ব্রেকিং নিউজ

বুদ্ধ কোন ভাষায় কথা বলতেন ও বুদ্ধবাদ- স্নেহাশীষ প্রিয় বড়ুয়া

bapy2
বুদ্ধ কোন ভাষায় কথা বলতেন ও বুদ্ধবাদ
“বুদ্ধ কী ভাবে প্রশ্নের উত্তর দিতেন ” লেখাটির পর এসেছিল “পরবর্তী” আর আজ আলোচ্য বিষয় বুদ্ধবাদ ।
প্রশ্ন করা হয়েছিলো, আপনি কি করিতেছেন ??? লিখিতেছি !!! একটির উল্লেখ করা গেল !!!
আপনি কেমন আছেন ??? সবার মতন এ সত্বা ও দুখঃ সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে ।
দুখঃ সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার জন্য কোন কৌশল গ্রহন করছেন ??? নির্বান পথ ।
নির্বান পাওয়ার কোন স্কুল আছে কি ???
তথাগত বুদ্ধের মহা পরিনির্বানের পরে বুদ্ধের শিক্ষা প্রতিপালিত হয়েছে প্রায় পাচশত বছর পর্যন্ত মন্দির কেন্দ্রিক জনগোষ্ঠির মাধ্যমে পরবর্তীতে বুদ্ধের শিক্ষাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন বাদের তথা রক্ষনশীল বুদ্ধবাদ (যা থেরবাদ এর আগ পর্যন্ত ছিলো), থেরবাদ, বজ্রযান, মন্ত্রযান, তন্ত্রযান, তান্ত্রিক, লামাইজম, জেন, একযান, মহাযান, নববৌদ্ধ ( যারা মন্দির কেন্দ্রিক স্কুলের নিপীড়ণে অতিষ্ট ) ইত্যাদির । এখানেই এর সমাপ্তি নয় – এই থেরবাদের মধ্যে ও আবার বিভিন্ন উপবাদের সৃষ্টি হয়েছে, যেমন বাংলাদেশের থেরবাদের ক্ষেত্রে ছোট্ট করে বলা যেতে পারে শুরুতে – সংঘরাজ নিকায় (নিকায় অর্থ হচ্ছে গোষ্ঠী) ও মহাস্থবির নিকায়  এবং বর্তমানের রুপরেখা আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন ।
ত্রিপিটক হচ্ছে সব বৌদ্ধস্কুলের ধর্মশাস্ত্র । কথিত আছে বুদ্ধ মগধ রাজ্যের ভাষা মগধি ব্যাবহার করলে ও ত্রিপিটক পালিতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে যা কিনা স্থাভিরাভাদা (Sthaviravada) স্কুলের ফসল এবং ২য় মহাসংগিতি থেকে বুদ্ধ ধর্ম গুরুদের মতানৈক্য থেকে দ্বিধাবিভক্ত হলে সংস্কৃত ভাষায় যা লিপিবদ্ধ করা হয় তা হচ্ছে সারভাস্তিভাদা (Sarvastivada) অথবা মুলাসারভাদা (Mulasarvastivada) স্কুলের ফসল । এ ছাড়া ও আমরা জানি ত্রিপিটক আপনি বিভিন্ন ভাষায় ও পেতে পারেন সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে সে ত্রিপিটক কোন স্কুলের মতবাদকে নিয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে । উল্লেখ্য থেরবাদী মতে ত্রিপিটক থাকতে হবে শুধুমাত্র পালিতে তবে ধর্ম শিক্ষার জন্য, বোঝানোর জন্য আপনি নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করতে পারেন পক্ষান্তরে মহাযান বাদে এর প্রতি কোন বাধা নেই ।
নিম্নে সংক্ষেপে থেরবাদ আর মহাযানের মধ্যে কিছু পার্থক্য দেখানো হলোঃ
১. বোধিসত্বঃ থেরবাদী মতে শুধু মাত্র মৈত্রী (Maitreya) বোধিসত্বকে স্বীকার করা হয়েছে পক্ষান্তরে মহাযান মতে মৈত্রী, সামান্থাবাদ্র (Samanthabadra), মান্সজুরি (Mansjuri), ক্সিতিগারভা (Ksitigarbha), আভালকিতেসভারা (Avalokitesvara) ইত্যাদি।
২. এ দুটি স্কুলের ট্রেনিং এর অভিষ্ট হচ্ছেঃ থেরবাদী মতে বুদ্ধ বা অরহত্ব হওয়া পক্ষান্তরে মহাযান মতে বোধিসত্ব পথ অনুসরণ করে বুদ্ধত্ব লাভ
৩. অষ্টশীল নীতির এক বেলা খাদ্যাভ্যাস ক্ষেত্রে থেরবাদী মতাদর্শ রক্ষনশীল পক্ষান্তরে মহাযান তা ন্যাস্ত করেছেন গ্রহিতা সত্বার উপরে ।
৪. বলা হয়ে থাকে থেরবাদী মতবাদে প্রাচিন ভারতীয় ব্রাক্ষন সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে পক্ষান্তরে মহাযান মতবাদে বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে তবে এর মধ্যে চায়না সংস্কৃতির প্রভাব অন্যতম।
এভাবে লিখতে গেলে রাত কেটে ভোর হবে যা কাম্য নয় । তবে এ পর্যন্ত এসে এটা বেশ বোঝা গেছে তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে । উপরে যা লিখেছি তা কারো ব্যক্তিগত কথা নয় বরং ইতিহাসের বিবৃতি । এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য শিক্ষার জন্য স্কুলের প্রয়োজন আছে কিনা এটা যদি প্রশ্ন হয় তবে স্কুলগুলোর প্রয়োজন অনস্বীকার্য । কারন আপনি আপনার গন্তব্য স্থলে পৌছানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের গাড়ী বা যান ব্যাবহার করতে পারেন আবার নিজ পায়ে ও হেটে যেতে পারেন তবে গাড়ীতে গেলে এর কিছু সুবিধা আছে বৈকি কিন্তু আমরা যেমন জানি কোন এক স্কুলের শিক্ষক/শিক্ষিকা কিংবা, পরিচালনা পর্ষদ, ও অন্যান্য অনুসংগ যদি স্বভাব দোষে দুষ্ট হয়, সু ও সৎ নীতি বর্জিত হয় তবে সে স্কুল থেকে আমরা কি আশা করতে পারি । মন্দির কেন্দ্রিক স্কুলের কিছু বিরম্বনা থেকেই জন্ম হয়েছিল নববৌদ্ধ ( যারা মন্দির কেন্দ্রিক স্কুলের নিপীড়ণে অতিষ্ট ) । যাই হোক যো রাত গিয়া ও বাত ও গিয়া ।
লেখার মুল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল প্রশ্ন কর্তা ও উত্তর দাতা যা কিনা এখানে ওখানে ছড়াছড়ি । এখন প্রশ্ন হচ্ছে যিনি প্রশ্ন করছেন তিনি কোন দলের আর যিনি উত্তর দিচ্ছেন তিনি কোন দলের ???
এখন প্রশ্ন হচ্ছে মনে করুন কেউ প্রশ্ন করলেন, কি করে নির্বান পাওয়া যায় ??? এবং কেউ উত্তর করলেন, বুদ্ধ শিক্ষার চর্চা করে অনুসারীরা মৈত্রী, করুণা, মুদিতা ও উপেক্ষা এই চারিটি ব্রহ্মবিহারের সাধনা করে যিনি লোভ, দ্বেষ ও মোহ ক্ষয় করতে পারবেন তিনি নির্বান পাবেন ।
পাঠকেরা এটা একটা অনুশীলন – উত্তর দিন প্রশ্ন কর্তা কোন দলের আর উত্তরদাতা কোন দলের ??? উওরটা যথার্থ কিনা ???

সম্মন্ধে vuato2

এটা ও দেখতে পারেন

মেডিটেশান এবং আপনার ব্রেইন

Leave a Reply