ব্রেকিং নিউজ
bapy2
bapy2

কী করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়? – স্নেহাশীষ প্রিয় বড়ুয়া

bapy2
কী করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়? –  স্নেহাশীষ প্রিয় বড়ুয়া
পঞ্চাশোর্ধ এ জীবনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রশ্ন আমাকে যখন নাড়া দিয়েছে তখন তার উত্তর খোজার চেষ্টা করেছি বুদ্ধ নিসৃত বানীতে, বুদ্ধ শিক্ষায় । তার উত্তর হিসেবে যা পেয়েছি তা সন্নিবেশ করেছি এই বইয়ে তা হলে কি দাড়ালো এ বইয়ের একটি বিষয়ের উওর ও আমার (আমি নামক নাম ও রুপের সমষ্টির) নয় অতএব কৃতিত্ব ও আমার নয় । তবে এ লেখার প্রয়োজনীয়তা কি – উত্তর হিসেবে দেখেছি বর্তমানে আমদের মধ্যে নির্বানের প্রতি উৎসাহের সংখ্যা বেড়েছে যা ফেইসবুক ও অন্যান্য সোশাল মিডিয়া কিংবা বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন এ বিষয়ে যা দেখছি তার পরিমান থেকে এর প্রয়োজনীয়তা সহজ বোধ্য । যা করার চেষ্টা করেছি তা হচ্ছে বুদ্ধ শিক্ষার বিভিন্ন অংশ দিয়ে ছবি আকার চেষ্টা তাই আজ এর শুরু করেছি বুদ্ধ কী ভাবে প্রশ্নের উত্তর দিতেন তা দিয়ে ।
পালি মধ্যম নিকায়ে {৬৩। চূল মালুঙ্ক্য সূত্র (২। ২। ৩)} উল্লেখ আছে যে ভগবান বুদ্ধ কিছু দেশনায় ১০ টি প্রশ্নের উত্তরে নীরবতা পালন করেন বা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নাই (avyākata) বলে অভিহিত করেছেন । প্রশ্নগুলো হচ্ছে নিম্নরুপঃ
১) জগৎ শাশ্বত ?
২) জগৎ শাশ্বত নয় ?
৩) জগৎ অসীম (স্থান সংক্রান্ত) ?
৪) জগৎ অসীম নয় (স্থান সংক্রান্ত) ?
৫) আত্মা ও শরীর এক ?
৬) আত্মা ও শরীর এক নয় ?
৭) মৃত্যুর পর তথাগতের (বুদ্ধের) অস্থিত্ব বা আত্না বিদ্যমান থাকে ?
৮) মৃত্যুর পর তথাগতের (বুদ্ধের) অস্থিত্ব বা আত্না বিদ্যমান থাকে না ?
৯) মৃত্যুর পর তথাগতের (বুদ্ধের) অস্থিত্ব বা আত্না বিদ্যমান থাকে এবং থাকে না ?
১০) মৃত্যুর পর তথাগতের (বুদ্ধের) অস্থিত্ব বা আত্না বিদ্যমান থাকে ও না, না থাকে ও না ?
