ব্রেকিং নিউজ

ইহ ও পরকালের কথা- ভদ্দন্ত পঞ্ঞাদীপ ভিক্খু।

উঃ পঞ্ঞাদ্বীপা থের
উঃ পঞ্ঞাদ্বীপা থের

ওহে মানুষ ! তোমরা আমাকে গুরুত্ব না দিয়ে অবহেলা করে ভুলে থাক। আমি তোমাদেরকে সার্বক্ষণিক দেখে থাকি। তোমরা আমাকে ভুলে গেলেও আমি তোমাদেরকে ভুলে যেতে পারি না। কখন তোমাদের জীবিন্দ্রিয় প্রাণকে হনন করবো আমি অপলক চোখে দেখে থাকি। সার্বক্ষণিক আমার দূত জরা ব্যাধিকে তোমাদের নিকট পাঠিয়ে থাকি। জরা ব্যাধি হল আমার বিশ্বস্ত দূত।

এ জরা দূত সর্বক্ষণ তোমাদেরকে জরাজীর্ণ বয়োবৃদ্ধ অচল করার কাজে কর্মরত। ব্যাধি দূতও সর্বক্ষণ তোমাদেরকে ব্যথা বেদনা কষ্ট দেওয়ার কাজে কর্মরত। তবুও তোমরা জরা ব্যাধি মারণ দূতকে ভয় করছো না।

আমাকে জরা দূত এসে বলল মানুষকে জরাজীর্ণ অচল অক্ষম করার কাজ করে এসেছি। ব্যাধিও এসে বলল আমি মানুষকে ব্যথা বেদনা কষ্ট দেয়ার কাজ করে এসেছি। ও প্রভু মরণরাজ! এখন আপনার কর্তব্য কাজ করে নেন।

আমি তোমাদের জীবিন্দ্রিয় প্রাণ বায়ুকে হাতে তুলে নিলাম। এখন তোমরা অবশিষ্টাংশ নিমিস সময়ে কি করার আছে করে নাও বলে মরণরাজ প্রত্যেকদিন নিজেদেরকে সতর্ক দিয়ে থাকেন।

এই সতর্ক কথা শুনে কতক মরণার্থী মানুষ অশুচিপূর্ণ শ্মশান ঘাটে গিয়ে- বন্দুগণ ! আমিও তোমাদের মত একসময় পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে আমোদ প্রমোদ করেছি। এখন আমি মরে যাবো, আমার আর সময় নেই। বন্দুরা ! আমি এখন জরাজীর্ণ বয়োবৃদ্ধ, খেতে পারি না, আমোদ-প্রমোদ করতে পারি না, অচল এদেহটা পচন ধরে দুর্গন্ধ বের হয়ে পরছে; সময়ে তোমাদেরকেও আমার মত হতে হবে।

তাই তোমরা মরণের আগে নিজের নির্ভর করার আশ্রয়, প্রকৃত নিরাপদ শরণ দান, শীল, সমথ, বিদর্শন অনুশীলন করে রাখলে পরে আমার পেছনে শ্মশান ঘাটে চলে আসিও। অশুচি শ্মশানঘাট থেকে আমি তোমাদের অপেক্ষা রইলাম।

এ সতর্ক কথা হল মৃতব্যক্তি মরণের আগে জীবিত মানুষদেরকে বলে যাওয়ার কথা। সে মারা গেলে আমি তাকে শ্মশানে পৌঁছে দিয়ে আসা। আমি মারা গেলেও তারা আমাকে ঐ শ্মশানে পৌঁছে দিয়ে আসবে।

জীবিত ও মৃতদেহকে পৌঁছে দেয় দু’রকম-
(১) প্রিয়জন কোথাও গেলে বিমান বন্দর, রেল স্টেশন, বাস স্টেশনে গিয়ে পৌঁছে দেয়। (২) অন্যটা মৃতদেহকে শ্মশান ঘাটে চিরতরে পৌঁছে দেয়।

জীবিত ব্যক্তির স্বামী, স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, বন্দু বান্ধব কেউ কোথাও ভ্রমণ বা কর্মস্থলে গেলে হাসি খুশি আলাপ-সালাপ করে আগাইয়ে আসে। সে নিজে কোথাাও গেলেও অন্যরা আনন্দিত মনে যাত্রা পথে আগাইয়ে আসে (এ দেখা শেষ দেখা নয় আবার হবে তো দেখা-> সম্ভাবনা আছে)।

মাতা-পিতা, গুরুজন, প্রিয়জন বিয়োগে শোকাহত হয়ে বিলাপ রোদন করে করে মৃতদেহকে অশুচি শ্মশান ঘাটে পৌঁছে দিয়ে আসে (এ দেখা শেষ দেখা, আর দেখা হবে না দেখা)।

সে মারা গেলে আমি পৌঁছে দিয়ে আসি আর আমি মরে গেলেও অন্যরা আমাকে এভাবেই প্রিয় বিয়োগ শোকাহত হয়ে শ্মশান ঘাটে ফেলে আসবে।

জরা ব্যাধি মুত্য থেকে মুক্ত জ্ঞান লাভের হেতু হোক।

সম্মন্ধে Buddhasree Bhikkhu

এটা ও দেখতে পারেন

এক অসহায় বোনের বিয়েতে ত্রিরত্ন সংঘের শুভেচ্ছা সূচক সামান্য উপহার প্রদান….. ত্রিরত্ন বার্তা প্রতিনিধি।।

ছোট বেলায় বাবাকে হারিয়ে মেয়েটি পরিবার অসহায়ত্ব দিন যাপন করছিল। তার মা সামান্য অর্থ উপার্যন …

Leave a Reply