ব্রেকিং নিউজ

দুষ্টামি করে কিছু করলে সেটা কি পাপ?-ইলা মুৎসুদ্দী

দুষ্টামি করে কিছু করলে সেটা কি পাপ হয়? জানতে চাইলে পড়ুন লেখাটি। সেদিন একটি ধর্ম বই পড়তে গিয়ে জানলাম আমরা দুষ্টামি করে কতকিছুই না বলে ফেলি কিংবা করে ফেলি। কিন্তু তার পরিণতি যে ভয়ানক হতে পারে সে সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণাই নেই। গল্পটাই বলি।
এক রাজ্যে একজন মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন রাজা ছিলেন। তিনি ইহকাল-পরকাল কিছুই বিশ্বাস করতেন না। কর্ম-কর্মফল বিশ্বাস করতেন না। সেই রাজ্যের এক গরীর লোকের একজন সুন্দরী স্ত্রী ছিল। একদিন রাজা গ্রামের এক অনুষ্ঠানে সেই সুন্দরী মহিলা-কে দেখে পাগলপ্রায় হয়ে গেলেন। কিভাবে সেই সুন্দরী রমণীকে পেতে পারেন এই ভেবে তিনি মন্ত্রীকে বললেন, খবর নিয়ে দেখুন, মহিলাটি কোথায় থাকে? খবর নিয়ে জানা গেল এক গরীব লোকের স্ত্রী ঐ সুন্দরী রমণী। যাই হোক স্বামী-কে রাজ দরবারে ডেকে আনা হল। স্বামী ছিল খুবই ধার্মিক ব্যক্তি। রাজা উক্ত লোকটিকে রাজদরবারে চাকুরী দিতে চাইল। কিন্তু গরীব লোকটি বলল, আমাকে আপনি অন্য যে কোন কাজ দেন করে দেব, তবু রাজদরবারে আমি কোন কাজ করতে পারব না। কারণ আমি রাজদরবারে কাজের উপযুক্ত নই। একথায় রাজা খুবই বেকায়দায় পড়ে গেলো। অবশেষে রাজা ফন্দি করল, পাহাড়ের পাদদেশে একটি পুকুর আছে, ঐ পুকুর থেকে একটি পদ্মফুল এবং পুকুরের লাল মাটি আনতে বলল। রাজা এও বলল, বিকালের আগে যদি এসব নিয়ে ফিরতে না পারে তাহলে তাকে অবশ্যই হত্যা করা হবে। এদিকে রাজা নগররক্ষীকে বলে রাখল বিকাল হবার পূর্বেই নগরের দ্বার বন্ধ করে দিতে। এদিকে যেহেতু গরীব লোকটি পুণ্যবান তাই কোনরকম ভীত না হয়ে ঐ পাহাড়ের পাদদেশে গেল। কিন্তু যে পুকুর থেকে পদ্মফুল তুলবে সেই পুকুরে আছে একজন বাঘারাক্ষস। খুবই ভয়ংকর। ঐখানে পৌঁছে লোকটি খাবার খেতে বসল। তার আগে লোকটি প্রথমে পুকুরের দেবতাদের উদ্দেশ্যে অল্প ভাত দান করে সেই পুণ্যরাশি সকলকে দান করল মৈত্রীচিত্তে। তখন বাঘারাক্ষস তার এই পুণ্যময় কাজ দেখে সন্তুষ্ট হলো। গরীব লোকটির ভাত খাওয়া শেষ হলে বাঘারাক্ষস মানুষের রূপ ধরে এসে জিজ্ঞেস করল, ভাই তুমি এখানে কেন এসেছ? তখন লোকটি বলল, আমার একটি পদ্মফুল এবং পুকুরের লাল মাটি লাগবে । তখন বাঘারাক্ষস বললো, কোন অসুবিধা নাই। তুমি নিয়ে নাও। গরীব লোকটি পদ্মফুল আর মাটি নিয়ে বিকালের অনেক পূর্বেই নগরীতে পৌছে গেল। কিন্তু রাজা কুমতলবে নগরীর দ্বার বন্ধ করে রাখল। এখন গরীব লোকটি একজন সাক্ষী খুঁজতেছে। কারণ সে যে বিকালের পূর্বে এসে গেছে সেটা রাজাকে বলতে হবে তো। দেখল একপাশে একজন আসামীকে হাত পা বাধা অবস্থায় রাখা হয়েছে। তখন গরীব লোকটি তাকে বলল, ভাই তুমি সাক্ষী থেকো। আমি যে ঠিক সময়ের আগেই চলে এসেছি। তখন আসামী বলল, একটু অপেক্ষা করুন। এখানে একজন দেবতা আসবেন। আপনি উনাকে সাক্ষী হিসাবে রাখতে পারবেন। ঠিকই দেবতা আসল কিছুক্ষণ পর। দেবতাকে সব কথা খুলে বলল গরীব ধার্মিক লোকটি। দেবতা সাক্ষী দিতে রাজী হয়ে গেল এবং বলল আগামীকাল বিকালে আমি সাক্ষী দিতে আসব।