ভগবান বুদ্ধ প্রশ্নগুলির কোন উত্তর দেন নি । প্রশ্নগুলির অবাস্তবতাই অব্যাখ্যার কারণ । প্রশ্নকর্তারা যেন আকাশকুসুমের রং বুঝিতে চাহেন । জানিতে চাহেন, তাহাদের গন্ধ আছে কিনা । আত্মার অস্থিত্ব বা না অস্থিত্ব সম্বন্ধে বৌদ্ধমত হইতেছে যে, উহা একেবারে অবাস্তব । আকাশকুসুমের ন্যায় । জগৎ বিকল্প মাত্র । উহার নিত্যতা বা অনিত্যতার প্রশ্ন উঠে না । সেইজন্য এই ধরণের প্রশ্নকে তিনি ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নাই বলিয়া ক্ষান্ত হইয়াছেন । ভগবান বুদ্ধের মতে এই ধরণের প্রশ্নের সমাধানে প্রশ্নকর্তা মুক্তি পায় না । তাঁহার মেধাশক্তির অপব্যয় হয় মাত্র ।
যে সকল বিষয় আলোচনা করিয়া আত্মোন্নতির কিংবা পরোপকারের সম্ভাবনা নাই, সে সকল বিষয় চর্চা করা তিনি নিরর্থক মনে করিতেন । এই কারণে এই প্রশ্নগুলি তিনি অ-আখ্যায়িত রাখিয়াছেন। সেই সুত্রের শেষ অংশে তথাগত যা বলেছেন তা নিম্নরুপঃ
“কি কারণে ইহাদিগকে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নাই বলিয়া ক্ষান্ত হইয়াছি ? মালুঙ্ক্যপুত্র! ইহা (এই দৃষ্টি ও ইহাদের ব্যাকরণ) অর্থ সঙ্গত নহে, আদি ব্রহ্মচর্যের (শীল সংযমের) উপকারী নহে, আর ইহা (সংসারাবর্তে) নির্বেদের, বৈরাগ্যের, নিরোধের, ক্লেশ উপশমের, অভিজ্ঞতার, (চারি লোকোত্তর মার্গরূপ) সম্বোধির ও অসংখত নির্বাণধাতু সাক্ষাতকারের নিমিত্ত সংবর্তিত হয় না; এই কারণেই আমি ইহাদিগকে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নাই বলিয়া ধারন করিয়াছি”
“মালুঙ্ক্যপুত্র! আমার ব্যাখ্যা কি? (১) ইহা দুঃখ, ইহাকে আমি ব্যাখ্যা করিয়াছি । (২) ইহা দুঃখসমুদয় (দুঃখের কারণ), ইহাকে আমি ব্যাখ্যা করিয়াছি । (৩) ইহা দুঃখ নিরোধ ও (৪) ইহা দুঃখ নিরোধগামিণী প্রতিপদা এই চারি আর্যসত্যকে আমি ব্যাখ্যা করিয়াছি । মালুঙ্ক্যপুত্র! কেন আমি এই আর্যসত্য ব্যাখ্যা করিয়াছি ? মালুঙ্ক্যপুত্র! ইহা অর্থ সঙ্গত, ইহা ব্রহ্মচর্যের আদিভূত নিদান; (আর) ইহা নির্বেদ, বিরাগ … নির্বাণের নিমিত্ত আবশ্যকীয় । এই কারণে আমি আর্যসত্য সর্বতোভাবে ব্যাখ্যা করিয়াছি। তজ্জন্য মালুঙ্ক্যপুত্র! আমার ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নাই কে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নাই হিসাবে ধারণ কর, আর আমার ব্যাখ্যাকে ব্যাখ্যা হিসাবে ধারণ কর । ” – আয়ুষ্মান মালুঙ্ক্যপুত্র ভগবানের ভাষণ অভিনন্দন করিলেন।
এ পর্যন্ত এসে মনে হল বিষয়টির উপস্থাপনা পূর্ন হয়নি তাই এ বিষয়ে আর ও একটি উদৃতি সংযুক্ত নিকায়ের অনুরাধা সুত্র থেকে যোগ করছি যা নিম্নরুপঃ
যখন একদল সন্যাসী বুদ্ধের কিছু শিষ্যকে, বুদ্ধের মৃত্যুর পরে বুদ্ধের অস্থিত্ব থাকে কিনা করে উত্তরে অসন্তোষ প্রকাশ করত অনুরাধা তা বুদ্ধকে গোচর করেন । এ বিষয়ের শুরুতেই বলে রাখা ভালো, বুদ্ধ কিন্তু সবার সব প্রশ্নের উত্তর দেননি কারন যেখানে প্রশ্নকর্তার উত্তর বোঝার অবস্থান নেই কিংবা যে প্রশ্নটি বুদ্ধকে করা হয়েছে তা সঠিক প্রশ্ন নয় । যেমন একজন প্রশ্নকর্তা যিনি চর্তু আর্য সত্য উপলব্দি করেননি তাকে শুধু চর্তু আর্য সত্য শব্দ উচ্চারন করে প্রতিউত্তর দিলে তিনি এর মর্মাথ বুঝবেন না যেমন একজন স্বাভাবিক ব্যক্তি নিজ চোখে আকাশ দেখে আকাশকে যেভাবে দেখেন তা কি জন্ম থেকে একজন অন্দ্ব ব্যক্তিকে সেভাবে আকাশ দেখানো সম্ভব ?
