ব্রেকিং নিউজ

অরহত উপগুপ্তের যৌবনে পদার্পণ ও বহুশ্রুত জ্ঞানের অধিকারী কিভাবে হলেন?

 

ইলা মুৎসুদ্দী

b17

ছোট শিশু শ্রীমান উপগুপ্তের বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জ্ঞানও তদ্রুপ বেড়ে চলছে। নির্ভেজাল বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি পিতা-মাতার অচলা শ্রদ্ধা ও অটল বিশ্বাস শ্রীমান উপগুপ্তের মধ্যেও তা’ বিকাশ লাভ করল, পুণ্য-সংস্কারের প্রবল আকর্ষণে।

বয়ঃপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই সুগঠিত হতে লাগল পুণ্য-লক্ষণ লাঞ্ছিত তাঁর অঙ্গ-সৌষ্ঠব। স্নেহ ও কারুণ্যে ভরা হাস্যেদ্দীপ্ত আননে যেন স্বর্গের শান্তি আভাসিত।

শ্রীমান উপগুপ্ত যখন যৌবনে পদার্পণ করলেন, তখন তাঁর পিতা তাঁকে ব্যবসায়ের ভার অর্পণ করলেন। শ্রীমান উপগুপ্ত তাঁর পিতার আদেশানুসারে কিছুকাল হরিচন্দন, কস্তুরি, কর্পূর ও অগুরু প্রভৃতি সুগন্ধদ্রব্য বিক্রয় দ্বারা ব্যবসায়িক কাজে লিপ্ত ছিলেন।

তখন মুনিশ্রেষ্ঠ শাক্যমুনির পরম-শান্তির উৎস নৈর্বাণিক ধর্মের প্রাণস্পর্শী বাণী ভারতের নগরে-গ্রামে প্রতি ঘরে ঘরে আলোড়ন জাগিয়ে তুলেছিল।  এ অভিনব ধর্মের প্রতি যুবক উপগুপ্তের অন্তরেও প্রগাঢ় আকর্ষণ জাগ্রত হলো। তিনি জানতে চান নৈর্বাণিক ধর্মের নিগূঢ় তত্ত্ব। তাই তিনি ব্যবসায়ের পাশাপাশি বিহারেও উপনীত হন, অন্তর্দৃষ্টি লাভী অভিজ্ঞ ভিক্ষুদের নিকট ধর্মকথা শোনার জন্য। তিনি ভিক্ষুদের মুখে বহুবার তথাগত সম্বুদ্ধের কথা শুনতে শুনতে কখনো বা তন্ময় হয়ে যেতেন, কখনো বা বুদ্ধের অসীম মহিমার মধ্যে আপনাকে হারিয়ে ফেলতেন। কিন্তু স্বচক্ষে তাঁকে দেখা ভাগ্যে জোটেনি। কারণ জগৎজ্যোতি তথাগতের নয়ন রঞ্জনরূপ দেহ মহাপরিনির্বাণ ধাতুতে বিলীন হয়েছে তাঁর জন্মের অনেক বৎসর আগে। তবুও বুদ্ধ দর্শনের কী যেন এক উদগ্র-বাসনা তাঁকে মাঝে মাঝে আকুল করে তুলতো। পরকে কিরূপে সুখী করতে পারেন, তৎপ্রতিই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। আত্ম সুখের প্রতি তিনি ছিলেন স্বতঃই উদাসীন।

ত্রিরত্নের প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস। ভিক্ষুদের প্রতিও ছিল তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা। ব্যবসায়ের লভ্যাংশ থেকে প্রসন্ন মনে করেন দান। দানে তাঁর কতো আগ্রহ, কতো উৎসাহ। উৎফুল্ল অন্তরে তিনি যখন নিরত থাকেন দানে, তখন তাঁর কমনীয় কান্তিময় মুখের ফুল্ল-মধুর হাসি সকলকেই করে মোহিত ও চমৎকৃত। তিনি শীল রক্ষা করেন পরম যত্নে। শিক্ষা করেন আধ্যাত্মিক সাধনার বিষয় প্রনালী। শ্রীমান উপগুপ্তের প্রত্যেক কাজে ও কথায় মহিমাময় মনীষীর ইঙ্গিত পরিষ্ফুঠ হয়ে উঠে। তিনি ধর্মোপদেশ যা’ শোনেন, তা’ই হৃদয়ঙ্গম করেন এবং অন্তরে ধারণ করেন। তিনি যৌবনে পদার্পণ করলেও যৌবন-চাঞ্চল্য তাঁকে স্পর্শ করতে পারল না। ভোগাসক্তির প্রতি তিনি একবারেই উদাসীন। সর্বক্ষণ কি যেন চিন্তা করেন। বয়স যতোই বাড়তে লাগল শ্রীমান উপগুপ্তের জ্ঞান পিপাসাও ততো প্রবল হতে অতি প্রবলতর হতে লাগলো।

সমুদ্রের গভীরতা বিশালত্ব প্রসারতা নির্মল নীলাভ সলিল রাশির নৈসর্গিক সৌন্দর্য সর্বোপরি মণি-মাণিক্যের আকর বলে তিনি সমুদ্র থেকে খুঁজে পেতেন জীবনের পরিসরকে। এ যেন ক্ষুদ্রত্ত্ব থেকে বিরাটত্বের উত্তরণের ইঙ্গিত।

সদ্ধর্মের গভীর তত্ত্বমূলক আধ্যাত্মিক বিষয়ে তাঁর অনুসন্ধিৎসা অসাধারণ। চুরাশি হাজার ধর্মস্কন্ধেঁ- জ্ঞানার্জনের প্রতি তাঁর আগ্রহ ক্রমশঃ বেড়ে ওঠে। অতঃপর ধীরে ধীরে তিনি সদ্ধর্মের বহুশ্র“ত জ্ঞানের অধিকারী হয়ে উঠলেন। কায়গতনুস্মৃতি তাঁর অন্তরে সমধিক আলোকপাত করল। সময়ে সময়ে তিনি অনিত্য, দুঃখ ও অনাত্ম চিন্তায় তন্ময় হয়ে পড়েন। ইহাও তিনি উপলব্ধি করলেন “জন্ম মাত্রই দুঃখপূর্ণ, তৃষ্ণাই সকল দুঃখের মূল।” এ কারণেই তিনি পুনর্ভবে জন্ম গ্রহণকে ভীতি চক্ষে দর্শন করে ভোগাসক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার চেষ্টায় তৎপর হলেন। কুশল-মূলক শোভন কর্মই তাঁর জীবন-সর্বস্ব। পুণ্য-স্রোত প্রবাহিত করতেন শ্রীমান উপগুপ্ত তাঁর প্রত্যেক কাজে, কথায়, মননে ও চিন্তনে। এমন সমুজ্জ্বল পুণ্যাবদান-মণ্ডিত পবিত্র-জীবন যে পুরুষের, তিনিই জগৎ-বরেণ্য হলেন একদিন।

 

সূত্র-শ্রীমৎ মেত্তাবংশ ভিক্ষু রচিত মার বিজয়ী অরহত উপগুপ্ত

 

সম্মন্ধে ela mutsuddi

এটা ও দেখতে পারেন

খুব সংক্ষেপে মহাসতিপট্ঠান সহায়িকা

একূশটি উপায়ে অরহ্ত্ত্ব লাভের উপায় তথা কর্মস্থান সংযূক্ত গভীর অর্থসংযুক্ত মহাসতিপট্ঠান সূত্তI এখানে একুশটি উপায়ে …

Leave a Reply