ব্রেকিং নিউজ

বড়ুয়া সমাজে উন্নতি হচ্ছে না কেন- প্রশ্ন করেছেন হিমু বড়ুয়া এবং বিশ্লেষণে সবুজ বড়ুয়া

(প্রথমত ধন্যবাদ হিমুকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর একটি প্রশ্ন জনসম্মুখে নিয়ে আসার জন্য) । প্রশ্নটির উত্তর অথবা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যদি কোন রকম ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে তার জন্য আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা মহাকারুনিক গৌতম বুদ্ধের মূল ধারাটায় হচ্ছে কর্মবাদ।কর্মের গুনে যেমন তিনি হয়েছেন তথাগত ও সবার শ্রদ্ধার পাত্র ঠিক তেমনি তার উপদেশবাণীতেও প্রত্যেকটি জাতিকে বা মনুষ্যকে কর্মকে প্রধান লক্ষ্য বস্তু হিসেবে নির্ধারণ করে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে।বৌদ্ধ ধর্মে সচরাচর যেসব  উপদেশমূলক উক্তি লক্ষ্য করা যায় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে “অহিংসা পরম ধর্ম “।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশী বৌদ্ধদের সামগ্রিক বিষয়ের উপর ভিত্তি করে যদি আমরা আলোচনা করি তাহলে দেখা যাবে হিংসা আর সমালোচনার মধ্যেই বিতর্কিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান বৌদ্ধ  সমাজ।এগিয়ে যাচ্ছে এই কারণে যে আগের তুলনায় মানুষ ধর্ম এবং দানের প্রতি আগ্রহ হচ্ছে,প্রতিদিন নতুন নতুন বিহার নির্মান বা নির্মাণ কাজের জন্য সহায়তা প্রদান,বুদ্ধ মূর্তি দান,বুদ্ধ বিহার সংস্কার, ধর্মীয় কর্মাদি সম্পাদন ইত্যাদি ইত্যাদি যা অনেকাংশেই বৃদ্ধি পেয়েছে।

ma

কথা হচ্ছে সেই দান কি নামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাকি কর্মের অংশ হিসেবে জাতিকে প্রসারিত করা।অধিকাংশ  দানই কিন্তু নামের গুনে প্রভাবিত হয়।যেমনে অনেকেই বলে থাকেন অমুক বাবু বা অমুক ব্যক্তি এইটা দান করেছেন এখানে নামই যেন মূখ্য আলোচনার বিষয় আর যারা নামের জন্য দান করেন তারা প্রশংসা শুনে অনেক আনন্দ লাভ করেন।সমাজের উন্নয়ন এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে নামের প্রতিযোগিতার উল্লাসে।

সংগত কারণে এখানে অবশ্যই উল্লেখ করা প্রয়োজন বৌদ্ধ নেতাদের করণীয় বা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।ধর্মীয় যেকোন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেখা যায় বিভিন্ন বৌদ্ধ সংগঠনের নেতাদের সংবর্ধিত করতে।প্রশ্ন হচ্ছে,আদৌ কি তারা বৌদ্ধ সমাজের ধর্মীয় এবং সামাজিক উন্নয়নে ও অগ্রগতিতে বিশেষ কোন অবদান রেখেছেন?অনেকেই বলবেন না আমিও তাদের সাথে একমত এই কারণে যে,তাদের দৌরাত্ম্য বা আধিপত্য চেয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।এরা নিজেরা কিছু করতে না পারলেও অন্যের সমালোচনা ভালই করতে পারেন।উন্নতির চাইতে অবনতির কারণ আরো আছে যেমন,বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বৌদ্ধ রাজনীতিতে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে হিংসাত্মক বাক্যের প্রয়োগ,অর্থের বাহুবলতা এবং দায়কদের চাইতে পূজনীয় ভিক্ষুদের নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি করা, আর এসব কারনে আজ দেশের সমগ্র বৌদ্ধ জাতির সঠিকভাবে মূল্যায়ন হচ্ছে না,এর পাশাপাশি উন্নয়ন ও অগ্রগতির ছোঁয়া থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

পৃথিবীর সবকিছুতেই সমান্তরাল কোন অনুভূতি নেই যেমনটি নেই কোন মানব সভ্যতারও।তাই পারিপার্শ্বিক সব কিছুকেই ধারন করে এগিয়ে যেতে হবে প্রত্যেক জাতি বা গোষ্ঠীকে।এখানে অবলম্বন হতে হবে কর্ম এবং মানবতা।

বুদ্ধ শাসন চিরজীবি হোক ।

সম্মন্ধে SNEHASHIS Priya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

পূজনিয় শরনংকর বনাম ডঃ হাছান মাহমুদ বা এরশাদ শিরোনামটা শতভাগ সঠিক নয়

(লেখাটি যে কোন কেউ ছাপাতে পারেন আমার অনুমতির প্রয়োজন নাই) পূজনিয় শরনংকর বনাম ডঃ হাছান …

Leave a Reply