উপরে যেভাবে দেখেছি এ প্রসংগে বুদ্ধের নীরবতা এখানে কিনতু তা ঘটেনি বরং বুদ্ধ অনুরাধার বোঝার প্রজ্ঞাকে অনুধাবন করে যা বলেছিলেন তা নিম্নরুপঃ
হে অনুরাধা , রুপ ( রুপা ) স্থায়ী বা অস্থায়ী ?
অনিত্য , তথাগত ।
যা অনিত্য তা কি বেদনাদায়ক না আনন্দদায়ক ?
বেদনাদায়ক, তথাগত ।
যেটা অনিত্য, বেদনাদায়ক এবং পরিবর্তনশীল: ‘ এই আমার; এই আমি , এই আমার আত্মা এটা স্থায়ী পদার্থ ? – মনে করা সঠিক?
এটা সঠিক নয় , তথাগত ।
… অতএব সঠিক উত্তর হবেঃ আমি, আমার বলে কিছু নেই, এটা আমার আত্না নয় … নির্বানের মাধ্যমে আমি, আমার, জন্ম ও মৃত্যুকে ক্ষয় করেছি।
তোমার কি মনে হয় , অনুরাধা , তুমি কী তথাকথিত রুপকে তথাগত বিবেচনা কর? ‘
না তথাগত ।
হে অনুরাধা , তুমি কী রপের মধ্য কোন তথাগতকে দেখতে পাচ্ছো ?
না তথাগত ।
তুমি কি রুপ থেকে দূরে সরাইয়া একটি তথাগত আছে দেখতে পাচ্ছ?
না তথাগত ।
তুমি কী অনুভূতি , উপলব্ধি , গঠনমূলক প্রবণতা , এবং চেতনায় একটি তথাগতকে দেখতে পাচ্ছ?
না তথাগত ।
তুমি কী রুপ, অনুভূতি , উপলব্ধি , গঠনমূলক প্রবণতা , এবং চেতনার বাহিরে একটি তথাগতকে দেখতে পাচ্ছ?
না তথাগত ।
এখন , অনুরাধা , যেহেতু তথাগকে সাধারন ব্যাখাত অভিধানে খুজে পাওয়া যাবে না, ( কারণ শারীরিক শরীর তথাগত নয় ) এটা কি সঠিক: এই বলে নিম্নোক্ত চারটি প্রস্তাবের প্রদর্শন করেছেন :
১) মৃত্যুর পর তথাগতের (বুদ্ধের) অস্থিত্ব বা আত্না বিদ্যমান থাকে ?
২) মৃত্যুর পর তথাগতের (বুদ্ধের) অস্থিত্ব বা আত্না বিদ্যমান থাকে না ?
৩) মৃত্যুর পর তথাগতের (বুদ্ধের) অস্থিত্ব বা আত্না বিদ্যমান থাকে এবং থাকে না ?
৪) মৃত্যুর পর তথাগতের (বুদ্ধের) অস্থিত্ব বা আত্না বিদ্যমান থাকে ও না, না থাকে ও না ?
