ব্রেকিং নিউজ

শীল ও ঊপোসথ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিশ্চান সবার, পালনের রুপটা আপনারঃ স্নেহাশীষ প্রিয় বড়ুয়া

bapy2

শীল ও ঊপোসথ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিশ্চান সবার, পালনের রুপটা আপনার
স্নেহাশীষ প্রিয় বড়ুয়া
পঞ্চ ও অষ্ট শীল, শীল, উপোসথ ইত্যাদি শুধু বুদ্ধ শিক্ষায় নয় হিন্দু, ক্রিশ্চান, বৌদ্ধ, মুসলিম প্রায় সব ধর্মে ই দেখা যায় বিভিন্ন নামে । যেমন বলা হয়ে থাকে রাজকুমার সিদ্ধার্থের জন্মক্ষনে মাতা মহামায়া দেবি উপোসথ পালন করছিলেন । কেউ বলেন উপোসথ কেউ বলেন রোজা । তবে বুদ্ধ শিক্ষার উপোসথ, শীলের সাথে অন্য শিক্ষার শীল, উপোসথের পার্থক্য কোথায় ??? আপনার অভীষ্ট যদি স্বর্গ কিংবা ইশ্বর হয় তবে তাতে কোন পার্থক্য নেই।

তথাকথিত বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম নেয়া একটি সত্বা কে দেখেছি তার পিতা মাতা তাকে শিখিয়েছেন, প্রতিদিন বুদ্ধের ঘট তোলা, পুজা করা, মন্দিরে যাওয়া এবং পঞ্চশীল , অষ্টশীল নেয়া ইত্যাদি বছরের পর বছর এই বলে যে অন্যথায় তাকে নরকে যেতে হবে যেখানে নাকি শাস্তি দেওয়া হয় এবং তা খুউব ই কষ্টদায়ক অতএব ভয়ে তিনি কখনই পুজা করা, মন্দিরে যাওয়াতে ভুল করেন না এবং ভান্তেদের সাথে দেখা হলেই অর্থ দান করেন । এ ধরনের বিশ্বাস ইশ্বর বিশ্বাসের সমতুল্য । ইশ্বর কী তবে ঘুষ গ্রহন করেন নাকী ??? আর তিনি যদি তা গ্রহন করেন তবে আপনার ঘুষটুকু ইশ্বরের প্রতিনিধিকে না দিয়ে সরাসরি ইশ্বরকে দিলে বেশী ফলপ্রসু হবে তবে অন্তত তাই করুন না কেন ? তবে দান কাকে বলে ? শীল গুলোর অর্থ কি ? শীল পালনের প্রয়োজনিয়তা কি স্বর্গে যাওয়ার জন্য ? সে সত্বাকে এ ও প্রশ্ন করেছিলাম আপনি কি শীলগুলোর বাংলা অর্থ জানেন – তিনি উত্তরে যা বলেছেন তা ছিল এরকম, আমাদের ভান্তে ত্রিপিটকে লেখা আছে দেখিয়েছেন যে শীল পালন করতে বুদ্ধ বলেছেন তাই আমরা পালন করি অর্থ জানার কি প্রয়োজন । ভান্তের কথাই শেষ কথা । সময় নষ্ট করার সময় নাই আমাকে বন্দনা করতে দিন বন্দনার অর্থ বুঝে কি হবে । —- না এ ঘটনায় দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই বরং এটাকে এভাবে গ্রহন করা উচিত যে – এটাই আমাদের অজ্ঞতা এবং এটাই দুঃখ, এটাই তৃষ্ণা । এটা গেলো একটা দিক আর গল্পটি যে কারনে বলা , এ রকম পরিস্থিতিতে দেখেছি আমরা সে ভান্তের বিরুদ্বে নিন্দার ঝড় তুলি । ভেবে দেখুন তো নিন্দার ঝড় তুলে আপনি কি করতে চাইছেন ? আপনি কি বলতে চাইছেন যে সে ভান্তে যা করেছেন তা