পরদিন সকালে রাজা নগরের দ্বার খুলে গরীব লোকটিকে বলল, তুমি ঠিক সময়ে আসতে পারনি, তাই তোমাকে হত্যা করা হবে। তখন গরীব লোকটি বলল, আমি যে সঠিক সময়ে এসেছি সেই সাক্ষী দেয়ার জন্য একজন দেবতা আসবেন। তজ্জন্য বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। রাজার কেমন জানি সন্দেহ হল। দেবতা আসবেন বলেছে, ঠিক আছে অপেক্ষা করে দেখি। দেখা গেল ঠিকই বিকালে হঠাৎ করে চারিদিক আলোকিত করে একটি সুন্দর ধবধবে সাদা ঘোড়ায় চড়ে ঋদ্ধিমান দেবতাটি আসলেন। এসে রাজাকে বললেন, ঠিক সময়ের পূর্বেই গরীব লোকটি পদ্ম ফুল আর মাটি নিয়ে নগরের বাইরে এসেছিল। কিন্তু তার আগেই নগরের দ্বার বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। যাই হোক, দেবতা বলে কথা, রাজা একটু বিশ্বাস করলেন। এখন রাজা দেবতাকে প্রশ্ন করলেন, আপনি কোন পুণ্যের ফলে এরকম ঘোড়া এবং রূপ ঐশ্বর্য লাভ করেছেন?
তখন দেবতা বললেন, আমি মনুষ্যজন্মে থাকাকালীন খুবই গরীব একজন দোকানদার ছিলাম। কিন্তু সবসময় শীল পরিপূর্ণ রাখার চেষ্টা করতাম। মানুষের মতো দান করার সামর্থ্য ছিল না। একদিন অনেক মানুষ ধর্মদেশনা শুনতে যাচ্ছিল। দেখলাম রাস্তায় বৃষ্টি পড়ে অনেক কাদা জমে গেছে। সেই কাদার উপর দিয়ে বৃদ্ধ লোকদের যেতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল। তাদের কষ্ট দেখে একটি মরা গরুর মাথার খুলি এনে কাদার উপর দিয়েছিলাম যাতে বৃদ্ধ লোকেরা কষ্ট না পেয়ে ভালোভাবে ধর্ম শুনতে যেতে পারে। তারা যে ভালোভাবে যেতে পারছে তা দেখে আমি খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম। সেই আনন্দ আমার সারাজীবন ছিল এমনকি মৃত্যুর পূর্বে ও ছিল তাই এরকম ঘোড়া লাভ করেছি। তখন রাজা আবার প্রশ্ন করল, আপনি আসার সাথে সাথেই চারিদিকে অদ্ভুদ একটা সুগন্ধি। কেন? তখন দেবতা বললেন, আমি শীল প্রতিপালন করতাম পরিপূর্ণভাবে সেজন্য এই সুগন্ধি। সবশেষে রাজা বললেন, যদি কিছু মনে না করেন আপনার সব আছে কিন্তু আপনার শরীরে কেন কাপড় নেই কেন? তখন দেবতা বললেন, এক সময়ে আমি আর আমার বন্ধুরা মিলে একটি পুকুরে স্নান করছিলাম। আমি তাড়াতাড়ি স্নান সেড়ে উঠে যাবার অজুহাত দেখিয়ে বন্ধুদের কাপড় লুকিয়ে রেখেছিলাম। সেই পাপের ফলে আমার এখন কাপড় নেই। তখন দেবতা রাজাকে বললেন, আপনি যদি ভিক্ষুসংঘকে কাপড় দান করে আমাকে পুণ্য দান করেন তাহলে আমি কাপড় প্রাপ্ত হবো। দেখুন বন্ধুদের সাথে দুষ্টামি করেছিল, তার কী ফল হয়েছিল? দেবলোকে উৎপন্ন হবার পরেও কাপড় পায় নাই। তাই আমাদের সচেতন থাকতে হবে, কথা বলতে কিংবা কিছু করতে। দুষ্টামি করে করলেও সেটা পাপের মধ্যে গণ্য হয়। আজ থেকে তাই আর কোন ভুল নয়।

সম্মন্ধে SNEHASHIS Priya Barua

এটা ও দেখতে পারেন

তুমি রবে নীরবে —— সাহিত্য ভাষ্কর বিমলেন্দু বড়ুয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী

  তুমি রবে নীরবে সাহিত্য ভাষ্কর বিমলেন্দু বড়ুয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী ইলা মুৎসুদ্দী আলোক ছড়ায় আলোকিত …

Leave a Reply