ব্রেকিং নিউজ

হিংসা,বিদ্ধেষ,মোহ মনে বিদ্যামান থাকলে দান ধর্ম কোন কাজে আসবে না। -সুমন রাজ

হিংসা, বিদ্বেষ,মোহ মনে বিদ্যমান থাকলে দান-ধর্ম,কোন কাজে আসবে না
========================================

দান ধর্ম,পূর্ণ্যময় কুশল কর্ম পূর্বের তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশী করা হচ্ছে।দান ধর্ম,কম করে ও পূর্বকার মানুষ গুলো বেশী সুখ শান্তিতে থাকতো।আগের কার চাহিদা ছিলো সীমিত।আর বর্তমানকার মানুষের চাহিদার অন্ত নাই। বর্তমানে সুখ শান্তি নাই যেনো কোথায়? চাহিদা ও ভোগের কারণে সুখটা যেনো আসি আসি বলে ফাঁকি দিচ্ছে। ভোগ বা চাহিদা,নিয়ন্ত্রণ করার কারণে সুখ শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে নিয়ত।”তথাগত বু্দ্ধ বলছেন ভোগে দুঃখ-,ত্যাগে সুখ”।আমরা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হয়ে কতটা ত্যাগ করতে পারছি?

ধর্ম আর্দশ জীবন গড়ার এক মহাঔষধ।সুখ শান্তিতে থাকার এক উত্তম পন্থা।মনে যদি সংযম, অস্থিরতা,ঘৃনা,বিদ্বেষ,লোভ থাকে যতই দান ধর্ম করেন না কেনো সব বিফলে যাবে।দেখা যায় অনেকে কোন বিপদে বা রোগে,শোকে কষ্ট পাচ্ছে তখন বিহারে গিয়ে নানা ধরনের মানত করে গলার সমস্ত শক্তি দিয়ে -( ও বুদ্ধ) ডাকছে। মনে হয় আকাশে বুদ্ধ আছে জোড়ে ডাকলে বা মানত করলে সকল বিপদ হতে মুক্তি মিলবে।কিন্তুু সুখে থাকার সময় বুদ্ধকে ডাকার সময় হয় নি। মনে হিংসা, ভোগ, বিদ্ধেষ রেখে বুদ্ধকে ডেকে গলা পাঠান বুদ্ধ শুনবে কি ডাক? অষ্টমী তিথী বা পূর্ণিমায় বিহারের যায় অনেকে অষ্টশীল নিতে। মনটা পড়ে আছে ঘরে – গুরুর বাছুরটা দুধ সব খেয়ে ফেললো। ডিম দেওয়া মুরগিটা ডিমটা ঘরে দিচ্ছে না বাইরে দিচ্ছে এই ধরনের কত না চিন্তা।হবে কি পালন অষ্টশীল?হাতে মালা,জপ করছে,মুখে গাথা বিড়বিড় করছে,বুকে হিংসা,ভোগের কামনা কি হবে বলেন এমন জপ আর সূত্র, গাথা??

বড় কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডিগ্রী অর্জন করলে আমরা তাকে জ্ঞানী বলি থাকি। বড় লোকেরা ভালো পুষ্টিকর খাবার খেয়ে নানা অসুখ বিসুখে ভুগছে। পক্ষান্তরে গরীবরা কোন মতে খেয়ে সুখে আছে। ধর্ম জ্ঞানে যদি শিক্ষিত না হলে বড় বড় ডিগ্রী গুলো বড় লোকদের পুষ্টিকর খাবারের মত রুপ নেবে।
মনের সংযম, ক্রোধ,ঘৃনা,বিদ্বেষ ত্যাগের মহিমায় ধর্ম করতে হবে। তা না হলে সকল দান, ধর্ম কর্ম করা অর্থহীন হবে। জ্ঞানী না হলে ডিগ্রী গুলো যেমন কোন কাজে আসবে না,তেমনি মনে যদি একাগ্রতা না থাকে,লোভ, হিংসা, মোহ থাকে দান ধর্ম বৃথা যাবে। মিলবে না সুখ শান্তি। কায়-বাক্য-মন সংযম লোভ-দ্বেষ,মোহ ত্যাগ করে দান ধর্ম কর্মে নিয়োজিত রাখতে হবে।এতেই হবে দুর্লভ মানব জীবনের সার্থকতা,মিলবে মুক্তির ঠিকানা, সুখ নামের সোনার হরিণটা আসবে ঘরে।সকলের শুভ চেতনা উৎপন্ন হোক।ধর্ম জ্ঞানে জ্ঞানী হোক।হিংসা, বিদ্ধেষ ভুলে দান ধর্ম হোক।বৌদ্ধ ধর্ম শ্রীবৃদ্ধি হোক।
“জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক”।

লেখক পরিচিতিঃ
সুমন রাজ(কুয়েত প্রবাসী)
বৌদ্ধ ধর্মীয় তরুণ লেখক।

Leave a Reply