ব্রেকিং নিউজ
2

মহাসুদর্শন জাতক (পর্ব ৩)

মহাসুদর্শন জাতক (পর্ব ৩)
সর্বদা ত্রিবিধ সুখের অধিকারী হতে চাইলে মনোযোগ সহকারে পড়ুন মহাসুদর্শন জাতক এবং জানুন কি কি দান করলে কিরকম মহাপুণ্যের ভাগী হয়? পড়ুন, জানুন এবং জন্ম জন্মান্তর সুখের অধিকারী হবার চেষ্টা করুন।
ইলা মুৎসুদ্দী

b28

সপ্ত রত্নের প্রভাব-
চক্রবর্তী রাজা যদি কোনও দিকে যেতে ইচ্ছা করেন, তা হলে নর্তকী প্রভৃতি সপরিষদ সে চক্র রত্নে  আরোহণ করলে তখন তাহা রাজধানীকে প্রদক্ষিণ করে ক্ষণকালের মধ্যেই অযুত পূর্ণচন্দ্রের ন্যায় বিরোচিত হয়ে আকাশ পথে ইচ্ছিত স্থানে উপস্থিত হয়। রাজা
তথা হতে শত, সহস্র, অযুত, লক্ষ, কোটি বা তদুর্ধ প্রমাণ অর্থাৎ যত সংখ্যক সৈন্য ইচ্ছা করেন; তত সংখ্যক সৈন্য চক্র রত্নে  তুলে আকাশ পথে স্বীয় রাজধানীতে মুহূর্ত মধ্যে উপস্থিত হতে পারেন। যে স্থানে চক্ররত্ন  অবতরণ করে সে স্থানের জনগণ মহামূল্যবান
বহু উপহার দিয়ে রাজাকে পূজা ও ভক্তি সহকারে বন্দনা করেন। চক্রবর্তী রাজা ও তথায় দাঁড়িয়ে বলেন- সজ্জনগণ আপনারা শীল পালন করুন। ইত্যাদি বলে উপদেশ প্রদান করেন।  বিদেহ রাজ্যে উপস্থিত হলে, তথাকার জনগণ চক্রবর্তী রাজাকে সৎকার ও বন্দনা করে চলে যায়। চক্রবর্তী রাজা দেবলোকে যাওয়ার ইচ্ছা করে চক্ররত্নে  আরোহণ করলে তখন চক্ররত্ন  আকাশ পথে রাজধানী প্রদক্ষিণ করে দেব লোকের দিকে যাত্রা করে। চক্ররত্নে  আরূঢ় সেনাবাহিনীরা আনন্দে অধৈর্য হয়ে কেহ কেহ নৃত্য করে, কেহ গান করে; কেহ কেহ বাদ্য করে, কেহ কেহ আস্ফালন করে; কেহ কেহ করতালী দেয়, কেহ কেহ সাধুবাদ প্রদান করে আর কেহ কেহ তুর্যধ্বনী করে। তখন যেন বোধ হয় সমুদ্র মধ্যে মেঘগর্জনের ন্যায় সর্ব তুর্যের নির্ঘোষ বিঘোষিত হয়। চক্ররত্ন  দেবলোকে উপস্থিত হলে দেবরাজ ইন্দ্র দেব পরিষদের সহিত চক্রবর্তী রাজাকে আগু বাড়াইয়া বহুবিধ দিব্য উপহারে ও দিব্য পূজায় সগৌরবে তাবতিংশ ভবনে নিয়ে যান। তথায় তাঁকে পঞ্চকামগুণ দানে অভিরমিত ক’রে কয়েক দিবস তথায় রখে দেন। দেবরাজ ইন্দ্র চক্ররত্নে র এরূপ অনুপম প্রভাব দেখে বিস্মিত হন। চক্রবর্তী রাজা এ চক্ররত্নে র প্রভাবে এক দিবসেই চার মহাদ্বীপ পরিভ্রমণ করে পুনঃ রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেন। চক্ররত্নে র প্রভাব এরূপই।
হস্তীরত্নে র প্রভাব- চক্রবর্তী রাজা হস্তীরত্ন কে পরীক্ষার নিমিত্ত পূর্বাহ্নকালে উহাতে আরোহণ করে আসমুদ্র চক্রবাল পরিভ্রমণ করে পুনঃ স্বীয় রাজধানীতে এসে প্রাতরাশঃ পরিভোগ করেন। ইহা হস্তীরত্নের প্রভাব। অশ্বরত্নে র প্রভাব- চক্রবর্তী রাজা অশ্বরত্নে র মীমাংসা করার মানসে ঐ অর্শ্বে পূর্বাহ্নকালে আরোহণ করে অসমুদ্র পৃথিবী পরিভ্রমণ করে পুনঃ স্বীয় রাজধানীতে