পৃথিবীর নিয়মনুসারে অস্বাভাবিক কিংবা এমন হওয়ার কথা ছিল না কিংবা সে ভান্তে অরহত তাই তার তা করা উচিত হয় নি? আর আপনি যদি জানেন যে সে ভান্তে অরহত নয় তবে তা গ্রহন করে নেওয়ার জন্য তো নিন্দার ঝড় তোলার প্রয়োজন নেই। অপরপক্ষে ভান্তে কে দায়ী না করে যদি উল্লেখিত ব্যক্তির মা-বাবাকে দায়ী করেন সেটা ও কতটা যুক্তিসম্মত ??? একদিক থেকে বলতে গেলে বলতে হয় ডাক্তারের ছেলে কি সবসময় ডাক্তার হন ? তথাগতের ছেলে হলেই কি তিনি তথাগত হন কিংবা বুদ্ধ ধর্মাবলম্বির ঘরে জন্ম নিলেই কি বৌদ্ধ হওয়া যায় ??? বলা হয়ে থাকে পাপকে ঘৃনা কর পাপিকে নয় পক্ষান্তরে আপনি যদি তাকে ধর্ম জ্ঞান দিতে চান তবে তার জন্য নিন্দার ঝড় না তুলে ও তো তা হতে পারে । যেমন একটা সত্য ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল তা এরকম , কয়েকদিন আগে সময়ের কন্ঠস্বর পত্রিকায় একটা লেখা ছাপা হয়েছিলো যে, এক হিন্দু ঘরে জন্ম নেয়া সন্তান বছর দুয়েক আগে ঘর থেকে পালীয়ে যায় এবং যখন ফিরে আসে তখন সে আর হিন্দু ধর্ম পালন করতে চায় না বরং মুসলিম ধুর্ম পালম করতে চায় । তার পরিবারের লোকেরা তাকে বোঝাতে চাইলে কে বা কাহারা তাদেরকে হুমকি দেন এবং সম্প্রতি সে একটা হিন্দু মন্দির আক্রমন করে ভাংচুর চালায় = এর প্রতিক্রিয়া রুপে হাজার হাজার সত্বাকে দেখেছি, সেই খবরটির নীচে, সে ছেলেটিকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করতে এই বলে যে (গালাগালির কুৎসিত কথাগুলো কেটে ছেটে ), সে হিন্দু ঘরের কুলাংকার কেউ বলে হিন্দুরাই এভাবে মুসলিম সেজে জংগি কাজ কর্ম করছে । কেউ যে ভালো কথা বলেনি তা বলছি না । আমি যা লিখেছিলাম সেটা এরকম – ধর্মান্তরিত নুতন কিছু নয় কিংবা এক ধর্মের লোক অন্য ধর্মের ক্ষতি করেছে কিংবা নিজ ধর্মের লোক নিজ ধর্মের ক্ষতি করেছে এ ধরনের ঘটনা কিছু নুতন নয় । হিন্দু ঘরে জন্ম নিলেই যে হিন্দু হওয়া যায় না এটাই তার প্রমান অন্যদিকে ইসলাম যদি শান্তির ধর্ম হয় তাহলে নিশ্চই এই ব্যাক্তি ইসলাম ধর্মের ও নন তাই নয় কি ??? তবে তিনি যে কাজটা করছেন সেটার ও একটা ধর্ম আছে সেটা কে বলা যেতে পারে অকুশল ধর্ম । আর আমরা যারা অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলি তারা কোন ধর্মের ??? নিন্দার ঝড় তুলে আপনি প্রথমে নিজের চিত্তকে এবং পরে যারা আপনার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তাদের চিত্তকে কি উপহার দিচ্ছেন ??? এটা ও শীল ভঙ্গ নয় কি? রাগ চিত্ত, হিংসা চিত্ত , নিন্দা চিত্ত কি শীলের বিরুপ নয় ?

