ব্রেকিং নিউজ

পূজ্য বনভান্তের ভবিষ্যত বাণী এবং কিছু কথা

উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু : স্বীয় অন্তরের মধ্যে যেসব ভিক্ষুসংঘকে পরম শ্রদ্ধায় লালিত করি তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন পূজ্য সাধক সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে)।ভান্তেকে অরহৎ বা অরহৎ নয় সেই দৃষ্টিতে আমি দেখিনা, আমি দেখি তাকে বৌদ্ধ পুনর্জাগরণের এক পুরোধা হিসেবে। আর তাই আমার মনের সুপ্ত কুশল চেতনা পূরণ করতে গিয়ে যখন শ্মশানভূমি ধ্যানচর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজে হাত দিই তখন পূজ্য বনভান্তের নামে সেখানে একটি ধ্যান কুটির নির্মাণ করি। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিনে তারই ৪১জন শিষ্যকে নিয়ে আসি ঐ কুটিরটি উদ্বোধন করার জন্য।


দিনটি ছিল ২০১১ সালের ০১ এপ্রিল।সেদিন শতাধিক ভিক্ষু উপস্থিত থেকে প্রার্থনা কক্ষ, চংক্রমণঘর সহ আরো দুটি ধ্যান কুটিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।এই অনুষ্ঠানটি করতে গিয়ে এক মহাবিপদে পড়ে যাই সেটা হচ্ছে- অনুষ্ঠানের আগের এক সপ্তাহ একটানা প্রতিদিনই কোন না কোন সময়ে বৃষ্টি হচ্ছে। আমরা করইয়ানগর গ্রামবাসী ১০হাজার মানুষের খাওয়া ও সদ্ধর্ম শ্রবণের জন্য সুব্যবস্থা করি। কিন্তু অনুষ্ঠানে যদি বৃষ্টি হয় তবে সব কিছুই পন্ড হয়ে যাবে প্রতিনিয়ত এই ভয় মনে কাজ করছিল আবার অনুষ্ঠানটির প্রস্তাব যেহেতু আমি-ই করেছিলাম তাই কোন কারণে পন্ড হলে কি হবে সেই ভেবে ভয়টা আমার মধ্যে একটু বেশী-ই কাজ করছিল।


যাই হোক মনে সাহস নিতাম এই বলে যে এতো বড় পুন্যময় কাজ করতেছি রক্ষা পাবোই কোন না কোন ভাবে। যাই হোক অনুষ্ঠানের আগের দিন রাতে সন্ধ্যা ০৭টা থেকে বৃষ্টি শুরু হল একটানা চলছেই এবার সবাই আশা ছেড়ে দিল যে পরদিন অনুষ্ঠান হবে কারণ আমাদের পুরো আয়োজনও ছিল জমির মধ্যে যেখানে পানি জমে যেত। একজন কিন্তু সে সময় অভয় দিল। তিনি আর কেউ নন পুজ্য বনভান্তে। রাজবন বিহারে একটা প্রথা ছিল যে পরদিন সকালে কোথাও যাওয়ার আগে রাতে শিষ্যরা ভান্তের সাথে দেখা করতেন অনুমতি নিতেন। এক্ষেত্রেও তাই হল পূজ্য ভান্তের কাছে শিষ্যরা গেল অনুমতি নিতে সাথে বৃষ্টির শঙ্কার কথাও উল্লেখ করলেন। পূজ্য ভান্তে তাদের জানালেন যে, রাত ১০টার পর হতে বৃষ্টি হবেনা তোমরা নিঃসঙ্কোচে যাও। বাস্তবেই তাই ঘটলো।
আমাদের গ্রাম থেকে যে দুজন ব্যক্তি আনতে গিয়েছিলেন ভান্তেদের তারাই খবর গুলো আমাদের জানালেন। বাস্তবেও তার হাতে নাতে প্রমাণ পাওয়া গেল। রাতে ১০টা পর্যন্ত এত বৃষ্টি হলো অথচ সকালে জমিতে কোন পানি নেই বললেই চলে। অনুষ্ঠানের দিন বৃষ্টি তো দুরে থাক প্রচন্ড রোদে যেন সবাই কাহিল হয়ে পড়লাম। সতিপট্ঠান সূত্র পাঠের পূর্বাহ্নে দেখি অনেকের হাতে পাখা গরমে অবস্থান করা দায়। অথচ যেই সুত্রপাঠ শুরু হল সাথে সাথে হঠাৎ করে এমন বাতাস আসলো যে পুরো পরিবেশই ঠান্ডা করে দিলো সবাই নীরবে সূত্রপাঠ করলো।


অনুষ্ঠান শেষ হলো আমাদের চাওয়া অনুসারেই কোন বিঘ্নতা ছাড়াই। পূজ্য বনভান্তের সেইদিনের ভবিষ্যতবাণী তথা অভয় বাণীর কথা শুনলে আজো গায়ে শিহরণ জাগে। বর্তমানে দেখা যায় কতজন কত ভাবে পুজ্য ভান্তের প্রশংসার পাশাপাশি নিন্দাও করে। শুধু এটুকুই বলতে চাই বৌদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে পুজ্য ভান্তের অবদান কখনোই ভুলার নয়, নিন্দুকেরা যতই নিন্দা করুক। পুজ্য ভান্তের পাদমূলে নতশিরে বন্দনা জানাচ্ছি।

bano-vante

সম্মন্ধে Uzzal Barua Basu

এটা ও দেখতে পারেন

পূজনিয় শরনংকর বনাম ডঃ হাছান মাহমুদ বা এরশাদ শিরোনামটা শতভাগ সঠিক নয়

(লেখাটি যে কোন কেউ ছাপাতে পারেন আমার অনুমতির প্রয়োজন নাই) পূজনিয় শরনংকর বনাম ডঃ হাছান …

Leave a Reply