ব্রেকিং নিউজ

বয়োবৃদ্ধ এবং অসুস্থ ভিক্ষুদের জন্য করণীয় কী হতে পারে?

বয়োবৃদ্ধ এবং অসুস্থ ভিক্ষুদের জন্য করণীয় কী হতে পারে?

ইলা মুৎসুদ্দী

15

 

লেখাটি পড়ে সকলেই সুচিন্তিত মতামত দিবেন এই প্রত্যাশা করছি।

আমরা অনেক বিষয় নিয়েই কথা বলি কিন্তু কখনো বয়োবৃদ্ধ এবং অসুস্থ ভিক্ষুদের কথা চিন্তা করি না। তাদেঁর জন্য করণীয় কী হতে পারে এই বিষয়ে ভাবি না। দেখা যায় একজন গৃহী যখন বয়ষ্ক হয়ে যায়, অসুস্থ হয় তখন পরিবারের লোকজন তার দেখাশুনা করে। কিংবা করতে বাধ্য হয়। কারণ বয়ষ্ক অসুস্থ মানুষটাকে তো আর অবহেলা করা যাবে না। যখন যেটা প্রয়োজন সেটা দেয়া হয়। বৃদ্ধ মানুষের যখন বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়, তখন তাদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, অকারণে বেশী কথা বলে, মলমূত্র ত্যাগের সময় আসলে বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী হলে বিন্দুমাত্র অপেক্ষা করতে পারে না। কখন কী করতেছে, কী খাচ্ছে নিজেই জানে না। খাবার খেলেও বলেন যে খাননি। অর্থাৎ রুটিনমাফিক কিছুই করার মতোন অবস্থা তখন তাদের থাকে না। যার জন্য পরিবারের সবাই খুবই বিরক্ত হয় বয়ষ্ক মানুষটির উপর। তখন সেই বৃদ্ধ অসুস্থ মানুষটির জন্য প্রয়োজন হয় একটু সেবাযত্ন। অনেকেই কিন্তু সেই যত্ন আত্তি করেন পরিবারের বয়ষ্কদের। কিন্তু ভিক্ষুদের বেলায় কী হয়? আজকাল তো গ্রামে ছেলেরা প্রায় থাকে না বললেই চলে। সবাই পড়ালেখা নিয়ে, চাকুরী নিয়ে শহরে কিংবা দেশের বাইরে অবস্থান করছে। কখন একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান হবে কিংবা কঠিন চীবর দান হবে তখন সময়ে সকলেই দল বেধে গ্রামে আসে। অন্য সময় একটা ছেলে বেকার পাওয়া মুশকিল। আগেকার সময়ে যেহেতু বেশিরভাগ মানুষ গ্রামেই থাকতো, তখন বিহারের সংষ্পর্শেই থাকতো গ্রামবাসীরা বিশেষ করে পুরুষরা। যার জন্য বিহারের কোন ভিক্ষু অসুস্থ হলে তাঁর চিকিৎসা এবং যত্নের কোন ত্রুটি থাকতো না। কিন্তু এখন সবখানেই কেমন প্রাণহীন জনশুণ্য অবস্থা। এরকম শহরাঞ্চলেও দেখা যাচ্ছে। সবাই ব্যস্ত যার যার পড়ালেখা, চাকুরী আর বিবিধ কাজকর্ম নিয়ে। বিহারে কোন পার্বন বা অনুষ্ঠানে ছাড়া যাওয়া হয় না। এজন্য দেখা যাচ্ছে কোন ভিক্ষু বিশেষ করে বয়ষ্ক ভিক্ষু যারা আছেন বিহারের অধ্যক্ষ হিসাবে বা পরিচালক হিসাবে তাদেঁর দেখাশোনা করার মতো তেমন কেউ নেই। কারণ সব বিহারে শ্রমণ কিংবা সেবক ছেলে থাকে না। থাকলেও কমবয়সী হওয়ায় তারা তাদের মতোই থাকে। বয়ষ্ক অসুস্থ ভিক্ষুকে সেবা করার মতোন শ্রমণ বা সেবক খুব কমই দেখা যায়।

এজন্য বয়োবৃদ্ধ এবং অসুস্থ ভিক্ষুদের জন্য একটি বৃদ্ধ ভিক্ষু সেবা সদন করা যেতে পারে। যখন কোন বৃদ্ধ ভিক্ষু অসুস্থ হয়ে পড়বে তখন সেই ভিক্ষুকে উক্ত সেবা সদনে রেখে চিকিৎসা, সেবা যত্ন করা যেতে পারে। হয়তো অনেকেই বলবেন ফান্ড করা যেতে পারে। ফান্ড করার চাইতে স্থায়ী সুব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যাতে করে সবসময় যে কোন অসুস্থ ভিক্ষুকে উক্ত সেবা সদনে রাখা এবং চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা যেতে পারে। আমাদের বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দ এবং সংঘরাজ ভিক্ষু মহামন্ডল সহ অন্যান্য ভিক্ষু নেতৃবৃন্দের নিকট এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

পূজনিয় শরনংকর বনাম ডঃ হাছান মাহমুদ বা এরশাদ শিরোনামটা শতভাগ সঠিক নয়

(লেখাটি যে কোন কেউ ছাপাতে পারেন আমার অনুমতির প্রয়োজন নাই) পূজনিয় শরনংকর বনাম ডঃ হাছান …

Leave a Reply