আর একটি বিষয় আমরা ভুলে যাই গল্পটি এরকম – দুজন বন্ধু খুব ঘনিষ্ঠ ছিল। মৃত্যুর পরে তাদের একজন স্বর্গে দেবতা , আরেকজন গোবরের স্ত্তপে গুবরে পোকা হিসেবে জন্ম নিল । স্বর্গের বন্ধুটি তার পুরনো বন্ধুকে এমন দুর্ভাগ্যজনক জন্মের কবল থেকে উদ্ধার করবে বলে মনস্থির করে স্বর্গ থেকে নেমে এসে বললো, আমি তোমাকে আমার সাথে করে স্বর্গে নিয়ে যাব। এসো, হে বন্ধু!’ পোকাটা বলল, ‘একটু দাঁড়াও! তুমি যে স্বর্গ সম্পর্কে বলছো, সেখানে এত মজার কী আছে? আমি এখানে পুষ্টিকর গরুর গোবরের সুগন্ধের মধ্যে ভালোই আছি। দেবতা তাকে স্বর্গের সুখের বিষয়গুলো এক একটা করে বললো । পোকাটা বলল, সেখানে কি গোবর আছে? দেবতা বললো – অবশ্যই নয়! পোকাটা বলল, তাহলে আমি যাচ্ছি না । এই বলে সে হামাগুড়ি দিয়ে গোবরের স্ত্তপের মাঝে ঢুকে গেল। দেবতা ভাবল পোকাটাকে ধরে স্বর্গে নিয়ে গিয়ে দেখালে তবেই সে বুঝবে। তাই দেবতা নাক কুঁচকে তার কোমল হাতটা সেই জঘন্য গোবরের স্তুপে ঢুকিয়ে পোকাটাকে টেনে বের করে আনতে লাগল । পোকাটা চেঁচিয়ে উঠল , বাঁচাও! আমার সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে! আমাকে অপহরণ করা হচ্ছে । ভাজ্ঞিস ৯১১ নাম্বারে ফোন করা হয়নি । যাই হোক ছো্ট্ট পিচ্ছিল পোকাটি দেহ মুচড়ে নিজেকে দেবতার কবল থেকে মুক্ত করল, আর গোবরের স্তুপে ঝাঁপ দিয়ে লুকাল । অসংখ্যবার দেবতা বেচারা পোকাটাকে সেই জঘন্য গোবরের স্তুপ থেকে বের করার চেষ্টা করল। কিন্তু পোকাটা তার সেই প্রিয় গোবরের প্রতি এমন আসক্ত ছিল যে সে প্রতিবারই দেহ মুচড়ে নিজেকে মুক্ত করে নিয়ে আবার গোবরের মধ্যে ঢুকে গেল!

শুধু তাই নয় অনেক মানুষ আছেন যারা ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা, চুরি, যৌন অসদাচরণ, মিথ্যা, বা মদ খাওয়া থেকে বিরত থাকেন কিন্তু তাদের মন লোভ, দ্বেষ মোহে ভরা তাদের কি পরিনতি হয় ? শীল পালনে মনের বিশুদ্বিতা অত্যন্ত গুরুত্ব পুর্ন বলে যারা মনে করেন না তাদের এ রকম ও মিথ্যা দৃষ্টি আছে যে পঞ্চশীল পালন করলে তাকে আর অপায়ে জন্ম গ্রহন করতে হবে না । অন্ধভাবে পঞ্চশীল পালন সম্পর্কিত একটি গল্প আছে তা এ রকম। এক বৃদ্ধা অন্ধভাবে আক্ষরিক অর্থে পঞ্চশীল পালন করতেন ।তবে তিনি ছিলেন লোভী এবং তার ছিল দান চিত্তের অভাব এবং তিনি তার সব পয়সা কড়ি বালিশের নীচে লুকিয়ে রাখতেন এবং কথিত আছে যে, বালিশের প্রতি সংযুক্তি কারণে তিনি পরবর্তীতে বালিশ এর উপর একটি উকুন হয়ে জন্ম নিয়ে ছিলেন।

আর একটি গল্প বলা যাক যা এরকমঃ নিগন্তানাথাপুত্তা নামে এক ব্রাক্ষ্মন বুদ্ধ সময়কালে তার অনুসারীদের বলেছিলেন , কেউ যেন পঞ্চশীল ভঙ্গ না করে , করিলে তাদের পরজন্মে অপয়ায় জন্ম নিতে হবে আর পঞ্চশীল পালন করলে পরজন্মে তাদের অপায়ে জন্ম নিতে হবে না । বুদ্ধ বলেন, উভয়ই ভুল ছিল. আমরা আমাদের আগের জীবনে উভয় ভাল এবং খারাপ কর্ম করেছি এবং বর্তমান জীবনে ভাল এবং খারাপ কর্ম রয়েছে এবং এর মিলিত ফল ই নির্ধারন করবে পরবর্তী অবস্থান। এভাবে দেখা যায় অংগুলিমালা এক হাজার মানুষ হত্যা করার পর ও বুদ্ধ সহবাসে এক সপ্তাহের মধ্যেই অরহত্ব ফল লাভ করেছেন আবার অনেকেই পুরোপুরি নৈতিক জীবন বসবাস করার পর ও পুর্ব জন্মের কর্ম বিপাকে অপায়ে জন্ম নিয়েছেন ।

এ গেলো গল্প কথা এ বিষয়ে গল্প কেন আপনার চারি পাশে তাকালে চর্ম চোখে দেখা যায় কোন কোন মানুষ অপকর্ম করেই চলেছে অথচ তিনি দিব্বি বেশ অর্থসুখে আছেন আবার অপরপক্ষে কেউ সঠিকভাবে ধর্ম পালন করার পর ও ধন সুখের দেখা পাচ্ছেন না । যে ব্যাক্তি অপকর্ম করার পর ও ধন সুখে আছেন তিনি তার পুর্ব সঞ্চয়কৃত পুন্য প্রভাব ভোগ করছেন এবং তার অপকর্মের ভাগ বেশী হলে তা অবশ্যি প্রতীয়মান হবে অপরপক্ষে যিনি এ জীবনে ধর্ম করার পর ধন সুখ পাচ্ছেন না তার পুন্যের পাল্লা বিগত অপকর্মের থেকে এখন ও কম বলেই প্রতীয়মান হয় – এ গেলো অংকের কথা । ধন সুখ কি প্রকৃত সুখ ??? ধন সুখ, কাম সুখ ইত্যদি কি চিরস্থায়ী ??? অন্যভাবে বলা যাক, যেমন আমরা কোন কিছু খেতে ভালোবাসি এবং সে খাদ্যটা যখন খাই তখন আমরা বলি খাদ্য সুখ কিন্তু সে খাদ্যটা খেতে থাকুন বিরতি না দিয়ে তবে দেখবেন সেই খাদ্যটাই একসময় বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়াবে এবং অতিরক্ত মাত্রার কারনে বিষক্রিয়ায় পরিনত হবে । মন চরিত্র বড়ই বিচিত্র । তাই মনের দাসী না হয়ে প্রকৃত সুখের অর্থ খুজে বের করুন , উপলব্ধি করুন দেখবেন আপনার চিত্ত প্রসন্ন হয়ে যাবে তথাকথিত ধনী গরিবের সীমা ছাড়িয়ে ।

পক্ষান্তরে সবকিছুকে যেতে দেওয়া , যেটা যে রকম সে টাকে সেভাবে গ্রহন করা , কোন কিছু সংগ্রহ করা নয় যা থেকে আপনার প্রাপ্তির থলি পুর্ন হবে আর আপনি তা আপনার বন্ধুবান্ধবকে ডেকে ডেকে দেখাবেন। যখন আপনি কোন কিছুকে যেতে দেন, সত্যি কার অর্থে যেতে দেন তখন তা হারিয়ে যায় । আমরা হারতে তথা ত্যাগ করতে শিখি । সে অর্থে সব সার্থক ধ্যানী জানেন কি করে হারতে হয় । তারা তাদের আসক্তি, অনুষঙ্গ, সম্বন্ধ, মায়াকে ত্যাগ করেন । আর যিনি সিদ্ধি লাভ করেন তার তো সবকিছুতেই হার । এরা হচ্ছেন সে অর্থে অভাগা । একজন হাস্যরসে বলেছেন, এমনকি এরা হারাতে হারাতে মাথার চুল পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেন তবে এরাই মুক্ত, স্বাধীন ।

যিনি এই বিশ্বব্রক্ষ্মান্ড অনিত্য, অনাত্ব এবং দুখের মধ্যে নিহিত উপলব্ধি করেছেন তার শীল পালনের জন্য আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয় না বরং প্রাকৃতিক নিয়মেই শীলগুলো তার মধ্যে অবস্থান করে। অপর পক্ষে যখন একজন পঞ্চশীল, অষ্টশীল , শীল গ্রহন করেন তখন বুঝতে হবে তিনি সেই শীলগূলো একশতভাগ পালন করতে পারবেন বলে বলছেন না বরং প্রচেষ্টা করবেন বলছেন কারন অরহত ছাড়া অন্য যে কেহ ই এই শীলগুলো একশত ভাগ পালনে অক্ষম। একজন সোতাপত্তি লাভি ও এর একশত ভাগ পালন করতে পারেন না তবে তারা কিছু অপকর্ম থেকে বিরত থাকতে পারেন যেমনঃ মা – বাবা বা অরহত হত্যা, বুদ্ধকে আহত করা, জ্ঞাতসারে সংঘের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি, মিথ্যাদৃষ্টি ইত্যাদি{এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন দিট্টি(ditthi) এবং বিচিকিচ্চা (vicikicca) সম্পর্কে}। অতএব একজন ধুমাপায়ি ব্যক্তি যদি অষ্টশীল গ্রহন করার অর্থ চেষ্টা নয় যথার্থ পালন করেছেন কিংবা ধুম পান ছাড়া বাদ বাকি ৭টি শীল তিনি যথাযথ পালন করেছেন বলে মনে করেন তাহলে কি দাঁড়ায় প্রথমতঃ অষ্টশীল গ্রহনের সময় যেহেতু তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আটটি শীলের জন্য কিন্তু তিনি জানেন তিনি ধুমপান করবেন তখনি তার মিথ্যা কথা বলা হলো অর্থাৎ এ শীলটি ও ভঙ্গ হল । আবার যদি নিজের অজান্তে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে নয়, উপোসথ সময়কালিন তিনি একটা সিগারেট ধরিয়ে বসেন তবে তাতে শীলের পরিহানি হয় না কিন্তু অপরপক্ষে পঞ্চিন্দ্রিয় দ্বারা উন্মাদ আসক্ত হলে এ শীলটি ভঙ্গ হয়। শুধু তাই নয় ওই রকম ধারনা মিথ্যা দৃষ্টি হিসেবে ও পরিগনিত হয় । শীল পালন যেমন হয়ে থাকে কায় বাক্য ও মনের দ্বারা ঠিক তেমনি শীল ভঙ্গ হতে পারে কায় বাক্য ও মনের দ্বারা । এভাবেই দেখি কোন ভিক্ষু, শ্রমন কিংবা গৃহি কোন শীল, বিনয় Vinaya(“vi” + “naya” যেখানে “naya” হচ্ছে ঋন এবং vinaya হচ্ছে ঋন থেকে পরিত্রান) বিরুপ কাজ করলেই আমরা নিন্দার ঝড় তুলি । এই ঝড় তোলাটা অকুশল কারন প্রথমত এতে আমরা নিন্দা করছি যা এক অকুশল , দ্বিতীয়তঃ আমরা আশা করছি এমন সত্বার কাছে যিনি অরহত নন অতএব সে আশাটা মিথ্যা দৃষ্টি। আমাদের অজ্ঞতা এবং এটাই দুঃখ, এটাই তৃষ্ণা । করুনা, মেত্তা, মুদিতা ও উপেক্ষা এই চারটি ধর্মকে পালন করেই দেখুন না নিন্দা আসে কিনা ??? আপনার চাওয়া পাওয়ার পরিমান যত বেশি সুখের পরিমান ও ঠিক ততটা কম । জীবন তথা পৃথিবীর এটাই স্বাভাবিক প্রকৃতি – অনিত্য, অনাত্ব এবং দুঃখই কি সত্য নয় ??? বৌদ্ধদের মুল উদ্দেশ্য কি স্বর্গ ও নরক নাকি ইস্বর না কি নির্বান ???

এ সম্পর্কে (শীল )আমার একটি প্রশ্নের উত্তরে শ্রধ্যেয় স্বধর্মের বাগান ( ফেইসবুক আইডি) যা লিখেছেনঃ বৌদ্ধ মাত্র সদা পঞ্চ শীল, পালন করা কর্তব্য ।আর পঞ্চ শীলের পঞ্চম নং শীল, আর অষ্টশীলের পঞ্চম নং শীলের মধ্যে তেমন কোন তফাত নেই, তাই এই শীলের অর্থ কি তা বুঝতে হবে, মূল কথা হচ্ছে আমি সজ্ঞানে এমন কোন নেশা পান করব না, যাতে জ্ঞান, হোশ বা মনুষ্যত্ব হারিয়ে না যাই, যেই নেশার দ্বারা হিতাহিত বুদ্ধি লোপ পাই তেমন নেশায় শীল ভঙ্গ হয়। তাই শীল পালনের পূর্বে শীলের অঙ্গ জানা চাই

এ পর্যন্ত এসে লেখাটি শেষ হইলো না সময়াভাবে আজ আমার টাইম আউট অতএব পরবর্তীতে আবার দেখা হবে নাও হতে পারে সেই সঙ্গে এ লেখা পড়ে যাদের পছন্দ হবে না তাদের যেমন নির্বান সাক্ষাত করার কামনা রইলো ঠিক তেমনি যাদের ভালো লাগবে তাদের জন্য ও এবং যাদের এই দুটোর কোনটাই নয় তাদের জন্য ও রইলো নির্বান কামনা তবে উল্লেখ্য এ সত্বার কাছে নির্বানের সার্টিফিকেট বিক্রি করার মতো কোন সার্টিফিকেট নেই ।

সম্মন্ধে vuato2

এটা ও দেখতে পারেন

মেডিটেশান এবং আপনার ব্রেইন

Leave a Reply