ব্রেকিং নিউজ

জ্ঞাতিগণের উপকার করা উত্তম মঙ্গল। –কেন?

ইলা মুৎসুদ্দী

26

জ্ঞাতিগণের উপকার সাধন করা উচিত। জ্ঞাতি বলতে মাতৃপক্ষের সাত পুরুষ ও পিতৃপক্ষের সাত পুরুষকে বুঝায়। তাদের আপদে-বিপদে, রোগে-শোকে ধন-সম্পত্তি বা টাকা-কড়ি দ্বারা উপকার করা উত্তম মঙ্গল। এতে মানবতাকে প্রসারিত করা হয়। এই জগতে দান, প্রিয়বচন, সৎপরামর্শ, সদ্ধর্মে প্রতিষ্ঠা, অর্থবৃদ্ধির উপায় বলে দেওয়া, রোগে সাহায্য, শোকে সান্তনা, বিপদে সাহস দেওয়া, আসল মানবতার কাজ। অনেক আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ে মানবগণ সমাজে অবস্থান করে। যেহেতু মানুষ সামাজিক জীব, সমাজ ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না, সমাজে সকলেই পরস্পর গভীরতর আত্মীয়তার দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ। ‘অমুক আÍীয় নয়’ একথা কেহ বলতে পারে না। তবুও এমন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার দৃঢ় বন্ধনেও দেখা যায়-পরস্পরের প্র তি শিথিল মনোভাব, হৃদয়ে মৈত্রী করুণার অভাব; একতার অভাব, পরস্পরের প্রতি কি যেন একটা চির বিদ্বেষভাব। একের উন্নতিতে অপরের বিকার, অবনতিতে চিত্ত প্রসাদ, এরূপ জঘন্য মনোভাব হেতু বর্তমান সমাজ দিন দিন অতল তলে তলিয়ে যাচ্ছে। একে অপরকে সাহায্য করবার কথা দূরে থাক, যদি সমাজে সামান্য শান্তিটুকু পর্যন্তও পাওয়া না যায়, তবে সেই সমাজ কোন্ সমাজে পরিণত হলো-দেবসমাজ না অসুর সমাজ? বর্তমান মানুষের হৃদয়াত্মা অসুরাত্মাতে পরিণত হয়েছে, তাই সমাজের এই দুর্গতি। বর্তমান সমাজে কেহ কারো সুখ-শান্তি, ঐর্শ্বয-শ্রীবৃদ্ধি কামনা করে না। শুধু নিজের বেলায় ষোল আনা ঠিক থাকলেই হয়। মামলা-মোকদ্দমা, কলহ-বিবাদ প্রভৃতি করে বা অন্য উপায়ে ব্যয় করে বর্তমান সমাজ যেভাবে চরম অবনতির দিকে তলিয়ে যাচ্ছে, তা’ অবশ্যই লক্ষণীয়। এরূপ মারাÍক ব্যাধি হতে মুক্তি পেতে হলে সকলের অন্তরে সমমনোভাব, সমমৈত্রী ও সামগ্রীক হৃদয়ের সৌহৃদ্য আনতে হবে। নতুবা সমাজের মঙ্গল কি প্রকারে সম্ভব? সমাজের মঙ্গল সাধিত হলেই তো জ্ঞাতির মঙ্গল। জ্ঞাতি তো সমাজের বাহিরে নয়। তদানীন্তন প্রতাপশালী সমাজপতিগণকে লক্ষ্য করে ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যে ব্যঙ্গোক্তি করেছেন, তা’ এখানে অবশ্যই লক্ষনীয়। ‘সমাজ আমি, সমাজ তুমি। এ’ গ্রামে আর কেউ নেই। যার অর্থ আছে, সে-ই সমাজপতি। আমি ইচ্ছা করলে তোমার জাত মারতে পারি, আর তুমি ইচ্ছা করলে আমার জাত মারতে পারো। যে সমাজ দুঃখীর দুঃখ বোঝেনা, বিপদে সাহস দেয়না, শুধু চোখ রাঙায় আর গলা চেপে ধরে সে সমাজ আমার নয়, আমার মত গরীবেরও নয়।-এই সমাজ বড় লোকের জন্য। এই সমাজে তারাই বাস করুক-আমাদের দরকার নাই।’ আচার্য শান্তিদেবের বোধিচর্যাবতারে উল্লিখিত নিম্মোক্ত বাণীটিও একান্তই স্মরণীয়-

ত্যক্তান্যোন্য সুখোত্ পাদং দৃষ্টা দৃষ্টসু বোত্ সবং

অন্যোন্য দুঃখ নাদ্ ঘোরং দুঃখং গৃহ্ নন্তি মোহিতা।

পরস্পর সুখ উৎপাদন দ্বারাই ইহলোকে ও পরলোকে সুখোৎসব সৃষ্টি করিতে পারে। এই উপায় ত্যাগ করিয়া মোহ-মুগ্ধ জনগণ একে অন্যকে দুঃখ দিয়া সুখ আহরণ করিতে গিয়া ঘোর দুঃখ আহরণ করিয়া থাকে।

সূত্র ঃ বিশ্বমঙ্গল ও বিবিধ প্রসঙ্গ, শ্রী কোণ্ডাঞো ভিক্ষু।

 

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে অসহায় ব্যক্তি

বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে অসহায় ব্যক্তি এবং যিনি মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে ঘুরেন প্রতি মুহুর্তে তার …

Leave a Reply