এসে প্রাতরাশঃ গ্রহণ করেন। ইহা অশ্বরত্নে র প্রভাব। চক্রবর্তী রাজা যে যে দেশে যাওয়ার চিন্তা করেন হস্তী ও অশ্বরত্ন  তাঁর মনোভাব জ্ঞাত হয়ে সে দেশে নিয়ে যায়। মণিরত্ন  প্রভাব- এমণিরত্ন  পার্বত্য আলুর ন্যায় বৃহৎ। ইহা বৈদুর্যাদি শুদ্ধ জাতীয় বস্তু হতে উৎপন্ন হয়। এ মণি যথাবিহিত রূপে পরিষ্কার করলে বিপ্রসন্ন ও সমুজ্জল হয়। ইহার আভা চারিদিকে এক এক যোজন পরিমাণ স্থান ব্যাপ্ত হয়। চক্রবর্তী রাজা এ মণিরত্ন কে পরীক্ষা করার মানসে চতুরঙ্গিনী সেনা সজ্জিত করে সে মণিরত্ন  ধ্বজাগ্রে বন্ধন করে রাখেন। তখন সে মণি-প্রভায় ঘোর অমাবস্যাতেও সেনাদের চলা ফেরার ও যুদ্ধকার্যে কোন অসুবিধা হয় না।
ইহার স্বচ্ছ আলোতে গ্রামবাসীরাও যাবতীয় গৃহকাজ সূষ্ঠুরূপে সম্পাদন করতে পারেন। জলের প্রয়োজন হলে, মণিরত্ন  যখন পৃথিবীর দিকে নিক্ষেপ করা হয়, তখন মণি পৃথিবীতে নিমগ্ন হয়ে বিরাট জলরাশি তালবৃক্ষের প্রমাণ অথবা হস্তী প্রমাণ জলধারা আকাশ স্পর্শী হয়ে উঠে। আর তা যদি আকাশের
দিকে উৎক্ষেপণ করা হয়; তখন তা আকাশে গিয়ে প্রকাণ্ড মেঘ উৎপাদন করে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি বর্ষণ করায়। যখন অগ্নি উৎপাদনের ইচ্ছা হয়, তখন তা পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা মাত্র মণি পৃথিবীতে নিমগ্ন হয়ে প্রবল জ্যোতিঃ সম্পন্ন অগ্নি উৎপাদন করে। তা পুনঃ আকাশে উৎক্ষিপ্ত হলে আকাশ হতে সজ্যোতিপূর্ণ উৎকট অগ্নি বর্ষিত হয়। যখন বায়ু সেবনের ইচ্ছা হয়; তখন সে মণিরত্ন  দিকবিদিকে ছুটাছুটি করে প্রচণ্ড ও মৃদু বায়ুর উৎপাদন করে সর্বদিকে বায়ু প্রবাহিত করে। চক্রবর্তী রাজা যা যা ইচ্ছা করেন মণিরত্ন  প্রভাবে সবই পূর্ণ হয়। ইহা মণি রত্নে র প্রভাব।
স্ত্রীরত্ন  প্রভাব- এ নারী সুরূপা, সুচারু দর্শনা সূবর্ণ বা মণিরত্নে র ন্যায় বর্ণ শালিনী। ঐ নারী নাতীদীর্ঘা, নাতিহ্রস্বা, নাতিস্থূলা, নাতি কৃশা নাতি সাদা অতীত যুগের মানুষের মত দিব্যবর্ণা ও সূখস্পর্শা ও সুধূনিত কার্পাস তুলার ন্যায় দেহবতী। তাঁর রূপ উন্মাদকারী। চক্ষু নিগ্রোধফলের ন্যায়। তাঁর দেহ হতে সর্বদা চন্দন গন্ধ মুখ হতে পদ্ম সুগন্ধ প্রবাহিত হয়। তাঁর দন্ত শুষ্ক শঙ্খের ন্যায় ধ্বল বর্ণ ফাঁক বিরহিত সমদন্তাবলী। তাঁর চর্মবর্ণ সাদা, কাল, নীল, পীত; অতি কাল নহে। মন্দা নীলোৎপলের বর্ণনিভ, কেশের বর্ণ নীল ভ্রমর বা ময়ুর পালকের ন্যায় জ্যোতির্ময়। হস্ত পদের বর্ণ লোহিত মণির ন্যায়। সর্বসূলক্ষণ সম্পন্না। ধন্যবতী সুশীলা পতিব্রতা পতির পূর্বে গাত্রোত্থান কারিনী সর্বকর্ম পরিচালনে সুদক্ষা ও মনোজ্ঞ আচরণ কারিনী, সর্বকর্ম পরিচালনে সুদক্ষা ও মনোজ্ঞ আচরণ কারিনী প্রিয় ভাসিনী ও অতি মনোহারিনী। তাঁর দেহ শীতকালে উষ্ণ ও গ্রীষ্মকালে শীতল হয়। ইহাই স্ত্রী রত্নে র লক্ষণানুভাব।
