ব্রেকিং নিউজ

“গৌতম বুদ্ধের ধর্ম ছিল গনতন্ত্রের এক অনন্য নিদর্শন” —আশিন ধর্মপাল

গৌতম বুদ্ধের জন্ম ৬২৩ অব্দে, শাকিয় বংশের রাজা শুদ্ধোধন এবং মাতা মহামায়া দেবীর পুত্ররূপে৷

দীর্ঘ ২৮ বছর রাজ ঐশ্বর্য্যের ভোগ-বিলাসের পর পদার্পন করলেন ২৯ বছরে৷ জীবনের চারটি মহা নিমিত্ত দর্শন করে খুঁজে পেলেন এক নবীণ পথের সন্ধান৷ শেষ নিমিত্তকে লক্ষ্য স্থির করে গৃহ ত্যাগ করলেন বৈশাখী পূর্ণীমায়৷ দীর্ঘ ছয় বছর কঠোর সাধনার পর খোঁজে পেলেন সেই ইপ্সিত পথের সন্ধান৷ রোধ করলেন সকল সংসার চক্র৷ ক্ষয় করলেন সকল মোহ অাসক্তি৷ পুনরাবিস্কার করলেন বিশুদ্ধির পথ৷ যা নির্বানে গমনের চিরন্তন সত্য পথ৷

বুদ্ধত্ব লাভের পর তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন মৃগদায়ে৷ একে একে ধর্মযাত্রায় পদধূলি দিলেন সমগ্র জন্বুদীপ৷ এভাবে ধর্ম প্রচার করেন দীর্ঘ ৪৫টি বছর৷ এই দীর্ঘ ৪৫ বছর ধর্ম প্রচারে তিনি যে শুধু লোকত্তর ধর্ম প্রচার করেছেন তাও নয়৷ তার পাশা-পাশি তিনি তাঁর ধর্মকে গনতন্ত্রের একটি সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খলে রূপ দিয়েছেন৷
______________________
অাজ থেকে প্রায় ২৫০০ বছর পূর্বের কথা ছিল সেটি৷ একমাত্র গৌতম বুদ্ধই ছিলেন৷ যাঁর ধর্ম প্রচারে বিন্দু মাত্র রক্তক্ষয়েরও কথা উল্লেখ নেই৷ যুদ্ধ-বিগ্রহ, সংঘাত সেগুলিতো অনেক দূরে৷ তাঁর ধর্ম ছিল অহিংসার, মৈত্রীর, করুণার৷ ছিল না ব্রাহ্মণ-বৈশ্যের মত জাতিভেদ৷ তাঁর ধর্মে নিম্ন চণ্ডাল হতে শুরু করে উচ্চ ব্রাহ্মণ পর্যন্ত সকলেরই ছিল একই সম্মান অার সমান অধিকার৷ তা একমাত্র সম্ভব হয়েছে তথাগতের গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবাস্থার কারণেই৷

গৌতম বুদ্ধের ধর্মের শাসন ব্যবস্থা ছিল গনতান্ত্রিক৷ যার কারণে, তাঁর ধর্মে দীক্ষা নেয়া সকলই তাঁর শাসনের প্রতি সন্তুষ্ট ছিল৷
তাই এও বলা যায়, পৃথিবীতে যদি কোন ধর্ম প্রচারক থেকে থাকেন যাঁর অাদর্শ, নীতি, শাসন-অনুসান সকলের গ্রহন যোগ্যতা রাখে৷ তাহলে তিনি একমাত্র গৌতম বুদ্ধই ছিলেন৷ অাজ পর্যন্ত কোন ধর্মের লোক গৌতম বুদ্ধের জীবনে কলঙ্কের ছায়া খোঁজে পাননি৷

তাঁর ধর্মে গনতন্ত্রের এমন অনেক উদাহারণ অাছে,
তার মধ্যে ভিক্ষুদের একটি ছোট্ট বিনয় কর্মকেই দেখুন৷

শ্রমণদের যখন ভিক্ষুত্ব বা উপসম্পাদা প্রদান করা হবে৷ তখন সকল ভিক্ষু সংঘকে প্রথমে একটি নির্ধিষ্ট সীমা ঘরে উপস্থিত হতে হয়৷ অতপর মহানসংঘের নিকট উপসম্পাদা যাঞ্চা৷
সংঘের উদ্দেশ্যে প্রথমেই বলা হয়
“সুণাতু মে ভন্তে সংঘো” অর্থাৎ

সংঘো—শ্রদ্ধেয় ভিক্ষু সংঘ,
ভন্তে—শ্রদ্ধেয় ভদন্তগণ,
মে—অামার বাক্য,
সুণাতু—গুরুত্ব সহকারে শ্রবণ করুণ৷
বলার পর জ্ঞাতি স্থাপন(এসা ঞত্তি) করা হয়৷ অর্থাৎ সংঘকে জানানো হয় “এই বিষয়ে বলা হবে৷”

অতপর সংঘের অনুমতি নেয়া হয়, “সুণাতু মে ভন্তে সংঘো……সো তুণ্হস্স; যস্স ন ক্খমতি৷ সো ভাসেয্য৷”
অর্থাৎ “শ্রদ্ধেয় ভিক্ষুসংঘগণ, অাপনারা যদি সম্মতি দান করেন তাহলে নীরব থাকুন৷ অার যদি ক্ষমা না করেন(সম্মতি প্রদানে অনিচ্ছুক) তাহলে অাপনারা সংঘের মধ্যে বলতে(ভাসেয্য) পারেন(যিনি সম্মতি প্রদানে অনিচ্ছুক৷ তিনি(সো) এই সংঘের মধ্যে ব্যক্ত করতে পারেন)৷

“উপসম্পন্নো সংঘেন নাগো অায়স্মতো তিস্সেন উপজ্ঝাযেন খমতি সঙ্ঘস্স৷ তস্মা তুণ্হী এবমেতং ধারযামী’তি৷”
যার অর্থ দাঁড়ায়
অাযস্মতো তিস্সেন—অায়ুস্মান তিষ্যের,
উপজ্ঝাযেন—উপাধ্যায়ত্বে,
উপসম্পন্নো সংঘেন—সংঘের দ্ধারা উপসম্পন্ন প্রাপ্ত এই নব ভিক্ষুকে,
খমতি সঙ্ঘস্স—সংঘ হতে ক্ষমা করেছেন(অনুমতি প্রদান করা হয়েছে)৷
তস্মা তুণ্হী এবমেতং ধারযামী’তি—সংঘের নীরবতার কারণে এই ধারণায় উপনীত হয়েছি৷

কি সুন্দর অার সুশৃঙ্খলভাবে একজন শ্রমণকে উপসম্পাদা দেয়া হয়৷ এভাবে ভিক্ষুত্ব প্রদান করার সময়ও সংঘের অনুমতি(সম্মতি) নেয়া অাবশ্যক৷ এটাই যে তথাগতের গনতন্ত্রের এক অনন্য নিদর্শন৷ যা ২৫০০ বছর পূর্ব থেকেই ছিল৷ এবং এখনো বর্তমান অাছে৷ যদি সংঘের মাঝে এই গনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা থাকে তাহলে ভবিষ্যতেও তথাগতের শাসন থাকবে৷ সংঘায়ন যে এই গনতন্ত্রেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ৷

অর্থাৎ তথাগত তাঁর প্রত্যেকটি কাজের মধ্যেই গনতন্ত্রের তথা সবার সম্মতিকেই প্রাধান্য দিতেন৷ এমনকি বিনয় শিক্ষাপদ প্রজ্ঞাপ্তের সময়ও৷ কোন শিক্ষাপদ প্রজ্ঞাপ্তের পূর্বে সকল সংঘের সম্মতি জিজ্ঞাস করতেন৷ এবং তাদের সম্মতি থাকলে সেই শিক্ষাপদ প্রজ্ঞাপ্ত করতেন৷

যার কারণে তথাগতের প্রজ্ঞাপ্তিত কোনো শিক্ষাপদ বা বিনয়ের কোনো কাজের উপর তাঁর শিষ্যদের মতানৈক্য ছিল না৷

বিভিন্ন জাতি-গোত্র-বর্ণের সমাহার হওয়ার সত্বেও তথাগতের শাসন ব্যবস্থা ছিল গনতন্ত্রের একটি সুশৃঙ্খলের বন্ধনে৷ যার কারণে তথাগতের গৌতম বুদ্ধের শাসন বিরাজ করতে সর্বদাই শান্তি।।

সম্মন্ধে Debapriya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

মেডিটেশান এবং আপনার ব্রেইন

Leave a Reply