ব্রেকিং নিউজ

কেন বুদ্ধের সবকিছু জগতে অদ্বিতীয় ?

কেন বুদ্ধের সবকিছু জগতে অদ্বিতীয় ?

ইলা মুৎসুদ্দী

45

বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডে সত্য হতে শ্রেষ্ঠ কিছুই নেই। সত্যই শান্তিপ্রদ কল্যাণকর। ধর্ম প্রবর্তক মহাপুরুষেরা বিশ্ববাসীর মঙ্গলের জন্য আপন আপন উপলব্ধ সত্যই জগতে প্রচার করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র সিদ্ধার্থ ব্যতীত এমন একটি নিদর্শনও পাওয়া যায় না, যিনি রাজপুত্র হয়ে সকল মানবের দুঃখমুক্তি আকাঙ্খায় সর্বকাম্য রাজভোগ প্রাণসম স্ত্রী-পুত্র ও মাতাপিতাদি আপনজন ত্যাগ করে কঠোর সন্ন্যাস ধর্মকে বরণ করেছেন। এ ঘটনা এ বিষয়ে জগতে তাঁর অসাধারণত্ব ও অদ্বিতীয় ঘোষণা করছে।

একমাত্র বুদ্ধ ব্যতীত অন্য কোন মহাপুরুষের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ ঋতুরাজ বসন্তের একই পূর্ণিমা তিথিতে সম্পাদিত হয়নি। পরিবর্তনশীল জগতে ঋতুও পরিবর্তিত হচ্ছে। বুদ্ধের সময়ে বুদ্ধের জীবন যাপন প্রদেশে বৈশাখ মাসে বসন্ত ঋতু বিরাজ করত। ঋতুর মধ্যে যেমন বসন্ত প্রধান, তিথির মধ্যেও তেমন পূর্ণিমাই শ্রেষ্ঠ। তা ছাড়াও তাঁর জীবনের প্রায় প্রধান ঘটনা অন্যান্য পূর্ণিমা তিথিতে সম্পাদিত হয়। যেমন আষাঢ়ী-পূর্ণিমায় তাঁর মাতৃগর্ভে উৎপত্তি, সংসার ত্যাগ ও ধর্মচক্রপ্রবর্তন; ভাদ্র-পূর্ণিমায় পারিলেয্য বনে বানর কর্তৃক মধু পূজা লাভ; আশ্বিনী-পূর্ণিমায় তাঁর শিষ্য ষাটজন অর্হৎ ভিক্ষুকে দেব-মানবের হিতার্থে অভিনব অমৃত-ধর্ম প্রচারের জন্য সর্বপ্রথম নির্দেশ প্রদান; যেমন “চরথ ভিক্খবে চারিকং বহুজন হিতায় বহুজন সুখায, লোকানুকম্পায়, অত্থায়, হিতায়, সুখায়, দেবমনুস্সানং। দেসেথ ভিক্খবে ধম্মং আদিকল্যাণং, মজ্ঝেকল্যাণং, পরিযোসানকল্যাণং, সাত্থং, সব্যঞ্জনং কেবল পরিপুন্নং পরিসুদ্ধং ব্রহ্মচরিযং পকাসেথ।”-ভিক্ষুগণ! বহুজনের হিতের জন্য, বহুজনের সুখের জন্য, জগতের প্রতি অনুকম্পা করে দেব-মানবের মঙ্গল, হিত ও সুখের জন্য বিচরণ কর এবং অর্থ ও ব্যঞ্জনের সহিত আদি, মধ্যম ও অন্তিম কল্যাণ সমন্বিত সর্বপ্রকারে পরিপূর্ণ ও পরিশুদ্ধ ব্রহ্মচর্য ধর্ম প্রকাশ কর। মাঘী-পূর্ণিমায় তাঁর শিষ্য সম্মেলনে, আয়ুসংস্কার ত্যাগ বা পরিনির্বাণের দিন ঘোষণা এবং ফাল্গুনী-পূর্ণিমায় তাঁর পিতৃদর্শনে গমন প্রভৃতি সম্পাদিত হয়। ইহাও তাঁর অসদৃশতা ও অদ্বিতীয় ঘোষণা করছে।

তৃতীয়তঃ রাজ পুত্র হয়েও তিনি ছিলেন আজীবন বনবাসী। যেমন তিনি জন্মগ্রহণ করেন লুম্বিনী বনে; বুদ্ধত্ত্ব লাভ করেন উরুবেলা বনে, সর্বপ্রথম ধর্ম প্রচার করেন মৃগদায়ে বা মৃগবনে, বাস করেছেন জেতবনে, বেণুবনে এবং মহাবনাদিতে ও পরিনির্বাণ লাভ করেন কুশীনগরের শাল বনে। এগুলিও বুদ্ধ-জীবনে অসদৃশতা ও অদ্বিতীয ঘোষণা করছে।

 

সূত্র-ধর্মসূধা

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

মেডিটেশান এবং আপনার ব্রেইন

Leave a Reply