গৃহপতিরত্ন  প্রভাব- গৃহপতিরত্ন  যে ক্ষেত্রে, প্রকোষ্টাগারে, গোশালায় বা হস্তীঅশ্বালয়ে গমন করে, তার প্রভাবে ক্ষেত্রে বহুবিধ শস্য প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। প্রকোষ্টাগারে বহু ধন বর্ধিত হয়, গো-হস্তী অশ্ব বহু বাছুর সম্পন্ন হয়। ধনাগারের ধন, জল অগ্নি ও চোরাদি দ্বারা নষ্ট হয়না। তিনি যে যে স্থানে যান, সে সে স্থান নিরাপদ হয়। তাঁর দ্বারা গৃহীত মৃর্ত্তিকা, কাঁকর, চাঁর, কাষ্ঠ, প্রস্তর বা তৃণ তাঁর ইচ্ছানুযায়ী উত্তম ধনে পরিণত হয়। তাঁর পূর্বকর্মজ বিপাক দ্বারা নিধিদর্শনের দিব্য চক্ষু উৎপন্ন হয়। তিনি চক্রবর্ত্তী রাজার নিকট উপস্থিত হয়ে বলেন- দেব, আপনি ধনবিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকুন। আপনার যা ধনের প্রয়োজন হবে, তা আমিই মিটিয়ে দেবো। যেহেতুঃ- যেখানে গুপ্তধন আছে, তা আমি দিব্য চক্ষে দেখতে পাই। পরীক্ষা করিবার জন্য রাজা গৃহপতিরত্ন কে সাথে করে গঙ্গার এক নৌকায় আরোহণ করেন। নৌকা গঙ্গার মধ্যস্রোতে উপনীত হলে, রাজা গৃহপতিরত্ন কে বলেন- এখন আমার হিরণ্য ও সুবর্ণের একান্তই প্রয়োজন। ইহা শুনে তখনই গৃহপতিরত্ন  গঙ্গার জলে হস্তমগ্ন করে হিরন্ময় ও সুবর্ণপূর্ণ কুম্ভী তুলে রাজাকে প্রদান করেন। ইহা গৃহপতিরত্নের প্রভাব। পরিনায়করত্ন  প্রভাব- পরিনায়করত্ন  পণ্ডিত, বুদ্ধিমান মেধাবী, সমর্থবান, প্রত্যুৎপন্নমতি, উৎসাহদাতা ও বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হন।
তিনি চক্রবর্তী রাজার নিকট উপস্থিত হয়ে বলেন- দেব, আপনি নিরাপদে নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে বাস করুন। সহজ জটিল যা কিছু অভিযোগ আছে, সবকিছুর সমাধান আমিই করে দেবো। শাসন অনুশাসনের সুষ্ঠু পরামর্শ আমিই দেবো। আপনি কেবল দশটি হস্তীর পরিমাণ সুরযোদ্ধা সেনাবাহিনী যোগাড় রাখবেন। তারা যেন বিপক্ষ অরিদল দলনে সমর্থবান, প্রজ্ঞাবান ও যুদ্ধবিদ্যা বিষয়ে বিচারকুশল এবং সুদক্ষ হয়। তাঁরা যে যে স্থানে গমণ করবে, সে সে স্থান নিরাপদ হবে। সব রাজা এসব যোদ্ধা দেখে দূর হতেই পলায়ন করবে। ইহাই পরিনায়করত্নের প্রভাব।

সূত্র –জাতক পঞ্চাশক, জিনবংশ মহাথেরো

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

bimalendu_barua

তুমি রবে নীরবে —— সাহিত্য ভাষ্কর বিমলেন্দু বড়ুয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী

  তুমি রবে নীরবে সাহিত্য ভাষ্কর বিমলেন্দু বড়ুয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী ইলা মুৎসুদ্দী আলোক ছড়ায় আলোকিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *