ব্রেকিং নিউজ
bapy2
bapy2

দানে পূন্য, দানে পাপ আবার না দেওয়াতে পূন্য হয় – স্নেহাশীষ প্রিয় বড়ুয়া

bapy2

দানে বা দানা তথা দাক্ষিণ্য অথবা দেওয়া যা আমরা তিনভাবে সম্পাদন করি যথা কায়ো, বাক্য ও মনের দ্বারা তা আপনি যেই ধর্মের বা বিশ্বাসেরি পূজারী হন না কেন । আর অন্য কোন উপায় আছে কি ? ?? এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই দেওয়াটা কয় ধরনের হতে পারে যেমন ভালো, মন্দ এবং এ দুটির কোনটি নয় যেমন আপনি কাঊকে কিছু দিলেন

ক) যাতে তার বা আপনার ভালো হবে

খ) যাতে মন্দ হবে

গ) ভালো এবং মন্দ কোনটি নয়

ক এবং খ এর ক্ষেত্র তেমন জটিল নয় কিন্তু গ যেখানে বলা হচ্ছে আপনি দিলেন কিন্তু খারাপ হলো না আবার ভালো ও হলো না সেটা কিভাবে সম্ভব ??? উদাহরন কারো মাথা কামড়াচ্ছে তাই আপনি তাকে একটি ঔষুধ দিলেন এবং যাকে দিলেন তিনি তা খাওয়ার পর তার কোন লাভ হলো না অর্থাৎ ভালো ও হলো না  আবার খারাপ ও হলো না। কিন্তু এ ধরনের লেনদেনে দাতা কোনটি পেলেন ??? উত্তরে সব বিশ্বাসেই বলে – দাতা যদি সৎ চিত্তে বা মনে দান করে থাকেন তবে এতে সঙ্গে সঙ্গে দাতার চিত্ত আর কিছু না হোক প্রশান্তি লাভ করে থাকে। আপনি একটি ভালো কর্ম করার চেষ্টা করেছেন = বেশতো ইহজগতে ও কিছু পেলাম এতটুকু পর্যন্ত আমার কোন অসুবিধা নেই কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যদি মাথা ব্যাথার ওষধ যাকে দিয়েছিলেন তিনি আসলে আপনার সাথে অভিনয় করছিলেন অফিস কামাই করার জন্য মানে ভন্ডামী বা অজুহাত এবং হতে পারে আপনি তা জেনেশুনে তাকে ওষধ দিলেন কিংবা প্রেসক্রিপশান লিখে দিলেন যাতে তিনি ছুটি পান । তাতে হয়তো তিনি ছুটি পাবেন কিন্তু তার মাথা ব্যাথা যাবে কি ? এবং চিত্তে যে অশান্তি জন্ম নেবে তাতে মাথা ব্যাথা অবশ্যই হবে ক্রমান্বয়ে, পক্ষান্তরে আপনার ও কি পূন্য হলো সেটাই প্রশ্ন ? ?? ইহজাগতিক প্রশ্নেই আসি – আপনার চিত্ত বা মনের শান্তি হারিয়ে গেলো, আপনি অপরাধীকে অপরাধ করার রাস্তাটা সহজ করে দিলেন এবং পরবর্তীতে একদিন সেই ব্যক্তিই হয়তো কোর্টে সাক্ষী দেবে আপনার মিথ্যা প্রেসক্রিপশান লেখা বা আপরাধ প্রমান করার জন্য ।

অপরদিকে শ্রমের বিনিময়ে পারিশ্রমিক যখন গ্রহন করি তখন এক পক্ষ আর এক পক্ষকে দেন তাই নয় কি ??? তবে সেটা কেন দান হবে না ??? কারন যেমন ইংরেজীতে বলে Give and take , তুমি পরিশ্রম করেছো যার জন্য তিনি তোমাকে মজুরি দিয়েছেন, কেন সেটা পুন্য হয় না ??? কারন সাধারনণত আমরা চাই যত কম কাজ করে বা ফাকি দিয়ে যত বেশী মজুরী আদায় করা যায় ঠিক তেমনি মালিক পক্ষ চান যত ও বেশী কাজ করিয়ে কম মুল্য দেওয়া যায়, তাই তাতে না হয় বুজলাম পূণ্য হয় না । কিন্তু যদি কর্মী যথার্থ শ্রম দিয়ে মজুরী নেন এবং তাতে তিনি ফাকিটুকু দিলেন না তাতে পূণ্য হবে না কেন ???

স্বয়ং বুদ্ধ ভাষ্যে দেখেছি তিনি এমনকি শ্রমন, ভিক্ষু বা ব্রাক্ষণী বা ব্রাক্ষণ যারা করুণা, মৈত্রী, মুদিতা, মেত্তা চারি ব্রক্ষ্ম বিহার সঙ্গে অমোহ , অদ্বেষ,অলোভ পালন করেন তাদের ও বিণয় (যার অর্থ ঋন পরিশোধ করা ) শিক্ষা দিয়েছেন এই বলে যে, গৃহী বা উপাসক/ উপাসিকা তোমাদের দান দেয়, তাদের প্রতি ও তোমাদের দিতে হবে অর্থাৎ সমানে সমান । এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই দেওয়া নেওয়াটা কী রকম হচ্ছে ???

অহরহ শুনি আপনি যখন দান দেন বিশেষতঃ সংঘকে অর্থাৎ আগত, অনাগত এবং বর্তমান শ্রমন, ভিক্ষু বা ব্রাক্ষণী বা ব্রাক্ষণকে তাতে আপনার পুণ্য আবশ্যম্ভাবী কেননা এদের মধ্যে তো সবাই দুশীল, মুর্খ বা অসাধক বা ভন্ড নন বেশ যৌক্তিক। তবে আমার ছোট্ট একটা প্রশ্ন হচ্ছে – যখন আপনি বা আমি দান করছি এবং যিনি দান গ্রহন করছেন জীবিত অবস্থায় বৈষয়িক দান তিনি যদি পুর্বোক্ত উদাহরনের মতো ভন্ড হন তবে তো আপনার বৈষয়িক দান দিয়ে পেসক্রিপশান লেখার মতো তিনি ও কুকর্মই করেবেন এবং আপনার চিত্ত বা মন ও তক্ষনি জানছে তা , যা আপনাকে তো প্রশান্তি দেয়ার কথা নয় তদুপরি তাতে কি আপনি সে পাপের জন্য দায়ী নন (আপনার দেওয়া দানে হলো কুকর্ম) ???

আর ও একটি ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল তা ও আবার ঘটেছিলো এই ভাদ্র মাসে(মধু পুর্ণিমা), বুদ্ধ জীবিত থাকাকালিন ভিক্ষু সংঘ কুকর্মের জন্য দুই ভাগে ভাগ হয়েছিলো এবং বুদ্ধ তাই পারিল্যেয় বনে চলে গিয়েছিলেন তাদের ত্যাগ করে আর তীর্যক প্রাণী শুরু করেছিলো বুদ্ধের সেবা অর্থাৎ বুদ্ধ কিন্তু এ ক্ষেত্রে অলোকিক শক্তি দিয়ে ও সে ভিক্ষু সংঘের সমাধান কল্পে ব্রতী হন নি কারন হয়তো উলু বনে মুক্ত ছুড়িয়ে লাভ কী । তবে এ বিবাদের অবসান  তথা সংঘ মিলন কিভাবে হয়েছিল ? আনন্দের বিষয় সে সমস্যার সমাধান হয়েছিলো না দেওয়াতে অর্থাৎ উপাসক উপাসিকারা যখন সেই কুশীল ভিক্ষুদের দান করা বন্ধ করে দিয়েছিলো তখন বাধ্য হয়ে তারা বুদ্ধের শরনাপন্ন হয়েছিলেন । উল্লেখ্য সংঘ ভেদ শুধু আজ নয় বুদ্ধ জীবিত থকাকালীন ও ঘটেছে এবং যা করেছিলেন ভিক্ষু সংঘ এবং তাই বুদ্ধ ইহাকে মহাপাপ বলিয়া ও আখ্যায়িত করতে ভুলেন নাই ।

উপরন্তু বুদ্ধ শীল সমাধি দানের সাথে প্রজ্ঞা বা জ্ঞানের কথা যোগ করতে ভুল করেননি ??? এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা সাধারন মানুষেরা কিভাবে বুঝবো কে ভালো কে মন্দ ???  কাকে দান দেবো ??? ক্ষেত্র বিশেষে সোজা উত্তর যেমনঃ একজন খাদ্যের অভাবে কষ্ট করছেন তথা ক্ষুধার্তকে কি আপনার চিনতে খুব কষ্ট হয় ??? এরকম অনেক আছে ? পক্ষান্তরে অসাধু কিভাবে চিনবো ??? আবার ও মনে হচ্ছে তাই বুঝি বুদ্ধ ভুল করেননি শীল, দান, সমাধির সাথে প্রজ্ঞা বা জ্ঞান (উল্লেখ্য সঠিক প্রজ্ঞা শুধু বৈষয়িক জ্ঞান নয় তবে এটা ব্যতীরেকে ও নয়) যোগ করতে ???

একটা ছোট্ট উদাহরন অরহত তো দুরের কথা যিনি কেবল ব্রক্ষাচর্য পালন করা শুরু করেছেন কিংবা নিজেকে শীলে প্রতিষ্টিত করার প্রয়াসে যাত্রা শুরু করেছেন বা ভান্তে বা শ্রমন তাদের  কারোরি তো রাজা বা প্রভু হওয়ার কথা নয় যেমন রাজা বসে রাজ সিংহাসনে ( মনি মানিক্যে গড়া চেয়ার) তবে যারা সিংহাসনে বসেন তাদের চিনতে আপনাদের কষ্ট হয় কেন ???  এ প্রসংগে কেউ কেউ বলবেন না দোষটা  ভান্তে বা শ্রমন এর নয় বরং ভন্ড উপাসক উপাসিকাদের যারা হয়তো ওই ধরনের চেয়ার তৈরী করেন তাদের জন্য কিংবা বাধ্য করেন তাদের ওই ধরনের বিলাস বহুল চেয়ারে  বসতে।বেশ ভালো কথা তবে একটা কথা বুঝলাম না, বেশ উপাসক উপয়াসিকারা না হয় ভুল করে বানিয়েছেন কিন্তু যিনি ব্রক্ষচারী তিনিতো জ্ঞানী তিনি কেন ওই চেয়ারে বসেন শুধু তাই নয় আচার আচরনে রাজাধীরাজ এগুলো চিনতে কি আমাদের কষ্ট হয় ? যা এখানে বলতে চাইছি এক হাতে তালি বাজে না  – আমরা এ পাপ কর্মে তথাকথিত ভিক্ষু-ভিক্ষুনি-উপাসক-উপাসিকা সবাই জড়িত।

তাই বুদ্ধ বলেছেন, বুদ্ধ স্বয়ং কাউকে মুক্তি দিতে পারেন না তোমার মুক্তির জন্য তোমাকেই কর্ম করতে হবে যা নির্ভর করবে দান শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞা বা জ্ঞানের সম্মিলনে । কিন্তু এরপর ও যারা বলবেন আমার বোধ সঠীক নয় তাদের কাছে প্রার্থনা করছি আমার ভুল গুলো যদি দয়া করে ধরিয়ে দেন তবে আমি সঠীক পথে অগ্রসর হতে পারতাম কেউ আছেন কী ধার্মিক যিনি আমার উপকারে আসবেন ??? এ প্রসঙ্গে একটি গল্প মনে পড়ে গেলো তা এরকম , বুদ্ধের আগত বা আসীন মহা পরিনির্বানের (সংকীর্ন অর্থে মৃত্য) সংবাদ শুনে যখন অধিকাংশ মৃত্যুশোকে কাতর সে সময় একজন ছিলেন তাদের বীপরীত (একা) তিনি তাতে বিচলিত না হয়ে বরং একাগ্র মনে ধ্যান করছিলেন এই বলে যে বুদ্ধের মহাপরিনির্বানের আগে আমাকে মুক্তি পেতে হবে এমতাবস্থায় অধিকাংশ যখন বুদ্ধকে সে বিষয়ে অনুযোগ (complain) করেছিলেন এ রকম মনোভাব নিয়ে যে বুদ্ধ মরে যাচ্ছে আর ব্যাটা করছে ধ্যান, ভন্ড কোথাকার ! তখন বুদ্ধ তাদের যা বলেছিলেন তার অর্থ দাঁড়ায় এরকম যে, তিনিই হচ্ছেন প্রকৃত বৌদ্ধ তিনি তার কর্ম করছেন মুক্তির নিমিত্তে যাহা বুদ্ধের শিক্ষা এবং তাহাই অধিক এবং অধিকাংশের চেয়ে শ্রেয় ।

সম্মন্ধে vuato2

এটা ও দেখতে পারেন

মেডিটেশান এবং আপনার ব্রেইন

Leave a Reply