না তথাগত ।
অনুরাধা অতীতে এবং এখন আমি ব্যাখ্যা করেছি দুঃখ সত্য, দুঃখের কারন সত্য, দুঃখ নিরোধ সত্য এবং দুঃখ নিরোধের উপায় সত্য ।
এ পর্যন্ত এসে মনে হল বিষয়টির সাথে বুদ্ধের তিন কায়ার পরচিতি দিলে কেমন হয় যা নিম্নরুপঃ
বুদ্ধের তিনটি কায়া বা শরীরঃ
(১) নির্মান কায়া বা রুপ কায়া (বোধিসত্ব লাভের পুর্বে ও যে কায়া ছিল তাকে বোঝানো হয়েছে অতএব প্রত্যেক বুদ্ধের ক্ষেত্রে এই কায়া ভিন্ন ভিন্ন বা বহু)
(২)ধর্ম কায়া (বোধিসত্ব লাভে যে কায়ার সৃষ্টি তাকে বলা হচ্ছে, বুদ্ধের যে শিক্ষা আজ আমাদের পাথেয় তা এই ধর্ম কায়া থেকেই উদ্ভুত। এখন প্রশ্ন কীভাবে বুঝবো এই কায়াকে । এ বিষয়ে বুদ্ধ বলেছেন , যে ধর্ম চক্ষুর দ্বারা ধর্মকে দেখতে পায় সে তথাগতকে দেখতে পায়, যে তথাগতকে দেখতে পায় সে ধর্মকে দেখতে পায় – (সংযুক্ত নিকায়)। এই উক্তির মাধ্যমে আমরা এও বুঝতে পারি যে, তবে সব বুদ্ধের ক্ষেত্রে এই ধর্ম কায়া এক অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন রকম নয় কারণ বোধিসত্বের রুপ একি রকম । এ থেকে আমরা এও বুঝতে পারছি জীবিত থাকা অবস্থাতেই এই দুটি কায়া সহাবস্থান করে । এর পার্থক্য আর ও পরিস্কার হয়ে ওঠে মহায়না মতে যখন বলা হয় বুদ্ধের মহা পরিনির্বানের পরে ও এ ধর্ম কায়া জাগ্রত থাকে ।
(৩) সম্ভোগা কায়া – মহাযান দর্শনে বলা হয়েছে “সম্ভোগ কায়ার (Sambhoga – Kaya) কথা ”, যে কায়ার মাধ্যমে বুদ্ধ আনন্দের সাথে সত্যের শিক্ষা দিয়ে অন্যদের সত্য উপলব্ধিতে সহায়তা করেছেন । এই নিঃস্বার্থ , বিশুদ্ধ , আধ্যাত্মিক আনন্দকে কামুক আনন্দ দিয়ে তুলনা করা যায় না। এ বিষয়ে আচার্য বুদ্ধঘোষ বিশুদ্ধিমার্গ গ্রন্থে লিখেছেন, বুদ্ধ রুপকায়াতে আশিটি ছোটখাট এবং বত্রিশটি মহান মানুষের প্রধান লক্ষণ আছে , এবং ধর্মকায়া সমস্ত অর্থে শুদ্ধ এবং শীল , সমাধি , প্রজ্ঞা , আলোয় আলোকিত এবং সর্ব গুনে গুনান্বিত এবং অন্যকিছুর সহিত তুলনার অযোগ্য এবং বোধি জ্ঞান লব্দ । অত্থসালিনীতে আচার্য বুদ্ধঘোষ লিখেছেন, “তিন মাসের জন্য যখন বুদ্ধ তুশিত স্বর্গে তাঁর মাকে অভিধর্ম প্রচারে রত ছিলেন তখন যে বুদ্ধ এ জগতে ছিল তা হচ্ছে উনার সঠিক প্রতিলিপি যাকে সংগায়িত করা হয়েছে নিমিত্ত বুদ্ধ বলে । এই বর্নণা থেকে বলা যেতে পারে থেরবাদী মতে, রুপকায়া অথবা সম্ভোগ কায়া হচ্ছে বুদ্ধের মনুষ্য কায়া এবং ধর্ম কায়া হচ্ছে ধর্মের সমষ্টি ।
