ব্রেকিং নিউজ
প্রচ্ছদ / লেখক ভেদে লেখা সংগ্রহ / ইলা মুৎসুদ্দি / মহাসুদর্শন জাতক (শেষ পর্ব)
11

মহাসুদর্শন জাতক (শেষ পর্ব)

মহাসুদর্শন জাতক (শেষ পর্ব)
সর্বদা ত্রিবিধ সুখের অধিকারী হতে চাইলে মনোযোগ সহকারে পড়ুন মহাসুদর্শন জাতক এবং জানুন কি কি দান করলে কিরকম মহাপুণ্যের ভাগী হয়? পড়ুন, জানুন এবং জন্ম জন্মান্তর সুখের অধিকারী হবার চেষ্টা করুন।
ইলা মুৎসুদ্দী

b5

পূর্বজন্মের সর্ববস্তু দান-পুণ্য প্রভাবেই চক্রবর্তীরাজগণ এসপ্তরত্ন  লাভ করেন। ক্ষুদ্র পর্ণশালা দান-পুণ্য-প্রভাবে সপ্তরত্ন , চুরাশী সহস্র নগর, সহস্র প্রাসাদ, ও সহস্র কূটাগার উৎপন্ন হয়। মাচাদানের পুণ্য-প্রভাবে চুরাশী সহস্র হিসাবে পালঙ্ক, হস্তী, অশ্ব ও রথ উৎপন্ন হয়। বসিবার আসন দানের পুণ্য-প্রভাবে, কেহ সুবর্ণালঙ্কার, কেহ রৌপ্যালঙ্কার, কেহ লোহিতঙ্ক অলঙ্কার, কেহ স্ফটিকালঙ্কার, কেহ মহাসারালঙ্কার, কেহ মণিবর্ণালঙ্কার মুক্তালঙ্কার, সপ্তরত্ন লঙ্কার দ্বারা বিভূষিত জনগণ চক্রবর্তী রাজাকে পরিবেষ্টন করে থাকেন ও তাঁর সাথে চলাফেরা করে। একটি পুষ্করিনী দান-পুণ্যে সহস্র পুষ্করিনী উৎপন্ন হয়। দণ্ডপ্রদীপ দান-পুণ্য-প্রভাবে চক্রবর্তী রাজার নিকট চুরাশী সহস্র করে স্ত্রী, গৃহপতি, পরিভোজনীয় থালা, পাত্র, সপাত্র জলছাঁকুনী, চিরুনী, নখছেদনকারী কাচি, কর্ণমলহরণী উপহান ও ছত্র উৎপন্ন হয়। ভোজনদান-পুণ্যে চুরাশী হাজার খাদ্য ভোজ্য পরিপূর্ণ পাত্র উৎপন্ন হয়। দীপদান-পুণ্যে চুরাশী হাজার মণিরত্ন  লাভ হয়। করণ্ডদান-পুণ্য প্রভাবে চক্রবর্তীরাজার বিপক্ষ সেনা দলন সমর্থবান সহস্র বীরপুত্র লাভ হয় এবং স্বহস্তে দান-পুণ্যে উত্তমরূপকারী দেবস্পরার ন্যায় সেবিকা লাভ হয়। আস্তরণ দান-প্রভাবে মণিমুক্তা খচিত চুরাশী হাজার প্রকাণ্ড আস্তরণ লাভ হয়। চীবর দানপুণ্যে চুরাশী হাজারবস্ত্র কোষ্ঠাগার লাভ হয়। তন্মধ্যে এক এক প্রকোষ্ঠ একেক জাতীয় বস্ত্র কম্বলে পরিপূর্ণ থাকে।
যথা- কোসেয়্য কর্পাস, দুকুল, খোম, কৌষিক, শ্বেতবস্ত্র, রক্ত, নীল, পীত, কাল কম্বল। অবশিষ্ট প্রকোষ্ঠগুলি নানা দিব্য বস্ত্রে পরিপূর্ণ থাকে। জল রাখবার ছোট বড় পাত্র দানপুণ্যে চুরাশী হাজার স্বর্ণময়, রৌপ্যময়, জল পাত্র উৎপন্ন হয়। চাঁদোয়া দানের পুণ্য-ফলে চুরাশী সহস্র চাদোয়া উৎপন্ন হয়। হেলান দেওয়ার বস্তু দান-পুণ্য প্রভাবে চুরাশী হাজার আরাম দায়ক আসন উৎপন্ন হয়। আশ্রমে ঘেরা দান পুণ্য প্রভাবে চক্রবর্তী রাজার বাড়ীতে সপ্তবিধ ঘেরা উৎপন্ন হয়। যথা সুবর্ণ ময়, রৌপ্যময়, বৈদুর্যময়, স্ফটিকময়, লোহিতাঙ্কময়, মাসর গল্লময় ও সর্বরত্ন ময় ঘেরা উৎপন্ন হয়। আশ্রমে তালবৃক্ষ রোপণ দ্বারা ঘেরা দেওয়ার পুণ্যে সপ্ততাল বৃক্ষপংতি ঘেরা উৎপন্ন হয়। যথা- প্রথম পংতি সুবর্ণ ময়, দ্বিতীয় পংতি রৌপ্যময়, ক্রমান্বয়ে বৈদুর্যময়, স্কটিকময়, লোহিতাঙ্কময়, মসার গল্লাময় ও সর্বরত্ন ময়। সুবর্ণময় তালবৃক্ষের কাণ্ড ভাগ ছিল সুবর্ণময় এবং পত্র ও ফল ছিল রৌপ্যময়। রৌপ্যময় তালবৃক্ষের কাণ্ড ছিল রৌপ্যময়পত্র ও ফল ছিল বৈদুর্যময়। লোহিতাঙ্ক তালবৃক্ষের কাণ্ড ছিল লোহিতাঙ্গময় পত্র ও ফল ছিল মসার গল্লময়। মসার গল্লময় তালবৃক্ষের পত্র ও ফল ছিল লোহিতাঙ্কময়। সপ্তরত্ন ময় তালবৃক্ষের সপ্তরত্ন ময় কাণ্ড এবং পত্র ও ফল ছিল সপ্তরত্ন ময়। সে তালবৃক্ষ সমূহ যখন বায়ু দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন এমন একটা শব্দ বের হত, যা অতি মধুর, রমনায়, শান্ত নির্ভয়, মোহনীয় এবং পঞ্চবিধ তুর্য ধ্বনির ন্যায়। কুসবতী নগরের চারটি তোরণ দ্বার ছিল। একটি সুবর্ণময়, একটি রৌপ্যময়, একটি বৈদুর্যময় ও একটি স্ফটিকময়।
