ব্রেকিং নিউজ

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জেলখানায় বসবাসের আহ্বান করেছেন ! সত্যি ঘটনা । কিন্তু কেন ??? – উপস্থাপনায় স্নেহাশীষ প্রিয় বড়ুয়া

bapy2

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জেলখানায় বসবাসের আহ্বান করেছেন ! সত্যি ঘটনা । কিন্তু কেন ???

কয়েদিরা অষ্ট্রেলিয়ার এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি কী ভাবে জীবন যাপন করছেন ??? তার উত্তর ছিল নিম্নরুপঃ
প্রত্যেক দিন সকাল চারটায় ঘুম থেকে উঠতে হয় । দিনে কেবল একবারই খাবার খেতে পারি, খাবার দাবার যা কিছু পাই, সব একসাথে একটা পাত্রে মিশিয়ে খাই । বিকেলে ও রাতে কিছুই খেতে পারি না। কাম সুখের কোন ব্যবস্থা নেই , মদ খাওয়া যায় না, কোনো টেলিভিশন নেই, রেডিও নেই। গান শোনার কিছু নেই। আমরা কথা বলি কম কম, কঠোর পরিশ্রম করি, আর অবসর সময়টা ধ্যানে বসে নিঃশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিয়ে থাকি। মেঝেতে ঘুমাই। ইত্যাদি ।

ভিক্ষুর বর্নণা শুনে তখন তাদের অষ্ট্রেলিয়ান জেলখানাটা তাদের কাছে পাঁচতারা হোটেলের মতো মনে হলো। তাদের মধ্যে একজন কয়েদী ভিক্ষুর এমন দুর্দশা শুনে বলে বসললেন: ‘তোমার বিহারে থাকাটা তো খুবই ভয়ঙ্কর! তুমি এখানে এসে আমাদের সাথে থাকো না কেন?’ – এ কথা শুনে সকলে হেসে উঠলো ।

এটা সত্যি যে সমাজের দুষ্কৃতকারীদের জন্য বানানো সেই কঠিন জেলখানাগুলো থেকে সেই ভিক্ষু যে বিহারে থাকতেন তা অনেক সাদা মাটা, তবুও অনেকেই স্বেচ্ছায় সেখানে থাকতে আসে বা যায় কারন বিহারে তারা সুখী । অথচ পক্ষান্তরে এমন সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন জেলখানা থেকে অনেকেই পালাতে চায়। কারন সেখানে তারা অসুখী । কেন???

কারণ, বিহারে আমরা যেতে চাই, আর জেলখানায় আমরা যেতে চাই না। পার্থক্যটা এখানেই।

আপনি যেখানে থাকতে চান না, সেখানে যত সুযোগ-সুবিধাই থাকুক না কেন, আপনার জন্য তা কারাগার। ‘কারাগার’ হচ্ছে এমন একটি অবস্থা যেখানে আপনি থাকতে চান না। যদি আপনি এমন একটা চাকরি করেন, যেখানে আপনি থাকতে চান না, তাহলে আপনি তখন কারাগারে আছেন। যদি আপনি এমন কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যা আপনি চান না, আপনি তখন ও কারাগারে আছেন। ইত্যাদি ।

কারাগার হচ্ছে এমন একটা পরিস্থিতি যা আপনি চান না।

কীভাবে জীবনের এই কারাগারগুলো থেকে পালাবেন? সহজ। শুধু বর্তমান অবস্থার প্রতি আপনার উপলব্ধিকে বদলে দিন “সেখানে থাকতে চাই এমন মনোভাব দিয়ে ”। যখন আপনি যেখানে আছেন সেখানে থাকতে চাইবেন, সেটা আর তখন আপনার কাছে কারাগার বলে মনে হবে না। আপনার চাকরি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ইত্যাদির প্রতি যে মনোভাব, তা বদলে দিয়ে, সে রকম অবস্থা না চাওয়ার পরিবর্তে, সে রূপ অবস্থাকে মেনে নিলে তখন সেটাকে আর কারাগার বলে মনে হবে না। যখন আপনি সেখানে থেকে খুশি, তখন আপনি স্বাধীন।

স্বাধীনতা হচ্ছে আপনি যেখানে আছেন সেখানেই সন্তুষ্ট থাকা। কারাগার হচ্ছে অন্য কোথাও যেতে চাওয়া। স্বাধীন জগৎ হচ্ছে যারা সন্তুষ্ট, তাদের দ্বারা দেখা জগৎ। সত্যিকারের স্বাধীনতা হচ্ছে আকাঙক্ষা হতে স্বাধীনতা, কখনোই আকাঙক্ষার স্বাধীনতা নয়।

শ্রধ্যেয় আযান ব্রাহ্ম বংশ মহাথেরোর জীবনাচরন অবলম্বনে রচিত ।
উপস্থাপনায় স্নেহাশীষ প্রিয় বড়ুয়া

সম্মন্ধে vuato2

এটা ও দেখতে পারেন

মেডিটেশান এবং আপনার ব্রেইন

Leave a Reply