এ পর্যন্ত এসে দেখা গেল ভবিষত বুদ্ধের কথা উল্লেখ প্রয়োজন, বুদ্ধ বলেছেন, এই বিশ্ব চক্রের মধ্যে , আমি প্রথম বুদ্ধ নই কিংবা শেষ ও নই, পূর্বে অনেক বুদ্ধ এ পৃথিবীতে এসেছেন এবং ভবিষ্যতে যথাসময়ে অন্য বুদ্ধ আসবেন । অর্থাৎ অতীত বুদ্ধ , বর্তমান এবং ভবিষ্যত ।
এ বিষয়ে আর ও একটি কমন (সাধারন) প্রশ্ন হচ্ছে , বুদ্ধ কেন তার কোন উত্তরাধিকারী রেখে যাননি? একজন ডাক্তার বা আইনজ্ঞ কি ইচ্ছা করলেই কি যে কোন ব্যাক্তি কিংবা তার নিজের পুত্রকে ডাক্তার হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন? না পারেন না কারন কোন ব্যাক্তিকে ডাক্তার বা আইনজ্ঞ হতে হলে তাকে সে বিষয়ে পড়াশুনা করে পরিক্ষায় উত্তীর্ন হতে হয় ঠিক তেমনি বোধিসত্ব হতে হলে বোধিসত্বের পারমি পুর্ণ করেই তা হওয়া যায় ।
এ বিষয়ে আর ও একটি প্রশ্ন দেখেছি – নির্বান পেতে হলে কি তথাগত বুদ্ধ হতে হবে ?
বুদ্ধ শিক্ষার চর্চা করে অনুসারীরা মৈত্রী, করুণা, মুদিতা ও উপেক্ষা এই চারিটি ব্রহ্মবিহারের সাধনা করে যিনি লোভ, দ্বেষ ও মোহ ক্ষয় করতে পারবেন তিনি ও নির্বান পাবেন যেমন অরহত, পাচ্চেক বুদ্ধ ।
পাচ্চেক বুদ্ধ, অরহত এবং তথাগত বুদ্ধের মধ্যে মুল পার্থক্য কোথায় ? এক কথায় বলা যায় এ পৃথিবীতে তো বিজ্ঞানী অনেকেই তাদের সবাইকি আর আইনষ্টাইন বা নিউটন ?
বুদ্ধ মহা পরিনির্বান সুত্রে বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত বুদ্ধের অনুসারীরা নিখাদ ধর্ম সম্মত জীবন যাপন করবে ততদিন পর্যন্ত এ ধরা অরহত শুন্য হবেনা ।
বুদ্ধ বোধিজ্ঞান লাভ করার পর হয়ে উঠেন জীবন্ত সর্বজ্ঞ, সর্বসুখী, স্বাধীন এবং বোধিসত্ব । বুদ্ধ ১০টি গুনে (Paramita)পরিপূর্ণ আর তা হচ্ছে
১।) দান (dana)
২) শীল (sila)
৩) ক্ষুধা তৃষ্ণার নিরোধ করে ত্যাগি (nekkhamma)
৪) প্রজ্ঞা (paññā)
৫) বীর্য (viriya)
৬)ক্ষান্তি (khanti)
৭) সত্য বাদীতা (sacca)
৮) অধিষ্ঠান (adhitthana)
৯) মেত্তা (metta)
১০) ঊপেক্ষা (upekkha)
বুদ্ধ মতে প্রশ্নের ধরন অনুসারে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ধরন ও ভিন্ন ।
প্রথম ধরনের প্রশ্ন হচ্ছে সেগুলো যাদের উত্তর সুনিদিষ্ট যেমন হ্যা বা না বা অন্যভাবে বলতে গেলে একান্তভাবে দিতে হয়। বিষয়টিকে একটি উদাহরন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাক । যেমনঃ প্রশ্নটি যদি হয় – দুঃখ কি সত্যি? এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর হয় হ্যা বা না দিয়ে, যা হচ্ছে যথাযথ উত্তর, কম ও নয় বেশী ও নয় = সুনিদিষ্ট ।
