ব্রেকিং নিউজ
প্রচ্ছদ / অন্যান্য সংবাদ / সাফল্য সংবাদ / পন্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের সংক্ষিপ্ত জীবনী
fb_img_1550032658928

পন্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের সংক্ষিপ্ত জীবনী

আবির্ভাব-
সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা চিরসবুজময় বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত সাগর কুন্তলা, পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলাধীন ইতিহাস খ্যাত রম্যভূমি রামু’র প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম মেরংলোয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯৩০ সালের ১০ জুন পিতা হরকুমার বড়ুয়া ও মাতা প্রেমময়ী বড়ুয়া’র কোল আলোকিত করে জন্ম নিয়েছিলেন বিধুভূষণ বড়ুয়া নামের এক ফুটফুটে পুণ্যবান শিশু সন্তান।

প্রব্রজ্যা লাভ-
চুম্বকের একটি নিজস্ব ধর্ম আছে। লোহাকে আকর্ষণ করাই হচ্ছে চুম্বকের ধর্মতা। অনুরূপ ভাবে ধর্ম, ধর্মচারীকে আকর্ষণ করে। একইক্রমে ধর্মচারী ধর্মকে আকর্ষণ করে থাকে। সর্বদা ভাবুক মনে যৌবনের উন্মত্ততাকে দমন করেই তিনি বিনয়াচার্য আর্যবংশ মহাথের’র নিকট কিশোর বিধুভূষণ বড়ুয়া শ্রামণ্যধর্মে অর্থাৎ প্রব্রজ্যা লাভ কনেন। আর্যবংশ মহাথের’র বিনয় গাঢ়বতা সহসাই শ্রামণ সত্যপ্রিয়কে আকৃষ্ট করে।

উপসম্পদা লাভ-
শ্রীমৎ সত্যপ্রিয় শ্রামণের ধর্ম বিনয়ে প্রগাঢ় আচার নিষ্ঠা ও জ্ঞানানুসন্ধিৎসা দেখে আচার্য ষষ্ঠ সঙ্গীতিকারক আর্যবংশ মহাথের পবিত্র ভিক্ষু ধর্মে দীক্ষা দেন। তারিখ- ২৪৯২ বুদ্ধাব্দ, ১৩৫৭ বঙ্গাব্দ, ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
প্রথম বর্ষাবাস যাপন-

পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের ছোটকাল থেকে মাতা-পিতা, গুরু-আচার্যের একান্ত বাধ্যগত ও অত্যন্ত অনুগত প্রাণ। গুরুর সেবায় তিনি শ্রামণ কাল অবধি নিবেদিত ছিলেন। এতে তিনি ‘ধৈর্য্যই ধর্ম-সেবাই আদর্শ’- এ মনোভাব নিয়ে গুরু সেবাকে ব্রত মনে করতেন। এতে আনন্দ পেতেন। ১৯৫১ সালে গুরু আর্যবংশ মহাথের মহোদয়ের সাথে উখিয়া থানার অন্তর্গত ভালুকিয়া বৈজয়ন্তী বিবেকারাম বিহারের অধ্যক্ষ রূপে দায়িত্ব নেন। তখন থেকেই গুরু সান্নিধ্য থেকে ধর্ম-বিনয় ও গুরুর সেবা কাজের জন্য বৈজয়ন্তী বিবেকারাম বিহারে প্রথম বর্ষাযাপন করেন। পরে ১৯৫২ সালে মির্জাপুর পালি কলেজে অধ্যায়ন করের। মিয়ানমার থেকে ফিরেই দীর্ঘকাল অবদি রামু সীমা বিহারে নিজ জন্মস্থানে অবস্থান করে সদ্ধর্মের কাজ করে যাচ্ছেন।

মিয়ানমার তথা ব্রহ্মদেশে গমন-
১৯৫৪ সালেই তিনি মিয়ানমার তথা ব্রহ্মদেশে গমন করেন। ব্রহ্মদেশে গিয়েই রেঙ্গুণের গবায়ে (বিশ্বশান্তি স্থানের) সেখানে ষষ্ঠ সঙ্গায়ন অনুষ্ঠিত হয়। জম্বুদ্বীপ মহাবিহারে অবস্থান করেন এবং ধর্মদূত পালি কলেজে ভর্তি হন।

১৯৭১ সালে সত্যপ্রিয় মহাথের-
১৯৭১ সালে জাতির জনক বাংলা মায়ের সূর্য সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ৭ই মার্চের ভাষণ দেন- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম -….আমি যদি হুকুম দিতে নাও পারি তোমরা যার যা আছে শত্রুর মোকাবেলা করবে -এ বজ্রকণ্ঠ আহ্বানের পর দেশে শুরু হয়ে যায় মুক্তির সংগ্রাম। সে সময়ে অনেকে ভয়ে মিয়ানমারের সীমান্তে শরণার্থী হয়ে পাড়ি জমান। সত্যপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের দেশ মাতৃকাকে ভালবেসে দেশত্যাগ করে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেননি। তিনি স্থানীয় হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম সবাইকে বিহারে আশ্রয় দান করে জীবন রক্ষা করেছেন।

সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ –
বিগত ১৩/১১/২০০৬ বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের-
রেঙ্গুনে অবস্থানের সময় পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের ষষ্ঠ মহাসঙ্গীতিতে অংশগ্রহণ করেন।

সিঙ্গাপুর ভ্রমণ ২০০৬-
গত ২৩ জানুয়ারি ২০০৬ ইংরেজী সিঙ্গাপুরের চাইনিজ বৌদ্ধদের আমন্ত্রণে পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের মহোদয় সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেন।
জাপান সফর ২০১০-

বিগত ৩ এপ্রিল ২০১০ ইংরেজীতে রিসসো কোসেই কাই জাপানের বিখ্যাত মানবতাবাদী সংগঠনের আমন্ত্রণে পৃথিবীর সৌন্দর্যময় ও শান্তির দেশ জাপান সফর করেন।

বুদ্ধগয়ায় ত্রিপিটক পাঠ ২০০৬-
বিগত ১৩ ফেব্রুয়ারি ৪ মার্চ ২০০৬ পর্যন্ত ভারতের মহাবোধি সোসাইটি ২৫৫০ বুদ্ধ জয়ন্তী অনুষ্ঠান উদ্ যাপিত করেন।

আন্তর্জাতিক উপাধি লাভ-
বিগত ১৪ই মার্চ ২০০৩ ইংরেজী ফাল্গুনি পূর্ণিমার দিনে পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের মহোদয়কে মিয়ানমার সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদায় ‘অগ্গমহাসদ্ধর্মজ্যোতিকাধ্বজ’ উপাধি প্রদান করেন।
আর্যবংশ ভিক্ষু সংস্থা কর্তৃক পন্ডিত উপাধি প্রদান করা হয়।
ঢাকা বিশ্যবিদ্যালয় হতে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০১৫ সালের ২১শে পদক পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

শিষ্য গঠন –
ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের মহোদয় পূতপবিত্র সাংঘিক জীবন ধারণের পাশাপাশি বুদ্ধ শাসনের স্থিতি ও রক্ষার জন্য যোগ্য উত্তরসূরী শিষ্য গঠন করেন। তাঁর শিষ্যমন্ডলীদের মধ্যে অনেকে ইতিমধ্যে সদ্ধর্মের কল্যাণে আত্মনিবেদিত। তাঁর শিষ্যদের মধ্যে
১। ভদন্ত জিনরত্ন মহাথের (প্রয়াত হয়েছেন)।
২। ভদন্ত ধর্মরত্ন মহাথের।
৩। ভদন্ত সংঘরত্ন মহাথের।
৪। ভদন্ত প্রিয়রত্ন মহাথের।
৫। ভদন্ত সুনন্দপ্রিয় মহাথের।
৬। ভদন্ত শীলানন্দ থের।
৭। ভদন্ত জ্ঞানরত্ন থের।
৮। ভদন্ত প্রজ্ঞাবোধি থের।
৯। ভদন্ত করুণাশ্রী থের।
১০। ভদন্ত গৌতমরত্ন থের।
১১। ভদন্ত কীর্তিরত্ন থের।
১২। ভদন্ত শীলরত্ন থের।
১৩। ভদন্ত শীলপ্রিয় থের।
১৪। ভদন্ত শাসনপ্রিয় থের।
১৫। ভদন্ত শরণপ্রিয় থের।
১৬। ভদন্ত সুগতপ্রিয় থের।
১৭। ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ থের।

জেনেভায় UPR সম্মেলনে যোগদান –
বিগত ২৯ এপ্রিল ২০১৩ ইংরেজী জেনেভাস্থ জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দিপু মনির নেতৃত্বে ঐ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

উপসংহার-
পন্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী নয়, সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য মাত্র। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ইতিহাস যেন এক মহিমান্বিত বিনয়শীল সাংঘিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর ব্যাপিত জীবনের ধ্যান-জ্ঞান, চর্যা ও মননশীলতাকে অভিন্ন সাত্বিক সত্তা। পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের মহত্তম জীবনের এক সুবর্ণ রেখা। বাংলায় থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম বিকাশের সূচনালগ্নে এবং রেনেসাঁ উত্তর নবজাগরণে মূল ভিত্তি হিসাবে বাঙ্গালি বৌদ্ধদের পথপ্রদর্শক পন্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের মহোদয়।

সম্মন্ধে Debapriya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

fb_img_1564890081151

আমরা তো সেবক মাত্র— ত্রিরত্ন সংঘ।।

মানুষের জন্য ভালোবাসা, কর কি তোমরা অনুভব!! দীর্ঘদিন ধরে পায়ের ফোড়া নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে, এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *