাধিষ্ঠান তৃতীয় ভূমি, ৪. সূত্রবিচয় চর্তুথ ভূমি, ৫. পঞ্চম ভূমি, ৬.সূত্রার্থ সমুচ্চয় ভূমি, ৭. হার সম্পাত বা সংযোগ ভুমি (ক. প্রকীর্ণক বা বিস্তীর্ণ নির্দেশ ও খ. নির্দিষ্ট সংক্লেশভাগীয় সূত্র) ও ৮. সূত্র শ্রেণিবিভাগ করণীয়।

অভিধর্মপিটকঃ অভিধর্মপিটকে সূত্রপিটকে বর্ণিত ভগবান বুদ্ধের লৌকিক দেশনাগুলো পারমার্থিকভাবে দেশিত হয়েছে। অভিধর্মপিটক ভগবান বুদ্ধের অসীম জ্ঞানের পারমার্থিক দেশনা ভান্ডার। অভিধর্মপিটক স্বতন্ত্র ৭টি খন্ডে বিভক্ত যেভাবে পুর্বে উক্ত।

অভিধর্মপিটকে ধর্মসঙ্গণীঃ গ্রন্থে চিত্ত, চৈতসিক, রূপ, অব্যাকৃত ধর্ম প্রভৃতি লোকোত্তর বিষয়াদির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বর্ণিত আছে।

অভিধর্মপিটকে বিভঙ্গঃ গ্রন্থে ১৮টি অধ্যায়ে ধর্মসঙ্গণীর বিষয়গুলোর সবিস্তার বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

অভিধর্মপিটকে ধাতুকথাঃ গ্রন্থে ১৪টি পরিচ্ছেদে ধাতু সম্পর্কে বিশদ পারমার্থিকভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

অভিধর্মপিটকে পুদ্গল-প্রজ্ঞপ্তিঃ গ্রন্থে পুদ্গল তথা মানবচরিত্রের স্বরূপ বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

অভিধর্মপিটকে কথাবত্থুঃ গ্রন্থ টি থেরবাদী ভিক্ষুদের সঙ্গে অন্য বিরুদ্ধবাদীদের তর্কশাস্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। এতে লোকোত্তর বিষয়াদি প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে চমৎকারভাবে বর্ণিত আছে।

অভিধর্মপিটকে যমকঃ ষষ্ঠ গ্রন্থ যমক অর্থ জোড়া অর্থাৎ বিষয়াদি জোড়ায় জোড়ায় আলোচনা করা হয়েছে। এতে সর্বমোট ১০টি যমকের বিশদ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বর্ণিত আছে।

অভিধর্মপিটকে পট্ঠানঃ সর্বশেষ গ্রন্থ এতে হেতু-প্রত্যয়াদি চব্বিশ প্রকার প্রত্যয়ের বিস্তারিত আলোচনা বর্ণিত আছে।

উপস্থাপনায়ঃ স্নেহাশীষ প্রিয় বড়ূয়া

সম্মন্ধে SNEHASHIS Priya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

পরিস্কার বাংলায়ঃ জাতের নামে বজ্জাতি

Leave a Reply