দ্বিতীয় ধরনের প্রশ্নের প্রয়োজন হয় বিশ্লেষনাত্বক উত্তর । ধরুন কেউ বলছেন যে অংগুলিমালা অরহত হওয়ার আগে তিনি একটি খুনী ছিলেন । একজন খুনী কী অরহত হতে পারেন ? এই প্রশ্নের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর দেওয়ার আগে বিশ্লেষণ করা উচিত । অন্যথা, উত্তরটি সঠিক ভাবে উপস্থাপিত হবে না । আপনাকে বিশ্লেষণ করতে হবে, কি কি উপাদানগুলো তাকে খুনি থেকে অরহত পর্যন্ত যেতে সমর্থ করেছিল ।
তৃতীয় ধরনের প্রশ্ন যেখানে প্রশ্নকারীকে পাল্টা প্রশ্ন করার প্রয়োজন হয় । যার মাধ্যমে প্রশ্নকর্তা বিষয়টিকে আর ও গভীরভাবে বুঝতে পারেন । যেমন যদি প্রশ্ন হয় , কেন অন্য জীব হত্যা করলে তা ভুল বলে ধরা হয় ? সেক্ষেত্রে পালটা প্রশ্ন হতে পারে, কেমন লাগে যখন অন্যরা আপনাকে হত্যা করার চেষ্টা করে তা কি আপনি ভুল বলে মনে করেন ?
চতুর্থ ধরনের প্রশ্ন হচ্ছে সেটা যে প্রশ্নের উত্তরে নীরবতা পালন , এটা মানে হল যে সে ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেয়া উচিত নয় . এই প্রশ্নগুলো যা প্রকৃতপক্ষে ফটকামূলক হয় , যা নাকি এ লেখার প্রথমদিকে আলোচিত হয়েছে । এ প্রসংগে আর একটা উদৃতি না দিয়ে পারলাম না , এক সন্যাসীর সাথে সাক্ষাত হয় এক নদীর ধারে যিনি পচিশ বছর ধরে সন্যাস ব্রত পালন করেছেন এবং তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল , তোমার এই পচিশ বছরের কষ্টার্জিত সন্যাস ব্রতের অভিষ্ট কি তথা তুমি কি পেলে? উত্তরে সন্যাসী বলেছিলেন, আমি হৃদ্দি বলে এখন নদীর উপর দিয়ে হেটে যেতে পারি এবং এটাই আমার অর্জন । এ প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়ে ছিল – ২৫ বছর সাধনা করে যে শক্তি তুমি অর্জন করলে তা দিয়ে = তুমি মাত্র হেটে নদী পার হতে পারো । অথচ কয়েক পয়সা খরচ করে ফেরি/নৌকা ইত্যাদি ব্যবহার করে যদি নদী পার হতে তবে তোমাকে কিন্তু দুর্ল্ভ ২৫টি বছর হারাতে হত না এবং.২৫টি বছর ধরে যদি বুদ্ধ নির্দেশিত পথে হাটতে তবে হয়তো ভব দুখের সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মুক্তি পেতে। এখন কে কোনটা গ্রহন করবে তা তাদের ব্যাপার ।
পরিশেষে আবার ও বুদ্ধ বানী, যে ধর্ম চক্ষুর দ্বারা ধর্মকে দেখতে পায় সে তথাগতকে দেখতে পায়, যে তথাগতকে দেখতে পায় সে ধর্মকে দেখতে পায় – (সংযুক্ত নিকায়) ।

সম্মন্ধে vuato2

এটা ও দেখতে পারেন

মেডিটেশান এবং আপনার ব্রেইন

Leave a Reply