কুশাবতী নগরবাসী জনগণ সর্বদা মধুর ভোজ্যদ্রব্য ভোজন, জয়পানীয় পান ও মাংসরস পান করত এবং সর্ববিধ অলঙ্কারে নিজকে ভূষিত করে কেহ কেহ সোল্লাসে নাচ গান বাদ্য ও করতালী যোগে সবাই নির্ভয়ে নিরুপদ্রবে, নিরোগে ও সুখে মহানন্দে, বাস করত। সে নগরে সর্বদা হস্তী, অশ্ব, রথ, মৃদঙ্গ, করতাল, কাঁসা, ভেরী ও গীতশব্দে সর্বদা অনির্বচনীয়ভাবে পৃথিবী গর্জনের ন্যায় মহোল্লাসশব্দ বিঘোষিত হ’ত। তারা সর্বদাই সর্ববিধ উত্তম আহারে ও সর্ববিধ অলঙ্কারে সমৃদ্ধ ছিলেন। সুদর্শন নামক চক্রবর্তী রাজা তথায় রাজত্ব করতেন। তিনি চুরাশী সহস্র বৎসর বাল্যাবস্থায় ধূলিক্রীড়ায় দিন অতিবাহিত করেছিলেন। চুরাশী সহস্র বৎসর উপরাজ অবস্থায় ছিলেন এবং চুরাশী সহস্র বৎসর চক্রবর্তী রাজত্ব ভোগ করছিলেন। তৎপর চুরাশী সহস্র বৎসর ব্রহ্মচর্য আচরণ করেছিলেন। তিনি সংসারে জীবিত ছিলেন দুইলক্ষ বিরাশী হাজার বৎসর। তিনি এক জন্মে এক ভন্তেকে একখানা পর্ণশালা ও অষ্ট পরিক্খার দান দিয়েছিলেন। তৎফলে তিনি এজন্মে চক্রবর্তী রাজা হয়ে দীর্ঘকাল যাবৎ ঐ মহাপূণ্যফল ভোগ করেছিলেন। সে বিষয় প্রকাশ মানসে বুদ্ধ বল্লেন-
তিনি পর্ণশালা ও যাবতীয় দানীয় বস্তু দান দিয়ে চক্রবর্তী রাজত্ব ভোগ করে মৃত্যুর পর স্বর্গে উৎপন্ন হয়েছিলেন। দানাদি পুণ্যকর্ম সহযোগে দীর্ঘদিন যাবৎ রাজত্বসুখ পরিভোগ করার পর ঋষি প্রব্রজ্যায় প্রব্রজিত হয়েছিলেন। তদাবস্থায় ধ্যান অভিজ্ঞাদি উৎপাদন করেছিলেন। অতঃপর মৃত্যুর পর ব্রহ্মলোকে উৎপন্ন হয়েছিলেন।
ভগবান এধর্মদেশনা সমাপ্ত করে বললেন- হে ভিক্ষুগণ, শুধু এখন নহে, পূর্ব্বেও আমার দান আশ্চর্যজনক ছিল। এ বলে জাতক সমাপ্ত করতঃ গাথা ভাষণ করলেন-
বর্তমান আমার যে জ্ঞাতিগণ আছেন, তারাই ছিল সে চক্রবর্তী রাজার জ্ঞাতি। তখনকার চক্রবর্তী রাজার যানবাহন স্বরূপ যে হস্তীরত্ন  ছিল; সে হস্তী এখন আমার পিতা শুদ্ধোদন রাজার মঙ্গল হস্তী। তখনকার অশ্বরত্ন  এখন কন্থক নামক শ্রেষ্ঠ অশ্ব। চক্রবর্তী রাজার পিতা এখন আমার পিতা শ্রদ্ধোদন রাজা। মাতা বর্তমান মহামায়া। উত্তর কুরু হতে আনীত সুভ্রদ্রাই এখন যশোধরা। গৃহপতিরত্ন ই বর্তমানকালের আমার সেবক আনন্দ স্থবির। পরিনায়করত্ন  এখন দক্ষিণ শ্রাবক সারিপুত্র। চক্রবর্তী পরিষদ বর্তমান বুদ্ধ পরিষদ। মহাসুদর্শন চক্রবর্তীরাজা এখন আমি লোকনাথ তথাগত সম্যকসম্বুদ্ধ।

সূত্র –জাতক পঞ্চাশক, জিনবংশ মহাথেরো

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

bimalendu_barua

তুমি রবে নীরবে —— সাহিত্য ভাষ্কর বিমলেন্দু বড়ুয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী

  তুমি রবে নীরবে সাহিত্য ভাষ্কর বিমলেন্দু বড়ুয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী ইলা মুৎসুদ্দী আলোক ছড়ায় আলোকিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *